তলরবিস্টাইনয়েভস্কি

হামিম কামাল
প্রবন্ধ
Bengali
তলরবিস্টাইনয়েভস্কি

আমি একটা দারুণ বই পড়েছিলাম বছর খানেক আগে, স্টাইনবেকের ক্যানারি রো। এখানে হাতে গোনা, কিন্তু বাছাই করা কিছু চরিত্র আছে। প্রত্যেকে ভীষণ বৈচিত্র্যময়। আলাদা আলাদা অধ্যায়ে সবার কথা বিন্যস্ত কিন্তু সবটা মিলে একটাই বড় মালা। সাগরতীরের এক ছোট্ট মফস্বল… একমিনিট!

স্টাইনবেকের প্রায় লেখাতেই দেখেছি, এ ধরনের সমুদ্রসংশ্রব মেলে। কী ব্যাপার?

ভদ্রলোকের বোধয় সমুদ্রের প্রতি দুর্বলতা ছিল। আমার পড়া তাঁর প্রথম বই দ্য পার্ল, ওটার পটও সমুদ্র।

বন্ধু জামির জন্মদিনে বইটা উপহার দিয়েছিলাম সেই স্কুল জীবনে। পরে ওর কাছ নিয়ে পড়েছি, কেঁদেছি। তবে বেশি নয়, অল্পসল্প।

এই ক্যানারি রো বইটা শেষ করে যখন নেভানো বাতির ঘরে বিছানায় শুয়ে ছিলাম দীর্ঘক্ষণ, একা।

মনে হচ্ছিল, মানুষের মনের ভেতর জন্ম নেওয়া বিষন্নতা আর জীবনের অর্থহীনতার এমন গৌরব অনেকদিন আমি টের পাইনি।

কথাগুলো কেমন ধোঁয়াটে, তাই না? কী করতে পারি? ব্যাপারগুলোই ধোঁয়াটে।

বন্ধু সুহান পোল্যান্ডের এক জাদুঘরের সামনে থেকে উন্নাসিক বন্ধুদের সবার জন্যে একটা করে বই কিনে এনেছিল। আমার জন্যে কিনেছিল স্টাইনবেকের দ্য ভিজিল্যান্ট।

সবুজ রঙের বইটা আকারে ছোট, পাতার সংখ্যা বেশি নয়। পেঙ্গুইন প্রকাশনী সেখানে তিনটা গল্প সংকলিত করেছে। এখানেও চরিত্র সংখ্যা কম।

অল্প ক’জন মানুষকে দিয়েই আসলে মানুষের সামগ্রিকতাকে ধরা যায়। কারণ মানুষ আসলে একের ভেতর অনেক। সেখানে চোরের ভেতর সাধু লুকিয়ে থাকে, সাধুর ভেতর নিপীড়ক। পরিবেশ ভেদে একেকটা আসে বেরিয়ে, এ এক প্রচ্ছন্ন প্রকটের খেল। এখন এটা প্রকট, তো অপরটা প্রচ্ছন্ন। সামাজিকীকরণের ভেতর তথাকথিত ভালো মন্দের বোঝাপড়া। মানুষ পশুত্ব নিয়ে জন্মাল, এরপর আইডিয়াল তাকে অভ্যাসে আয়ত্ব করতে হলো। কেউ এগিয়ে থাকল আর কেউ পিছিয়ে। এই তো ব্যাপার!

ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, স্টাইনবেক হলেন সজল চোখের লেখক। সজল চোখে সবকিছুই কাঁপতে থাকা, চঞ্চল দেখায়। সজল চোখে গ্রহকে নক্ষত্রের মতো দেখায়। পর্যবেক্ষকের মন যদিও জানে, ওটা গ্রহই আছে, নক্ষত্র হয়ে যায়নি। স্টাইনবেকও জানতেন।

মানুষের তুরীয় অবস্থা এঁকেছেন তিনি। কেউ হয়ত একটা ক্রিসেনথিমাম ফুলের জন্যে জীবন দিতে পারে! তবে তা ওই মুহূর্তেই। মুহূর্তটুকু পেরিয়ে গেলে? সব সমতল।

পরম মেরুতে কেবল মেরুবাসী ছাড়া কেউ টানা থাকতে পারে না। মেরুবাসী মানুষ পৃথিবীতে কমই আছেন। তাদের ভাষার গোড়াও এমনকি ভিন্ন। তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই।

তবে তারা আছেন, এটা তো সত্যি। অর্থাৎ সারাক্ষণ তুরীয় থাকেন এমন মানুষও আছেন। তাঁরা, বাকি বিপুল সংখ্যক ‘তুরীয় নন’ এমন মানুষের অস্তিত্বের সমতাবিধান করেন। এক মিনিট! স্টাইনবেক কি তাঁদেরই এঁকেছেন। তাই কি তাঁর লেখায় চরিত্রের সংখ্যা এতো কম। এই দেখো, ঠেকে গেলাম।

