দেশ নিয়ে সাতভাবনা

শিবব্রত মণ্ডল
কবিতা
Bengali
দেশ নিয়ে সাতভাবনা

দেশ নিয়ে সাতভাবনা

১. 

খেলতে লেগেছে মাঠে এক দল শিশু দেশ-দেশ মজাদার খেলা
উঠেছে ধূলোর বাঁধ ফেটেছে ধূলোর বোমা, তবু চোখ জ্বালা জ্বালা ।

 

২. 

দেশে দেশে বিদ্বেষে যে যুদ্ধ লাগে, কারা লড়ে যেন!
হাবুলের করিমের বাবারা দাদারা কি জানি ফেরে না কেন!
এই ভাবে লড়ে লড়ে আমরাই শেষ, রাজার দেশ মন্ত্রীর দেশ।
কালু ডোম পোড়ারুটি আলুভাজা খেয়ে যুদ্ধের খবর দেখে
আটা মাখা হাতে বউও চাখে, স্বাদে ভরপুর খবরের রেশ
কী উত্তেজনা জমপেশ, আহা যুদ্ধ কী দারুণ, বেশ বেশ।

 

৩.

সাবিনাদের উঠোনে কফিন নামে , জাতীয় পতাকা জড়ানো তাতে
গান স্যালুটের অহং ওড়ে বাতাসে , গান থামে গেঁয়ো মেঠো পথে।
মেঠোপথ বহুদূর – এদেশের ওদেশের সব পথ এক সুরে কাঁদে
খুব গোপনে সবরাজা সব রাজপথ মেঠোদের গলিয়েছে ফাঁদে।

 

৪. 

সব রাজা বুঝদার, শান্তিপ্রিয়, রক্তের পরে সব বোঝে
সন্ধির টেবিলে দুজনে ঠেকিয়ে বুক প্রাণপণে শান্তিকে খোঁজে।
যুদ্ধ মন্দ কী! টেবিলেই লড়োনা যত সব রাজা, দেব জয়মালা
এলেবেলে পাবলিক আমরা, মগজে দেশের বিষ ঢাল কেন শালা?

 

৫. 

দেশ বড় মুচমুচে, মুখে পুরে হেঁটে চলে জনতা
জনতার জনাদেশ, জনতাই দেশ, সবই তার ক্ষমতা,
সংলাপে তৃপ্তি খুঁজে কানেতে বিড়ি গুঁজে সব ফেরে ঘরে
পকেটে ঢুকিয়ে দেশ রাজা কাড়ে জনাদেশ, বাকী সব পরে।

 

৬.

ভেতরে গজানো উদ্ধত দেওয়ালের নাম দেশ
দেওয়াল ঘিরে নেয় জমি, যেমন বেড়া ওঠে ক্ষেতে
বেড়ার রকম আছে কত- তেকোণা, চৌকোণ, গোলাকার
কিম্বা আঁকা-বাঁকা নদীর মত-মন যেদিকে যেমন বাঁক নেয়।
দেশ বাড়ে দ্বেষের হাত ধরে, কাঁটাতার জ্বলন্ত সাক্ষী।
সীমান্তের টানেল ভরে শানিত অস্ত্রে, আগুন চাই আগুন
রাজ-বোধ তৃপ্তি পায় পতাকা পুঁতে বিজিতের বুকে,
এভাবেই কাল-পথে দ্বেষ থেকে আরো দেশ আরো দ্বেষ।
কারা যেন সব দেশে কালে কালে গুছায় আখের!
মানুষের সব ক্ষত, চাপা পড়া কথা যত
ইতিহাস চুপিসারে লিখে রাখে মানুষের নিজ্বস্ব মন্দেশে।

 

৭. 

মনে করি পৃথিবীতে কোন দেশ নেই, ধানজমি ভাঙে আল-পথ
মানুষের বুক ভেঙে আড়াআড়ি বেড়ে ওঠে দেশ-ঝোঁক
ধানজমি অনায়াসে জল পায় আলের এপার ওপার
আমরাও হতে চাই কাছাকাছি, সব আল নীচু হোক।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