তুলে রাখা কিছু ছেলেবেলা (পর্ব ৩)

সাঈদা মিমি
গল্প, ধারাবাহিক, নন ফিকশন
Bengali
তুলে রাখা কিছু ছেলেবেলা (পর্ব ৩)

হলুদ রেইনকোট

ছোট্ট মেয়েটা দ্বিতীয়বার যখন আমাকে দেখলো তখনও ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম আমি। কত বয়স হবে মেয়েটার? সাত কিংবা এর আশেপাশেই। ধবধবে, আয়েশী গঠন আর হলুদ রেইনকোট জড়ানো। অভব্য হলুদ নয়, বাদামী-হলুদ মিশেল দেয়া মসৃন এক মাখনবর্ণ।

বৈশাখে যখন তখন ঝড় বৃষ্টি তো হবেই, এই বয়সে রেইনকোট পড়তে লজ্জা লাগে, সাত বছর বয়সে বরং বেশ অহংকার লাগতো। আমার মাখন মিশেল হলুদ রেইনকোট, বাবা কিনে দিয়েছিলেন। সে ভারি লম্বা বৃত্তান্ত, আসলে রেইনকোট জিনিসটা বই দেখে চিনতে শিখছি কেবল, বরফের দেশে স্বাস্থ্যবান মানুষেরা পড়ে দিব্যি ঘুরছে পথে,দুই পকেটে সায়েবী হাত। তো পাড়াগাঁয়ে এসব জিনিস দেখলে মানুষ চোখ গোল করে তাকায়, ভিনগ্রহের চিজটাকে খোঁচা মেরে দেখে।

ভোরে একটা খবর সারা গ্রামেই রটেছে, সব মানুষ ছুটছে ওদিকে। যুধু মাতবরের বৌ মানে পুতি খালা গলায় দড়ি দিয়েছে। অবিশ্বাশ্য কথা! কালও পুতি খালার সাথে দেখা হয়েছে আমার। বিকেলে হলুদ রেইনকোট জড়িয়ে স্কুল থেকে ফিরছিলাম যখন। বৃষ্টিভেজা প্যাঁচপ্যাচে মাটিপথ, রেইনকোট স্যাণ্ডেল সব মাখামাখি। রেইনকোটের সাথে স্যাণ্ডেল! তখন, সেই সাতাত্তর সালের একটা গণ্ডগ্রামে জুতো পায়ে কেউ স্কুলে যাচ্ছে এমনটা দেখিনি তো! তাবৎ স্কুলের ছেলেমেয়েরা এই রেইনকোট  নিয়ে আমাকে অবিরাম পরিহাস করে যাচ্ছে, এয়া কি? কিরহম জুব্বা? বুখরা (বোরখা) নাকি? অ, ম্যাঘ বুখরা! তো এই মেঘ বোরখাটা গায়ে জড়ানোই ছিলো। নদী থেকে স্নান সেরে ফিরছেন পুতি খালা, সাপটে ধরে নিয়ে এলেন আমায়। ও বিটি, কেম্বা আছাও? কতদিন আহো না! আইসো মা, তোমার বুখরা দেখুম, মোয়া রাখছি তোমার জন্যি, গাইয়ের দুধের দই। সেই পুতি খালা নেই মানে!

আমি ছুটছি, নানিমা বাঁধা দিচ্ছেন। বুনু, গলায় দড়ি দিয়া মরা,  তুমি ভয় পাইবা, যাইও না। কে থামায় আমকে? আমার পুতি খালা! কালও আমি নাড়ু খেয়েছি তার হাতে, কালও তার সদাহাস্যময় মুখটা দেখেছি! আজও দেখলাম, খালার নিথর শরীর। ফাঁসির মরায় নাকি জিভ ঝুলে পড়ে? কই, খালাকে তেমন দেখছি না তো? আধাবোঁজা চোখ, মুখে একটা যণ্ত্রনার ছাপ। যুধু মাতবর দাওয়ায় বসে বিলাপ করছে। বড় মেয়েটা এখনো শ্বশুরবাড়ী থেকে আসেনি,  ছেলেদুটো মায়ের লাশের ওপর উপুড় হয়ে কাঁদছে। কি এমন কষ্ট ছিলো খালার যে এভাবে মরতে হলো? পুলিশ এসেছে, এখন ওরা লাশ নিয়ে যাবে। শুনছি, কিসব কাটাছেঁড়া হবে। আমি কাঁদতে পারছি না কেন? দাদী যেবার মারা গেলো, কেঁদেছিলাম তো! এখন পারছি না, আমি মানতেও পারছি না।