সুহান কারো জন্যে এনেছিল কামু, কারো জন্যে বোর্হেস। আমার জন্যে স্টেইনবেক। ওর ধারণা, আমি ষ্টাইনবেক ঘরানার লেখক। কোমল গলায় মানবিকতার জয়গান গাই বা এমন কিছু। এমনটা কিন্তু ওর একদম অপছন্দ। আমি স্টাইনবেকের উঠোন ঝাঁট দিচ্ছি কিনা জানি না, কিন্তু শুনতে ভালোই লাগে। স্টাইনবেককে আমি ভালোবাসি।

কিন্তু, কেবলই মনে হয়, কেমন একটা পুরনো স্যুটের ধুলোট গন্ধে আমি তার কাছে যেতে পারি না। যেমন কাছে আমি যেতে পারি তলস্তয়ের। কেন, কী ব্যাপারও? তার আলখাল্লায় আমার দাদাসাহেবের মতো নোনা পরাগী ঘ্রাণ, তাই বলে কি?

কে জানে!

 

লেখকের কণ্ঠে এই লেখার অডিও শুনুন এখানে:

দুই.

আমার পড়া তলস্তয়ের প্রথম লেখা বোধয় মানুষ কী নিয়ে বাঁচে, বা কতটুকু জমি তার চাই; এমন কিছু। সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছিলাম বোকা ইভান পড়ে। ওসবের অ্যানিকডোটীয় শৈলীর সঙ্গে উপন্যাস পুনরুজ্জীবনকে মেলানো যায় না।

পুনরুজ্জীবন পড়ে আমার নানান কথা মনে হয়েছিল, লিখেছিলাম। রেজারেকশন বা পুনরুজ্জীবন পড়ে আমার কেমন লেগেছিল তার খানিকটা লিখে রেখেছিলাম। ওটাই পড়ে শোনাই।

শিব যখন কৃষকের দেবতা, তখন ধান ভানতে ভানতে তার গান গাইলে ক্ষতি কী?

তলস্তয়ের ধ্রুপদ উপন্যাস ‘পুনরুজ্জীবন’ নিয়ে বলতে বসে আমি কোনো বিরস ইতিহাস, কাঠামো, গভীরতা নিয়ে আলাপ করব না। মূলত আলাপ করবো তলস্তয়ের মন নিয়ে।

অর্থাৎ আমি মূলত শিবের গানই গাইব। তবে ফাঁকে ফাঁকে চলবে ধান ভানা।

আমার মনে হয় তলস্তয় প্রাজ্ঞ নন, স্বয়ং প্রজ্ঞা। ‘পুনরুজ্জীবন’ তার প্রায় নিখুঁত প্রক্ষেপণ, প্রজেকশন।

সাধারণত নিজ নিজ দর্শনের বিশেষ এক, একাধিক তল লেখকরা পাঠকদের বোঝাতে চান। প্রক্ষেপণে তার পুরোটা দেখানো সম্ভব হয় না। অক্ষর থেকে দৃশ্যে অনুবাদে যে আড়ক্ষতি আছে, পাঠকের সাধ্য নেই তা এড়ান। সে সাধ্য লেখকেরও নেই।

মূল্যবোধ আর বাস্তবতা নামে দুটো পোশাকী শব্দের ভেতর যে ভাব লুকিয়ে আছে, সে ভাব মিথ্যে কিছু নয়। সত্য। আর লড়াইটা সবসময় সত্য আর মিথ্যার ভেতর হয় না। সত্য আর সত্যের ভেতরও হয়। মিথ্যা আর মিথ্যার ভেতরও হয়। এ লড়াইয়ে মন ক্ষয় হয়, মানও ক্ষয় হয়।

এ লড়াই চলছে প্রতিনিয়ত, প্রতিটি মানুষের ভেতর।

ধ্রুব এ লড়াই পুনরুজ্জীবন উপন্যাসটির পাতায় পাতায় এতোটাই উপস্থিত, যখন ওল্টাবেন, দেখবেন আঙুলে ঘামরক্ত লেগে গেছে।

রুশ কারাগার ছিল হাড়ের সংগ্রহশালা, মেদ রক্ত মজ্জার চৌবাচ্চাঘর। ওই মেদ রক্তের আঠায় হাড় জুড়ে জুড়ে জারের প্রাসাদ গড়া আর তখন নিত্য মেরামতের প্রয়োজন হচ্ছে, প্রাসাদ পুরোন হয়েছে তো! কারাগারগুলোর নাভিশ্বাসও উঠে যাচ্ছে ওসবের সরবরাহ ঠিক রাখতে রাখতে গিয়ে, ঠিক এমন সময়; কে এক লোক এলো নেখলিউদভ, সে নাকি একাই লড়বে।

