পত্নীর পরকীয়া

সুদীপ ঘোষাল
গল্প
Bengali
পত্নীর পরকীয়া

আমার নাম দীপু। আমার দুটো বিয়ে। একটা সামাজিক আর একটা অবৈধ। যখন মনে গ্লানি জমে পরকীয়ার আধারে খুঁজি শিশিরবিন্দু। গ্লানি সরে গিয়ে একরাশ মেঘ। অবশ্য সব মেঘে তো বৃষ্টি ঝরায় না।

আমার নাম দীপু, আমার সামাজিক ব্যবস্থা মেনে বিয়ে করা বউয়ের নাম দীপা। শখ করে রেখেছিলাম আমি নিজেই।

দীপা, হিন্দি মুভি, এক দুজে কে লিয়ে,দেখার পর কেমন পাল্টে গেলো দীপা। বাড়ির অগ্নিকোণে আগুনের মত রূপবান এক অবিবাহিত যুবকের বাস। তার নাম নিবাস। দীপা কাপড় কাচলে সেই শব্দ শুনে নিবাস জামা কাচত। দীপা বাথরুমে ঢুকলে নিবাসও বাথরুমে ঢুকত। দীপা বাথরুমে ঢুকে কতরকমের বিচিত্র আওয়াজ করত। শুনে আমার নেতিয়ে পড়ত মন। কেমন ফুরফুরে মেজাজে দীপা ছাদে উঠত। নিবাসকে হাত নাড়ত। নিবাস হাত নাড়ত, হাত মারত এসব কিছু দেখেও আমি গর্দভের ইয়ে নিয়ে বিছানায় একা শুতাম। ক্রমে নিবাস সহজেই পেয়ে গেল দীপার দাপুটে শরীর। আটকায় কার সাধ্য।

নিবাস বয়সে আমার থেকে অনেক ছোটো।তার মা বিধবা ছিলো। নিবাস বলল,কাকু আমাদের বাড়ি চলো, মা ডেকেছে। আমি নিবাসের মা কে দেখেছি। যে কোনো ডবকা ছুঁড়িকে হার মানাবে শারীরিক গঠনে,রূপে। আমি তার প্রেমে পড়ে গেলাম, মানে একদম ডুবে গেলাম। নিবাস বলল,আমি একবার কাকিমার কাছে যাই। আপনি মায়ের সঙ্গে গল্প করুন। একরকম অলিখিত চুক্তি। নিবাসের মা বলল,মন খারাপ কোরো না। ও তোমার বউকে নিয়ে থাকুক, আমি তোমার কোলে বসি। বিধবার নাম রাখলাম চুমকি। উপোষী ছারপোকার মত চুমকি আমাকে চমৎকার স্বাদ দিলো যৌন জীবনে। এতদিন যেটার অভাব ছিলো। আমি চুমকির যৌনজীবনে চুমকী, পুঁথি, বসাতে শুরু করলাম। নিবাসের প্রতি রাগটা উবে গেলো কর্পূরের মত।

এবার কয়েকদিন ধরে দেখছি নিবাস তার বন্ধুকেও নিয়ে যাচ্ছে আমার বাড়ি। চুমকিকে কথাটা বললাম। চুমকি বলল,তোমারও অন্য একটা ছুঁড়ি জুটবে। আজ রাতে পাবে। সব রাগ আমার উধাও হয়ে গেলো। দুপুরে চুমকিকে খুব আদর করলাম। চুমকি বলল,তোমার বউ পাকা চোষক। আরও গিলবে। তবে তুমিও পাবে।

চুমকি কে বললাম,তুমিও নতুন নাগর নাও। সে বলল,আজ রাতে তো তাই হবে। তোমার আমার বিছানা আলাদা হলেও খেলা চলবে সামনাসামনি। এর মজাও আছে আলাদা। আমার জীবনটা বেশ লাগছে। আর কোনো কিছুতেই  অবাক হয় না মন।

