নারী অধিকারঃ মিথ ও বাস্তবতা

নাজিম উদ্দিন
নারী, প্রবন্ধ
Bengali
নারী অধিকারঃ মিথ ও বাস্তবতা

নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আরো অনেকদূর যেতে হবে। আজকের একুশ শতকেও এসে এ কথা সত্য যে প্রাচ্য অথবা পাশ্চাত্য কোথাও নারী তার পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত নেই। একথা অস্বীকার করা যাবে না যে পাশ্চাত্যে নারীরা অনেকটা স্বাবলম্বী হয়েছে। কিন্তু তাই বলে তারা নির্যাতিত হচ্ছে না এটা বলার কোন অবকাশ নেই। বিশেষ করে গত কয়েকবছরে #মিটু আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আমরা জানতে পারি সামাজিকভাবে  প্রতিষ্ঠিত, সেলেব্রেটি নারীরা কিভাবে তাদের উর্ধ্বতন ক্ষমতাবান পুরুষদের দ্বারা শারীরিক, মানসিক  নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হয়েও এসব প্রতিষ্ঠিত সামাজিক রোল-মডেল নারীরা বছরের বছর ধরে চুপ করে ছিলেন, নীরবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পুরুষতান্ত্রিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, ধনবান, ক্ষমতাবান নারীদের যদি এমন অবস্থার শিকার হতে হয় তাহলে যাদের ক্ষমতা নেই, প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই তাদের অবস্থা যে কেমন সেটা বলাই বাহুল্য।

প্রাচ্যে,  ট্রাডিশানাল সমাজে নারীদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা হয়। অপরদিকে পাশ্চাত্যে পুরুষতন্ত্র মেয়েদের নগ্ন, অর্ধনগ্ন করে রেখেছে। এর কোনটাই নারীর কাম্য নয়, কোনটাই  তাদের পছন্দানুযায়ী হয়নি। দুটোই নারীর উপর পুরুষতন্ত্রের চাপিয়ে দেয়া। নারী কি পোষাক পরবে সেটা এখনো পুরুষই ঠিক করে দিচ্ছে। নারীর শরীরের মালিকানা তার নিজের কাছে নেই। সে কি খাবে, কি পরবে, কিভাবে চলাফেরা করবে এসবের নিয়ন্ত্রণ এখনো  তার কাছে নেই।

নারীর শরীরই নারীর জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’। শিকারী সমাজে নারী শিকার কাজে অংশ নিতে পারত না। তারা এ কাজে পুরুষের সাথে সমানভাবে তাল মিলাতে পারত না।  তার উপর উপর তাকে গর্ভধারণ, বাচ্চা লালন-পালনে ব্যস্ত থাকতে হত। গোটা গোত্রের ভবিষ্যত নারীর উপর নির্ভর করত। শিকারী সমাজে নারী ও শিশু তাদের গতি নিয়ন্ত্রণ করত।

তবে সভ্যতা শুরুর আগে থেকেই মানুষ নারীর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল। প্রস্তরযুগে (৫০০০০-১০০০০ বছর আগে) পাওয়া নিদর্শনের মধ্যে ‘ভিনাস ফিগারিন’ নামে উল্লেখযোগ্য কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। এসব নিদর্শন হল ছোটোখাটো নারী মূর্তি যাতে নারীদেহের বিশেষ বিশেষ অঙ্গ অসম্ভব রকম ভাবে অতিরঞ্জিত করা। প্রস্তরযুগের এসব শিল্পকর্মে নারীদেহের সাথে মানুষের বংশবিস্তার, প্রাকৃতিক উর্বরতার মোটিফ ফুটে উঠেছে। প্রকৃতিকে মানুষ নারীর সাথে তুলনা করত। পরবর্তীকালে মৈথুন তত্ত্বে, ভারতবর্ষে সীতার পূরাণ এসব ধারণারই প্রকাশ।