তলস্তয় মনন কল্পনা করতে গিয়ে আমার সামনে আরও কতগুলো নাম বুদবুদের মতো ভেসে উঠছে।

বুদবুদের কাজ হলো ফেঁপে উঠে গোলাকার তল-বর্ণালীর বাহার দেখিয়ে, ফট! ফেটে যাওয়া। বুদবুদের অস্তিত্ব হারালেও, সেই অস্তিত্বের স্মৃতিটা থাকে।

মতের বাস্তব প্রমাণ পরিবেশে সবসময় নাও মিলতে পারে, যেমন বুদবুদ ফেটে যাওয়ার পর মেলে না তার উপস্থিতির প্রমাণ।

কিন্তু মেলা আর না-মেলার সম্পর্কটা তাই বলে মিথ্যা হয়ে যায় না।

ওই সত্যের সূত্র ধরে এগিয়ে, আমার কেমন ধোঁয়াটেরকম মনে হয়েছে, তলস্তয়ের লেখায় অতীত ও বর্তমান ইতিহাসের যে মহাকাব্যিক গদ্যায়ন, রাশিয়ায় তার উত্তরসুরী মিখাইল শলোখভ।

কিন্তু দুজনের গদ্যের অলৌকিক ঘোড়া আবার এক পথে হাঁটে না।

তলস্তয়ের লেখায় কিন্তু এক ধরনের ভাববাদী বিপ্লব ঘটে। যে বিপ্লব আমাদের মহাত্মার মতো ব্যক্তিত্বকে আকৃষ্ট করেছিল। মহাত্মার আত্মজীবনী সত্যের প্রয়োগে আমি তলস্তয়ের একটা বইয়ের নাম পেয়েছি, এখনও পড়া হয়নি আমার। বৈকুণ্ঠ তোমার হৃদয়ে।

তলস্তয়ের ভাববাদ আর গান্ধীর ভাববাদ একরকম ছিল না। তবে তাদের ভেতর সম্পর্কসুতো ছিল। অতি সূক্ষ্ম, তাই অদৃশ্যপ্রায়।

এখানে আমার কথাবার্তা আবার কেমন ধোঁয়াশায় ঢাকা মনে হচ্ছে নিজের কাছেই।

দুজনের ভাব সমান্তরাল ছিল যারা পাশাপাশি চলবে। কিন্তু কখনো কেউ কারো মুখোমুখি হবে না। তলস্তয়ের ওই ভাববাদের সঙ্গে বরং শলোখভ, গোর্কি, মানিকদের বস্তুবাদময় বক্ররেখার, বারবার, দেখা হয়ে গেছে।

এসব আমার ব্যক্তিগত ধারণা। এমন ধারণার ফল কী দাঁড়িয়েছে তা পরে বলছি। তার আগে যোগ করি, তলস্তয়ের ভাববাদের সঙ্গে রাবিন্দ্রিক ভাববাদের ভেতরে বাইরে অনেক মিল আছে।

তাঁরা দুজনই ‘ঈশ্বরের’ স্তব করেছেন। রাবিন্দ্রিক ভাববাদে সেই স্তব কোনো অধরা বুদ্ধিমত্তার প্রতি উৎসর্গিত হয়েছে। আর তলস্তয় স্তব করেছেন অন্তরের শুভশক্তির। ওই শুভশক্তিকেই তিনি ঈশ্বর জানতেন। দুটোই প্রকারান্তরে একই ব্যাপার।

ধোঁয়া, ধোঁয়া, ধোঁয়া!

মহাত্মার মতো রক্তমাংসের চরিত্রের ভেতর ব্রত ধরে রাখার যে দেবদুর্লভ শক্তি, উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্রকেও তলস্তয়ের মতো লেখক অমন করে তোলার আগ্রহ পাননি। মানুষ কতদূর যেতে পারে তা নির্ভর করে সে কোথা থেকে এলো তার ওপর, অনেকটাই।

বাস্তবের মহাত্মা যা পারেন, কল্পনার নেখলিউদভ তা পারে না। একেবারেই সাধারণ বাস্তবতার চরিত্রটি হয়ে ওঠে লোকটা, যার ভেতর যেটুকুওবা অসাধারণত্ব, সেটুকুও পরিশীলিত, পার্থিব। কোথা থেকে সে এলো, তার প্রতি সুবিচার করেই, মাত্রা কতদূর বাড়তে পারে তার, সে বিষয় নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি নেই।

এজন্যে তার ওই অসাধারণত্বের শুরুও আছে, শেষও আছে।

আছে বলেই সমাজের ওপর নেখলিউদভের চূড়ান্ত প্রভাবটি শেষমেষ কী দাঁড়াল, নেভলিউদভকে তৈরি করে কী লাভ হলো, এমন কোনো প্রশ্ন আর জাগল না।

