যাযাবর
যাযাবর যাযাবরদের ছোঁড়া কাঠে আগুনও অসংযত,ঝড় উঠে ইত্যবসরে কিছু লবণ দানাও জমা পড়েছে… উদ্বাস্তু রোমে…..
আমার ধ্বসে যাওয়া কাদামাটি দিয়ে
তুমি গড়ে নিলে তোমার নতুন ঘরের স্তম্ভ
আমার স্বপ্নের ভগ্নাংশ জুড়ে জুড়ে বুনে নিলে নব্যপ্রাচীর
আমার চোখের সবটুকু সুখের মূলধন দিয়ে
অন্য কোন চোখের ভূমিজুড়ে আবার নতুন করে শুরু করলে কুটির শিল্প,
এভাবে আমার সীমানায় জুড়েদিলে ম্যাকনামারা লাইন
আমি তোমায় স্বায়ত্বশাসনের নাগরিকত্ব হারালাম আমি,উদ্বাস্তুর মত ভাবছো আমার সারসংক্ষেপ নিয়ে তোমার জানালায় মুসাফির হবো, গড়িয়ে পড়বো বেদনার দোহাইয়ে?
গড়িয়ে যাবো? তোমার ঘরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রা নদীটির মতো?
না!
তুমি যদি জলপোকার গান বুঝতে হে প্রিয়
তবে তুমি আমায় বুঝতে
যদি তুমি ভেঙে যাওয়া মৃৎশিল্পে স্রষ্টার স্নেহের গন্ধ বুঝতে
তবে তুমি আমায় বুঝতে
যদি তুমি শেষ বিকেলের কন্ঠে স্বরচিত আত্মহননের মহাকাব্য শুনতে
তবে তুমি আমায় বুঝতে
আমায় বানান করে লিখে, জং ধরে যাওয়া পোস্ট অফিসের হৃদয়ে যদিও সহজে প্রেরণ করে দিলে-
তবু যেন আমি সেই আদিম প্রেম,
যে প্রেম কেবল হাতে মেখে রাখে বর্ণের ধূপমাখা সুগন্ধি আবেগ, এতো চিরন্তন
আমি চলে যাচ্ছি
চর্যাপদের কাহ্ন পার কাছে,কিংবা ভুসুকূপার সেই সান্ধ্যভাষার শ্লোকে
কিংবা কে বলতে পারে মৈত্রয়ী দেবীর ন হন্যতে, মির্চা এলিয়াদের, ন লুই বাঙালী
কিংবা সুনীলের রানু ও ভানুর সেই ভানুদাদার হারানো বেদনা হতে
আমি চলে যাচ্ছি..
আমারও একটি স্বরচিত স্বায়ত্বশাসনের খোঁজে
আমার ভেতর আমারই নাগরিকত্ব আদায়ের আন্দোলন
আমি চললাম…
যাযাবর যাযাবরদের ছোঁড়া কাঠে আগুনও অসংযত,ঝড় উঠে ইত্যবসরে কিছু লবণ দানাও জমা পড়েছে… উদ্বাস্তু রোমে…..
কবি গো ওওও,আর যত গুণীজন কি দিয়ে পূজি তোমাদের চরণ আমি যে অভাগা জানি না…..
আমি জানতাম না চব্বিশের জুলাইটা এত দীর্ঘ হবে, আমি জানতাম না, অগাস্টকেও রাহুর মত গ্রাস…..
অভিশাপ মেঘের ভেলায় নিঃশ্বাসে ক্লান্তির ছাপ সবুজের নীড়ে আপন ঠিকানার খোঁজ এক ফালি সুখের নেশায়…..