টিকটিকি

শাহীদ লোটাস
কবিতা
Bengali
টিকটিকি

অজানা তথ্য

আয় আয় মহাকাল
আয় আয় উৎকণ্ঠা-শূন্যতা এই আধারে
খণ্ডিত আনন্দিত নক্ষত্রমণ্ডলে।
দেখে যায় এই বার-বিশেষে অতিথির মেলা
গোধূলির লাল রং আকাশে
আদিম ঝরনার মতো করে খেলা।

এ নবজীবন সঞ্চার
সর্বাঙ্গ বিন্দু বিন্দু চিহ্নিত জীবন
এ তাপিত হৃদয়ের আনন্দ
ঘরোয়া ঝগড়া-বিবাদের পর প্রিয়তম চুম্বন।
এ রাজ্যের অন্তর্বিপ্লব উত্তর-পূর্ব কোণ
অল্প ফাঁক,
মাটি চাপা শেষ হলে চল্লিশ কদম দুরে সকলেই দাঁড়াক।
এ লোকান্তরিতায় মাটি কামড়ানো ইঁচড়ে পাকা যৌবন
আঁধার ঘরের মানিক আজ হারালো গুপ্ত ধন।
এ বিধি অনুযায়ী উত্তরাধিকারী ঋণ পরিশোধের
শেষ সময় কাল, সমস্ত দেহব্যাপী ঢালা একছাঁচে
একখানি সাড়ে তিন হাত সাদা কাপড়ের সকাল।

গোরস্থান

জীবন সন্ধ্যায় তুমিও আসবে এখানে
চিতা গোরস্থান সমাধিক্ষেত্র যাই বলো!
ও সহচর, ও দেহী, দুর্বৃত্ত,
নিদ্রালুযার উপরে শোয়া হয় গোর আজাবে
নিঃসহায় নিরাশ্রয় সাদা মাঠা সমাধানে অজানা তথ্য।
আজ আমার সমাপন সান্দ্র শোকানল,
এ দিবা কিংবা রাত্রির অবসান, রূপ ঝলমল।

 

এত হৃদয় ভাঙ্গা

প্রতিদিন এত কান্না আমি কি করে সইবো?
বার বার হৃদয় ভাঙ্গা ঝড় হৃদয়ের মাঝে
যে স্রোত নিয়ে আসে
তা কেমন করে রুখবো?
যে ফুল কলিতেই ঝরে যায়,
যে স্বপ্ন সুখের আগেই
হারিয়ে যায় বেদনার প্লাবনে,
সেই ব্যথা আমি কোথায় রাখবো?

হৃদয় ভাঙ্গা নিঃশব্দ খেলায় খেলায়
আমি ঝরে যাই,
ঝরতে ঝরতে অতি গোপনে
আমি হারিয়ে যাই,
তুমি তা দেখো না কখনো,
জানি দেখবে না কোন দিন।

হারিয়ে যাওয়া

হৃদয়ের মাঝে যে স্বপ্ন বুনে ছিলাম
সে স্বপ্ন আজ
ফুল ফুটালো,
রং তার অশ্রুর মতো!
রাতের অন্ধকারে যে কান্না কেউ শুনে না
সেই কান্নায় সুর শোনা যায় এই ফুলের পাপড়িতে!
তুমি কি শূনতে পাও তা?
দেখতে পাও কি এই স্বপ্নের কান্না?
বিষণ্ণ মুহূর্ত তার?
বুঝতে পারো কি তুমি
জীবনে থেকেও সে যে হারিয়ে গেছে
না বলা ব্যথার অরণ্যে?

অজানা সত্য

একি অন্ধকারে প্রবেশ
নাকি প্রকৃত আলোয় নিজেকে দেখা?
আজ আমি দোভাষী বা বহু ভাষী
হয়ে বেশ তড়িঘড়িই চলে যাচ্ছি
মূলত তোমরাই আমাকে চলে যেতে বাধ্য করছ!
এখানে উত্তাপ,উত্তাল রহস্যের উন্মুক্ত ভিটা,
এর পর আর কোন নেই অজানার কোন কিছু
বা নেই কোন রহস্য,
আমি চারজন শ্রেষ্ঠ ফেরেশতার অন্যতম একজনকে দেখে ফেলেছি
যাঁর শিঙার ফুঁৎকারে কেয়ামত হবে তাকেও দেখতে চলেছি খুব শিগগিরিই,
তোমাদের কাছে যা দ্বিধা আর রহস্যে
তা আমার কাছে খুব পরিষ্কার
অথচ আমি তোমাদের কিছুই বলতে পারছি না।
বলতে পারছি না প্রকৃত সত্য।

টিকটিকি 

এখানে কিছু টিকটিকি আছে
লুকিয়ে আছে জানালার পাশে
দরজার আড়ালে,
টিকটিকি গুলো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে!

ঐখানে আরো কিছু টিকটিকি রয়েছে, যারা
খুব স্থির হয়ে পহরির মতো দেখছে আমাকে।
এতে ওদের লাভ কি?
ওড়াত পোকা খায়, পোকাতেই ওদের সন্তুষ্ট থাকার কথা
অথচ আমাকে দেখছে ওরা!
যেন আমি ওদের খুব কাছের কেউ,
তাই আমার মৃত্যুতে ওরা নীরব হয়ে গেছে।

নির্জন 

চারদিকে শুনশান নীরবতা!
সবাই চলে গেছে যার যার বাড়িতে
কাজে,
অথবা অন্য কোথাও
আর আমি রয়ে গেছি শুধু একাকী
এই নির্জন সমাধির ভেতরে।

তুমি কি সেই?

কোন এক প্রেম আছে কেবলি উজ্জ্বল আলোক শিখায় মায়া ছড়ায়,
কোন এক প্রেম আছে কেবল হৃদয়ের মোহনায় আমাকে ঝরায়।

ইশকুল শৈশবে এমনি দুরন্ত পনায় আমি তাকে পেয়ে ছিলাম
বনো-হাস অথবা হাসের মতন পৃথিবীতে;
শুভ্র নরম পাখা তার আকাশের বুকে জলের সমান
অথবা জলের বুকে মায়াবী করুন;
আমি তাকে দেখেছিলাম কোন এক প্রেমিকার পাশে
উজ্জ্বল অরণ্যে
বিকেলের মিঠা রোদ গায়ে মেখে নীরবে দাড়ায় পৃথিবীর সমান।

কোন এক অশ্রু আছে, ব্যাকুলতায় সিক্ত শীতল,
কোন এক তৃষ্ণা আছে অফুরান মায়াবী অতল,
কোন এক মায়া আছে কেবলি বৃত্তের বেদনা ছড়ায় পৃথিবীর যত
কোন এক প্রেম আছে কেবলি নি:সন্দিগ্ধতায় ফিরে আসে প্রেমেরেই মত;

তুমি কি সেই?

তুমি কি আমার স্বল্প আলোকে পাওয়া অতি প্রেম অতি মায়া,
ফোঁটা ফোঁটা সাদা মাঠা রূপ?
তুমি কি আমার পাথর পাথর ব্যথা?
ব্যাকুল অরণ্যে রুপালী হরিণ,
থাকে অবিরত চুপ।

শাহীদ লোটাস। বাংলা ভাষার লেখক, বাংলাদেশ-এর নেত্রকোনা জেলায় মোহনগঞ্জ থানায় ৩০ মে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতে শাহীদ লোটাস-এর বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখতে উৎসাহবোধ করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