দূরভাষ

তপনকান্তি মুখার্জি
কবিতা
Bengali
দূরভাষ

আশায় আশায়

জানালা খুলে বসে আছি চুপচাপ।
একদিকে চলছে স্বপ্নফেরি, অন্যদিকে মিথ্যার বেসাতি।
একদিকে পাঁজর গুঁড়িয়ে মঙ্গলে পা রাখার স্বপ্ন,
অন্যদিকে উন্নয়নের ঢক্কানিনাদে থরহরি কম্প।
কোনদিকে পথ – মনের কথা বলব কাকে?
গণতণ্ত্রের যূপকাষ্ঠে সংখ্যার নিরিখে বাঁধা মাথা।
যে কোনও মুহূর্তে হতে পারে শিরচ্ছেদ,
কিংবা স্বভূমি থেকে উৎখাত।
ভোরের আলো কি ফুটবে?
জানালা খোলাই আছে।

 

দূরভাষ

অপমানের আড়ালে তৈরি হয় অদৃশ্যের সঙ্গে
কথোপকথন। মুখে ওঠে বিষদাঁত, হাতে বাঘনখ।
কেটে ছিঁড়ে তালগোল অপমানকারী।
এমনই হয়, এটাই ঘটে। প্রতিদ্বন্দী ঠোঁটে মাখে
লিপস্টিক, আমার মনে হয় রক্তমাখা ঠোঁট। সে
হাসে বিজয়ীর হাসি, আমি দেখি শ্বাস ওঠে তার।
হৃদয় জুড়ায়। সবই আসলে স্বপ্ন, ছলনা। হিংসা –
দ্বেষ ঘোরে মনকে বৃত্ত করে। আগুন হয় অক্ষমতার
বেদনায়। তারপর জল পড়ে, বরফ গলে, হৃদয় শুকায়।
শব্দ ছোটে শব্দাতীতের পথে।

 

ভবিতব্য

সারাদিন খুঁটে খুঁটে সেকেন্ড কুড়াই, মিনিট কুড়াই,
ঘন্টা কুড়াই। দুহাতে মাড়ানো অন্ধকারের ভিড়ে
সময় হাঁসফাঁস করে, তাই তুলে জমা করি পুঁটুলিতে।
ঠিক চব্বিশ ঘন্টা পর পর একজন ফেরিওয়ালা আসে
সময় কিনতে। খুচরো সেকেন্ড, মিনিট তুলে দিই
তার হাতে, ঘন্টা জমা থাকে আমারই কাছে দিন সেজে।
এমন কতো দিন ঘুমিয়ে আছে ঝোলায়। ভিড়ে ঠাসা
দিনের মাথায় হাত বুলিয়ে এগিয়ে চলি বছরের
দিকে। বয়স বাড়ে, শীতল চোখে তাকিয়ে থাকে সে।
পাঁজরের ফাঁকে ফাঁকে জগদ্দল বয়স কাফন খোঁজে
শেষ সময়ের। পুঁটুলির গিঁট খুলে বেরিয়ে পড়ে
নিঃশ্বাস সন্তর্পনে। কফিনে নোঙর ফেলে শরীর
সবকিছু ফেলে রেখে।

 

গভীর গোপন

গতরাতে সে চলে গেছে-
চলে গেছে অনেক দূরে, যেখানে শুধু যাওয়াই যায়,
ফেরার রাস্তা বন্ধ।
আমার মনে হচ্ছিল, গলা দিয়ে আগুন নামছে হৃদয়ে।
চারদিকে কুয়াশার বুনোট, হিমশীতল বাতাস
রাতের একাকীত্বকে জাপটে ধরছে।
দরজা, জানালা, পরদা, আলমারি মিলিয়ে যাচ্ছে
অন্ধকারে, স্মৃতিগুলো পোশাকের মতো লেগে গায়ে।
দ্বিতীয় আমির জন্ম হচ্ছে আমার মধ্যে।
নির্জন ঘরে শুয়ে নির্বাক বিষাদ।
খাতাটা তেমনই খোলা, অর্ধেক কবিতা লেখা তাতে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তৃষ্ণা

প্রাচীন সভ্যতা নিমগাছের ডালে বসে থাকা কাকের কন্ঠস্বর চিরে বেরিয়ে আসছে বুভুক্ষু পৃথিবীর আর্তনাদ মহেঞ্জোদাড়ো…..