জুরান গেরস্থের ছেলেটা মিয়া বাড়ীর মেয়েকে নিয়ে ভেগে গেছে। বড়রা বলাবলি করে, আমার নিবিড় পাঠে মন নেই, এসব শোনায়ও মন নেই। কাল পুতি খালার কবরের কাছে বসেছিলাম। যুধু  মাতবর জোর করে নিয়ে এসেছে আমায়। মা গো, ফাঁসির মড়া প্রেত হইয়া ঘুরে, এইহানে এলহা থাহা ঠিক না। ভয় ভয় লাগে। খালা কেন গলায় দড়ি দিলো মামু? কপাল মা রে, বুঝতারি নাই এমন করবো। বড় মাইয়া বারতা পাঠাইলো, জামাইয়ে দশহাজার টেকা চায়, কৈ থে দিমু? হেই চিন্তা মাথায় নিয়া তর খালায় তো গেলো, আমার কি অইবো? মাইয়াডাও এহানে আইয়া পড়ছে, পোলাগুলানও নাদান। আমি এত ভারী চিন্তার কথাগুলি বুঝতে পারি না।

বৃষ্টির মরশুম এটা, অবোধ জীবনের দূরন্ত দিন। কেউ কেউ ছাতা বগলদাবা করে হাঁটে, অনেকেই এসবের ধার ধারে না। একটা আস্ত কলাপাতা দিয়ে মাথা আড়াল করে। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরা ভিজতেই ভালোবাসে, খুব কায়দা করে পলিথিনে মুড়িয়ে নেয় বইপত্তর। আমি রেইনকোট পরে হাঁটি। এতে কেউ ঈর্ষান্বিত হয় দেখিনি। ম্যাঘ বুখরা দেখে সবাই হাসে এবং একসময় সেটা সংক্রামিত হয়ে অট্টহাসিতে রূপ নেয়। আমার লজ্জা লাগে। আমি বাসায় এসে বাবাকে একটা দীর্ঘ চিঠি লিখি এই ম্যাঘ বুখরা বেত্তান্ত জানিয়ে। সেই চিঠি পড়ে বাবা গ্রামে চলে আসেন এবং সুতীব্র হাসি সহযোগে মাকে চিঠিটা দেখান। অসংখ্য ভুল বানানে আমি সূচনা পর্ব লিখেছিলাম, ‘মাননীয় বাবা, আমার দোয়া নিবেন।‘

গল্পটা আরো বাড়তে পারতো কিন্তু তার আগেই ছিদেম মামুর পাগলা গরুটা শিং গলিয়ে দিলো। সেদিন মা পইপই করে বলে দিয়েছিলেন, আমি যেন মুন্সিবাড়ি থেকে গাছপাকা একটা চালকুমড়া নিয়ে আসি, মোরব্বা হবে। উলস, সে তো মজার জিনিস। কিন্তু ভারী কুমড়া বয়ে আনা কি চাট্টিখানি কথা! পাক্কা সোয়া মাইল পথ হেঁটে স্কুল থেকে আসি। মুন্সি বাড়িটা আমাদের বাসা থেকে দুই মোড় পরেই। তবু মা আমাকেই হুকুমটা করলেন? কি হতো দু’পা হেঁটে নিজেই একটু নিয়ে এলে! সেদিন ফিরতি পথে একটা আছাড় খেয়ে কাঁদায় মাখামাখি হলো রেইনকোট। একটা হতচ্ছাড়া আধাভেজা শালিখ তিড়িংবিড়িং করে চেহারা দেখিয়ে গেলো।

পুতি খালার কবরটা হালট পেরিয়ে আরো দুরের জংলা একটা ভিটায়। রোজ সেদিকে দাঁড়াই কিছুক্ষণ। সেদিনও দাঁড়িয়েছি। বৃষ্টির ফোঁটা যেন উড়ে যাওয়া কাশের রেণু। চোখে কি একটা ধরা পড়লো, কুণ্ডলি পাকানো কোনো ধোঁয়া? খিঁচে দৌড়, দিগ্বিদিক… মুন্সি বাড়িটা যেন কই? একটা সোরগোল, ধর ধর… ছুইটে গেলো এবং কি একটা যেন তুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেললো আমায় ক্ষেতের আলে। একটা বিকেল, আমি, কতগুলো মুখ, অচেতন ঘোর।

ছোট্ট মেয়েটা হাসছে, মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছে সে। পরনে হলুদ রেইনকোট। হাত নেড়ে আদর ছুঁড়ে দিলাম মেয়েটার দিকে। সেই কতকাল আগে ভয় পেয়ে যেদিন ছুটছিলাম। ছিদেম মামুর পাগলা গরুটাও গোয়াল ছেড়ে পালিয়েছিলো। একটা শিং নেই, আরেকটা আধভাঙ্গা, স্মৃতি নড়েচড়ে ওঠে। রেইনকোটটা আছে, প্রায় অক্ষত কেবল কোমরের কাছটায় একটা শ্রীহীন গর্ত।

শিমু কেনো বড় হতে চায়!

