দর্জিবাড়ির পাখি

মায়িশা তাসনিম ইসলাম
কবিতা
Bengali
দর্জিবাড়ির পাখি

অনিকেত দহন ১৮

চোখে কাজল
বটি কাটা
বাড়ি মাদল
শিশ্ন ডাটা

শরীরটা বেড়াম নাচা
কঙ্কালে মেহেদী রস
নাচুনি বুড়ি বেশ্যা লতা
ধরছেনা রে, উঠ রে বস

ঢঙের শহর
সঙ সহবাস
মূলটা কই
পিটায় রাজহাঁস

থাম রে নয়নী
সোজা দুপথ
সতী হতে
নেই রক্ষাকবচ।

অনিকেত দহন ১৯

তোমার কাঁধে একটা শান্ত বাক্স হয়ে খুলছি, ঝুলছি কাটা চামচ টা ফেলে দাও

অনিকেত দহন ২১

জিব্বায় জিভ জলডোরা সাপ
কলিজায় ১২ দাঁত হাসি উত্তাপ
স্মৃতির ধরনে খেইলো না কাঁচা
উত্তরণের কথায় বিষ রয় হাছা

অনিকেত দহন ২২

এখন প্রশ্ন শীতল পাটিতে পা ঘষে
পশ্চিমেই জুয়া বসুক

অনিকেত দহন ২৮

বিশেষ পত্রিকার এক সম্পাদক, কবিতা হলো কি হলো না তা নিয়ে মাথার পৃষ্ঠা দাগাচ্ছে অসুর কলমে। কবিসমাজ বৃষ্টি দেখে মনে করেন পেয়েছেন আলাদিনের চেরাগ, ঘসলেই জ্বিনি কবিতা আর সম্পাদকের ঠাণ্ডা মাথা। নিজস্ব সাহিত্যে পেট ফুলিয়ে আমি ভণ্ডামির শতকে প্রকাশ চাচ্ছি অথচ জানি, মায়েদের ত্যাগ নয়মাসেই শেষ হয় না। হাটু গেড়ে বসলে স্পাইনের ব্যথাটা বাড়ে, তাই ঈশ্বরের চরিত্রে মূকাভিনয় করা সম্পাদকদের সামনে ম্যাজিক কার্পেটে উড়ে যাই– বাসস্থানহীন দুনিয়ায়…

অনিকেত দহন ২৯

ধোয়ার শেষ হাসি
জ্বলজ্যান্ত নৈকট্যে
ভরা আগুনে সঙ্গম মুখের

আমৃত্যু অবশ্য মৃত্যুকে টেক্কা দেয়া
মন্ত্রীত্বের নগদ চাল
মেধা বাছা হয় চালের কুলোয়

সরলরৈখিক নাম
বাসনার কুঠার
বেনামে উড়ছে অবাধ এতিম

ধোয়ার শেষে
বাইকের দরদাম
চালের কুলোয় বারবিকিউ পাখি

এক্সপ্রেসো এলার্ম

তোমার আজকাল অশ্লীলতার সময় নেই
তাই ক্ষমতাকে বলি, আসুন এককাপ এক্সপ্রেসো সাক্ষাতে
পিতাকে স্মরণ করে মৌনব্রত, সুরসুর শব্দ
আসুন ক্ষমতা, ফুলকপি ভাজা আর চিকেন ফ্রাইয়ের অতিথি সন্ধ্যায়
সামান্য অশ্লীলতার দায় নিন তেলতেলে আপ্যায়নে।

মানুষডাক

চুমুতে আহত পাখিরা সকাল কেঁদে ভাসায় কিচিরমিচির

এই সকাল, রাত বেদনার পোস্টমর্টেম নিয়ে আসা শৈত্যপ্রবাহ। শিশির ছুঁইয়ে ঠোঁটে একা ঘাস, বক্তৃতা খুনী পায়ে। শহরের সঙ্গদোষে উচ্ছেদ বৃদ্ধ চরে, বনমাতাল মানুষদের মাংসভুক নাঁচ। অফিস থেকে পরকীয়াজ্ঞানহীন বাস ফিরে যায় নাড়ি ও গ্রাম্য বিড়ির উচ্ছ্বাসে। নিপা ভাইরাসের মত প্রেমকে মহামারী করতে কবিরা বাদুড় হয়ে ঝুলে গেছে বঙ্গশিরে

