নিভৃতবাস

পার্থ রায়
কবিতা
Bengali
নিভৃতবাস

সলিলকি

আমি প্রেমে পড়ি, বারবার প্রেমে পরি।
প্রতিটা ব্যর্থ প্রেম আমায় মানুষ হিসাবে সফল করে তোলে।
প্রথম দুদিন মাথার চুল থেকে পায়ের ছাপ পর্যন্ত দুঃখে ভরে যায়, টলোমলো ছাপ পরে শিশুর মতো
নিজের বাড়ির কড়া খট খটিয়ে বলি কই হে বাড়ি আছো?
গলির মুখের রিকশাওলা কে কখনো সপরিবারে ভাত খাওয়াই কখনো তাকে বিলিতি
আমি ভাষা শিখি। বুঝতে শিখি পৃথিবীতে বড়বাবু কন্সেপ্টটা আসলে মিছে
আকাশের পরিধি টা আসলে এক, আমি প্রেমে পরি।
আসলে সফল ছাপ লোভী আমার সহ্য হয় না, হারিয়ে যাই দেহজীবীদের ভিড়ে খানকি পাড়ায়
দেয়া আর নেয়া সম্পর্কে থাকে না টানাপোড়েন আমি প্রেমে পরি, নিজের কাঁচাপাকা দাড়ির নিজের মুখটাকে ভরাই আদরে গোপনে
মানুষের মাঝে মিশে যাই
মিশে যাই মাটির বুকে
আমার তো কাউকে আঘাত দেবার কথা নয়।
আমি প্রেমে পরি, বার বার, মৃত্যুযোনিতে হই সঙ্গমে লিপ্ত
উড়িয়ে দিয়ে যাই কবরকাটা পোকাদের সান্নিধ্য
প্রতিভা আমায় কুরে কুরে খায় উইপোকারই মতো
আমি মিশে যাই, মিশে যাই মানুষের মাঝে, বার বার মিশে যাই
মাটির বুকে
আমার তো কাউকে আঘাত দেবার কথা নয়
আমার তো কাউকে ভালোবাসার কথা নয়
মানুষ হিসাবে সফল হবার কথা, তাও নয়।
আমার শুধু কথা টলোমলো শিশু পায়ে নিজের বাড়ির কড়া খট খটিয়ে
বলা- কই হে বাড়ি আছো?
আদপে আমি গরিব মানুষ হারানোর মতো প্রাণ ছাড়া কিছু নেই,
শিশু পায়ের টলোমলো ছাপে মা এর বুকে আঘাত লাগার নয়, আমার কাউকে
আঘাত দেবার কথা নয়।

নিভৃতবাস

এই তো একটাই জীবন, তাতে কি সম্ভব হবে সব গোপন ইচ্ছে গুলো বলে যাবার।
কিছুটা তো মাত্র সময়, সম্ভব হবে কি পায়ের ছাপ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত ভালোবেসে যাবার।
হবে কি আবার দেখা? চারা থেকে বৃক্ষ হয়ে ওঠার পায়ে চলা পথ…?
পৃথিবীর খুব শরীর খারাপ ! আসলে পৃথিবীটা কি?
কাগজকুড়ানি বুড়ির চাঁদ ঝলসানো কুঁড়ে; নাকি তোমার ড্রয়িং রুমের বিন বিন শব্দওলা ঠান্ডা যন্ত্রের বিশ্রাম থেকে শোবার ঘরের নীল নির্বাসন?
কিছুটা তো মাত্র সময় কেমন করে বাসবো গোপন ভালোবাসা গুলো?
কিশোর বেলার প্রেম আজো তাড়া করে যায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই ছটফটে কিশোরের হৃদয়ে, যে ভেবেছিল পৃথিবীর অসুখ সারাবে একখানা তুলির আঁচড়ে!
যৌবন বেলার প্রেম ছুটিয়ে নিয়ে যায়, যে সঙ্গ ছেড়েছিল অন্ধকার হিংসার আঁশটে আশ্রয়ে!
সময় কই?? ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে এসে গোপন প্রেম কে ভালোবাসার সময় কই?
বোধি কি তোমার একারই ছিল এই নির্বোধ চরাচরে
নাকি তুমিও ছিলে তাদেরই একজন শুধু গোপনে ভালোবাসতে পেরেছিলে?
পৃথিবীর নাকি দারুন অসুখ জীবনপুরের পথে,
একলা নাটক করছে সবাই ভালোবাসার হাত ধরে।
যে কথা আমার নয়, যা তুমিও কোনোদিন বলোনি সবাই সেই কথাই বলে।
শুধু বুঝতে আমার অভিধান লাগে। আসলে আমি বুঝি পাহাড়ের ঢালের সারিবদ্ধ নিস্তব্ধতা,
কুয়াশার জাল বুনে শিশির ধরে রাখা।
উইপোকার সংসার ভেঙে যায়, পরে থাকে মাটি চাপ চাপ।
বাসা বাঁধে বিষাক্ত জিভ চেরা সাপ।
ভালোবাসা ছিল যেন বাজ পড়া একলা পাইন।
অনেক কথা ছিল, যা আসলে এই একটা জীবনে কিছুই হবে না বলা।

 

নববর্ষ

বিষাক্ত ফুসফুস,নীল নিশ্বাস
নিকোটিন এর চিনচিন
বিশ্বাস এর মিলিয়ে যাওয়া
বার বার ভালো বাসা খোঁজা…
নীল নিশ্বাস স্থির বিশ্বাস
আসলে খোঁজা যোনি
হোক না সে বছর চার
তবু ছিপি খুলে হ্যাপি নিউ ইয়ার…!
নির্বাক প্রতিবাদ
মানব জমিন হোক আবাদ
ভঙ্গুর ভালোবাসা ফিরে পাক ঘর
ধর্ম ঢুকুক কবর এর কোনে
প্রিয়তমা ভালো থেকো নতুন সনে…

 

ইনশান

আরে ইনসান,
তুই নাকি গরু খাস, মুসলমান
হ্যাঁ রে ইন্দু,
তুই হিন্দু
বাপের রক্তে যখন বাঁচলো তোর মায়ের প্রাণ
কোথায় ছিল তোর জাতের বিধান।
তোর আমার বাপের ফলানো ধান
তাতে কি লেখা থাকে হিন্দু না মুসলমান?
আমি তো পাই ভাতের গন্ধ
পেট ভরবে ব্যাস
বাকি সব চিন্তা বন্ধ।
দাঁড়ি আর টিকি
খেলছে কাটাকুটি
তোর আমার কলা তাতে
এসে কি কিছু যায় জাতে?
আমিও মানুষ তুইও মানুষ,
সবাই ভরতি ভুলের ফানুস।
মেঘ,বৃষ্টি আর রোদ্দুর
ছেড়ে যাবি তুই কদ্দুর,
যদি যাস ছেড়ে বহুদূর
জন্ম হবে আবার তোমার
কোনো ঘরে হয়ে আদুর।
হিন্দু মুসলিম কি আসে যায়
মানুষ কিনা সবাই শোধায়?

পার্থ রায়। জন্ম ও বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের বর্ধমানে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

ফেরা

ফেরা

ফেরা অনেক দিন আসিনি তোমার চোখের কোণে, বুকের পাশে, নিঃশ্বাসের চারপাশে। ভেবো না আমি পথ…..