চুমকি জানে,আদালতের রায়ে নারী পুরুষের সঙ্গে সমানাধিকার পেয়েছে, এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন বিচারপতি ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক গঙ্গোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘এতদিন পুরুষের মামলা করার অধিকার ছিল৷ কিন্তু স্বামী বহুগামী হলে তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে স্ত্রী মামলা করতে পারতেন না৷ আদালতের রায়ে স্ত্রী’র প্রেমিকের বিরুদ্ধে স্বামীর ফৌজদারি মামলা করার অধিকার বাতিল হয়ে গেল৷ সেই অর্থে স্বামী ও স্ত্রী একই জায়গায় চলে আসায় সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো৷”

পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী পরকীয়ায় লিপ্ত স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ ছিল না৷ তাহলে এই রায়কে কেন নারীর মুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে? প্রাক্তন বিচারপতির বক্তব্য, ‘‘নারীর শাস্তি হতো না ঠিকই, কিন্তু তিনি যার সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত, তাঁর সাজা হলে নারীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতো৷ আইন-আদালত সব কথা নয়, সামাজিক মর্যাদাটাও গুরুত্বপূর্ণ৷”ভারতীয় সমাজের একটা বড় অংশ এই রায়ের সমর্থক৷ তবে অনেকেই বলছেন, এই রায়ের ফলে পরিবার ও সমাজ জীবনে নৈরাজ্য দেখা দেবে৷ ‘পীড়িত পুরুষ পতি পরিষদ’ নামক সংগঠনের একজনের মতে, ‘‘এই রায়ের পরিণাম ভয়ংকর হবে৷ একটা ছেলে বা মেয়ে এ ধরনের স্বাধীনতা পেলে উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠবে৷ অনেকে এটাকে জৈবিক চাহিদা বলছেন, তাহলে তো দেশে যৌন হিংসা রোধে কোনো আইন থাকাই উচিত নয়৷” এতে পরিবার জীবনে সংকট তৈরি হবে বলে মনে করেন জনৈক পন্ডিত। তিনি বলেন, ‘‘বহুগামী মহিলার সন্তানের পিতা কে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে৷ ডিএনএ পরীক্ষা করাতে আদালতে যেতে হবে৷ এ সবের মধ্যে পড়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে৷ কোনো বহুগামী মহিলাকে ডিভোর্স দিতে চাইলে স্বামীকে বিপুল টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷ তাঁর সংসারও ভাঙবে, আর্থিক ক্ষতিও হবে৷”

এসবই মানুষের মতামত। পরকীয়াকে কোনোভাবেই কোনোকালেই আটকানো যায় নি, যাবেও না। অতএব মেনে নেওয়া ছাড়া আর কি কোনো পথ আছে?  চুমকি বলে মেয়েরা ইচ্ছে করলে স্বামীর সঙ্গে এক বিছানায় শুয়েও পাশের বন্ধুকে দেহদান করতে পারে সহজেই। স্বামী রাত জেগে বসে থাকবে?  বাথরুম তো যাবে, তখন। একটু চোখ তো লাগবে আর ঠিক তখনই জানালা খুলে পরকীয়ার বাতাস ঢুকে ছিঁড়বে তৃষিত হৃদয়।

সমীক্ষা অনুযায়ী, সবাই না হলেও ৭৭ শতাংশ নারী প্রেমিক বা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন।আবার উল্টোটাও ঘটে।  এদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিবেশীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবেশী বা ঘরের চাকর, ঝি যাকে পায় তাকেই চেপে ধরে পরকীয়া।

সমীক্ষায় এও দেখা গেছে, পরকীয়ার জন্য অনেক ডেটিং অ্যাপ আছে। সেখানে ক্রমেই ভিড় বাড়ছে। ভারত ভিত্তিক কোন একটি অ্যাপে এখন সদস্য সংখ্যা ৬ লাখের উপরে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ৩৪ থেকে ৩৯। এদের মধ্যে আবার নারীর সংখ্যা বেশি।