চুমুতে আহত পাখিরা স্পন্দনে কাঁদে মানুষডাক, অন্ধ কৌশলে

সেট্রালাইন

সেট্রা, হৃদয় ভুলাতে কি দাপাতে হয় কোমর থেকে পা?
রক্তরসে কেমন
৷৷ প্রোটিনে অনিচ্ছা রমণ
হারে হারে কাঁপছি তরুণ হাড়ের দীনতা

তুমি কি পতিব্রতা নারীর লাঞ্ছিত রাতের অর্ধাঙ্গ অনুবাদ?
ভুলছো প্রজন্ম অনুসরণ
৷৷৷ কী পথে লাল-সাদা ক্ষরণ
তিনরকম রক্তে নারী ত্রিধারা তপস্যা

সেট্রা, এতকাল ধরে কম তো বাঁধেনি শনি মহাশয় বলয়
৷৷ অসুখের সুখী সাধ
৷৷৷৷ লজ্জারও লাজুক উপহাস
কারো শরীরী যন্ত্রণা এ তল্লাটে মাড়ায় না অপবিদ্যা।

বিদায় নাও প্রতিহিংসার বিভ্রমে, বিশেষে
ফিরে এসো আলোজ্বালা অশরীরী অশ্বথের করায়

৭১ থেকে ১৯

শঙ্খ-রাত্রির কোনে একা একা মানচিত্র–
চোখে জল নিয়ে ঘুম!
চৌকিদার নেই, জাগরণ ভেজা বালিশ

বৈদ্যে বিলাসে অবুঝ শক্তি
রাষ্ট্রীয় জিরাফ–
গলা বাড়ানো রিপোর্টিং
জেলখানায় প্রাণের সংবাদ

হরিণসমাজে সকালের মিটিং
গ্রীষ্মে খুব হরতাল হবে
নিয়ে কপাল-অশ্রু– পায়ে ফাটবে ফটক

নতুন বাজারে নোটের রসগন্ধে
পিঁপড়ে চাটা আঙুলের গেরুয়া ডুব

তেতুলিয়া শীতে বিশ্বস্ত জননী
হাতমুখ ধুঁতে সমুদ্রের মেহমান

হরিণদের মিটিং শেষে লবণের আয়োজন

মাদক বইয়ে সুদ আসল আয়োডিন পাঠ
আগা আর গোড়াটা উনিশ শিশুর দুধে
মাঝখান নেশাটুকু
দলিলে সলিল।

ধূমপায়ী প্রেমিক ৩

প্রতিদিন অভ্যাসবশত মরার পর প্রেমিকার কাছে গেলে বলে যে, এখনো মরোনি কেনো। তাকে আদর করে বুঝাই, ধূমপায়ীর শ্বাস এত সহজে টেনে নিলে মৃত্যুর রাজমিস্ত্রীদের চাকরি চলে যায় আর আগরবাতির ধোঁয়ার বদলে এই ধোঁয়ার মারফতে কোষাগারের পেট কিভাবে বেলুনের মতো থপথপ উড়ে, বসে

আসো একসাথে এই জাদুকরী লাঠির ভেতর থেকে আগুনরঙা মৃত্যু টানি আর শহরটা দ্বৈত ফুটোওয়ালা পাইপের ভেতর তার বিচ্ছিরি পশ্চাদেশ লয়ে কয়েক মিনিট ছুটোছুটি করুক।

দর্জিবাড়ির পাখি

তাল কাটে কাপড়ে, বেহিসাব শৈলী

দর্জি হয়ে থাকা মাথা ব্যথা
সেলাই করে আনাড়ি কুসুম

ভাতের রাঁধুনি নই
অক্ষরে স্নায়ু মেরামত

যাপনকে বলছি, দ্বন্দে সরে দণ্ড
মনোহর কায়দায়
পৃষ্ঠায়
দানায়

রগ টানে রগের তাঁতকল
শুকনো মৌসুমে ভীড় জমে শ্রমের
অভাবটা কাপড়ের নয়
সুতোয় পাখি বোনা, অবাক ধৈর্যের

মায়িশা তাসনিম ইসলাম। কবি ও শিক্ষার্থী। জন্ম ও বাস ঢাকা শহরে। অনেকের মতো ছোটবেলা থেকে লেখালিখি শুরু করেননি, তবে দেরিতে হলেও তিনি বিশ্বাস করা শুরু করেছেন কবিতাই প্রথম উপাসনা এবং শব্দের পাঁপড়িতে ফোটা বোধের ফুল। তিনি এটাও বিশ্বাস করেন কলমের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