ধর্ম ও অধর্ম

অভিজিৎ দাশগুপ্ত
কবিতা
Bengali
ধর্ম ও অধর্ম

কোনোদিন দেখা হবে না বলে

চাঁদ ক্ষয়ে গেছে, আলো সরে গেছে,
ফুল ঝরে গেছে, সুতো ছিঁড়ে গেছে,
আর কোনোদিন দেখা হবে না বলে।

সময় থেমে গেছে, কথা মরে গেছে,
বিশ্বাস নড়ে গেছে, শূন্যতায় ভরে গেছে,
আর কোনোদিন কথা হবে না বলে।

কপাল ঘেমে গেছে, পা টলে গেছে,
মনোবল ভেঙে গেছে, শেষ বলে গেছে,
কোনোদিন তোমার কথা শোনা হবে না বলে।

পৃথিবীতে নাকি কোথাও, কখনও
শূন্যস্থান থাকতেই পারে না।
তবে মনের শূন্যস্থান পূরণ করবে
কার সাধ্য।

শূন্যস্থানের দিকে যাত্ৰা জীবনের অমোঘ সত্য।

সত্যকে ছেড়ে যেও না

সত্যকে উপেক্ষা করতেই পারো…
সে অধিকার তোমার আছে,
তুমি স্বাধীন।রাষ্ট্রের সংবিধান তোমাকে
সেই মহার্ঘ সুযোগ করে দিয়েছে।
তবে সত্যের বিকল্প হয় না।
শিল্পীর তুলির টানে ক্যানভাসে চাঁদকে
দেখে তোমার মনে হতেই পারে
তুমি জীবন্ত চাঁদ দেখে চক্ষু সার্থক করছো।
এতে আসল চাঁদের গরিমা
কখনো খর্ব হয় না। সে কখনো স্থানচ্যুত হয় না।
অসত্যকে তুমি সুন্দর মোড়কে পরিবেশন
করতেই পারো।অসুবিধা নেই।
তবে এর ক্ষণ স্থায়ীকাল নিয়ে
কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না।
আর সত্য যখন হাসবে
তুমি অস্তিত্বের সংকটে ডুবে যাবে।
অন্ধকার ছায়ায় শুকনো মুখটাকে
আশ্রয় নিতে হবে।
তাই সত্যের হাত ছেড়ো না,
সত্যের সান্নিধ্য কখনো ছেড়ো না।

নিয়ন্তা

তোমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার কি অদ্ভুত
তাগিদ তোমার চারিপাশে;
তুমি ভালো কিছু কারো–তাও সমালোচনা,
আর ভুল করলে তো কোনো কথাই নেই,
শতশত নখযুক্ত হাত তোমার দিকে
ধাবিত হবে জেটগতিতে।
কৈফয়েৎ চাইবে প্রতিটি ভুলের।
অসহায় মনে হবে নিজেকে,
মনোবল তলানিতে নেমে যাবে–
অথচ তারা প্রমাণ করতে চাইবে
তারা ধোয়া তুলসীপাতা।
ভুলের দাগ তাদের শরীরে কোনোদিন লাগে নি।
তুমি যদি তাদের দেওয়া সমালোচনার
উত্তর দিতে যাও, নিজেকেই ছোট করবে।
তোমার কাজ পাখির চোখকে নিশানা করা;
এদের দিকে ফিরেও তাকিও না।
আর তাকাবারই বা কি আছে
তারা কি ভগবান, তোমার নিয়ন্তা।
নিজের নিয়ন্তা নিজে হও,
সর্বশক্তিমানও তোমার কাছে মাথা নত করবে…

ধর্ম ও অধর্ম

ধর্ম নিয়ে খেলছে যারা ,
খেলতে দাও তাদের।
তোমার ধর্ম তুমি মানুষ,
মানুষের পাশে থাকা
তোমার একমাত্র ধার্মিক ক্রিয়াকলাপ।
বাহ্যিক ধর্মের বুলি আওড়ে
কি করবে তুমি?
অন্তরের ধর্ম– ভালোবাসা,
তাকেই তোমার অলংকার করো।
যে ধর্ম মানুষের থেকে
মানুষের প্রেম কেড়ে নেয়,
যে ধর্ম ভাই ভাইয়ে
মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে,
যে ধর্ম রক্তের দাম দিতে জানে না,
যে ধর্ম অন্যের প্রতি শানিত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে,
যে ধর্ম ধৈর্য্যের চ্যুতি ঘটায়,
যে ধর্ম মিথ্যের কালো জালে
সমাজকে কয়েক যুগ পেছনে নিয়ে যায়,
যে ধর্ম মানুষকে মানুষ বলে
ভাবতে শেখায় না,
অথচ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হতে শেখায়,
সে ধর্ম যুগের চালিকা শক্তি হতে পারে না।
আর যাই হোক
এ ধর্ম মানুষকে উন্নত করার ধর্ম নয়।
অধর্মের অচলায়তনকে উধাও করে
প্রেমধর্মে যদি ভেসে যেতে পারো,
তুমি বাঁচবে প্রাণ খুলে,
অন্যেরাও বাঁচবে প্রাণ খুলে।

অভিজিৎ দাশগুপ্ত। কবি। অভিজিৎ দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৭৬ সালে কলকাতায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। এখন কবি কলকাতাতেই বসবাস করছেন। পিতা অরুণ কান্তি দাশগুপ্ত পেশায় শিক্ষক ছিলেন। পিতার অনুপ্রেরণায় বর্তমানে কবি শিক্ষকতার মহানব্রতে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। কবি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..