প্যাটাক্যুয়রিক্যাল নাইটশোয়ে আপনাকে স্বাগতম (২য় পর্ব)

রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়
অনুবাদ, ধারাবাহিক, প্রবন্ধ, রিভিউ
প্যাটাক্যুয়রিক্যাল নাইটশোয়ে আপনাকে স্বাগতম (২য় পর্ব)

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show

পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন এখানে >>>

পরবর্তী পর্ব এখানে>>>>

কোভিডাক্রান্ত মানুষের জীবন আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। পালাবার পথ নেই। তবে কি মনুষ্য থেকে মনুষ্য বিমূর্ততায় যাবো? একটু ভাবুন। আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়াধীন। আজ আমরা সরকার বলুন, বিজ্ঞান বলুন, সমস্ত কিছুর উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের শেষ অবলম্বন ঈশ্বর হতে পারতো, কিন্তু তিনিও আজ লকডাউনের অধীন। মানুষ আজ মন্দির, গির্জা বা মসজিদে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছোতে পারছে না। ফলত, “পবিত্র ভয় নিয়ে বসে,/ মাটি ভেজায় অশ্রুজলে”[1]— এই পবিত্র কর্মটি থেকে মানুষ বিরত এখন। কিন্তু কে এই ঈশ্বর যিনি কেবলমাত্র মন্দির, গির্জা বা মসজিদে থাকেন? একদিন মানুষ নিজেই এই ঈশ্বরের সামাজিক বা নৈতিক ধারণাটি তৈরি করেছিল জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য। প্রাচীন মানুষ তার আধ্যাত্মিক গুণগুলো অনুভব করেছিল এই শারীরিক প্রাকৃতিক পৃথিবীতে আর তাকেই ঈশ্বররূপে কল্পনা করেছিল। কিন্তু তথাকথিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির স্বনিযুক্ত ঈশ্বরের প্রতিনিধিরা মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে মূলধন করে তাদের আত্মকেন্দ্রিক ভালোবাসা আর মানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ ও দমন করার নিষ্ঠুর ইছায়‌ মানুষ ও দেবতাকে আলাদা করে ফেলল। মানুষ ভুলে গেল ঈশ্বর তাদেরই ভেতর বসত করে আর মানুষের ঐশীরূপ তার নিজেরই স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, সহজাত গুণ মাত্র। ঈশ্বরবিচ্ছিন্ন মানুষ আজ ঈশ্বরকে বসিয়েছে শাসকের ও বিচারকের ভূমিকায় এবং নিজেকে বশীভূত করে রাখে সেই বিচারক ঈশ্বরের কাছে। সেই বিচারকের ভয়ে তার অপরাধবোধ আর বিচ্ছিন্নতাবোধের অশ্রুজল, যে জলচিঞ্চনে বৃদ্ধি পায় তার আবমাননার বৃক্ষটি। তারই অন্ধকার ছায়ায় রহস্য বুনে তোলে ধর্মের জাল, যার ফাঁদে মানুষ আজ নিজেই আবদ্ধ। ফলত হাজার হাজার বছরের বিবর্তনের পথ ধরে আধুনিক মানব এখন “বিমুর্ত মানব”-এ এসে পৌঁছেছে, যেখানে “অবমাননা শেকড় ছড়ায়/ তার পায়ের নীচে/…তারপর প্রতারণার ফল ধরে,/রসাল মিষ্টি তার স্বাদ”। আসলে অবমাননা আর বিনয় শব্দের মূলে একটাই ল্যাটিন শব্দ — humilis যার আক্ষরিক অর্থ হল নম্রতা বা নগণ্যবোধ, যা আসলে ঈশ্বরের তত্ত্বাবধানে জীবনযাপন করে ঈশ্বরের সামনে নিজেকে তুচ্ছ বোধ করা, যা তার আত্মবিশ্বাসেরই অভাব। ফলত “নেতি নেতি” করে অনন্ত সম্ভাবনার ইতিবাচক উপলব্ধি করতে সে আজ অক্ষম। ভুলে গেছে বিবেকানন্দ বলেছিলেন, আমাদেরই হৃদয়ে আছে ঈশ্বরের স্বর্গরাজ্য।