গবেষণা থেকে জানা যায়, বিবাহিত নারীরাই পরপুরুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তারা একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুটা বিরতি চান। কেউ কেউ একঘেয়েমি কাটাতে সমকামীও হয়ে যান।

আমার বন্ধু সুমন বেশ পন্ডিত মানুষ। তার কাছে গেলে সে পরকীয়ার ইতিহাস বর্ণনা করল পুরোনো আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত। সে বললো,মহাভারতের আদিপর্বে  উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সময়ে যে কোনও নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক-কে অস্বাভাবিক বলে দেখাই হত না। বরং যে কোনও নারীর সঙ্গে যে কোনও পুরুষের মিলন স্বাভাবিক বলেই মনে করা হত। এমনকী এক নারীর একাধিক পুরুষের সঙ্গে এবং এক পুরুষের একাধিক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক-কে মর্যাদা সহকারেই বিবেচনা করা হত।ইন্টারনেটের দৌলতে বাঙালি তথা সারা ভারত যৌনতা প্রদর্শনে সাবালক হচ্ছে।ছোট ছেলেমেয়েদের হাতে বড় ট্যাব, মোবাইল। এক ক্লিকে সহজেই পেয়ে যায় মম্মি সেক্স,গে,লেসবিয়ান বা ব্রাদার্স সিস্টারস সেক্স। হাসবেন্ড ওয়াইফ সেক্স যেন একঘেয়ে আনস্মার্ট সেক্স হয়ে পড়েছে। আমরা হায় হায় করছি কিন্তু দুনিয়া কি আমাদের হা হুতাশে থেমে থাকবে। অনেকে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু বিষরয়টি গুরুত্বহীন নয়। এড়িয়ে যাওয়া জ্যেঠু আড়ালে হয়ত পরকীয়ায় মত্ত হাতির মত দাপাচ্ছেন কিন্তু সামনে ভিজে বেড়ালটি হয়ে আছেন। এমন ভাব যেন ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না। প্রাচীনকাল থেকেই অসাম্য যৌনতা বা পরকীয়ার মত ঘটনা দেখা যায়। সাহিত্যে যৌনতার বিষয়ে অনেকের আপত্তি আছে কিন্তু যৌনতা থেকেও ভালো সাহিত্য হতে পারে। রে রে করে তেড়ে আসার কোন কারণ নেই। মহাভারত,রামায়ণ বা অনেক সাহিত্যে যৌনতার বিষয় খোলাখুলিভাবে বলা আছে।তাহলে বর্তমান সাহিত্যে যৌনতা খোলাখুলিভাবে বর্ণনা করলে তাকে চটি বই বলার কোন অর্থ হয় না।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পূর্বে মা কালীর কাছে কাউকে আহূতি দিতে হত যাতে যুদ্ধে জেতা নিশ্চিত হয়। অর্জুন পুত্র ইরাবন নিজের প্রাণ তাতে উৎসর্গ করেন। তবে ইরাবনের ইচ্ছা ছিল বিয়ের আগে বিয়ে করার। এই ইচ্ছা পূর্ণ করা কঠিন ছিল কারণ কোনও মহিলাই বিয়ের পর বিধবা হতে রাজি ছিল না। ফলে শ্রীকৃষ্ণ মোহিনীর বেশে হাজির হয়ে ইরাবনকে বিয়ে করেন। তামিলনাড়ুর কোভাগম গ্রামে প্রতিবছর ইরাবনকে মাথায় রেখে উৎসব হয়। ১৮ দিনের এই উৎসবে রূপান্তরকামীরা জড়ো হয়ে একদিনের জন্য ঈশ্বরকে বিয়ে করেন।দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামীর মত ব্যাপারের উল্লেখ করলে অনেকে বলেন, ওটা ব্যতিক্রম। বাইবেল-অনুগতদের যেমন মাঝে মাঝে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়, সেই যুগে ‘নৈতিক বিবাহ’ কেমন ছিল – ধর্ষিতা ধর্ষককে বিবাহ করতে বাধ্য, বা পুত্রহীন বিধবা তার দেবরকে বিবাহ করতে বাধ্য, তেমনই মহাভারতেও এমন অনেক যৌনতার কাহিনী আছে। ইন্টারনেটেও কিছু সাইটে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে। আপাতত কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হল।