শিমুর সাথে মিশতে ভালো লাগছে না। হঠাৎ করেই ও বড় মানুষদের মতো ভাব করছে। ওদের বাইরের ভিটায় একটা বৈঠক ঘর আছে। সেটার নাম বাংলা ঘর। এখানে শিমুদের লজিং মাস্টার খাইরুল স্যার থাকেন। লোকটাকে আমি একটুও সহ্য করতে পারি না। সারাক্ষন কেমন ছোঁকছোঁক করে আর মহিলাদের আড্ডায় ঢোকার চেষ্টা করে। কদিন আগে আমাদের পিছন উঠানে দাঁড়িয়ে গলা খাকারি দিয়েছিলো, ভাবিসাব আছেন? মেজ মামি ছিলেন কলতলায়। নচ্ছার, হারামজাদা বলে বিড়বিড় করলেন। কি চাই তার! সে একটু চা পান করতে চায়।

আমরা দিনে দুইবার চা খেতাম। সকালে আর বিকালে। পুবের দিকে আমাদের রান্নাঘর। বাঁশের বেড়া আর শনের চাল দেয়া। বেশ বড় ঘর। অনেকগুলো পিড়ি পাতা থাকে। আমরা ওখানে বসেই সকালের নাস্তা করি। বিকেলের চা ও ওখানে বসে খাই। কেবল দুপুরের খাবার খাই বড়ো ঘরে। এই ঘরটা ভেতর বাড়িতেই। এখানে খাওয়া দাওয়া হয়। মুরুব্বীরা বসে গাল্গপপ্প করেন। একটা বিছানাও পাতা আছে। আমরা এখানে বসেই লেখাপড়া করি। ঘুমাবার সময় যার যার ঘরে চলে যাই।

আমাদের ভিটা লাগোয়া মামাদের ভিটা। এটা আসলেই আনন্দের যে আমরা এক রসুইঘরেই রান্না করি। কয়েকজন কাজের মানুষ আছে। খাবার সময় বেশ বড়সড় একটা বাহিনী বসে যাই খেজুর পাতার পাটিতে। হ্যাঁ, আমরা পাটিতে বসে খাই। মামিরা অথবা মা পিড়িতে বসে পরিবেশন করেন। খাওয়া শেষে আমরা নিজেদের গাইয়ের দুধ খাই। আমাদের গোয়ালের দেখাশোনা করেন হাতেম মামু। মামু বেশ মজার একটা চরিত্র। সারাক্ষণ একা একা কথা বলেন। কখনো তাকে অদৃশ্য কারো সাথেও কথা বলতে দেখা যায়। বুড়োরা বলেন, হাতেম মামু ছোট বেলা থেকেই ভূতগ্রস্ত। সেই ভূত আর ছাড়ানো সম্ভব নয়। ওটা নাকি তার রক্তে মিশে গেছে।

বলছিলাম খাইরুল স্যারের কথা। সে বিকেলের চা আমাদের সঙ্গে খেতে চায়। সেই সময়ের গল্প বলছি যখন মানুষ অত্যন্ত হৃদয়বান ছিলো। তারা অতিথি পরায়ন ছিলো। মামি স্যারকে না বলতে পারেন না। তবে বৈঠক খানায় বসতে বলেন। স্যার সেখানে না বসে সুড়সুড় করে আমাদের রান্নাঘরে চলে আসেন। মামি এই প্রথম বিরক্তি প্রকাশ করে ফেলেন। আপনে মরদ লোক হইয়া বিটিছাওয়ালগের মধ্যি আসেন ক্যান? আপনের ভাই গোস্যা করবো। স্যার বিচ্ছিরি দাঁত বের করে একটা হাসি দেন। এই স্যারের কাছে শিমু পড়ে। কি পড়ে প্রভূই জানেন। একদিন সে একটা পর্নোগ্রাফির বই নিয়ে হাজির হয়। এরপর থেকেই শিমুর সাথে আড়ি চলছে। ওর সঙ্গে মিশছি না।