        “প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কল্পনা” নামক ফ্যান্টাসির এই দ্বিতীয় পর্বে চার্লস বার্ন্সটাইনের “মানবীয় বাস্তবায়ন” নামক বিস্ফোরণ, যা উইলিয়াম ব্লেকের কবিতা “The Human Abstract” নিয়ে রচিত। ১৭৮৯ সালে প্রকাশিত হয় রোমান্টিক কবি উইলিয়াম ব্লেকের “Songs of Innocence” (সরলতার সংগীত) আর ১৭৯৪ সালে প্রকাশিত হয় “Songs of Experience” (অভিজ্ঞতার সংগীত) কবিতাগুচ্ছ। প্রথমটির অন্তর্গত “The Divine Image” এবং দ্বিতীয়টির অন্তর্গত “The Human Image”, পরবর্তী সংস্করণে যার নাম দিয়েছিলেন “The Human abstract”। তো সেই মানবীয় বিমূর্তন, যাকে বলা যায় মানবীয় বাস্তবায়ন, যেখানে সরলতার উল্টোপিঠে অভিজ্ঞতার সংগীত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগেই এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা কবি অনুভব করেছিলেন আজকের মানুষের বাস্তব চিত্র। স্বপ্নদর্শী কবি উপলব্ধি করেছিলেন কীভাবে মানুষ তার নিজস্ব মূর্তি থেকে বিমূর্ত হয়ে ওঠে; নিজের মৌলিক প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন মানুষ নিজের অস্তিত্বের জন্যই নিরাপত্তার বেড়াজাল হিসেবে তৈরি করেছে এই বিমূর্ত রূপ, যাকে রচনা করেছে এক সর্বজনীন মানবিক ভাবপ্রবণতার মুখোশের আড়াল। ব্লেক মানুষের এই বিমূর্ত রূপের এক প্রতীকী উপমা এঁকেছিলেন তাঁর এই কবিতায়। অষ্টাদশ শতকের কবির “মানবীয় বাস্তবায়ন” আজ এই একবিংশ শতাব্দীর কবির কাছে এখনও প্রাসঙ্গিক। বার্ন্সটাইনের এই মনুষ্য বাস্তবায়ন মানুষের এক সংস্কারসাধন, যেখানে তার নির্দিষ্ট ও কংক্রিট রূপের বিপরীতে তাকে এক ধারণা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

     আমাদের এই ক্রমবর্ধমান কোভিডিক হতাশা, নৈরাশ্য ও অসহায়তার মাঝখানে বাস্তব এখন পাগল আর না-পাগলের বিভ্রান্তিতে আমাদের আন্দোলিত করছে। আমরা ভাবতে বসেছি আসল পাগলটা কে? যখন আমরা আমাদের নিজস্ব সময়ের মিথোজ, প্রচলিত বিশ্বাস এবং সমাজের বেঁধে দেওয়া সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর বাইরে বেরোতে চাই, তখন সমাজ আমাদের পাগল বলে দেগে দেয়। যখন সম্প্রসারিত চেতনায় আমরা নতুন বাস্তবতা  আবিষ্কার করি এবং জীবনের স্বপ্নের সঙ্গে আমাদের অস্তিত্বের সমর্থনে এই বহুমাত্রিক বাস্তবতার সম্পর্ক উন্মোচন করি তখনও আমরা পাগল খেতাব অর্জন করি। তবে কি আমরা একটা ইউটোপিয়ায় বাস করছি? হ্যাঁ, আপনি ঠিক ধরেছেন, আমরা “ইউটোপিয়ার ভেতর”, যেমন বার্ন্সটাইন তাঁর Near/Miss বইটির “In Utopia” কবিতাটিতে লিখছেন :

……ইউটোপিয়ার ভেতর বাঁদর শুয়ে থাকে গণ্ডারের সাথে আর ভূতেরা ভূতেদের ঘরে হানা দেয় যাতে অন্যেরা নিজেদের ঠেকিয়ে রাখতে পারে। ইউটোপিয়ায় আপনি লড়াইতে হেরে যান, এমনকি যুদ্ধগুলোতেও গোহারান হার, তবু তা নিয়ে আপনার মাথাব্যথা নেই। ইউটোপিয়ায় কেউ কাউকে কিছু বলে না কিন্তু আপনাকে আমার এটা বলা প্রয়োজন। ইউটোপিয়ায় পরিকল্পনাগুলো অলঙ্কার আর প্রত্যাশাগুলো খেয়ালের ভেতর বিলীন হয়ে যায়। ইউটোপিয়ার ভেতর এইখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্যাঁচ আছে। ইউটোপিয়ায় প্রেম যেখানে সওয়ার হয় তার চাকায় থাকে আকাঙ্ক্ষা। ইউটোপিয়ায় শব্দেরা গান গায় আর গায়ক শোনে। ইউটোপিয়ায় এক এক্কে দুই হয় না। ইউটোপিয়ার ভেতর আমি তুমি কখনও তুমি আমির মতো নয়। ইউটোপিয়ায় আমরা ওয়াল স্ট্রিট দখল করি না, আমরাই ওয়াল স্ট্রিট। ইউটোপিয়ার ভেতর যা কিছু কঠিন তা জমাট বাঁধে, যা কিছু গলিত তা তরলিত হয়, যা কিছু হাওয়া তা হারিয়ে যায় শেষ বিকালের কুয়াশায়।[2]