মহাভারত খুঁটিয়ে পাঠ করলে মনে হয়, সে সময়ে যৌনতার ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেক খোলামেলা। বিবাহ-পূর্ব বা বিবাহ-বহির্ভূত যৌনতা, প্রকাশ্য যৌনতা, এমন কি পশুসঙ্গমের উল্লেখও পাওয়া যায় সেখানে। বলাই বাহুল্য, বিবাহ-পূর্ব বা বিবাহ-বহির্ভূত যৌনসম্পর্ক আজকের সমাজেও বহুল প্রচলিত, কিন্তু তা সামাজিক নৈতিকতার দৃষ্টিতে এখনও নিন্দনীয়, এবং তা ‘পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কুপ্রভাব’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু যা দেখা যাচ্ছে, এগুলো আমাদের দেশেরই হাজার বছরের পুরোনো প্রচলিত রীতি, যা নিয়ে সেই সময় সঙ্কোচও অত ছিল না সম্ভবত।

মহাভারতের আদিপর্বে ৬৩ অধ্যায়ে দেখা যায়, ঋষি পরাশর কোন বিবাহ ছাড়াই ধীবরকন্যা সত্যবতীর সাথে মিলিত হয়ে তৃপ্ত হন। ঋষির আশীর্বাদে তার গায়ের মৎসগন্ধ রূপান্তরিত হয় সুগন্ধে। এর ফলে যে সন্তান জন্ম নেয়, সে-ই পরবর্তীকালের মহাভারত রচয়িতা ব্যাসদেব।

আদিপর্বের ১০৪ অধ্যায়ে বলে উতথ্য ঋষির পুত্র দীর্ঘতমা ঋষি সবার সামনেই এক রমণীর সাথে মিলিত হয়েছিলেন।

কৌতবিক- এটা একটা যৌনমিলনের ক্রীড়া। যা কৌতবিক নামে পরিচিত। ইংরাজিতে একে ইনসেস্ট বলা হয়। গোদা বাংলা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় নিজস্ব পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের ভেদাভেদ ভুলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যৌন সম্পর্কে জড়ান। পুরাণ গ্রন্থে এই ধরনের যৌন সম্পর্কের উল্লেখ মেলে। এমনই এক পুরাণ কাহিনি হরিবংশ-এ উল্লেখ আছে যে বশিষ্ঠ মুনির মেয়ে শতরূপা তাঁর পিতাকেই নিজের স্বামী রূপে কল্পনা করতেন এবং সেই কারণে তিনি পিতা বশিষ্ঠের সঙ্গেও নিয়মিত যৌন মিলনে রত হতেন। একই গ্রন্থে এমনও উল্লেখ রয়েছে যে রাজা দক্ষ নিজের পিতার হাতে তাঁর কন্যাকে সমর্পণ করেছিলেন। এই সম্পর্ক থেকেই জন্ম হয় ব্রক্ষ্মা ও নারদের। হরিবংশে এও উল্লেখ রয়েছে যে দেবরাজ ইন্দ্র খোদ নাতবউ ভাপুসথমা-র সঙ্গে সঙ্গম করেছিলেন।

মহাভারতে এক পুরুষের একাধিক বৌ থাকা অতি স্বাভাবিক ব্যাপার, পঞ্চপাণ্ডব সহ প্রায় প্রত্যেকেরই ছিল। অর্জুনের দ্রৌপদী ছাড়াও কৃষ্ণের বোন সুভদ্রা, নাগকন্যা উলূপী, চিত্রাঙ্গদা ইত্যাদি অনেকগুলি বৌয়ের কথা সুবিদিত। বৌ ছাড়াও রাজাদের দাসীসঙ্গমের কথা তো বাদই দিলাম। প্রকাশ্যেই দাসদাসী হিসেবে নারী-পুরুষ-শিশু কেনাবেচা হত। দুর্যোধন কর্ণকে অঙ্গদেশের রাজা করে দেন, সেখানে এমন প্রকাশ্য কেনাবেচার উল্লেখ আছে।

