প্যাটাক্যুয়রিক্যাল নাইটশোয়ে আপনাকে স্বাগতম (৪র্থ পর্ব)

রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়
অনুবাদ, ধারাবাহিক, প্রবন্ধ, রিভিউ
Bengali
প্যাটাক্যুয়রিক্যাল নাইটশোয়ে আপনাকে স্বাগতম (৪র্থ পর্ব)

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show (Episode-4)

পরবর্তী পর্ব পড়ুন এখানে>>>>

পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন এখানে>>>>

     আবার শুরু হ’ল প্যাটাক্যুয়রিক্যাল নাইটশো। প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগত জানাই এই সংলাপধর্মী গীতিকাসরে। আসুন দেখে নিই কোন নাটকটি এবার অভিনীত হতে চলেছে। কিন্তু নাটকটা যে কী, তা কি আমরা দেখতে পাই কোনও একক মুহূর্তে? বরং হঠাৎই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যদি ক্রমান্বয়ে দেখি; যদি প্রতিটি পর্বে দুলে উঠতে পারি তার দ্বান্দ্বিক দোদুল্যমানতায়। মনে কি পড়ে সেই অস্ট্রিয়ান দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের duck/rabbit চিত্রটি? আমাদের দৃষ্টিকোণের অন্ধত্ব হয়তো একটা সূত্র দিতে পারে একে অন্যভাবে দেখতে। তাই আসুন পাঠক, দেখি এই ধারাবাহিক গীতিকার চতুর্থ পর্বটি কোন সংগীতে অনুরণিত হয়ে উঠল।

আপনার জন্য এই পর্বে রইল চারটি বিস্ফোরণ :

১। আমি বিশেষ, তুমি কে?(I’m special, who are you?)
২। নিবিষ্টতা এক অদ্ভুত জিনিস (Absorption’s a queer thing)
৩। বাতিলকরণ বাতিল (Debunking debunking)
৪। অপ্রত্যাশিত চিহ্ন(Stray marks)

১। আমি বিশেষ, তুমি কে?

        কী এই বিশেষ? সাধারণের সম্প্রসারণে অসাধারণ বা বিশেষ হয়ে ওঠা, যে ‘বিশেষ’ এক স্বতন্ত্রতার কথা বলে। স্পেনীয় ভাষায় exquisito শব্দটির একটি ইতিবাচক অর্থ আছে যার মান অসাধারণ এবং পরিশীলিত ও স্বাদু। কিন্তু প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কবি বেছে নেন পর্তুগিজ ভাষায় esquisito শব্দের নেতিবাচক অর্থ যেখানে সে অচেনা, অদ্ভুত, বিদঘুটে, উদ্ভট কারণ তিনি মনে করেন নেতিবাচক এক অদ্ভুত উপায়ে ইতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। এ সেই উপায় যেখানে কবিতা কোনো বিক্রয়যোগ্য সামগ্রি নয়, বরং বিনিময়যোগ্য। কবিতার মান ডলারের প্রচলিত ভ্যালু দিয়ে বিচারযোগ্য নয়, বরং এক বিশেষ ভ্যালু যেমন বার্ন্সটাইন ১৯৮৪ সালে L=A=N=G=U=A=G=E পত্রিকায় লিখেছিলেন তাঁর প্রবন্ধ “The Dollar Value of Poetry”:

এক অভিজ্ঞতা (পঠনে প্রকাশিত) যা পণ্যদ্রব্য নয়, যার মূল্য ডলারের মূল্য দিয়ে বিচারযোগ্য নয় (আর তাই হস্তান্তরযোগ্য ও প্রভাবশালী) বরং বাজারমূল্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো মূল্য নেই (একরকমের নেতিবাচকতা যা শ্রবণাতীত ও অদৃশ্য)─ সেই অবশেষ যার সাধারণীকরণ হয় না, বরং যা প্রতিটি নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশিষ্ট হয়ে ওঠে।[1]