এক শেষ, আরেক শেষকে অনিঃশেষে বিভাজ্য করল। বিভাজন শেষ হবে না। তাই কাজ হিসেবে পুনরুজ্জীবন হয়ত থেকে যাবে।

অনেকেই বলেছেন পুনরুজ্জীবন শেষতক বাইবেলীয় মূল্যবোধের দিকে মোড় নিয়ে, বাইবেলের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে সমাধান খুঁজেছে। আমি বলব,  সেকালে আচারসর্বস্ব অর্থোডক্স সমাজের প্রতি তলস্তয় যে দায় অনুভব করেছেন তা যেমন করে মিটতে পারে বলে তিনি মনে করেছেন, তা আপনি মনে করতে পারছেন না এই স্থানে এই কালে বসে।

গোর্কির ‘প্রসঙ্গ সাহিত্য’ বইতে তাঁর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে যুগপৎ শান্ত ও ক্ষ্যাপা এক তলস্তয়কে দেখতে পাওয়া যায়। এই তলস্তয়কে আমি আর কোথাও পাইনি। এক অবিশ্বাসী তলস্তয়কেও কি পাওয়া যায় না? এটা কিন্তু সাধারণ তলস্তয়-পাঠকের ভাবনারও অতীত।

কেন ভাবনার অতীত হতে পারলো? কারণ তলস্তয় প্রচলিত ঈশ্বরের প্রতি অবিশ্বাসকে মানুষের বোধগম্য ঐশ্বরিকতার রূপ দিয়েছেন। ওই যে বললেন, অন্তরের শুভশক্তিই ঈশ্বর। বৈকুণ্ঠ তোমার হৃদয়ে। এ পথেই এটা সম্ভব হয়েছে। তেমন রবীন্দ্রনাথকে পেয়েছিলাম তাঁর কালান্তরে।

বাইবেলীয় ওই মানবিক মূল্যবোধ মূলত চিরায়ত মানবিক মূল্যবোধেরই উত্তরসুরী। সবক’টি ধর্মের মানবিক মূল্যবোধই তাই। বহুধা বিভক্ত ধর্মমতগুলো যে মানবধর্মের ছায়াতলে এসে আশ্রয় নিয়েছে, পুষ্টি নিয়েছে। এ সত্য তলস্তয় জানতেন বলেই না তিনি অবতার।

এই উপন্যাসের ব্যাপারে একান্ত ব্যক্তিগত আরো একটি অনুধাবন আছে আমার। আমার অনুধাবন, বিপ্লবের বহু আগে এ উপন্যাস একটি ভাবী সমাজতন্ত্রী রাশিয়ার পথ পরিষ্কার করেছে। এ উপন্যাসে তলস্তয়কে আমি শুধু বিপ্লবের সরব বড় বন্ধু হিসেবেই শুধু নয়, অন্যতম সেরা উপদেষ্টা হিসেবেও আবিষ্কার করেছি।

রবীন্দ্রনাথের রাশিয়ার চিঠি পড়েছিলাম আরো পরে। সেখানে যখন পেলাম, থিয়েটারে পুনরুজ্জীবন মঞ্চায়িত হচ্ছে তখন মনে হলো যেন জিতে গেছি। ছেলেমানুষি উচ্ছ্বাস পেয়ে বসেছিল।

অবশ্য, শুনি কলির ঘণ্টাধ্বনি। রুশ এক সংবাদ প্রতিবেদনে দেখছিলাম, সেখানকার নতুন মানুষেরা আর তলস্তয় পড়ে টড়ে না। এ নিয়ে তার প্রপুত্র আক্ষেপ করছিলেন।

দপ্তর যেটিরই বসুক, দালান স্থায়ী করে দাঁড় করাতে চাইলে একটি ইটের ফাঁকিও দেওয়া চলে না। সেই ফাঁকি একশ খণ্ডের লেখার কোনোটিতেই দেননি তলস্তয়। চ্যাপলিনের ‘হেডলেস মনস্টাররা’ পড়ল কি না-পড়ল তাতে ভুবন মাহমুদ বা জগৎ চ্যাটার্জি কারো কিছু এসে যায় না।

বরং উন্নাসিক সমালোচকের উঁচু নাকের ডগায়, তলস্তয়ের মেধার তুলনায় সামান্য উপন্যাস পুনরুজ্জীবনও কালে হয়ে উঠল অন্যতম ধ্রুপদী উপন্যাস।

বেশিরভাগ লেখক চান, মানুষ প্রতিনিয়ত তার আনন্দপাঠের ভেতর দিয়ে যাক, পাঠটিকে যাপন করুক। শুধু চরিত্র নয় বরং চরিত্রের সঙ্গে ওই যাপন মানুষকে বদলায়। কেবল জ্ঞান মানুষকে বদলায় না, ওটা নিছক তথ্য। জ্ঞানের সঙ্গে যাপন মানুষকে বদলায়, কেননা তাদের সঙ্গমে তখন প্রজ্ঞার জন্ম হয়।