        এই ইউটোপিয়া কবি হাকিম বের সেই “বোম্বেটে ইউটোপিয়া”, যেখানে “আমরা আমাদের সত্য আকাঙ্ক্ষাগুলো উপলব্ধি করতে পারি; হোক সে ক্ষণিক মরশুমি, হোক সে ক্ষণস্থায়ী বোম্বেটে ইউটোপিয়া, তবু সেই-ই হ’ল পুরোনো স্পেস-টাইম ধারাবাহিকতার ভেতর মগ্ন মুক্ত স্থান”।[3] বোম্বেটে এখানে “সামাজিক দস্যু” অর্থে ব্যবহৃত, যে কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে চলা সমাজচ্যুত কিন্তু পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে মানচিত্রের খালি জায়গা দখল করে। এই দখলিত স্থান এক অস্থায়ী স্বশাসিত অঞ্চল (Temporary Autonomous Zone -TAZ) যার নামকরণ করেন হাকিম বে। তিনি বলেন স্বশাসিত এখানে প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্ব অস্বীকার করে পূর্ণ স্বাধীনতায় শাসন করা অর্থে ব্যবহৃত; কারণ: “তারা আপনাকে মিথ্যে বলেছে, আপনাকে ভাল-মন্দের ধারণা বিক্রি করেছে, আপনার শরীরকে অবিশ্বাস করতে শিখিয়েছে আর আপনার অরাজকতার ভবিষ্যবাণীর জন্য লজ্জা দিয়েছে, আপনার আণবিক প্রেমের জন্য বিতৃষ্ণার শব্দ আবিষ্কার করেছে, অমনোযোগে আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে, সভ্যতা ও তার সুদখোর আবেগ দিয়ে আপনাকে বিরক্ত করেছে”। আর “অস্থায়ী” অর্থে কবিতার সেই সাময়িক স্থান বার্ন্সটাইনের ভাষায় কবিতা:

একটা সাময়িক স্থান বা হোল্ডিং এরিয়া যেখানে আমরা বিকল্প গঠনগুলো, প্রচলিত রীতি ও সমাবেশের বিকল্প পদ্ধতিগুলি বিবেচনা করি আর কবিতার সময়কালের মধ্যে এই কাল্পনিক বাস্তবতার সঙ্গে বসত করি

        কবিতা অন্য এক পৃথিবীর মডেল কিন্তু সেই অন্য পৃথিবী সর্বদাই আমাদের এই পৃথিবীতেই। বাস্তব ও অবাস্তবের মধ্যে দোল খায় এই কাল্পনিক বাস্তবতা। যারা এই কাল্পনিক বাস্তবতায় বিশ্বাস করে না, তারাই সমাজের প্রচলিত স্বাভাবিকতার মানদণ্ডে না-পাগল। এডগার অ্যালান পো-র ছোটগল্প “The System of Doctor Tarr and Professor Fether” প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে। দক্ষিণ ফ্রান্সের পাগলাগারদ নিয়ে লেখা, যদিও “Maison de Santé”-এর আক্ষরিক অনুবাদ পাগলাগারদ নয় বরং বিপরীত ─ স্বাস্থ্যনিবাস, যা আমূল প্রগতিশীল এক পাগলাগারদ, যেখানে “প্রশমিতকরণ” প্রক্রিয়া অনুশীলন করা হচ্ছে। ফ্যান্টাসির এই দ্বিতীয় পর্বে বার্ন্সটাইনের আর একটি বিস্ফোরণ “Tarr and Fether” যেখানে এই পাগলাগারদের বাসিন্দারা কীভাবে প্যাটাক্যুয়রিক্যাল পাগল তারই পর্যালোচনা করেছেন, যা আনমিতলজির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

————-Cock-a-doodle-de-dooooooh————–

@@@ তাহলে শুরু করা যাক চার্লস বার্ন্সটাইনের ফ্যান্টাসির দ্বিতীয় পর্ব @@@

প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কল্পনা : মিডরাশিক নীতিশাস্ত্রবিরোধিতা এবং আনমিতলজির[4] প্রতিশ্রুতি
(The Pataquerical Imagination : Midrashic Antinomianism[5] and the Promise of Bent Studies)

১৪০টি বিস্ফোরণের এক ফ্যান্টাসি

XII.   মানবীয় বাস্তবায়ন (The Human abstract)

       এটা এমন কিছু আপত্তিকর নয় যে এতে মানুষের গন্ধ নেই।

       মানুষ সম্মানসূচক নয় বরং বোধাতীত এক দাগ, এমন এক মনুষ্য-ব্যাধি[6], যাকে আমরা যতই ঘর্ষণ করি ততই সে আরো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

      দয়ালু কবিতা “দয়ার” বেদবাক্যে অংশ নেয়, ব্লেকের মতে “মানবীয় বাস্তবায়ন” হ’ল “মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত” এক বিষাক্ত “নিষ্ঠুরতা”। দয়া হ’ল মনুষ্যত্বে বাসা বাঁধা এক পরজীবী, যা ভালো থাকার অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে “দরিদ্রের” অ্যাবস্ট্রাকশান খেয়ে মোটা হয়, যাকে বলা যায় অনুকম্পার ফার্মাকন[7]। এমার্সন যখন “Self-Reliance” (১৮৪১) লিখছেন তখন ব্লেকের প্রতিধ্বনি করে বলছেন, “তাহলে, একজন ভালোমানুষ আজকের দিনে যা করেন, সেরকম আমাকে যেন আবার বোলো না, সমস্ত দরিদ্র মানুষকে ভালো অবস্থানে রাখার দায় আমার। তারা কি সব আমার দরিদ্র মানুষ?”[8](দয়া আয়বৈষম্য পরিবর্তন করে না, করুণা জাতিবৈষম্যজাত বিকৃতির অবরোধ ভাঙতে পারে না। মনুষ্য[ত্ব] মানুষেরই বিরুদ্ধে এক প্রতিষেধক।)