         বাস্তবতার এই অদ্ভুত অনুসন্ধান বার্ন্সটাইনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যায় ভাষার পূর্বনির্দিষ্ট এবং প্রচলিত আদর্শ ও মান নির্ধারণের বিরুদ্ধে এক দ্বান্দ্বিক সংগ্রামের পথে আর তাই অনুসন্ধান করেন সেই ‘অপর’─ অপর অভি্মুখ, অপর অভিব্যক্তি, অন্য মূল্য যার গভীরে আছে ডলার মূল্যে স্বাক্ষরিত ধনতান্ত্রিক সমাজের শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার প্রতিবাদে বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদের ইঙ্গিত, কারণ পরস্পরবিরোধী ভাবনাগুলোই গঠন করে নতুন চিন্তাধারা যাকে হেগেলের ভাষায় বলা যায় থিসিস, অ্যান্টিথিসিস ও সিন্থেসিস, যেখানে ন-করণ অন্‌-কারী সদর্থকতা, যেখানে ভাব নয়, বস্তুই হ’ল মূল শক্তি এবং এই বস্তুগত সংঘাত, শোষিত ও শোষকের মধ্যে অনিবার্য দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভুত নতুন সমাজ ও নতুন উৎপাদন সামাজিক ইতিহাসের চলমানতা বজায় রাখে যতক্ষণ না শোষণহীন সাম্যবাদী সমাজ গড়ে ওঠে। বার্ন্সটাইন আর এক ধরণের বিরুদ্ধ প্যাটাক্যুয়রিক্যালিস্টের হদিশ দেন, যাঁদের কাছে কলঙ্ক হ’ল সম্মানের তকমা, অহংকারের জন্য যদি নাও হয়, তবে প্রকাশ্য বিরোধীতার জন্য।

২। নিবিষ্টতা এক অদ্ভুত জিনিস

       গোল বেঁধেছে ভিটগেনস্টাইনের ‘queer’ শব্দের সেক্সুয়াল ও টেক্সুয়াল অর্থ নিয়ে, যে শব্দ pataquerics-এর অন্তর্গঠনে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (pataphysics + que(e)r + query = pataquery)। কিন্তু বার্ন্সটাইন যৌন অভিমুখিতার প্রচলিত সংজ্ঞার সাথে সম্পর্ক নাকচ করে দেন, বরং এর সম্পর্ক তৈরি করে “একধরণের নান্দনিক ধাক্কা বা শক দেওয়ার চিকিৎসা কিংবা বলা যায় নেশাগ্রস্ত করার পদ্ধতি যা শব্দময়তার অদ্ভুত তাৎক্ষণিকতাকে রূপান্তরিত করে ব্যারাম থেকে বিরামে, অ-সুর থেকে সুরে”[2]

      কবিতার নির্মাণ বা গঠনতন্ত্র ভাষারই গঠনতন্ত্র। যেখানে কাঠামো তৈরি বা রূপনির্মাণ একটি ক্রিয়াবিশেষ, যা একধরণের স্কিট্‌সোফ্রিনিয়াজাত প্রবাহের জন্য গতিপথ নির্মাণ ক’রে, যেখানে তার ভাষার তীব্রতার মধ্য দিয়ে অনুভূত হয় এক অতীন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা। আর সেই ভাষার বাহন তার শব্দ। অথচ শব্দের অর্থ Alice in Wonderland এর মতো বলতে চায়─ “আমি যখন কোনও শব্দ ব্যবহার করি তখন আমি তার যে অর্থ বেছে নি্যেছি সেটাই তার অর্থ – তার বেশিও নয় কমও নয়”।[3] শব্দের কোনো একক অর্থ নেই। সমস্ত শব্দই বহুস্তরীয় ও ডাইনামিক এবং অসংখ্য অর্থের সম্ভাবনাপূর্ণ যেমন বলেছিলেন অতিচেতনার প্রবর্তক আমাদের সেই বারীন ঘোষাল, যা বাংলা কবিতার জগতে নিয়ে এসেছিল “নতুন কবিতা” নামে এক নতুন কাব্যধারা। বাস্তবের প্রকাশ ও প্রচলিত ভাষার মধ্যে থাকে সেই ব্যবধান যাকে ভিটগেনস্টাইন বলেছিলেন ভাষার বাধা─ “আমার ভাষার সীমাই আমার বিশ্বের সীমা”।[4] পাঠকের সাথে যোগাযোগের যে সেতু সেই ভাষাই হয়ে উঠে কবির প্রধান বাধা। এখান থেকেই শুরু হয় একজন প্রকৃত কবির নতুন ভাষার সন্ধান। কবি হাতড়ে ফেরেন শব্দের উৎস, আনকোরা শব্দব্রহ্ম─ ওঁ─ সেই শব্দব্রহ্ম যার মন্ত্র শুনি আমাদের কঠোপনিষদে─ এতদ্ধ্যেবাক্ষরং ব্রহ্ম এতদ্ধ্যেবাক্ষরং পরম্‌, এই অক্ষরই সেই ব্রহ্ম, এই অক্ষরই সেই অবিনশ্বর পরমব্রহ্ম, যার ক্ষরণ নেই, নিত্য ও অনশ্বর; যারা মানুষের জ্ঞানকে বহন করে নিয়ে চলে। অসীম অনির্ণেয় জগতের নাগাল পেতে চায় সীমায়িত অক্ষরমালা। যাপনের উন্মাদনাকে বাঙময় করে অক্ষরমালায় গঠিত শব্দ, ঘটনার সংবাদ দেওয়াই যার ধর্ম। সেই শব্দবন্ধনে রচিত কবিতা এক সেন্সেশন মাত্র, জীবনের চলপথের মুহূর্তের অভিজ্ঞতাজাত।