কত রঙের কথা যে মানুষের মনে জন্ম নিতে পারে, প্রপিতামহ! তলস্তয়ের এ বই আমি দীর্ঘদিন হাতে নিয়ে বেড়িয়েছি। ঘুমানোর সময় বালিশের পাশে রেখেছি কত রাত। মনে হতো ধর্মগ্রন্থ নিয়ে ঘুমোতে গেছি। বইটা দেখতেও যেন ঠিক খাটোমোটা গসপেল।

দুঃখ, বড় ইঁচড়ে পাকা সময়ে আন্না কারেনিনা হাতে নিয়ে এঁটে উঠতে না পারায় তেমন কোনো কথারও জন্ম হয়নি। ক্লাস টেনে পড়ি বোধয় তখন।

যাহোক, আমাদের বগধার্মিকদের আড্ডায় প্রত্যেকেরই আলাদা কিছু নাম আছে। আমার নাম বন্ধু রিশাদ রেখেছিল হেমিওর কামনিয়স্কি। দস্তয়েভস্কির সঙ্গে মিলিয়ে রাখা। নিশ্চিতভাবে, এতেও আমার ভীষণ শ্লাঘা বোধ হয়। মাটিতে পা পড়ে না। ইচ্ছে হয় জলের ওপর পা ফেলে কুলুপ করে ডুবে যাই। তারপর সাঁতার কেটে উঠে দেখি, দস্তয়েভস্কি ভারমুক্ত হয়েছেন। আর আমি তো বটেই।

তিন.

দস্তয়েভস্কির নামের উল্লেখ প্রথম পাই হুমায়ূন আহমেদের কোনো এক বইয়ে। আমাদের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা হুমায়ূনের প্রায় সব বই পড়েছে। এমন মোহনবাঁশি বাজানো লেখক আর আসবেন কিনা প্রকৃতি জানে। হুমায়ূন আমাদের মনের মাটি ভিজিয়ে রাখতেন, আর সেই মাটিতে তখন যে যে বীজ পড়ত সেগুলো বেশ গেঁথেও যেত। কিন্তু জলসিঞ্চনের ব্যাপারটা ছিল না তাঁর লেখায়। চোখের জলে কি গাছ বাঁচে?

প্রমাণ, আমার মনে হুমায়ূনের প্রোথিত অনেক গাছ মরে গেছে। কিন্তু দস্তয়েভস্কির নামটা মরেনি। বোধয় ওই রুশি ভদ্রলোকের নিজ জোরেই।

পরবর্তী জীবনে যে লেখকের সর্বাধিক সংখ্যক চরিত্রকে আমি নিজের ভেতর স্থান দিয়েছি, তিনি দস্তয়েভস্কি। তার চরিত্রগুলো যে ভঙ্গিতে প্রচুর কথা বলে, ভীত হয়, ভালোবাসে, কাঁদে, ঠিক সেই চরিত্রগুলোকে আমি প্রতিদিন খুব কাছ থেকে দেখি তো বটেই, আমার ভেতরের আমিটির মধ্যে তাদের নির্ল্লজ্জ অস্তিত্ব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করি।

একটা কথা ভেবে মাঝেসাঝে গ্লানি বোধ করি। ভাবগুরু দস্তয়েভস্কি যেখানে সেখানে যখন তখন কেন আমাকে এমনভাবে নগ্ন করে দিচ্ছেন? গুরুকে দুয়োও আমি দেব। আমার অসংখ্য আয়নাচরিত্র সৃষ্টির জন্যে নয়, বরং এজন্যে, তার নির্মিত অসহায় চরিত্রগুলোকে তিনি কাঁদিয়েই সন্তুষ্ট হন না। সর্বপ্রকার অসুখ আর নিরাশার নর্দমায় নাকডুবুনি খাইয়ে আক্ষরিক অর্থেই মরণ অব্দি পাঁচন হাতে তাদের ‘খেদিয়ে’ নিয়ে যান।

পারেনও।

পড়া বইগুলোর মধ্যে কোন চরিত্রগুলোকে অজান্তেই আমরা ছাপা বর্ণমালা থেকে বের করে আনি?