       জ্যাক দেরিদার ফার্মাকন (ড্রাগ) শব্দটি তাঁর “প্লেটোর ফার্মাসি”তে দ্ব্যর্থবোধক, বিষ ও ওষুধ উভয় হিসাবেই। ব্লেক ও এমারসনের কাছে দয়া হ’ল আমাদের মনুষ্য-ব্যাধির এক ওষুধ : দরিদ্রের দুর্ভাগ্যজনক অবস্থাজাত বিপদের বিলেপন (বা প্রতিকার), তাদের বলির পাঁঠা হিসেবে চিহ্নিতকরণের বিষ (বা ব্যাধি)।[9] দরিদ্রের জন্য আমাদের আবেগাক্রান্ত উপস্থিতি (সহানুভূতি) আমাদের আবেগাক্রান্ত অনুপস্থিতিও বটে, (যার দায় মেটানো হয়েছে আমাদের ভাবাবেগ বা অর্থ দিয়ে)।

     এটাই সান্ত্বনা যে দরিদ্ররা ত্রাণ পাচ্ছে।

      চিহ্নিতকরণ হল শুদ্ধিকরণের এক নিরাময় রীতি, যা একঘরে করা মানুষকে বিষাক্ত করে তোলে।

      “মানবীয় বাস্তবায়ন” -এ দয়া ও করুণা সম্পর্কে ব্লেকের মন্তব্যে ফিরে এসে বলা যায় আবেগ হ’ল “প্রতারণার ফল/রসাল ও মিষ্টি স্বাদের”, “অন্ধকার ছায়াঘেরা”[10] এক বিষাক্ত বিমূর্ততা।

       অমানবিক কবিতা কোনো উত্তর নয় : আমার সীমালঙ্ঘনগুলো আমাকে স্বস্তি দেয়, এমন একটা ভাব জন্মায়, যেন আমি ওদের তুলনায় অনেক ভালো মানুষ। আমি তাঁদের দয়া করি যাঁরা আমার তুলনায় কম সাহসী। সত্যি বলতে কি, আমি নিজেকেও দয়া করি। এবং তার এক করুণ প্রদর্শনী করি।

     পরহিতব্রতী বা সর্বজনীন মানবিক ভাবাবেগের রূপকটি মনুষ্য ও মনুষ্যেতর প্রাণীর মধ্যে মিথকাব্যিক বিভেদের ওপর ভিত্তি করে রচিত। আমাদের সদ্‌গুণাবলি তাদের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, আমাদের আত্মসচেতনতা (আপেক্ষিক, বর্বর) তাদের স্বাচ্ছন্দ্যতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মার্ক শেল যেভাবে দেখেছেন, যাঁরা সর্বজনীন মানবিক সৌভাত্র সমর্থন করেন তাঁরা সর্বজনীন ধর্মকে[11] মানিয়ে নিতে পারে না এমন মানুষকে সংসার থেকে বহিষ্কৃত করেন।

      মানুষ অপরাধবোধ বা লজ্জা অনুভব (বা আরোপ) করতে পারে, কিন্তু তারা প্রায়শই অপরাধী বা লজ্জিত হতে ব্যর্থ হয়। এটা ব্যর্থতা না সাফল্য?

       আবেগের অনুপস্থিতিও একটা আবেগ। অনুভবের অনুপস্থিতিও অনুভব করতে হয়।

     ভাষা একটি বৈশিষ্ট্য যা মনুষ্য ও মনুষ্যেতর প্রাণীকে আলাদা করে, এটাই মানুষের ব্যতিক্রমধর্মিতার প্রাথমিক যৌক্তিকতা। তারপরও ভাষা ফার্মাকনের মতো – প্রতিকার ও অভিশাপ, সত্যবাদিতা ও প্রতারণার এক হাতিয়ার : সংস্কৃতির এমন কোনো নথি নেই যা একইসঙ্গে বর্বর নয়।[12] উইলিয়াম বরোজও যেমন বলেছিলেন, যদি ভাষা একটা ভাইরাস হয় তবে সেটা তার সহজাত রূপকতার জন্য নয়, বরং মানুষের এই all-too-human[13] অবস্থা অস্বীকারের জন্য।[14]

      মানুষের আত্মসম্মানের অসহ্য ভাবপ্রবণতা (“এক প্রজাতির অতিক্রমণ…”)[15]

      আমরা মানবসত্য সন্ধান করছি না বরং তার মনুষ্য-ব্যাধি (আমরা কীভাবে ভবিষ্যমানব হয়েছি তার তুলনায় আমাদের প্রাকমানবত্ব অনেক বেশি অবদমিত)।

     ব্লেক বলেন, “দাঁড়কাক তার বাসা তৈরি করেছে” গাছের “ঘন ছায়ায়”, যে গাছে “প্রতারণার ফল হয়”। পো-এর “nevermore” ব্লেকের “দয়া আর থাকবে না”-এরই প্রতিধ্বনি।

      উইলিয়ামস আবার প্যাটারসনের চূড়ান্ত পঙ্‌ক্তিতে:

তারা হল তাঁর পুরো ধারণার বিভাজন ও ভারসাম্যহীনতা
ছোট করা হয়েছে দয়া ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে,
তারা কোনো মতবাদ নয় প্রকৃত ঘটনার পাশে-

      কবিতা এমনই।

XIII.