         কবিতার ধ্বনিগত ও গঠনগত উপাদানের বৈশিষ্ট্যগুলোই তার শব্দগত ভাষার ভিত্তি রচনা করে, যেখানে কবিতা কোনো বার্তা পৌঁছোয় না বরং ভাষার নিজেরই মিডিয়ামের সঙ্গে নিজেকে নিযুক্ত করে, যাকে ভিটগেনস্টাইন তাঁর Philosophical investigations[5] বইটিতে বলেছিলেন তাকিয়ে দেখার এক ক্রিয়াবিশেষ যা আমাদের চেতনার ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। The Grand Design[6] বইটির অনুসরণে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংএর ভাষায় বলা যায় আমাদের উপলব্ধি সরাসরি নয় বরং একধরণের লেন্সের মাধ্যমে, যা আমাদের মস্তিষ্কের অর্থ উৎপাদনের গঠন দিয়ে নিরূপিত হয়, যা ভিটগেনস্টাইনের ভাষায় হয়ে ওঠে “মানসিক প্রতিচ্ছবি”─ একটি অর্থের অভিজ্ঞতা এবং একটি মানসিক চিত্রের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। কোনও শব্দ উচ্চারিত হ’লে আমরা তার মানসিক ছবি দেখি, জড়িয়ে পড়ি বর্ণনায়। কিন্তু কবিতায় শব্দ ব্যবহার শুধু সংযোগ রক্ষার জন্য─ কোনো ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং এক সংকেত। সেই ছবি আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ী হয়, কিন্তু শব্দের অর্থ হঠাৎই প্রতীয়মান হয়, বিদ্যুৎচমকের মতো, এক স্পার্ক (SPARK-Spontaneous Power Activated Resonance Kinetics- বারীন ঘোষালের কয়েনেজ), আমাদের মনে এক আকস্মিক অনুরণন তোলে, যার স্থায়িত্ব কয়েক মুহূর্ত মাত্র─ “অর্থ যদি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় তবে এখন তাকে আমরা জানতে পারি আর এই জানার শুরু হয় যে মুহূর্তে সেই দর্শন ঘটমান হয়ে ওঠে”। সেই সেন্সেশনের সংকেতচিহ্নটিকে প্রাণবন্ত করতে কবি ভাষার সাথে খেলতে নামেন, যাকে ভিটগেনস্টাইন বলেছিলেন ‘language-game’─ “ভাষার কথন জীবনের রূপ বা ক্রিয়ার একটি অংশবিশেষ। আপন সত্তায় একটি চিহ্ন মৃত, ব্যবহারেই সে জীবন পায়”। অভিধানে বেঁধে দেওয়া শব্দের নির্দিষ্ট অর্থটি মৃত, যার প্রাণসঞ্চার হয় কবির মনোভূমিতে; উদ্ঘাটিত হয় তার অন্তর্গত সত্য। সম্ভাবনার চেনা কাঠামোগুলো ভেঙে নতুন সম্ভাবনার কথা বলেন বার্ন্সটাইন। যুক্তির শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা ভেঙে একরৈখিক সীমালঙ্ঘন ক’রে এক নতুনতর অর্থময়তার সীমানায় পা রাখেন কবি। কবিতার ভাষা যখন অপরিচিত হয়ে ওঠে তখন তার অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ তৈরি করে কবিতার ছন্দ ও রিদ্‌মের রহস্য। বার্ন্সটাইনের pataquerics তাই ‘absorbtion’-এর উল্টোপিঠে ‘impermeability’ এবং ‘antiabsorption’ সূত্র─ “মহত্তম আমাদের মগ্ন করে কিন্তু অদ্ভুত আমাদের অনাবিষ্ট করে; প্যাটাক্যুয়রিক্যাল হ’ল সমন্বয়ী অতিমগ্নতা (নিবিষ্টতা ও অভেদ্যতার মধ্যে দোদুল্যমান)” যেমন বলছেন বার্ন্সটাইন তাঁর Pitch of Poetry গ্রন্থটিতে।

