পানি পানের কথা

আলমগীর জয়
ছোটগল্প
Bengali
পানি পানের কথা

ঠিক কবে থেকে পানি পান করা শিখেছি বলতে পারবো না। মনে হয় দিনক্ষণ ঠিক করে কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। পানি নিয়ে পুস্তক ঘেটে অনেক তথ্যই লেখা যায় এবং এটা লেখাও সম্ভব। কিন্তু আমি সেদিকে যাচ্ছি না।
এবার পানি নিয়ে নিজস্ব ‘প্যাচালে’র সূত্রপাত করি। প্রথম পানি খাওয়ার দিন তারিখ বলতে না পারলেও স্পেশাল পানি পানের ঘটনা মনে আছে। সেখান থেকে শুরু করি।
বয়স ৬/৭ হবে। বর্ষা শুরু হলেই সমবয়সীদের নিয়ে শুরু হত নতুন পানিতে ‘নাওয়া’র পালা। তখন গ্রামের ছেলে মেয়েরা ‘ল্যাংটা’ হয়েই পানিতে নামত। ল্যাংটা হওয়ার একটা কারন আছে। তা হল সাধারণত গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের ছেলে মেয়েদের হাফপ্যান্ট দুটি বা তিনটি। নাওয়ার সময় ভিজে গেলে পরে ‘গামছা’ পরে থাকতে হয়। তাই ল্যাংটা হয়ে নাওয়া। এছাড়া আরো একটি কারন হল, গ্রামের ওই বয়সী ছেলে মেয়েরা বলতে গেলে সারাটা দিনই ‘টইটই’ করে ঘুরে বেড়ায়। যেখানে বর্ষাকালে যখনই চার-পাচজন একত্র হয়, প্যান্টটা একটানে খুলে নেমে পড়ে পানিতে। এতে করে বাড়ির অভিভাবকরাও টের পাননা ছেলে মেয়েরা একাধিকবার ‘নাইছে’। অর্থাৎ ‘ধরা খাওয়া’রও ভয় নাই। (মনে পড়ে আমি সর্বোচ্চ একবার এভাবে নেমেছিলাম, মায়ের বকুনির কারনে পরে আর নামতে পারিনি)। গ্রামের সামনের বিশাল মাঠে ‘মাজা পানি’ হলেও ‘নামা’ যেত। কিন্তু সমস্যা হত পানি বেশি থাকলে। তখন সাতার না জানার কারনে আমার আর নামা সম্ভব হত না।
সমবয়সীদের অনেকেই দিনের মধ্যে ৫/৭ বার গোসল করার কারনে সাতার শিখে গেল। আমি তখনো পারি না সাতরাতে। চিন্তা করলাম সাতার শিখতে হবে। সমবয়সীদের সহায়তার সাতার শিখতে গেলাম। অবশ্য ততদিনে বর্ষা শেষ। তাই বাড়ির পিছলে ফজল মাস্টারের ‘মাইটেলে’ গেলাম সাতার শিখতে। (সাম্প্রতিক সময়ে কোথায় যেন একটি উদাহরন শুনেছিলাম ‘কাগজ কলমে যতই প্রশিক্ষণ থাকনা কেন, সাতার শিখতে হলে প্রাকটিক্যালেই যেতে হবে।’ যারা সাতার জানেনা তাদের প্রতি বলি, প্রাকটিক্যালি সাতার শেখা ছাড়া অন্যকোন কোন বর্ণনাই কাজে আসবে না, সাতার শেখার ক্ষেত্রে, তাই বর্ননা স্টপ।)
মাইটেলটি গ্রামের পিছনে। আকারে বেশ বড়। তবে মাইটেলের পানির পরিমান কম। চারিদিকে ঝোপঝাড়। একদিকে ঘন বাঁশঝাড়। বাঁশঝাড়ের ছায়া পড়েছে মাইটেলে। তাই পানিও ঠান্ডা। তবে পানিতে মাটি মিশ্রিত থাকায় বেশ ঘোলা। শুধু ঘোলাই নয় পানি নোংরা, হালকা ‘মজা গন্ধ’ও রয়েছে। আমরা ‘পোলাপান’রা সংখ্যায় বেশি। যারা সাতার জানে তারা সাতরাতে সাতরাতে আর ‘কেচি কেচি’ খেলতে খেলতে পানি প্রচন্ড ঘোলা করে ফেলেছে। দেখতে অনেকটা ‘ঘোড়ার ঘন চুনা’র মত হয়ে গেছে। এর মধ্যে সাতার শিখতে নামলাম। শিখতে যেয়ে প্রথমে মাইটেলের এপার থেকে ওপারে ডুব দিয়ে শিখতে গেলাম। এ সময় হঠাৎ করে গালের ভিতর পানি ঢুকে গেল। ঢোকার পরে আর কোন চিন্তা বা ভাবনার সুযোগ পাইনি। অটোমেটিক গিলে ফেলেছি। পানি গিলেফেলার পরেই বুঝতে পারলাম ওই পানি কি পরিমান বিস্বাদ। একেতো মজা গন্ধ, তারউপর তিতা, এছাড়া ওর সাথে মাটি মিক্স্রট হয়ে একেবারে বিশ্রি অবস্থা। ‘গেলা’র পরেই অনেকটা বমিবমি লাগছিল কিন্তু বমি না হয়ে ‘হেস্কি’ আসল। সমবয়সী একজন তখন আমার মাথায় হাত দিয়ে মুখে উচ্চারণ করল ‘শাইট শাইট’। ওরা জানাল প্রথম শিখতে গেলে এরকম ‘পানি খাওয়া’ই লাগে। এভাবে একই দিন কয়েকদফা ওই পানি পান করেছি।
এটাই আমার স্মরনে থাকা অন্যতম প্রথম পানি পানের ঘটনা।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

পটচিত্র

পটচিত্র

  সৌম দাদুর কাছে থাকতে ভালোবাসত। গ্রামের নাম পাঁচুন্দি।আশেপাশে প্রচুর গ্রাম।সবাই সকলের খবর রাখে।সৌমদীপ এখানকার…..