       এই বিচ্ছিন্নতাবোধের সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত।

XII.

      “মানবীয় বাস্তবায়ন”-এ পটভূমির ইমেজ হিসেবে অনেক সামঞ্জস্যহীন ফ্রেম আছে। কবিতাটির কোনো নির্দিষ্ট সংস্করণ নেই, বরং অন্তর্লীন উদ্ভাসের সারি। প্রতিটা ফ্রেম কবিতাটির এক ভিন্ন পাঠের প্রস্তাব দেয়। প্রকৃতপক্ষে কবিতাটি সম্পূর্ণভাবে বর্ণমালার সত্তায় বিরাজ করে না, সেখানে কোনো মূল কবিতা নেই, শুধু এই উদ্ভাসগুলো, এই বাহ্য সংস্করণ বা পরিপ্রেক্ষিতের সিরিজগুলো।

       ব্লেকের অভিজ্ঞতার সংগীত-এর একটা “মানবীয় বাস্তবায়ন”, যা প্রতিধ্বনিত করে সরলতার সংগীত-এর “The Divine Image”, যেখানে দয়ার আছে এক “মনুষ্য মুখ” যার মধ্যে ঈশ্বরের বাস। এমনকী তাঁর সরলতার প্রতিবেদনেও ব্লেক যখন স্বীকার করেন “মনুষ্যরূপী ঈশ্বর” nepohumanist[16]-এর দিগন্ত অতিক্রম করে প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন, অর্থাৎ তার নিজেকে চিনে নেওয়া প্রয়োজন কেবলমাত্র খৃষ্টানধর্মাবলম্বী বা নিজবৃত্তের মধ্যে স্বীকৃত মানুষদের মধ্যেই নয়:

সকলের পূজনীয় এই মনুষ্যরূপ
নাস্তিক, ইহুদি বা তুর্কি;

     ব্লেক সরলতায় শুরু করেন। যখন আমি নিজেকে আবিষ্কার করি সেইসব সাথীদের সঙ্গে যাঁদের কাছে সরলতা খুব লোভনীয় – তা যে দৃষ্টিআচ্ছন্নকারী বা অক্ষমতাদায়ী তা বলার অপেক্ষা রাখে না – তখন অন্ধকারের গভীর থেকে নিঃসৃত হয় এক ফ্যান্টাসি, যা উৎসও নয় গন্তব্যও নয়।

বি.দ্র ─ অনুবাদের এই অংশ প্রথম প্রকাশিত হয় ইন্টার‌্যাকশন পত্রিকায়, ২০২০ বইমেলা সংখ্যা, সম্পাদক প্রণব চক্রবর্তী।

XIV. Tarr & Fether

        পো-এর “The System of Doctor Tarr and Professor Fether”[17] (১৮৮৪) কাজটি আনমিতলজির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি স্মরণ করেন “Midrashic Antinomianism”-এর বিকেন্দ্রিকরণের জন্য আমাদের গ্রুপের পূর্ববর্তী বৈঠকগুলো, তবে দেখতে পাবেন, পো-এর গল্পগুলো ঘটছে দক্ষিণ ফ্রান্সের “Mad-House”-এ, যদিও “Maison de Santé” -এর আক্ষরিক অনুবাদ পাগল বাড়ি নয় বরং উল্টো, স্বাস্থ্যনিবাস। পো-এর গল্প এই বৈপরিত্যের ওপর ভিত্তি করেই। গল্পের পাগলাগারদ আমূল প্রগতিশীল, এমন এক পদ্ধতির অনুশীলন করছে যা তার বাসিন্দাদের বিভ্রান্তিগুলোকে প্রশ্রয় দেয়, শাস্তিপ্রদান নয় বা বিরুদ্ধ প্রতিবাদও নয়। এই “প্রশমিতকরণ” প্রক্রিয়া প্যাটাক্যুয়রয়েড ইউটোপিয়ার ভিত যেখানে স্বাভাবিকতার কোনো মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়নি।

      আগে যেমন ব্যাখ্যা করা হয়েছে (যদিও আপনি হয়তো তখন আলোচনাকক্ষের বাইরে ছিলেন): এটা বলতে চেয়েছিল যে পাগলাগারদে বিদ্রোহ ঘটেছিল। পাগলেরা বন্দি করেছিল রক্ষীদের, যাদের উন্নতিবিধানের মাধ্যমে উদার আচরণ প্রতীকীভাবে অমানুষ/একঘরে করার চিকিৎসা পদ্ধতির কট্টর হিংস্র সূচনা দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল : অন্ধকারাচ্ছন্ন ও ডানা ছেঁটে শৃঙ্খলিত করার পদ্ধতি।