Venus Figurine

আজকের কৃষি সভ্যতার শুরু নারীর হাত দিয়ে। ‘কালচার’ শব্দটির মূলে আসলে ‘এগ্রিকালচার’, ফলে আধুনিক সভ্যতা বলতে গেলে মেয়েদের অবদান। আদিকালে পুরুষেরা যখন জঙ্গলে শিকার কাজে ব্যস্ত থাকত নারী তখন বস্তির আশেপাশে মাটি খুঁড়ে ফসল ফলাবার চেষ্টা করতো। প্রথমদিকে হয়ত ধারালো পাথর বা চোখা কিছু দিয়ে তারা ছোটোখাটো জমি কুপিয়ে সেখানে বীজ বুনত। তখনো হাল-লাঙ্গলের আবিষ্কার হয়নি, তাই বড় ক্ষেতে চাষ করার ব্যবস্থাও হয়নি। হালে লাঙল জোয়াল লাগিয়ে বড়ো ক্ষেতে চাষ করবার অবস্থায় মানুষ যখন পৌঁছাল তখন চাষের কাজে মেয়েদের অধিকার রইল না। সে কাজ মেয়েদের হাত থেকে পুরুষের হাতে হাতে চলে গেল। তাই কৃষিকাজ মেয়েদের আবিষ্কার হলেও সেটা মেয়েদের কাজ হয়ে থাকেনি। আফ্রিকার কোন কোন অঞ্চলে আজকের যুগে এসেও  চোখের উপরে এ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সেখানে কিছু যায়গায় মানুষ এতদিন পরে নিড়েনির বদলে হালের বলদ দিয়ে বড়ো বড়ো ক্ষেতে  চাষ-বাস করতে শিখেছে। আর সেই সঙ্গে চাষের কাজ থেকে মেয়েরা হটে যাচ্ছে, চাষ প্রধানত পুরুষদের কাজ হয়ে যাচ্ছে।

সভ্যতার আদিতে মাতৃদেবীদের প্রাধান্য ছিল। কিন্তু সভ্যতার বিস্তারের সাথে সাথে পুরুষতান্ত্রিক পেশীশক্তির কাছে মাতৃদেবী হার মানে আর পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ দেবতা সে স্থান দখল করে নেয়।

পুরাণে আমরা এখনো নারীদের অবদমনের বিষয়টা দেখতে পাই।

এমাজন পুরাণ

এমাজন পুরাণ বলতে আমরা বুঝি ঝগড়াটে নারী, যুদ্ধবাজ নারী। আসলে পৌরাণিক এমাজন নারীদের জন্য যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো, তারা সবদিক দিয়ে গ্রিক সমাজের নারীর যে আদর্শ তার বিপরীত ছিল। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে পুরুষের সমকক্ষ, বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে যৌন সম্পর্কে সক্রিয়। তারা ছেলে সন্তানের চেয়ে মেয়ে সন্তান বেশি পছন্দ করতো। ছেলে সন্তান জন্ম নিলে তারা তাদেরকে মেরে ফেলে, খোজা বানিয়ে ফেলে অথবা দাস হিসেবে বিক্রি করে দিতো। গ্রিক সমাজে  মেয়েদের জন্য বিয়ে আর ছেলেদের জন্য যুদ্ধ সমান গুরুত্ব বহন করতো। ছেলেরা যুদ্ধে আহত হলে আর মেয়েরা বিবাহের পরে যৌনকাজে লিপ্ত হলে সেটা সামাজিকভাবে স্বীকৃতি পেত। এমাজনরা যেহেতু বিয়ে অস্বীকার করতো, সুতরাং তারা এর সমমূল্যের যুদ্ধে লিপ্ত হত।

গ্রিক নায়ক/দেবতাদের সাথে এমাজন নারীদের সংঘর্ষের  মাধ্যমে এমাজন নারীদের শিক্ষা দেয়া হতো, নায়কেরা তাদের লাইনে আনতো। কারণ দেখা যায় এমাজন নারীরা গ্রিক দেবতার কাছে সব সময় পরাজিত হতো। এতে করে মিথের মাধ্যমে বর্বরদের উপর গ্রিকদের জয় এবং নারীর উপর পুরুষের জয় দেখানো হয়। গ্রিক বীর এবং এমাজনের লড়াইয়ে সব সময় এমাজন নারীকে পরাজিত করে তাকে  আবারো তার নারীসূলভ কমনীয়তায় ফিরিয়ে আনা হতো। যেমন থিসিয়াস হিপোলাইটাকে বিয়ে করে। আবার হারকিউলিস এমাজন নারী হিপোলাইটার কোমরবন্ধনী চুরি করে। নারীর কোমরবন্ধনী খসে যাওয়া আসলে সুন্দর ভাষায় তার সাথে  যৌনকাজ লিপ্ত হওয়া। আরেক উদাহরণে দেখা যায়, একিলিস পেনথেসিলিয়ার প্রেমে পড়ে এবংএকিলিসের দেয়া আঘাতে সে মারা যায়।