সেই চরিত্রগুলোকেই, যারা শুধুমাত্র কথোপকথন বিনিময়ই করে না, বরং তাদের ভালো ও খারাপ উভয় দিকের সাম্য প্রতিষ্ঠা করে পরিপূর্ণ মানবিক চরিত্র হিসেবে নিজেদের দাঁড় করাতে পারে।

নিরেট ভালো বা নিরেট মন্দ চরিত্রগুলোকে আমি খুব বেশি দিন মনে রাখিনি। বরং মানুষের একজীবনের কৃতকর্মে ভালো ও মন্দের আশ্চর্য সাম্যের অবস্থান আমি যাদের ভেতর দেখতে পেয়েছি, তাদেরকে আপন ও চেনামানুষ গণ্য করে, তিনি অলীক নাকি বাস্তব সে বিচারে না গিয়ে, আমার ব্যক্তিগত জগতে স্থান দিয়েছি। তাদের সঙ্গে পথে ও ঘাটে আমার নিত্য দেখা হয়েছে। তাদেরকে সময়ে আমি নিজের ভেতর স্থাপন করেছি, সময়ে তাদের কবল থেকে পরিত্রাণও চেয়েছি।

আমার কাছে ভীষণ রহস্যময় অথচ অবশ্যগম্য ব্যাপার এটি। বলাই বাহুল্য, কৃতিত্বটা লেখকের।

তবে ওই সমস্ত চরিত্র লেখককেও অতিক্রম করে যায় বলে স্রষ্টার কথাও আর মনে জাগে না।

হাসিকান্নার মানুষের মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো সাহিত্যশিল্প সৃষ্টি করতে হলে ঋপুতাড়িত পূর্ণাঙ্গ চরিত্র চাই। সেটি সত্য হোক কী মিথ্যে হোক বড় কথা নয়। আঙ্গিকগত সুদক্ষতা মুগ্ধ রাখে সন্দেহ নেই, পাশাপাশি, অমন একটি চরিত্রকে মানুষ কখনও ভুলতে চায় না। প্রজন্মান্তরেও না। মনে লালন করে।

গল্প তো মানুষ বলার জন্যেই মনে রাখে।

মানবমনের যে সমস্ত তৃষ্ণার কোনো জল নেই তাদের মধ্যে একটি হলো নিজেকে চেনার তৃষ্ণা। পরকে চেনার উপায়গুলো যখন উদ্ঘাটিত হয়, তখন মানুষ সূত্রগুলো গোপনে নিজের ভেতর জমা রাখে আর সেখান থেকেই নিজেকে চেনার রসদ যোগাতে চায়, প্রতিনিয়ত।

কিন্তু আগেই আভাস দিয়েছি, বলেছি, যে তৃষ্ণার জল নেই। অর্থাৎ ওই রসদ যোগানোর প্রক্রিয়াটা একটা অনিঃশেষ প্রক্রিয়া। সুতরাং ওই যোগালীপনারও শেষ নেই। আর এ সুযোগে চরিত্রেরা টিকে যায়।

দস্তয়েভস্কি ঠিক ওরকম নারকীয় কিছু চরিত্র দাঁড় করিয়ে আমার জীবনটাকে এক নিত্যনরক বানিয়ে দিয়ে গেছেন। আমার গ্লানিগুলোর এমন দানবীয় কথকের সামনে বেঁচে থেকে, অপমানিত, ক্লিষ্ট, আমি কী করে মানুষের সমাজে বেঁচে থাকতাম জানি না। তিনি যদি আজ বেঁচে থাকতেন, আমাকে মরতে হতো।

আমি কিন্তু এদিকে নিজেকে আরেকজনার পুনর্জন্ম বলে ভাবতে খুব ভালোবাসছি।

প্রায়ই বলি, রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুশয্যায় বলেছিলেন তাঁর লেখার কোথায় যেন কী সংশোধন করা দরকার। আমি সে কারণেই এসেছি, আমিই রবীন্দ্রনাথ! আমার চোখ দেখো, আমার ঝোঁক দেখো! স্বয়ং যম যদি শূদ্রযোনীতে জন্ম নিতে পারেন, আমি কেন রবীন্দ্রনাথ হয়ে নয়?

 

চার.

রবি আমার কাছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্ময়।

এর ভেতর কালান্তর আর জীবনস্মৃতির কথা ঘুরে ফিরে বারবার মনে হয়।

পরিবেশের কারণেই হবে! কালান্তরের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করিয়ে দেওয়ার পেছনে শ্রী কলিম খানের আশ্চর্য কলমের ভূমিকা। আর জীবনস্মৃতির পেছনে আমার শৈশব, কৈশোর, লেখকজীবনের অঙ্গুরোদগম যখন হচ্ছে তখনকার স্মৃতিসুখ, সঙ্গসুখ!