৩। বাতিলকরণ বাতিল

       কী এই ব্যালাডের সুর? কীসের খোঁজে আছেন সুরকার ? এটা কি কবির স্ববিরোধী কোনো প্যারাডক্স?─ যা করছেন না বলছে্ন সেটাই করছেন। বার্ন্সটাইন বলছেন বাতিলকরণকেই বাতিল করো, প্রশ্নবিদ্ধ করো প্রশ্নকে, সন্দেহপোষণ করো সন্দেহকে। ভিটগেনস্টাইনের “আপাতসত্য” “একটি শব্দের ব্যবহার ও অর্থকে ব্যাখ্যা করে যখন ভাষায় শব্দটির সামগ্রিক ভূমিকা স্বচ্ছ হয়ে ওঠে”। কিন্তু প্যাটাক্যুয়রিক্স এই স্বচ্ছতার উল্টোপথে হাঁটে অর্থাৎ শব্দের অর্থ যখন আমাদের বোধের দরবারে ধরা দিয়েছে─ যাকে বলা যায় absorption, তখন তাকে বর্জন করে antiabsorption-এর কথা বলে। প্রতিটি শব্দই বস্তু বা ভাবের প্রতীক আর প্রতীক হিসেবে শব্দ সেই বস্তু বা ভাবকে refer করে। তাই প্রতীকটি শব্দের অর্থ নয়। চিহ্ন ও অর্থ এক নয়। যেকোনো বাক্যের ভেতর শব্দের অর্থ প্রসঙ্গনির্ভর। ভিটগেনস্টাইনের duck/rabbit চিত্রকে বার্ন্সটাইন প্যাটাক্যুয়রিক্সের দৃষ্টান্তস্বরূপ বলছেন যেখানে ভিটগেনস্টাইন দৃষ্টিকোণের অন্ধত্ব বা “aspect blindness” বিষয়ে দিকনির্দেশ করেছেন। আমরা কোনও বস্তুকে তার নিজস্বতায় দেখি না, বরং রূপকাশ্রিত ফ্রেমে যেমন প্রতিভাত হয় তেমন দেখি যাকে বার্ন্সটাইন বলছেন “ফ্রেম-লকজনিত ব্যাধি”─ দৃষ্টিকোণের অন্ধত্বহেতু কবিতার একটিমাত্র ব্যাখ্যাতেই আটকে থাকি যা বাতিল করে দেয় অর্থের প্রসঙ্গনির্ভরতা। এই বাতিলকরণ বাতিল ক’রে বার্ন্সটাইন সেই উপলব্ধির দৃষ্টিকোণের কথা বলেন যেখানে অর্থের বিভিন্নতা অনুভূত হয়, যা অসীম সম্ভাবনার স্বীকৃতি ও সম্ভাব্য ‘অপর’-কে স্বীকার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা ভিটগেনস্টাইনের সেই “language-games”-এর কথা বলে─ “আমাদের এই স্বচ্ছ ও সরল ভাষাখেলাগুলো ভাষার আগামীদিনের নিয়মিতকরণের জন্য প্রস্তুতিমূলক শিক্ষাপদ্ধতি নয় যেমন প্রথম অনুমানে দেখায়, যা আসলে সংঘাত ও বায়ু-প্রতিরোধ উপেক্ষা করেছিল। ভাষাখেলাগুলো তুলনা করার বস্তু হিসাবে নির্মিত হয় যা কেবলমাত্র সাদৃশ্যই নয়, বরং বৈসাদৃশ্যগুলোও আমাদের ভাষার প্রকৃত অবস্থার ওপর আলোকপাত করে”।