এক নারীর বহু পুরুষ সঙ্গমও প্রচুর দেখা যায়। অর্জুনের মা কুন্তী এক জায়গায় বলেছেন, যে কোন নারী পাঁচ বা তার বেশি পুরুষের সাথে সঙ্গম করলে কেবল তখনই তাকে ‘বন্ধকী’ বা বেশ্যা বলা সঙ্গত। এদিকে তিনি নিজেই পাঁচজন পুরুষের সাথে মিলিত হয়েছেন, যদিও একটির কথা লোকেদের অজানা ছিল, তাই তিনি সমাজের কাছে ভাল মেয়েই ছিলেন। কুন্তী কুমারী অবস্থাতেই গোপনে সূর্যদেবের সাথে মিলিত হয়ে কর্ণের জন্ম দেন, দিয়ে লোকলজ্জায় তাকে ভাসিয়ে দেন। তারপর পুরুবংশের রাজা পাণ্ডুর সাথে বিয়ের পর অনেক চেষ্টা করলেও কোন সন্তান হয় না, যেহেতু পাণ্ডু ছিলেন নির্বীর্য। তখন পাণ্ডুর অনুরোধে তিনি তিন দেবতা ধর্ম, বায়ু ও ইন্দ্রকে আহ্বান করে তাদের সাথে মিলিত হন ও যুধিষ্ঠির, ভীম ও অর্জুনের জন্ম দেন। এই সন্তানেরা পাণ্ডুর ‘ক্ষেত্রজ’ পুত্র হিসেবেই পরিচিত হয় ও বাবার মৃত্যুর পর রাজ্যভার পায়।

অতিথিকে বা কোন ঋষিকে তুষ্ট করতে নিজের স্ত্রীকে পাঠানো গৃহকর্তার পক্ষে গর্বের বিষয় বলেই গণ্য করা হত এবং তাঁর আতিথেয়তা প্রশংসিত হত। এতে ওই নারীর চরিত্রে কলঙ্কও হত না। রাজা সুদর্শনের স্ত্রী ওঘবতী, রাজা যযাতির কন্যা মাধবী এভাবে ব্যবহৃত হয়েছেন।

আদিপর্বে আরো বলা হয়েছে, কোন কুমারী কন্যা যদি যৌনসম্পর্কের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তা পূরণ করা উচিত, না হলে সমাজ-ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই কথা অর্জুনকে তরুণী উলূপীও বলেছিলেন, যে কোন নারীকে তৃপ্ত করার জন্য এক রাত তার সাথে কাটালে কারো ধর্মনাশ হবে না। অপ্সরা ঊর্বশী যখন অর্জুনের রূপে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে মিলিত হতে চান, অর্জুন তা প্রত্যাখান করেন, যেহেতু ঊর্বশী তার পিতা ইন্দ্রের ভোগ্যা, তাই ঊর্বশী তাঁর মায়ের মত। আবার ঊর্বশী পুরুবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা পুরুরবারও সন্তানদের মাতা, যে বংশের বংশধর অর্জুন। এতে ঊর্বশী রেগে গিয়ে অর্জুনকে নির্বীর্য বলে গালি দেন এবং বলেন যে, এমন মিলনে কোন দোষ হয় না।