বড়ো হওয়ার পর এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলেছিলাম আমরা। শিমু খুবই লজ্জা পাচ্ছিল। তখন আমরা কলেজে পড়ি। আমি বরিশাল থেকে বেড়াতে এসেছি। গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। শিমু মানিকগঞ্জ শহরে পড়ছে। সরকারী দেবেন্দ্রনাথ কলেজে। দুজনেই ছুটি। তখন রোজার মাস চলছে। আমরা ঈদ করতে গ্রামে এসেছি। আমি আর সেজো আপা। বড়ো আপাও এসেছে। ওর শশুরবাড়ী ঘোনাপাড়াতেই। সুতরাং আপা, দুলাভাই, ছানা পোনা সব মাচাইন ঘোনাপাড়ায়। ঈদের দুইদিন আগে আমার হঠাৎ বমি। কিছু খেতে পারছি না। দুলাল ডাক্তার জানিয়েছে, জন্ডিস। আমাকে খুব ভোরে কর্মকার পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জন্ডিস ঝাড়া হবে। এতোদিন পরে তাদের নাম ভুলে গেছি। কেবল মনে আছে আমাকে সরষের তেল মেশানো জল দিয়ে কুলি করিয়ে কাঁচা দুধের দই খাওয়ানো হয়েছে। আমার বমি বেড়ে গেছে।

এই অভাবনীয় চিকিৎসার পর প্রবল জ্বর এলো আমার, সঙ্গে বমি। ছোট মামা ছুটলেন সদরে। কে যেনো মাথায় পানি ঢালছিলো মনে করতে পারছি না। তবে এটা মনে আছে, শিমু আমার মাথার কাছে বসে থাকতে ঘন্টার পর ঘন্টা। আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিতো। আমি নাকি ওকে কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম, শিমুরে, মায়ের সাথে আমার দেখা হলোনা। মাকে না দেখেই আমি মরে যাচ্ছি। আসলে আমার হয়েছিলো টাইফয়েড। ঈদ মাটি হলো। আমি ভুগে ভুগে আরও শুকিয়ে গেলাম। বরিশাল ফেরার শেষ কটাদিন আমাকে ক্ষেপিয়ে লাল করে দিতো শিমু। আমি কি কি প্রলাপ বকেছি তা পুনখানুপুখরুপে বয়ান করতো ফাজিলটা। শেষে টিকতে না পেরে ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দিলাম ওকে। তুই অই বিচ্ছিরি বইটা কোথায় পেয়েছিলি? ও বলেছিলো। খাইরুল স্যার ওকে দিয়েছিলেন বইটা।

এইডা কি বাজে জিনিস তুই জানস? শিমু আমার কাছ থেকে এমন ঠান্ডা ব্যবহার আশা করেনি। মান ভাঙ্গাতে এসেছে। এইসব বই তুই কোই পাইছাস? স্যারের কাছে, শিমু স্বীকার করেছিলো। কিন্তু, এইটা তো আমাগের জন্য না! মামায় দেখলে তোরে মাইরা ফলবো! দেহুক, ও বিষন্ন হয়। নিজে আকাম কইরা বেড়াইবার পারে, আর আমি করলে দুষি? তখন মনে পড়ে, গ্রামে মামার অনেক দুর্নাম। তিনটে বিয়ে করেছেন। এরপরেও শান্তি নেই তার। আরও বিয়ে করতে চান। শিমু মামার বড়ো বউয়ের সন্তান। ছেলেমেয়েদের সামনেই নানা অপকর্ম করেন। আমি খুব রেগে গেলাম, এনহে (এখন) তুইও তোর বাপের নাহান হবি? হ, হমু। আমি তাড়াতাড়ি বড়ো হইবার চাই। বড়ো হইয়া বাপের চাইতে বেশি নিহা (নিকাহ) করুম। আমি ছয়ডা বিয়া করুম। ওর কষ্টটা চোখের সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি অসহায়ের মত ওর দিকে তাকিয়ে থাকি।

চলবে…

সাঈদা মিমি। জন্ম ২৯ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৮। ছাত্রজীবন থেকে লেখালেখি শুরু। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ সব নিয়ে গ্যাছে এক সময়ের লুটেরা বাতাস ফারাও কুমারী একজন মৃতের ডায়েরী শুশুনিয়া পাহাড় ঔরঙ্গজেবের নীল ঘোড়া (গল্পগ্রন্থ) কীর্তনখোলা (প্রকাশিতব্য কাব্যগ্রন্থ) পেশাগত জীবনে একজন ফ্রি ল্যান্সার সাংবাদিক।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

বালির বেহালা

বালির বেহালা

বুড়িমাসি বলেন,জীবনটা বালির ঘর গো।ঢেউ এলে ধুয়ে যায় জীবনের মায়া।তবু বড় ভালবাসা ওদের দাম্পত্যে।রোদের চাদরের…..

তদন্ত

তদন্ত

  এক ড্রইং রুমে বসে রয়েছে সদ্য কিশোর উত্তীর্ণ তরুণ গোয়েন্দা সজীব। সামনের টেবিলে ছড়িয়ে…..