      পো-এর কথক ছিলেন পাগলাগারদে আসা এক সিধেসাদা পরিদর্শক, যিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন যখন পাগলেরা দাবি জানায় যে তারা সকলেই সুস্থমস্তিষ্ক এবং সেইজন্য তিনি ধরা পড়া রক্ষীদের কুত্তার মতো চিৎকার উপেক্ষা করতেন। কিন্তু পরিদর্শকটি কিছু “অস্বাভাবিকতা” খুঁজে পান, যখন তিনি তাঁর নিমন্ত্রণকর্তাদের কপট প্রকৃতিস্থতার কথা বলতে গিয়ে বলেন যে, প্রকৃতপক্ষে  “একটু উদ্ভট”। যাই হোক, তিনি পুনরায় আশ্বস্ত হন এই জেনে যে বর্তমান দায়িত্বে যাঁরা আছেন তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানের অবৈধ “সুপারিন্টেন্ডেন্ট” মসিঁয়ে মেইলার্ড দ্বারা পাগল হননি। জানা যায় যে মেইলার্ড সেই প্রাক্তন সুপারিন্টেন্ডেন্ট যিনি এই পাগলাগারদে কাজ করতে করতে নিজেই পাগল হয়ে যান এবং এখন আবার সুপারিন্টেন্ডেন্টের পদে পুনর্বহাল হয়েছেন – তবে বিদ্রোহীদের একজন হিসেবে। মেইলার্ড হ’ল চিরকালের সেইসব সুপারদের মতো যাঁরা ক্ষমতার জন্য যেকোনো কাজ করতে পারেন (প্রিয় পাঠক মনে রাখবেন, পো লিখছেন ফ্রয়েডের কয়েক দশক পূর্বে, তবু মসিঁয়ে মেইলার্ডের চরিত্রটির সঙ্গে সুপার ইগোর সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা যায় না)। মেইলার্ড কথককে জিজ্ঞেস করছেন, “কেন আপনি এরকম মনে করেন? আপনি কি সত্যিই মনে করেন আমাদের অনেক কিছুই সঠিক নয়? – আমরা খুব শালীন নই, আমি স্বীকার করি যে এই দক্ষিণে বেশিরভাগ মানুষই আমাদের মতো জীবন উপভোগ করে যা আপনার অজানা নয়”। পো-এর গল্পে শেষমেশ আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, অন্তত আমাদের তাই বিশ্বাস করানো হয়েছিল।

       পো-এর কথক প্রতিবিপ্লবের সময়ে খাওয়ার ঘরের বর্ণনা দিচ্ছেন, “আমার সেই পুরোনো বন্ধু বেচারি ম্যাডাম জয়িউসের জন্য আমি সত্যিই কাঁদতে পারতাম যিনি কি ভয়ঙ্করভাবে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। তিনি যা করেছিলেন তা হ’ল ফায়ারপ্লেসের ধারে এককোণে দাঁড়িয়ে উঁচুগলায় একটানা গাইছিলেন ‘Cock-a-doodle-de-dooooooh!’”[18]

     যারা বাহ্যত রক্ষী তারা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং তাদের প্রশমিতকরণ পদ্ধতিতে ফিরে যায়। কিন্তু ফ্রান্সে পচন ধরার গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায়, (যা কেবলমাত্র ফরাসী বিপ্লব বা পুঁজিবাদের পরিণতি ছিল না)। কথক বর্ণনা করতে থাকেন, “মারামারি, পদাঘাত, আঁচড়াআঁচড়ি, আর্তনাদ” শুরু হয় প্রতিবিপ্লবীদের মধ্যে, যারা তালেগোলে এই হাঙ্গামায় যুক্ত হয় এবং সফলভাবে দখলদারিদের উৎখাত করে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে: তারা এক নিখুঁত সেনাবাহিনী যাদের আমার মনে হল “Cape of Good Hope”-এর শিম্পাঞ্জি, ওরাঙওটাঙ, বা বড় কালো বেবুনের দল! তালেগোলে উপসংহারে আসার আগে দয়া করে মনে রাখবেন, এই গল্পে যারা বাহ্যত পাগল তাদের অনেকেই নিজেদের মনুষ্যেতর প্রাণী, ব্যাঙ, বাঁদর, গৃহপালিত মোরগ মনে করত। সুপারিন্টেন্ডেন্ট মেইলার্ডের কাছে এটা জিজ্ঞেস করা সমীচীন হবে, “হাঁস কেন?”। তাঁর দুমুখি চরিত্রের জন্য : ঊর্ধতন হয়ে যায় অধস্তন আর ঘুরে দাঁড়ানো অধস্তন ঊর্ধতনের ভূমিকায় – এই প্রসঙ্গে ফেরে। পো আবিষ্কার করেন উইটগেনস্টাইনের “duck/rabbit”[19], ধারণাটি সংজ্ঞায়িত হবার আগেই।