অজাচার বা incest সাধারণভাবে নিন্দিত হলেও পুরাণে এর উল্লেখ প্রচুর পাওয়া যায়, এমনকি দেবতাদের মধ্যেও। ঋগবেদে পূষা (সূর্যদেব), অগ্নি ও যম তাঁদের বোনেদের বিবাহ করেছিলেন বলে লেখা আছে। যমের বোন যমী নাকি যৌবনপ্রাপ্ত হলে যমের সাথে মিলিত হবার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন এই বলে যে, এমন ভাইয়ের প্রয়োজন কি, যে নিজের বোনের পাশে উপস্থিত থাকলেও বোনের চাহিদা মেটাতে পারে না? হরিবংশ পুরাণে বলে, দেবতা ইন্দ্র তাঁর প্র-নাতি জন্মেজয়ের বৌয়ের সাথেও সঙ্গম করেছিলেন। আরো নানা অজাচারের উল্লেখ আছে সেখানে, যেমন বশিষ্ঠ মুনির কন্যা শতরূপা তাঁকেই নিজের স্বামী বলে মনে করতেন এবং মুনির সাথে মিলিত হয়ে সন্তানের জন্ম দেন। ঋষি অগস্ত্য নাকি নিজের মেয়ের পবিত্রতা রক্ষার জন্য তাকে সবার চোখের অন্তরালে বড় করে তোলেন এবং মেয়ে উপযুক্ত বয়সের হলে তাকে নিজেই বিবাহ করেন।

দেবরাজ ইন্দ্র গৌতম মুনির স্ত্রী অহল্যাকে ধর্ষণ করেন, যাকে কেউ কেউ পৃথিবীর প্রথম ধর্ষণ বলে মনে করেন। ঋষি বৃহস্পতি তাঁর দাদা ঋষি উতথ্যের বৌ মমতাকে ধর্ষণ করেন।

মহাভারতে অন্যান্য নানা অদ্ভুত ঘটনার কথাও পাওয়া যায়, যেমন মানুষের সাথে সাপ বা মাছের বা জড় পদার্থের মিলন। এ কথা যেমন শোনা যায় যে, দুই মানুষের মিলনে সন্তান হিসেবে পাখি বা সাপের জন্ম হয়, আবার উল্টোটাও পাওয়া যায় যে, পাখিদের এমন কি জড় পদার্থের মিলনে মানবসন্তানের জন্ম। পশ্বাচার বা পশু-সঙ্গম এর আরেকটি উদাহরণঃ রাজা যখন অশ্বমেধ যজ্ঞ করতেন তখন সেই সুলক্ষণযুক্ত ঘোড়াটির সাথে রাণীকে সঙ্গম করতে হত যজ্ঞের অংশ হিসেবে, এ কথা যজ্ঞের গাইডবুক ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’এই পাওয়া যায়। মানুষের সাথে অপ্সরা, যক্ষ বা রাক্ষসীর মিলন তো আছেই। মৃত মানুষের সাথে সঙ্গমেও মহিলারা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অন্যদিকে ‘অযোনিজ’ বা কোন মিলন ছাড়াই আপনা-আপনি মানুষের জন্মও হয়েছে।

মহাভারতে সমকামী বা রূপান্তরকামী (LGBT) লোকেদের উল্লেখও পাওয়া যায়। রাজা দিলীপ মারা গেলে এক ঋষির আদেশে তাঁর দুই বিধবা স্ত্রী সমকামিতায় লিপ্ত হন। তার মাধ্যমে সন্তানও লাভ করেন। অজ্ঞাতবাসের সময় অর্জুন ক্লীব হিসেবে নারীর পোশাকে বৃহন্নলা নাম নিয়ে থাকতেন, যার বর্তমান প্রতিশব্দ হিজড়া। দ্রুপদ রাজার সন্তান শিখণ্ডী নারী হিসাবে জন্ম নিলেও থাকতেন পুরুষের মত শেষে একজনের সাথে লিঙ্গ প্রতিস্থাপন করে পূর্ণাঙ্গ পুরুষ রূপ পান। অথচ বর্তমান কালে সাধারণ মানুষ এমনকি আইন-প্রণেতারাও সমকাম ইত্যাদিকে পাশ্চাত্যের কুপ্রভাব মনে করে বেআইনি করে রেখেছেন।কৃষ্ণ উপাখ্যানের কারণে এক বেটার একাধিক বৌ থাকার কথা সকলেই জানে; দ্রৌপদীর কারণে জানে এক নারীর বহুপতির কথা। কুন্তীর কারণে একাধিক পুরুষ দিয়া নারীর গর্ভসঞ্চার কিংবা দ্বৈপায়নের কারণে ভাইয়ের বৌরে গর্ভবতী করার কথাও সকলের জানা।অন্যদিকে কর্ণ কিংবা দ্বৈপায়নের জন্মঘটনার কারণে যে কোনো তরুণীকে গর্ভবতী করায় বামুনের অধিকারের স্বীকৃত প্রচলনগুলো মহাভারতের প্রাথমিক পাঠ্য উপাদান। তাই এইসব বিষয়ে কথা না বাড়ানো ভালো।দ্রৌপদী আর উত্তরার বিবাহ দুটো রীতির দিক থেকে মহাভারতের অন্যসব বিবাহ অপেক্ষায়  ভিন্ন। প্রথমতো; এই দুইটা বিবাহ ঘটেছে কন্যার বাড়িতে। মহাভারতের বাকিসব বিবাহ ঘটেছে হয় বরের বাড়ি না হয় কোনো নিরপেক্ষ স্থানে।