এসব এমাজন নারীরা, মিডিয়া, বা দূর্দান্ত সব দানবীরা গ্রিক পুরুষদের মানসিক উদ্বেগের প্রকাশ। নারীর ক্ষমতা, বিশেষ করে তার যৌন সম্মোহন ক্ষমতা তাদের উদ্বিগ্ন করত। যেমন, মিডিয়া’র নামের মানে যৌনাঙ্গ বা চতুর পরিকল্পনা।  ‘নারী গর্ভধারণ করে শিশু জন্ম দেয় তাদের মেরে ফেলার জন্য’ গ্রিক পুরাণের এমন ধারণা আসলে  পুরুষের হতাশার প্রকাশ। বংশবিস্তারের জন্য নারীর প্রয়োজন, গর্ভধারণের মাধ্যমে নারী ভবিষ্যত প্রজন্মের নিয়ন্ত্রণ তার কাছে নিয়ে রেখেছে। মা তার শিশুকে মেরে ফেলছে এটা জাস্ট সে নিয়ন্ত্রণের একটা অতিরঞ্জিত রূপ। এসব পুরাণের মাধ্যমে, পুরুষকে অস্বীকার করে বংশ বিস্তারের সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেয়ার নারীর এ ক্ষমতাকে অতিরঞ্জিত করে নারীর দ্বারা মানুষকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টার সাথে তুলনীয় করে দেখানো হয়।

পুরুষতান্ত্রিক পেশীশক্তির কাছে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ, মাতৃদেবীর পরাজয় ঘটলেও এখনও দুনিয়ার অনেক জায়গায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজের রেশ রয়ে গেছে। সেসব জায়গায় বংশ পরিচয়ে, উত্তরাধিকারে মেয়েদের প্রাধান্য।

দীর্ঘ সময় ধরে মনে করা হত নারীদের বুদ্ধিমত্তা কম, শুধুমাত্র ঘরের কাজে, একঘেঁয়ে রিপিটিটিভ কাজেই তারা ভাল করবে। সভ্যতার ইতিহাসে আমরা তাই উল্লেখযোগ্য কোন নারী দেখতে পাই না। আধ্যাত্মিক জগতে কোন নারী গুরু নেই, জ্ঞান-বিজ্ঞানেও নারীর সীমিত অবদান। এর মূল কারণ নারীকে কখনো সেসব সুযোগ দেয়া হয়নি। কিন্তু সুযোগ দেয়া হলে নারী যে পুরুষের চেয়ে কম যায় না সেটা আমরা যে দু’একজন নারী সুযোগ পেয়েছিল তাদের মধ্যে দেখতে পাই। গ্রিক গণিতবিদ হাইপোশিয়া, আলকেমিস্ট ক্লিওপেট্রা, ইহুদী মারিয়া, তাপসী রাবেয়া এরা দেখিয়েছেন সুযোগ পেলে নারীরাও মেধায়, আধ্যাত্মিকতায় পুরুষের চেয়ে কম যায় না।

পুরাণ থেকে আধুনিক সমাজে ফেরা যাক। সেই যে কৃষি কেড়ে নিয়ে মেয়েদের গৃহবন্দী করা হলো তার থেকে মেয়েরা এখনো মুক্তি পায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পাশ্চাত্যে পুরুষেরা সব যুদ্ধক্ষেত্রে চলে গেলে মেয়েরা পুরুষের কাজগুলো করতে শুরু করে। যুদ্ধশেষে ছেলেরা তাদের কাজে ফিরতে চাইলে মেয়েরা তখন সেসব কাজ ছেড়ে দিতে অস্বীকার করে। ফলে পাশ্চাত্যে বিশেষ করে আমেরিকায় অফিস-আদালতের আমলাতান্ত্রিক, প্রশাসনিক কাজগুলো মেয়েদের দখলে চলে যায়। এর সাথে যুদ্ধের পরপরই গর্ভনিরোধক পিলের আবিষ্কার নারীকে আরো স্বাধীনতা এনে দেয়।

কিন্তু নারীরা এখনও তাদের কাজের জন্য পুরুষের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পায়। এখনো দুনিয়ার সর্বত্র ছেলে এবং মেয়ের কাজ ভাগ করা। ছেলেরা আর্থিক উতপাদনের কাজ করবে আর মেয়েরা সন্তান লালন-পালন করবে। গৃহস্থালী কাজে নারীর সময় এবং শ্রমের কোন মূল্যায়ন হয় না।

এসব বাধা অতিক্রম করে নারী যখন সফলতার মুখ দেখতে শুরু করে তখনও তার পক্ষে পুরুষের সমকক্ষ হওয়া সম্ভব হয় না। ২০১২ সালে ওবামা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এন-মেরি স্লটার এ বিষয়  নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখেন, আর্টিকেলের টাইটেল, ‘Why Women Still Can’t Have It All’। ভদ্রমহিলা এতে বিস্তারিত ভাবে লিখেন কিভাবে এখনো একজন নারীর জন্য একই সাথে সংসার সামলানো আর পেশাগত সাফল্য পাওয়া বলতে গেলে অসম্ভব। একটায় সাফল্য পেলে আরেকটাতে ভালো করা নিশ্চিত। পেশাগত সফলতা পেলে দেখা যাবে ছেলে-মেয়ে ঠিকমত মানুষ করা যায় নি। আবার ছেলে-মেয়ের দিকে বেশি নজর দিলে প্রতিযোগিতাপূর্ণ কর্মক্ষত্রে তাকে পিছিয়ে পড়তে হবে।