জীবনস্মৃতি নিয়ে কিছু কথা বলি। এবং আমার বাজের কথার ঝাঁপিটা খোলা রেখেই।

বইটা যেদিন পড়া শুরু করি, ভাবছিলাম, পড়ার ভালো কোনো আসন আবিষ্কার করতে না পারলে আর চলছে না।

বই মনকে ঝাঁকুনি দিয়ে জাগায় আর জগতে এই বই পড়ার কাজটিই আলসেপনার আসনে বসে করতে হয়। বড় অবিচার। মাথার ভেতর ঝড় চলছে অথচ মানুষ দেখে মনেই করছে না লোকটা কোনো কাজ করছে। বরং ভাবছে, লোকটা ঘরের খাচ্ছে, আর আরামসে জীবন কাটাচ্ছে, শুয়ে বসে মুচকি হেসে, সিগারেট ফুঁকে আয়েসী ভঙ্গিতে হাত বিস্তার করে ছাইয়ে দিয়ে টোকা; মুটিয়ে ওঠা শরীরটাকে করে তুলছে অসুখ বিসুখের ডিপো; আশ্চর্য বিটকেল!

আমি চাইতাম পড়ার সময় আমাকে বেশ একটু সুন্দর দেখাক, নায়কোচিত দেখাক। বই পড়ার সময় মানুষ যদি দেখে বলে, নাহ, লোকটিকে তো বেশ রাজসুরত লাগছে, তাহলে বুঝতে হয়, পড়ার মতো ব্যাপারের সঙ্গে ভাবনাটা খাপ খাচ্ছে…

নাহ, ভাবছিলাম আসলে অন্য কিছু।

এখানে তা বলার নয়।

মনোসংযোগ করতে গিয়ে একেকটা বাক্য আমাকে পড়তে হচ্ছিল বারবার।

তাছাড়া জীবনস্মৃতিতে প্রায় সব কথাই  বড্ড রূপকে বলা। রবীন্দ্রনাথের দেওয়া রূপকের মায়ায় একবার যে পড়েছে তার পক্ষে পরবর্তীতে কোনো কথা সোজা করে বলাটা কঠিন। বরং সাহিত্য করে ফেলাটা সহজ অনেক।

সাহিত্যের  সহিতধর্ম বাক্যকে যেভাবে সাজাতে শেখায়, রবীন্দ্রনাথ সেই ধর্মীয় নন্দনকলার ধর্মগুরু। এই এক মগজ কোনো এক মানুষ কোনো এক দেবতার কাছ থেকে একদিন বর হিসেবে পেয়েছিল। বোঝেইনি তখন কী নিয়ে চলেছে। এই মগজ খাটিয়ে কেউ যদি চুলের কাঁটা বানাতে থাকে তাতেও তুঙ্গে পৌঁছে যাবে।

যেদিকে তোমার ধ্যান নির্দিষ্ট বলে মগজকে তুমি বোঝাবে সেদিকের অসীমের দিকে ওই জৈবিক বস্তুটি তোমাকে নিয়ে যাবে। এই কথায় আস্থা রাখলে লাভ, না রাখলে ক্ষতি।

রবীন্দ্রনাথ এই বস্তুটির কাছে আপন কর্মী সত্ত্বাকে সঁপে দিয়ে বলেছেন, এই নাও, একে বাক্যে খাটাও। তবে এই অভিযানে প্রাণহানির সম্ভাবনা প্রবল, মনে রেখো। কিন্তু শব্দের ব্রহ্মশক্তির সন্ধান যদি ঘটনাক্রমে মিলে যেতে পারে, তো আর কে পায়! সেই সম্ভাবনার ভরসায় জুয়া খেললাম। জুয়ারই জয় হোক!

রবীন্দ্রনাথ সেই জুয়ায় জিতে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সঙ্গে জিতে গেছে বাংলা ভাষাও, এমন জুয়াড়ি পেয়ে। আমার মনের চোখে রবীন্দ্রনাথ এখনও অব্দি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম জুয়াড়ি।

তো এই জুয়াড়ির বইটি পড়তে গিয়ে আমাকে বিশেষ আসনের বিষয়ে রীতিমতো মাথা খাটাতে হচ্ছিল।

আমি ভেবেছিলাম তাঁর চাল বুঝতে পারার জন্য চাই উপযুক্ত আসন, যে আসনে আমার ঘুম পাবে না প্রথমত। দ্বিতীয়ত, শরীরে প্রতি মুহূর্তে এমন কোনো আক্ষেপ জন্মাবে না যার জন্যে আমাকে বারবার নড়চড় করে উঠতে হয়। আর আমাকে দেখাবে সুন্দর!

