নামমাংস

অরবিন্দ চক্রবর্তী
কবিতা
Bengali
নামমাংস

বিরহজনিত

ধারণারেখা সকল পরিচয়পর্বে দিগন্তের কথা বলে
ফলত, আমরা ঘুমের মধ্যে পপকর্ন খাই, দৌড়াই।

প্রতিযোগী যেজন, সে হাসছে হাতের তালুতে চেয়ারচক্রের গল্পকথা নিয়ে
আমরা দেখে মজা পাই, কচ্ছপের পিঠে তার ত্রিভঙ্গ নাচন।

তুমি একটাই কাজ করো, মায়াবর্ণে গতি তুলে দাও
বুঝি, গুহার মুখে ওই আলো দেখা যায়।

যা হয়, আমার পথ ছোট হয়ে আসে, তোমার পথ দীর্ঘ হয়ে যায়…
গতি এমন এক মোহ, যেখানে পরাস্ত হয় নিয়তির সকল মণিমুক্তা।

যতদূর মেরাথন-বালক যায়, তার ওপাড়ে সীমান্তকে অতিক্রম করে
পৃথিবীকে শোনাতে হয় আমাদেরই ঘরের পাশে ঘর
তার পাশের কুতুবতলার গান।

সুযোগে চৌকো মানুষেরা শুনে নেয় হরিয়াল বিলের উপকথা
কেউ কেউ প্রেতাত্মাদের মাথায় নিয়ে বসে করে খুলিখেলা।
নাচ হয়, গান হয় আমাদের সকল জাগতিকতা নিয়ে।

 

সম্পর্ক

যার তার গায়ে রং ছিটাতে নেই, আগুনের হলুদ এ গল্পই বলে।
কাফকা জানেন, ঘা কোন ধরনের শিল্প―মাছি তার দাস, কেরানি।

উপদেশক, তোমরা নিশ্চয়ই দেখো, সম্পর্কের গায়ে রং লেগেছে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে সেতুরচনা করে।

গতির প্রাণে রয়েছে
আগন্তুকের আদি অনুরোধ

দেখো দেখো, ঘোড়ার সঙ্গে ঘোটকী নেই
খুরে উড়ছে ছাই
ঘর পুড়েছে সওয়ারের।

ফলে, আজ আমরা গতির জাতক।

ব্যথাবন থেকে চুক্তি হোক, হলুদকে যারা রং বলে
ঘাকে যারা জীবনের অঙ্গ মানে
তাদের পেছনে ছুটবে ঘোটকীহীন রেখা।

যার গায়ে রঙ ছিটিয়ে দেবে,
সে সুতো ছড়াতে ছড়াতে রচনা করবে রাতুলহিল্লোল।

সাহস

তাস খেলা বাদ দিয়ে যারা যুদ্ধ করেন
জনৈক দার্শনিক তাদের পরামর্শ দিলেন,
আস্ত জীবন নিয়ে বাঁচতে চাইলে
জুয়া খেল, জুয়া খেললে আয়ু বেড়ে যায়।

পরমাত্মাকে ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে লাগাম দিলাম ছেড়ে
মজা হলো বেশ, বাতাসকে দিলাম প্রাণ
জীবনের সাহস দেখে ঘোড়া তো আমার ছুট…

সুলতানার ঘোড়া এসে চম্পট―দেখা দেয় আয়নায়
আস্তাবলে কেউ থাকে না
থাকে শুধু হরতনের উল্লাস ও আফিমখোরের হাপিত্যেস।

সান্ধ্যভাষা

তারা দেখতে বসলে আকাশের চাঁদ মেনকার ভ‚মিকায় যায়
চোখের পরকীয়ায় যায় দেউলের দৃশ্যঅভাজন।
এ কেমন মুরারি তুমি, পাশে থাকতেই মন ঘর-বেঘর করে―
গবেষণায় যায় এর-ওর পুকুরঘরে।

আনন্দের ভরসায় তখন হাতের কাছে হাত খুঁজি
না পেয়ে বুকপটকা ছুড়ে দিই গতির সুতোয়।
নিমেষেই পুরাতীর্থে ছড়াতে থাকে আমাদের প্রণয়প্রবাহ।

এভাবে তোমার বাঘ ঘনিয়ে আসে
ধ্যানবিন্দু দোলে শরমিন্দাবাগে।

মনপাখির বাবা-মা, আপনারা জানেন না নিশ্চয়ই
মেঘ এলে পায়ে ঘুঙুর মেখে নাচতে লাগে ময়ূরের কনসার্ট
আমি তখন লিবিডোগামী কয়েকজন বিশ্বামিত্রের সান্ধ্যভাষা হই।

নামমাংস

উটদৌড়ের আয়োজন নিয়ে সেজেগুজে বসে আছেন
কয়েকজন ঠান্ডামাথার বুলডোজার।

সকালফোটা বন্দরের পাশে নাকউঁচু দুর্গ করে
আলগোছে আয়ু খুঁটছে জিপসি ক্লাউন, পরিখায় ঝরে পড়ছে
ইতিহাসবাহিত সেই নামের পালক।

ধূলিসংরক্ষণ বিভাগ একযোগে দাবি তুলছে,
ডানার আয়তন গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক
মুদ্রার মাংস পচে গলে ধসে যাক।

নামরোগী শুধু হেরেমশালা খুলে
নিয়তিবাচক ফুর্তি করুক মধুমদবিষয়ক ধারণাধামে।

নামরোগী শুধু হেরেমশালা খুলে
নিয়তিবাচক ফুর্তি করুক মধুমদবিষয়ক ধারণাধামে।

অরবিন্দ চক্রবর্তী। কবি। জন্ম ১১ আগস্ট ১৯৮৬, ফরিদপুর জেলার অধীনস্থ ভাঙ্গা উপজেলার রায়পাড়া সদরদী'তে। প্রকাশিত বই: 'ছায়া কর্মশালা' (২০১৫), 'সারামুখে ব্যান্ডেজ' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৬), 'নাচুকের মশলা' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৮), 'রাত্রির রঙ বিবাহ' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৯), 'দ্বিতীয় দশকের কবিতা' (সংকলনগ্রন্থ, ২০১৬), 'অখণ্ড বাংলার দ্বিতীয় দশকের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..