আজকের বাংলাদেশে নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অনেকে কাজ করছেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এতে সত্যিকারের নারীর সংখ্যা খুবই কম। লৈঙ্গিকভাবে তারা হয়ত নারী, কিন্তু তাদের কাজে-কর্মে, এক্টিভিজমে তারা নারীদের হয়ে কাজ করেন না।  হাতে গোণা কয়েক জন ছাড়া এরা সব পুরুষতন্ত্রের, গোষ্ঠীতন্রের প্রতিনিধি। এরা সাধারণত ক্ষমতাসীন দলগুলোর ধামাধরা হিসেবে কাজ করেন। নারীর ইস্যুতে এরা  হয় একেবারে নীরব, অথবা সবাই মিলে হুক্কা-হুয়া দিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সিজনাল, ইস্যুভিত্তিক নারীবাদী, পুরুষতন্ত্রের মুখোশধারী এসব নারীরা নারীদের অগ্রগতির জন্য বড় বাধা। তবে সবচেয়ে বড় বাধা এরা তাদের নিজের শ্রেণির বাইরে চিন্তা করতে পারেন না। স্বার্থচিন্তা, দলান্ধ, অনুগত চিন্তার কারণে তাদের মুক্তির সম্ভাবনা সুদূর পরিহিত। অনেক উদাহরণ আছে যাতে এসব তথাকথিত নারীবাদীরা নীরব হয়ে থাকেন। সচেতন পাঠক মাত্রেই জানেন নারীবাদকে এরা বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের শ্রেণিস্বার্থ হাসিল করেন।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী শ্রমিক গার্মেন্টসে  কাজ করেন। এসব তথাকথিত নারীবাদীদের কখনই গার্মেন্টসের নারীদের দুঃখ-দূর্দশা, অভাব-অভিযোগ নিয়ে কিছু বলতে শোনা যাবে না। অথবা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের পাঠানো নারী শ্রমিকদের নির্যাতন, নিগ্রহ নিয়েও তাদের কোন মাথা-ব্যথা নেই। তাদের পাওয়া যাবে কেবল ফ্যাশনেবল ইস্যুতে, মধ্যবিত্তের আবেগে সূড়সূড়ি দেয়া নারীবাদে।  রাজনৈতিক দলের আনুগত্যকে পুঁজি করে নন-ইস্যুকে ইস্যু বানানোতে তারা সবচেয়ে বেশি পারঙ্গম। তারপরে চলবে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। এতকিছুর মধ্যে সত্যিকার অর্থে যারা নারী ইস্যুতে কাজ করছেন তাদের খুঁজতে যাওয়া খড়ের গাদায় সুঁই খুজতে যাওয়ার মত। তবে ইতিহাসের ফিল্টারে  তারাই টিকে থাকবেন, আর এখনকার নারীবাদের আড়াল নেয়া, নারীর মুখোশ পরা পুরুষতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা কালের গর্ভে হারিয়ে যাবেন।

সারাবিশ্বে  #মিটু আন্দোলন, ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’, এবং পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের কারণে নারী আন্দোলন এখন ভাল সময় পার করছে। দিকে দিকে নারীরা জেগে উঠছেন, শিক্ষা-দীক্ষায়, কর্মক্ষেত্রে তাদের স্বাক্ষর রাখছেন।  কিন্তু পুরুষতন্ত্রের কবলে পড়ে দুনিয়া মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমরা এখন ষষ্ঠবারের মত প্রজাতি বিলীণ হবার হুমকির সম্মুখীন।  এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য পুরুষতান্ত্রিক পেশীশক্তির প্রয়োগ, প্রকৃতির উপর জোর-জবরদস্তির থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুনিয়াকে বাঁচাতে সেজন্য আমাদের দরকার নারীর শক্তি। পেশীশক্তির বদলে আমাদের সবার মাঝে নারীসত্ত্বা জেগে উঠুক। তাতে যদি দুনিয়াটাকে ভয়াবহ পরিণতি থেকে বাঁচানো যায়। নারীমুক্তি তাই আজ বিশ্বের মুক্তির শামিল।

নাজিম উদ্দিন, পিএইচডি। লেখক, বিজ্ঞানী ও সমাজ বিশ্লেষক।  জন্ম নারায়ণগঞ্জে, বেড়ে ওঠা লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায়। পেশাগতসূত্রে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন। তিনি অংশুমালী'র যুক্তরাষ্ট্র (USA) চ্যাপ্টারের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লেখাপড়া করেছেন ঢাকার নটরডেম কলেজে। এরপর করেছেন...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