যাহোক, কিছু যখন করার ছিল না, ওভাবে শুয়ে বসেই আলুথালু বেশে আমি জীবনস্মৃতি পড়লিাম। পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে কিছু কথার জন্ম হলো।

হঠাৎ অনুভব করলাম, মগজকে আমি আসলে ছোটই করেছিলাম। ওই জৈবিক বস্তুর অস্তিত্বের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।

আমি আবিষ্কার করেছি, যে আসনে, যে পোশাকে, বা যে সময়েই, যে পরিবেশেই পড়ি না কেন, মগজ যদি বুঝতে পারে আপনি বুঝতে চাইছেন, কিছুতেই আর কিছু আসে যায় না। আপনাকে দেখতে থাকা আশপাশের মানুষও তখন সাবধান হয়ে যাবে।

রবীন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি ব্রহ্মশব্দের খনি। আমি এখানে এসে নিরুপায় হয়ে গিয়েছিলাম তার উপমার সামনে, রূপমার সামনে, প্রবাহের সামনে, নন্দ-আনন্দের সামনে। আর অবনত হয়ে থেকেছিলাম সারাক্ষণ বিষাদের সমুখে।

একজন তরুণ রবীন্দ্রনাথকে আমি যেমন করে পেয়েছি এখানে, তেমন করে কিন্তু এর আগে  কখনও পাইনি আর। তাঁরও যে একটা প্রগলভ শৈশব কৈশোর এবং তারুণ্যের একেকটি প্রেমকাতর প্রহর কেটেছে, এতো কাছ থেকে আর দেখিনি কখনো।

রবি যে ঠিক আমাদেরই মতো বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রপারে ঘুরে বেরিয়েছেন তা যেন মানতে পারিনি। সবসময় এমন এক গুরুদেবতুল ছবি কল্পনায় এসেছে, যেন হাতজোড়া পেছনে নিয়ে ঢলঢলে জোব্বা আর বিষণ্ন একজোড়া চোখ নিয়েই তার জন্ম হয়েছিল।

পড়া যখন শেষ করেছি, সামনে তাকিয়ে দেখি পার্লিয়া খুটখাট করছে ওর ল্যাপটপে। ওর এক কর্মচারী নাকি কাজ ছেড়ে চলে গেছে আজ, তাই বলে মন খারাপ। সেই খারাপ যত না আপনবিয়োগের কষ্টের, তারও বেশি অপমানের। ও বিশেষ স্নেহ করতো ছেলেটাকে। এবং স্নেহের উপযুক্ত জবাব সে মুখে ঝামা ঘসে দিয়ে গেছে।

এমন সময় পার্লিয়াকে ডেকে জীবনস্মৃতি বইটা দেখিয়ে বললাম, ‘শোনো, তোমার তো মন খারাপ, তোমাকে দুটো কথা বলি। যেমন ধরো এ বইটা। এ বইটা যতোটা তীব্র আনন্দ দিয়ে শুরু হয়েছিল, ততোটাই তীব্র বিষাদে শেষ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে যে আলোয় আলোয় ঘেরা একজন মহামানব করে পেয়েছিলাম এতোটা দিন মনের মধ্যে, সেটাকে ছাপিয়ে আরেক ছবি দেখলাম। দেখলাম তিনি তারও বড় মানুষ। ভেবে দেখো একবার, বঙ্কিমকে না বলে তার বাসায় চলে গেছেন। লাজুক মুখে বসে আছেন। তারপর খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে লজ্জিত সংকুচিত হয়ে ফিরে আসছেন। আমাদের আর তেমন তফাৎ কোথায়? হাহাহা! তার উত্থানপর্বটা যেন চোখের সামনে দেখছি। ব্যাপার কী জানো? পৌরণিক যে মহীরুহ, সেও শৈশবে বিরুতের সমানই থাকে। ধীরে ধীরে পৃথিবীবিস্তারি পত্রল শৃঙ্গল হয়ে ওঠার তাগাদাটা কিন্তু তার প্রাণতন্তুর ভেতরই পুরে দেওয়া, বুঝলে? কিচ্ছু ভেবো না। এজন্যেই মহানদের প্রাণকথাগুলো প্রেরণার সুধাপাত্র। পানে মাতাল হতে হয়। কিন্তু মাতাল দশা একেকজনকে করিয়ে নেয় একেকটা কাজ, ফল কখনই এক হয় না।’

পার্লিয়া চলে গেল।

ও ভেবেছিল আমি ওর মন খারাপকে ঘিরে ভীষণ সুন্দর এমন কিছু একটা বলব যে ও হাসতে হাসতে ফিরে যাবে। ছেলেটাকে মন থেকে ক্ষমা করে দেবে। তেমন কিছুই হলো না।

ওর চেয়ে আমিও কম হতাশ নই। তবে মনে সান্ত¡না, ওর মনে যে নদী বইছিল, তার পথ আমি একটু হলেও বদলে দিয়েছি।

বাকিটা আপনা থেকেই হবে। যদিও প্রক্রিয়াটা ধীর।

হামিম কামাল। লেখক। জন্ম- ১৯৮৭ সালের ৯ অগাস্ট, ঢাকায়। আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক। প্রকাশিত গ্রন্থ- 'জঠর' (২০১৬), 'কারখানার বাঁশি' (২০১৮)।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