নারী ও পুরুষের মধ্যেকার সম্পর্কের কথা বলে অর্জুনের সঙ্গে সঙ্গমের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ঊর্বশী। এদিকে, সম্পর্কের দিক থেকে উর্বশী ছিলেন অর্জুনের শিক্ষাগুরু। অর্জুন তখন দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে গিয়েছেন ইন্দ্রদেবের কাছ থেকে অস্ত্র প্রাপ্ত করতে। সে সময় দেবরাজ ইন্দ্রের পরামর্শে উর্বশীর কাছে নাচ ও গানের প্রশিক্ষণ নেন অর্জুন। এই সময়ে অর্জুনের প্রেমে পড়েন উর্বশী। তিনি সরাসরি অর্জুনকে প্রেম নিবেদন করেন এবং যৌন মিলনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু অর্জুন জানিয়ে দেন তিনি ঊর্বশী-কে মা ও শিক্ষাগুরুর দৃষ্টিতে দেখেন। এতে ক্ষিপ্ত ঊর্বর্শী অর্জুনকে এক বছরের জন্য পুরুষত্বহীনতা এবং একজন ক্লীবের জীবন-যাপনের অভিশাপ দেন। ধর্মীয় আরও গ্রন্থে এও উল্লেখ রয়েছে যে ঋষি অগ্যস্ত খোদ নিজের কন্যা রাজা বিদর্ভের জিম্মায় ছোট থেকে রেখে দিয়েছিলেন। সেই কন্যা বিবাহযোগ্যা হলে অগ্যস্ত তাকে স্ত্রী রূপে বরণ করেন।

