তরঙ্গ, ছিদ্র, কাম ও জলকথা

কুমারেশ তেওয়ারী
কবিতা
Bengali
তরঙ্গ, ছিদ্র, কাম ও জলকথা

তরঙ্গ

এভাবে সিঞ্চন করো, দেখো
গাছের শরীরে ফুটে ওঠা গোপিভাব
অগুরু চন্দন নিয়ে শরীরে মাখাও
কীভাবে শরীর থেকে নীরবতা ভেঙে পড়ে গেলে
জ্যামিতিক সব কিছু পাপড়ি মেলে দেয়

তবে কিছু কথোপকথন রেখো প্রবেশক
সরাসরি মাটির ভেতরে গেলে
গাছের শেকড়ে বড়ো উন্মাদনা ওঠে
কীভাবে সামাল দেবে ঝড়
গাছের শরীরে যদি অক্টোপাস ফোটে। 

 

ছিদ্র

ছুঁচের ছিদ্রতা নিয়ে বলা যায় কত কথা
কীভাবে ময়ূর পারে ঢুকে যেতে ওই ছিদ্রপথে
রতিবনে বসে মেলে দেয়, পেখমবিলাস

ছুঁচের ছিদ্রের পথে খুব মৃদু কথা
ঢুকে গিয়ে বেলুনপিপাসা, সেকি ধুন্ধুমার!জলাশয়ে ফুটে ওঠে মুষলপর্বের কাল

ছুঁচ কি নিজেও জানে ছিদ্রপথে ঢুকে পড়া
ফসলের খেতে, পুরাণের কথা এঁকে কমলেকামিনী গিলে খায় হাতি।

 

কাম

ভরন্ত পুকুরে জাল ফেলা হলে
মিলিদিদি উনুনে চড়িয়ে দেয় লোহার কড়াই
দোশান ডুবিয়ে রাখে পূর্ণ তেল ভাঁড়ে
উনুনের গায়ে ঠেস ত্রিভঙ্গ দাঁড়ানো
খুন্তির অন্তরমহল জুড়ে, খুশির লহর
উল্টে পাল্টে খুব ভেজে দেবে মাছের মরণ

শূন্য হাতে উঠে আসে জাল

ক্রমশ আগুন খেয়ে লাভা
কড়াইয়ের তলদেশ দেখতে দেখতে
মিলিদিদি ডুবস্নান নিতে যায় পুকুরমহলে।

 

জল কথা

জলেরও ভেতরে থাকে অন্তঃস্তল কথা
যে কোনো পতনে তার পেতে দিলে হাত
কত কথা কত গান কত পরিচয়

যখন গেলাসবদ্ধ, পিপাসার আলো
ছুঁয়ে দেয় তাপিক হৃদয়
খোলা জানালার কাছে এসে
সুকুশল জেনে যায় প্রেমিক রঙের কত ফুল

হাঁড়ির ভেতরে থেকে যখন আকুল টানে
টেনে নেয়ে স্নান করা চালের শরীর
কী আনন্দ তার, দেখে অপরূপ নৃত্যগীতে
সমুহ চালেরা শরীরে ফুটিয়ে তোলে
ভাতের ধরন

এও এক রূপান্তর কঠিন হৃদয় ভেঙে
কোমলের আকুতিপ্রকাশ

অশ্রুগ্রন্থি বেয়ে নেমে এলে নুনের মসিহা
পাথরে পাথরে কত লিপিফুল ফোটে।

 

 

 

 

 

কুমারেশ তেওয়ারী। কবি। জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের আসানসোলের কন্যাপুরে। পড়াশোনা করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। কৃত্তিবাস, কবিতা আশ্রম, আরম্ভ সহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন। প্রকাশিত বই: ‘জুড়ন পুকুর’ (প্রিয়শিল্প প্রকাশন), ‘ব্যালেরিনা ও নকশি কাঁথায় নষ্ট গন্ধ’ (প্রতিভাস) 'শব্দ স্নানে বেজেছে এস্রাজ’ (বইতরনী)

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