      গল্পের মাঝখানেই পো তাঁর নৈতিক উপদেশ জ্ঞাপণ করেন, প্রকৃতপক্ষে পাগল মানুষদের থেকে সর্বাপেক্ষা বড় বিপদ হ’ল সে তার পাগলামিকে লুকিয়ে রাখতে পারে: “যদি তার কোনো অভিপ্রায় থাকে তবে এক দুর্দান্ত বিজ্ঞতায় সে তার পরিকল্পনা লুকিয়ে রাখতে পারে; প্রকৃতিস্থতাকে নকল করার এই চাতুর্য অধিবিদ্যাবিদের কাছে মনস্তত্ত্ব গবেষণার এক অন্যতম প্রধান সমস্যার উত্থাপন করে। যখন একজন পাগল সম্পূর্ণ প্রকৃতিস্থ দেখায় তখনই তাকে মেরে সিধে করার[20] প্রকৃত সময়।

     এই অ-লেভিনাসীয় মুখের ওপর “Dr. Tarr and Prof. Fether” হ’ল প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের হেগেলীয় প্যারোডি এবং অগ্রগতির পুরাণাশ্রিত কাব্যতত্ত্ব। “Dr. Tarr and Prof. Fether”-এর গূঢ় সত্যটি এমন ফুকোডীয় নয় যে পাগল ও প্রকৃতিস্থরা অপরিহার্য শ্রেণীর নয়, আসলে তুমি যদি নাপাগল শ্রেণীর দর বাড়াতে চাও তবে পাগল শ্রেণীটাকে বলির পাঁঠা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এই পরজীবী সম্পর্ক নিঃসন্দেহে আনমিতলজির ভিত্তিস্বরূপ। পো-এর রহস্যময় উদ্ভাস হ’ল যে পাগলরাই যৌক্তিক শৃঙ্খলা, স্বাভাবিকতা, যুক্তিসঙ্গত কর্তৃত্ব এবং চিকিৎসাগত সহমর্মিতার নিখুঁত মূকাভিনেতা। তারা আমাদের বোঝাতে পেরেছে যে তারা পাগলদের বিদ্রোহ দমন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতা দখল করেছে। আমাদের বিক্ষোভ – আমরা মিথ্যাই পাগল নামে চিহ্নিত! – মেনে নিয়েছি কিন্তু প্রতিদানে নীরব হয়েছি। সেটাই আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতি। আমাদের রক্ষীরা সিধে হয়েছে, পরিবর্তে আমাদের করে তুলেছে “উদ্ভট”(তারই মধ্যে আমরা “জীবন উপভোগ করি” আর “খেয়ালখুশি চলি”)

     আমাদের সমাজ আদিম শিকারজীবীদের “নিখুঁত সেনাবাহিনীর” হাতে, এটা কোনো মস্তিষ্কবিকৃতি নয়, রূপকও নয়।

     হুইটম্যানের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতাগুলির অন্যতম আর সবচেয়ে ডিসটোপিয়ান কবিতা জানে এটা কীভাবে কাজ করে:

     সামনে যে দাঁড়িয়ে তাকে পিছনে যেতে দাও আর পিছনে যে আছে তাকে সামনে এগোতে দাও আর বলতে দাও;

     হত্যাকারী, চোর, গোঁড়া, বোকা ও নোংরা বন্দিদের নতুন প্রস্তাবনা দিতে দাও!…

     মুখ ও তত্ত্বগুলোকে উন্মুক্ত করতে দাও! মানেগুলোকে স্বাধীনভাবে অপরাধী হতে দাও, সেই সঙ্গে ফলাফল পেতে দাও।

     মার্কিন তত্ত্বকে ম্যানেজমেন্ট, জাত, তুলনার তত্ত্ব হতে দাও! (বলুন! আপনার অন্য কী তত্ত্ব আছে?)

    স্বাধীনতাকে প্রমাণ করতে দাও কোনো মানুষের অবিচ্ছেদ্য অধিকার নেই! যারা অত্যাচার করতে পারে তাদের সকলকেই আশ মিটিয়ে অত্যাচার করতে দাও![21]

      “Cock-a-doodle-de-dooooooh!”

XV.

       ঠিক এর পেছনেই আর একটা ট্রেন।

বি.দ্র ─ অনুবাদের এই অংশ প্রথম প্রকাশিত হয় দমদম জংশন পত্রিকায়, ২০১৯ উৎসব সংখ্যা, সম্পাদক বৈদ্যনাথ মিশ্র।

——————-

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show

অনুসৃজন প্রকল্প :

       এটি একটি ধারাবাহিক অনুসৃজন প্রকল্প। চার্লস বার্ন্সটাইনের “The Pataquerical Imagination: Midrashic Antinomianism and Promise of Bent Studies.” প্রবন্ধটির অনুসৃজন। এই দ্বিতীয় পর্বে পাঁচটি পরিচ্ছেদ অনুসৃজন করা হল। ইংরাজি সংস্করণ অংশুমালীর ইংরাজি সেকশানে। এই প্রবন্ধটি ২০১৬ সালে শিকাগো ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বার্ন্সটাইনের কাব্যতত্ত্বের বই Pitch of Poetry গ্রন্থটিতে সংকলিত হয়। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন এখানে >>>

পরবর্তী পর্ব এখানে>>>>


[1] উইলিয়াম ব্লেকের Songs of Experience থেকে নেওয়া কবিতা “The Human abstract”

[2] Bernstein, Charles. 2018. Near/Miss. Chicago: University of Chicago Press.“In Utopia” was first published in the Occupy Wall Street Poetry Anthology (New York: Occupy Wall Street Library, 2011).