সময়কালের হিসাবে উপমহাদেশে কন্যার বাড়িতে বিবাহের আয়োজন তুলনামূলক নতুন সংযোজন। পুরানা সিস্টেমে বিয়ে হত বরের বাড়ি। রামায়ণে রাম-সীতার বিবাহও ঘটে কন্যার বাড়িতে। আরো কিছু উপাদানের সঙ্গে রামায়ণরে মহাভারতের পরের ঘটনা হিসাবে যারা দেখাতে চান তারা এই কন্যা-বাড়ির বিবাহের কথাটাও উল্লেখ করেন যুক্তি হিসাবে।কুন্তীরও স্বয়ংবরা হয়েছে বাপের বাড়ি কিন্তু পাণ্ডু তাকে বিবাহ করছে নিজের বাড়ি এনে। স্বয়ংবরায় দ্রৌপদীরে জেতার সময় নিজের বাড়ি নামে অন্তত একটি কুঁড়েঘর ছিল অর্জুনের।রাজকন্যা দ্রৌপদী বিয়ের আগে-পরে সেইখানেই থাকেন। কিন্তু তার বিবাহটা সেইখানে না হয়ে হয়েছে বাপের বাড়িতে।উত্তরার বিবাহের সময় পাণ্ডবরা   বিবাহের পাত্র অভিমন্যুর  কাছে ছিল। মামার বাড়ি ছিল তার বাড়িঘর। কিন্তু বিয়েটা সেখানে হয় নাই। হয়েছে পাত্রীর বাপের বাড়ি।দ্রুপদ অর্জুনের হাতে মেয়ে দেবার পর দ্রৌপদীর বিবাহ করতে হবে পাঁচ জনকে।এই সিদ্ধান্ত করে কুন্তী আর যুধিষ্ঠির। এটা নিয়ে পরে দ্রৌপদীর বাপ-ভাই  আলোচনা করলেও সিদ্ধান্ত কিন্তু বদলায় না।অন্যদিকে মৎস্যরাজা বিরাট কন্যাদান করে অর্জুনকে।আর অর্জুন ঠিক করে উত্তরাকে বিবাহ করব তার ছেলে।মহাভারতে কাকার ভাই বা বোনের ভিতর বিবাহেরও  উদাহরণ আছে। সেটা হল ভীমের ছেলে ঘটোৎকচের সঙ্গে অর্জুন-সুভদ্রার মেয়ে ভার্গবীর বিবাহ। শুধু যৌনতা নয়, রামায়ণ মহাভারত সকল দিক দিয়ে কতটা উন্নত তা পড়লে জানা যায়। উড়ন্ত পুষ্পকরথ বা যুদ্ধের সময় তীরগুলোর পরিবর্তন আধুনিক বিজ্ঞানে পথপ্রদর্শন করে থাকে নিয়মিত।

তাই তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যের মধ্যে রামায়ণ মহাভারত অন্যতম স্থান দখল করে আছে চিরদিন। অনেকদিন পরে একরাতে দীপার সঙ্গে এক বিছানায় শুয়ে শুরু করলাম আদর। দীপা বলল,তুমি তোমার নিয়ে থাক, আমার আমিকে বাঁচতে দাও। তোমার সঙ্গে যৌনতা আর ভালো লাগে না। ক্ষমা করে দিও আমাকে। আমি বললাম,আমি কি সাধু নাকি?  আমিও চুমকির সঙ্গে থেকে কত কি শিখেছি। দীপা আমার উপর উঠে লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে বলল,বলো না শুনি। কেমন মজা করেছো তুমি। আমি বলতে শুরু করলে দীপা কোমর নাচাতে শুরু করল। দীপা থামতেই চায় না। শেষে বলল,আজ খুব আনন্দ দিলে তুমি। আমরা এবার একসঙ্গে সবকিছু করব। কাউকে কষ্ট দিয়ে নয়। আমি বললাম,কিন্তু সমাজটা কোথায় যাবে ?  দীপা বললো,ওটা না হয় আগামী প্রজন্মের উপরই ন্যস্ত থাকুক। সে আরও বললো,তুমি আমার স্বামী নও, আজ থেকে। আমি চুমকির কাছ থেকে তোমাকে কেড়ে পরকীয়ার সঙ্গী বানালাম। আজ থেকে তুমি আমার নাগর। আমি ভাবলাম,ধন্য নারী চরিত্র। তোমাকে নত মস্তকে নমস্কার জানাই। তারপর নিজেকে খালি করে, পূর্ণতা পাওয়ার চেষ্টায় জীবন যাপন করি।

সুদীপ ঘোষাল। গল্পকার। জন্ম ভারতের পশ্চিমব্ঙ্গরাজ্যের কেতুগ্রামের পুরুলিয়া গ্রামে। প্রকাশিত বই: 'মিলনের পথে' (উপন্যাস)। এছাড়াও কয়েকটি গল্প ও কবিতার বই আছে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মায়াবাড়ি

মায়াবাড়ি

‘বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে…’ স্পষ্ট, চাবুকের হিসহিস শব্দের মতো কণ্ঠ! বাবুই চমকে তাকাল।…..