ডগস্কোয়াড ও মায়ের গয়না

ফারহান ইশরাক
কবিতা
Bengali
ডগস্কোয়াড ও মায়ের গয়না

ডগস্কোয়াড

★★

ছুরি চালাতে পারবো না, বাক্য চলবে

বাগার্থবিদ্যার ক্লাস থেকে

লোহাকারখানা, লাঙলের উত্তেজনা

থেকে মৃত্তিকার ভাঁজে শিথিলায়নের

আরাম অবধি অবিরাম

রাবারের নলপথে লিপ্সার লালা

ছুটবে আরক্তিম শ্বাসপ্রবাহের বেগে

অক্সিজেন সংবহন ব্যবস্থা সাময়িক

মুলতবি হলে শ্রোতামুখে রঙ পাল্টাবে

এবং তা লজ্জা বা ক্রোধের উৎসারণ নয়

আত্ম নিগ্রহের রসক্রিয়া থেকেও তার

অভিসার চিহ্নগুলো সনাক্ত হবে না

ধ্বনি বিস্তারের নীরব আক্রমণ থেকে

পৃথিবী তার আপেল চেহারা ফিরে পাবে।

.

এমন বলবো, যার রঙ মদিরাটগবগ

এবং ক্রান্তিকালের আগে…হালকা নীল

বা জাফরান, এই তো তেজপাতার

ক্রমপ্রবাহিত দীর্ঘযাত্রা,

যার শেষ বিন্দুটিও

রসনায় দ্রবীভূত, রসায়নে অকৃত্রিম…

গলার স্বর কিংবা ভঙ্গির অবশতা নয়

ফুসফুস থেকে প্রাণঘনিষ্ঠ হাওয়া এসে

তাৎক্ষণিক অর্থবহতা রচনা করবে

যা মন্থর অথচ লক্ষ্যবেগে আন্তরিক।

.

চিৎকার জমা হচ্ছে গলার শ্লেশ্মায়

আলজিভের নিচে ভেজা চিঠির

অন্তরঙ্গ চিনি গলছে শব্দহীন

এবং এটাও সত্য মিষ্টতার আরক

থেকে উচ্চারিত বিষক্রিয়া শুরু হবে

ফলের মৌলিক প্রশংসা থেকে

মৃত্যু উৎসব জমবে তৈজসে

ইস্পাতের লবণক্রিয়া থেকে আসা

নীল চিমটাগুলোর ভাষা পদ্ধতি

রপ্ত করতে করতে হাপরের পিছে

নক্ষত্র ডুবে যাবে

মরচে ধরা দিনের শেষ রেখাগুলো

দাগ কেটে যাবে এবং নিশ্চিত যে,

মদের মটকা থেকে জেগে উঠবেই

চিত্রাপির্ত মহাজগৎ

ক্ষয়কাশি মরণজ্বরে বুনো উচ্ছ্বাস

কালপুরুষের অস্তমুখ নীরবে ছাপিয়ে

ভোর এসে ডালিমের চোয়াল ছোঁবে…

এইসব ঘটনার অভিক্ষেপ থেকে

তুলে নিচ্ছি ধুলোবালি, এবং তা

ডুবে ছিল সিরকাপানির তলদেশে

যদিও রক্তগলগল প্রাণবায়ু…সর্দি—

আলগা হয়ে তার কথা খুলে বলবেই

এবং লোহার চুল্লি থেকে উঠে আসবে

আকরগ্রন্থের প্রাথমিক বিষক্রিয়া

.

গাঢ় নলকূপ থেকে বার্তা পাচ্ছি ঢের

পাতাল রসে উপচে পড়ছে হিমকলস,

যার তলা থেকে গলা পরিমাপে–

আলকাতরা, গন্ধক এবং দাহ্যতার ঘ্রাণ

ভূ-পৃষ্ঠে কান পাতলেই খনিজ চিৎকার…

একটা পালাবদল আসন্ন না-হলে

জুতার সংগীতও বাজতো না ভাঙা বল্কলে

বনবাদারে এবং প্রাত্যহিক আলপথে

গার্হস্থ্য ঘামের ফোস্কায় ঘনমহাদেশ

আয়না হয়ে আছে, অন্ধকারে,

ভোরকুয়াশায়

একজন-কেউ ভাঙুক এই তীব্র বিবমিষা

‘মদালস্য থেকে আসুন হাত তুলি

সমবেত গানের সন্ধ্যায়’—

কেউ কি বলছে কথা, কাঠবাদাম থেকে,

ভ্রূণ থেকে, শামুকের কাঁচা ডিম থেকে,

অল্পব্যবহৃত পাতিলের ফাঙ্গাস থেকে?