[3] TAZ: The Temporary Autonomous Zone, Ontological Anarchy, Poetic Terrorism by Hakim Bay.

[4] আনমিতলজি – আনমিত+লজি – Bent Studies

[5] Antinomianism- Etymology < Greek ἀντί against + νόμος law, an ism to believe that they are not bound by moral law, instead they require to break a moral (or religious or Biblical)law.

[6] Animalady might be defined, provisionally, as the human malady of being and resisting being animal. See “Close Listening” in My Way: Speeches and Poems.

[7] Pharmakon – Greek word for any drug. Drugs are considered to be such things as stimulants, narcotics, and hallucinogens, and often are used in the medical field to treat or cure disease. Medicine, however, is a term for a drug when that drug is used to cure, mitigate, treat, or prevent a disease, i.e. all medicines are drug  but not all drugs are medicine.

[8] Ralph Waldo Emerson, “Self-Reliance,” www.rwe.org/complete-works/ii-essays-i/ii-self-reliance.html.

[9] This double sense of drug is vernacular: the scourge of drugs versus miracle drugs. Pharmakós, as Derrida explains in his detailed account, is the ancient Greek rite of antiabsorption in which the pharmakeus(sorcerer, magician, poisoner, healer, druggist, sophist) casts out the pharmakoi (denigrated, scapegoat, exiled, ostracized). See Jacques Derrida, Dissemination, trans. Barbara Johnson(Chicago: University of Chicago Press, 1981), xxv, 70–75, 82, 97, 119

[10] Textual transcription of William Blake, “The Human Abstract,” from Songs of Innocence and Experience (1794),44; from the collection of the Yale Center for British Arts, reproduced in The William Blake Archive, ed. Morris Eaves, Robert N. Essick, and Joseph Viscomi (2008): <www.blakearchive.org/exist/blake/archive/object.xq?objectid=songsie.l.illbk.44&java=no>

[11] See Marc Shell, “Marranos (Pigs), or From Coexistence to Toleration,” Critical Inquiry 17 (Winter 1991).

[12]Benjamin, “Über den Begriff der Geschichte” (On the concept of history), cited above:“ Esistniemalsein Dokument der Kultur, ohne zugleich ein solches der Barbarei zu sein.”

[13] Human, All Too Human: A Book for Free Spirits is a book by 19th-century philosopher Friedrich Nietzsche,

[14] Burroughs develops this idea in The Ticket That Exploded (1957–61): “From symbiosis to parasitism is a short step. The word is now a virus. The flu virus may once have been a healthy lung cell. It is now a parasitic organism that invades and damages the lungs. The word may once have been a healthy neural cell. It is now a parasitic organism that invades and damages the central nervous system. Modern man has lost the option of silence. Try halting your sub-vocal speech. Try to achieve even ten seconds of inner silence. You will encounter a resisting organism that forces you to talk. That organism is the word.” Word Virus: The William S. Burroughs Reader, ed. James Grauerholz and Ira Silverberg (New York: Grove, 1998), 208.

[15] Poems of Emily Dickinson, no. 501, 2:384–85

[16] Nepohumanism (also called necrohumanism and hypohumanism) universalizes one’s immediate preferences while stigmatizing as barbaric those that are not immediately intelligible.

[17] Quotations from the 1844 manuscript: www.eapoe.org/works/info/pt053.htm

[18] “Cock a doodle doo” is a popular English language nursery rhyme. Lyrics:  Cock a doodle do!/My dame will dance with you,/While master fiddles his fiddling stick,/And knows not what to do

[19] The figure was first published in Fliegende Blatter, October 23, 1892, 147) and formed the basis for Joseph Jastrow’s 1899 study, which in turn became the basis for Wittgenstein’s discussion of the ambiguous (“or reversible, or bistable”) figure in Philosophical Investigations. See John F. Kihlstrom, “Joseph Jastrow and His Duck—Or Is It a Rabbit?” (2004), socrates.berkeley.edu/~kihlstrm/JastrowDuck.htm.

[20] straight [sic] jacket – Poe used the word straight jacket in his story. So,  Bernstein quoted with [sic]. The nearest translation of straight jacket ideom in Bengali ─ “মেরে সিধে করা”

[21] Whitman, “Respondez!”: 1867 version of “Poem of the Propositions of Nakedness” in the 1856 Leaves of Grass, www.whitmanarchive.org/published/LG/1867/poems/126. See Vaclav Paris’s essay on this poem in Arizona Quarterly Review 69, no. 3 (Autumn 2013).

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show

পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন এখানে >>>

পরবর্তী পর্ব এখানে>>>>

রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি, লেখক ও অনুবাদক।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

ভূমিকাঃ কোভিড-১৯ বিশ্ববাসীকে নানান অভিজ্ঞতায় প্লাবিত করেছে। কেউ নিজে আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীহারিয়েছেন।…..