পাসপোর্ট

মিতা বিশ্বাস বসু
কবিতা
Bengali
পাসপোর্ট

দাগ

আমার ঘর
কিছু আসবাব
বইয়ের তাক-ভর্তি কত-ও বই,
ধূলোপড়া রোজের কাগজ
একধারে স্তূপাকার।

বিছানার চাদরের একটা কোণা
পাখার বাতাসে উড়ছে,
আনন্দে -পতপত করে
ঝড়ের পূর্বাভাস পাই যেন,
খোলা জানলার পশ্চিমী-হাওয়া নয়তো!

পুরনো আরামকেদারায় গা এলিয়ে
ভাবি, আসুক ঝড়
তবে একটু সামলে, হালকা মেজাজে
তান্ডব এসে সবকিছু তছনছ না হয়!

সাবধানী আমি সর্বদা,
জীবনটা এ’ভাবেই চলে আমার
ভাবি দাগ লাগতে দেবো না-
দেখি, সত্যি কতোটা পারি।

টেল

ছোটবেলার গল্পের ‘নীলনদ’
টেল থাকতো সেখানে,
সেটা নাকি আফ্রিকায়
আরো কিছু, ‘দেশবিদেশের ছেলেমেয়ে’।
সুজয় ওদের সবার সাথে,
আমারও পরিচয় করায়।

তখন থেকেই মনে মধ্যে
নীলজলের শান্ত ছায়ার স্বপ্ন
যেন কতোদিনের দেখা-চেনা ওর সাথে,
রকম-সকম-ভাব-ভঙ্গি
সবই আমার পরিচিত।

‘টেল’ পড়ার বই ভেদ করে, কখন যেন
আমার বন্ধু হয়ে গেছিলো।
আমি তখন ক্লাস ফোরে,
পাঠ্য বই ‘কিশলয়’ এর পাতা খুললেই
টেল, হাসতো ওর প্রাণখোলা হসিতে।

ও, সারাদিন বরফ ঢাকা দেশে
‘স্কি’ করে বেড়াতো,
সঙ্গী হতে বলতো আমায়।
আমি দোটানায় পড়তাম,
‘মা-কে ছেড়ে অতদূরের পথ
নীলনদ-এর দেশে, থাকতে পারবো না’-
টেল-কে জানালাম সে’ কথা,
ওর হাসি মুখটা গম্ভীর হয়ে গেলো মুহূর্তে।

তারপর অন্য ক্লাস
অন্য পাঠ্য-বই,
ভুলে গেলাম টেল-কে।

আজ জানতে ইচ্ছে করে
‘টেল, তুমি কি ওমন-ই আছো
আজ-ও হাসি মুখে? ‘
তবে, আজ-ও যেতে পারবো না গো
নীলনদ-এর দেশে –
আমি যে সংসারের জাতাঁকলে
জড়িয়ে ফেলেছি নিজেকে!

নভেল

বোবা-মৌনের কথারা শরীরে মেশে,
অঙ্গে বিভঙ্গে কথা বলে ওঠে।
দুপুরবেলার নভেলটা রোজের অভ্যাসে
আলগোছে বুকের আঁচলের ওপরে
খানিক জিরিয়ে নেয়
চোখ বুজে আসে আরামে।

নভেল থেকে বেড়িয়ে আসে পাত্র-পাত্রীরা
নাটকীয় সংলাপ শুনি।
অবচেতনে, ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে
অনুভব করি হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি
ওদের ভালোবাসার কথপোকথন।

সুখী সে’ নায়িকার বুকের সুগন্ধী
কখন যেন ঘুমন্ত-নারীর শরীর বেয়ে নামে
চলে আসে সুখের হাতছানি তে,
হাজারো অসুবিধার মাঝে ও।

নভেল ওকে করে পরিতৃপ্ত,
ভাবতে পারে নিজেকে নিয়ে আজ-
স্থান-কাল ভেদে
দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রী না হয়েও
নারী হয়ে ওঠে দার্শনিক।

পাসপোর্ট

সেদিন, এ’ কারণে-ই পরী হতে
চেয়েছিলাম-
দেশবিদেশ ঘুড়ে বেড়াতাম নিজের সখে
ইচ্ছে হ’লেই।

পাসপোর্টের আর দরকার
পড়তো না-
টপকে টপকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে,
স্বাধীন হ’তাম।

তবে আর পরী না, শরীরকে বাদ দিয়ে
ধরো হাওয়া হ’লাম।
আলো-ছায়া বিহীন, এক অনুভব মাত্র
অনুভূতিতে খুঁজে নিতে।

তবু,
কাছে থাকলেও দেখতে পেতেনা তুমি –
আমিতো তখন অশরীরী।

মিতা বিশ্বাস বসু। কবি। জন্মেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের কলকাতার দমদম-এ। পড়াশুনা করেছেন রবীন্দ্রভারতী (জোড়াসাঁকো) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছবি আঁকা (প্রিন্ট মেকিং আর্ট) নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা। এসময় ভারত সরকারের (মানব-সম্পদ মন্ত্রকের অধীনে) 'ন্যাশানাল স্কলারশিপ' লাভ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরে পরেই, নিজের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..