একটা মুগ্ধ নাশকতা আসন্ন না-হলে

পচা আঙুর থেকে সৃজনগন্ধের অপরূপ—

ডাক আসতো না, কান্নাঘন ঘুমরাতে

আন্তঃসম্পর্কের যাবতীয় সরীসৃপ

ফণা না-তুললে ডগস্কোয়াড থেকে

কুকুর এত বিলাপ করতো না

ফুলের কব্জায় লুব্রিকেটিং রেণুগুলো

একটা ধাতুর কংকাল উড়াবে আকাশে

যার পেটে অগ্নিকুণ্ড ধোঁয়া গতিশ্বাস

দূরযাত্রায় নিকটবিশ্ব কাঁপছে থরথর!

.

ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে এই গৌরবময় অর্থব্যঞ্জনা

সৃষ্টিই হতো না, নীরবতা এমন করে

করতো না তুমুল গমগম

তৃতীয় চোখের জলে মরুভূমি

ভেসে উঠতো না কালবেলায়

রক্ত ঝরার দিনেও পিয়ানো থামবে না

আবক্ষ বক্তার বধিরতা জন্ম দেবে

শীনিদ্রা ছাড়া যার টীকাভাষ্য

অধ্যাপকের অচেনা ঝংকার

সঙ্গমরত ধ্বজভঙ্গের মরণোত্তর ফেনা।

.

মারণাস্ত্রের স্মৃতি থেকে দীর্ঘ অবশতা

আরাম দেবে, এমন হতে পারে

যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে, মোড়ে মোড়ে

যুদ্ধ লেগে যাবে, কাটা পায়ের হাঁড়

ঘাড়ে নিয়ে কখনোবা রক্তবমি…

এসব বিতর্ক থেকে দোকানের ঝাপ

হঠাৎ নামবে, তমসায়, অমীমাংসায়—

গাছেরা বললেন, শেকড় প্রত্যাহার

করে নিতে হবে প্রচলদ্বীপ থেকে

অন্যতর উপায় দেখছি না…

মাটি আর ধরে রাখতে পারবে না

কাণ্ডের সংহতি। ঝাপিয়ে পড়বেন তারা

জ্বালানি সংকটে, বিরোধের অংশরূপ…।

.

লিখবো; পায়ের তলায় স্বর্ণ চাপা রেখে

দাঁড়িয়ে থাকবো না, অভিনয় থেকে

দূরে, ছকের বাইরে কিছু ছায়াছলনার

ঘোর

এখানেই মারণাস্ত্র ফেলে চলে যাবো

যেখানে জলের নিচে

চিলের ডানা একটা আকাশ জমিয়ে

রেখেছে, কেউ তা জানতে পারে না।

.

সুধিবৃন্দ, কাগজের দস্তাবেজ নয়–

এই ইশতেহার আত্মপ্রবোধের রক্ষাপুস্তক

পৃষ্ঠা উল্টান, শব্দ থেকে রক্ত ঝরছে

চাষীর হৃৎপিণ্ডে ডুবে থাকা

লাল মিনিকেট এমন পায়েস করবে

আয়োজন, অবলীলায়

রক্ত ছাড়া অন্য কোনো দুধের চিহ্নও

থাকবে না

ছুরি চালানোর ক্লান্তি থেকে এসে হন্তারক

খাবে সেই পুষ্টির তেজস্ক্রিয়া

একটা সর্বনাশ ঘটবে ভোজের টেবিলে

তুষের জ্যকেট ভাঙা লাল মিনিকেট

গ্যাসের আগুনে গলবে না, ক্ষুধার তীব্রতা

বাদ দিলে এমন জ্বালানি আর

কোথায় আছে, কোথায়, কোথায়?

 

মায়ের গয়না

★★

বেড়াতে গেলে মা’র মন বড়শি-গাঁথা

মাছ হয়ে যায়

রক্তে ছিপ ফেলা সন্ধ্যার সর্বনাশ

যখন এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভবপ্রায়

গুঞ্জনপটু নিকটাত্মীয়রা বলে:

শুনেছি ছেলেরা

খনিতে কাজ করে, সকাল বিকাল

চাবি ঘোরায় আঙুলে…

সোনার গন্ধে আলমারি ফেটে গেছে!

.

ছেলে ভাবে, গঞ্জনার প্রশ্ন নয় কিনা

দূরাভাসী সংলাপের ধ্বনিচিহ্নগুলো

বালিশে একটু পাশফেরা

অনিদ্রার ভাব আনে

কবির জননী হতে হলে পুত্রের মুখে

ফেনা দেখে বুঝতে হয়

মূল কথা পেছনে রয়েছে!

.

হৃৎপিণ্ড কেটে গয়না গড়ার

গল্প শুনে শেষ বয়স

নিখরচা স্বপ্নে কাটানো শ্রেয়

ছেলের প্রতিষ্ঠা দেখে দীর্ঘশ্বাসের

প্রতিশব্দ জানা যায়

মা’র চোখ ভিজে উঠলেই

বুঝে নিতে হয়-আবহাওয়া দপ্তর

বৃষ্টির কথা বলে খবর পড়া তখনই

থামাবে

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