৪। অপ্রত্যাশিত চিহ্ন

     এই অপ্রত্যাশিত শব্দটি কী বলতে চায়?─ পূর্বকল্পিত ধারণার মাঝে অপ্রত্যাশিত সংগীত শোনার কথা বলে? ডিকিনসনের কবিতার সাথে একটি অনির্দেশ্য সংযুক্তি─ কখন ও কোথায়─ ভাষার অনির্দিষ্টতা যেখানে বার্ন্সটাইন ভাষার নিজস্ব কাঠামো এবং তার ধ্বনিবিজ্ঞান ও শব্দার্থবিজ্ঞানের মধ্যে চিহ্নিত সীমানা তছনছ করতে চান। ডিকিনসনের কবিতা প্রকাশের কোনো ইতিহাস নেই। হলোগ্রাফিক সংস্করণের মাধ্যমে তাঁর কবিতা উদ্ধার করতে গিয়ে সরকারী সংস্করণগুলোতে “কখন/কোথায়” এসবের তারতম্য ঘটে যায়। ভাষাকবিতার কবি সুসান হোয়ে এগুলোকে “অপ্রত্যাশিত চিহ্ন” বলে প্যাটাক্যুয়রিক্যাল শব্দের স্বীকৃতি দিয়েছেন, কারণ এই আকস্মিকতা একটি বিষয়বস্তুর ওপর পূর্বনির্ধারিত ধারণা বা আইডিয়া এবং নির্দিষ্ট ফর্ম থেকে মুক্তির কথা বলে; অবস্থান ও বিশ্বাসের নির্দিষ্ট কুঠুরি থেকে বেরিয়ে অনির্দিষ্ট চলনপথের বাঁকে বাঁকে বাস্তবের যে রহস্য উঁকি দেয় তারই নতুন পর্যবেক্ষণের কথা বলে; পরিবর্তনশীল সমাজ সময় ও মূল্যবোধকে পরীক্ষা করার বিভিন্ন সম্ভাবনাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে। এই অপ্রত্যাশিত চিহ্নগুলোকে তাই ডিকিনসনের সেই “unsettling antinomian swerves” বলছেন বার্ন্সটাইন, যা প্রতিধ্বনিত করে তাঁর মিডরাশিক[7] নীতিশাস্ত্রবিরোধিতা[8]─ সেই বিশ্বাস যা নির্দিষ্ট অর্থের প্রচলিত আদর্শের দ্বারা আবদ্ধ নয়, বরং অর্থগুলো নিজেদের উন্মোচিত করে পাঠকের উপলব্ধি অনুযায়ী, যেখানে লুকিয়ে থাকে কবিতার অসীম সম্ভাবনা। যখন কোনো একক অর্থে পৌঁছোনো সম্ভব নয় তখন ল্যারি এইগনারকে প্রতিধ্বনি করে বার্ন্সটাইন বলছেন “refresh the eyes/ against the abyss”[9] যেখানে “refresh” মনের মধ্যে মিটিমিট করা এক আলো, চলচিত্রের চলমান ফ্রেমগুলোর মতো এক ধারাবাহিক বিশ্লেষণ, যা প্রচলিত প্রবণতার বিরুদ্ধে তৈরি করে সেই টানাপোড়েনের চিহ্ন; এক সময়গত স্পন্দন, যা প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কল্পনার মাধ্যমে শব্দকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে; চালিত করে সেই অপরিসীম বৈচিত্র্যের দিকে যেখানে প্রতিমুহূর্তে খুলে যায় অনন্ত সম্ভাবনার দিগন্ত।

————-Cock-a-doodle-de-dooooooh————–

@@@  শুরু করা যাক চার্লস বার্ন্সটাইনের ফ্যান্টাসির চতুর্থ পর্ব  @@@

প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কল্পনা : মিডরাশিক নীতিশাস্ত্রবিরোধিতা এবং আনমিতলজির[10] প্রতিশ্রুতি
The Pataquerical Imagination:
Midrashic Antinomianism[11] and the Promise of Bent Studies
১৪০টি বিস্ফোরণের এক ফ্যান্টাসি

XLVII. আমি বিশেষ, তুমি কে? (I’m special, who are you?)

     এ এক মজার ব্যাপার। পর্তুগিজ ভাষায় esquisito -এর সঙ্গে স্পেনীয় ভাষায় exquisito –এর সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে।[12]

    মজাটা উদ্ভট নাকি স্বতন্ত্র?

    প্যাটাক্যুয়রিক্যালেরা কলঙ্কিত পার্থক্যের দাগ। পার্থক্যের খাতিরে কলঙ্কিত হওয়া বা বলির পাঁঠা হওয়ার জন্য প্রথমে লক্ষিত হওয়া (বা উপস্থাপিত করা) প্রয়োজন যেভাবে কবিতায় ভাষা মনোযোগ আকর্ষণ করে (অন্তত কবিতা সংজ্ঞায়নের একরকম উপায়ে)।

      আমার প্যাটাক্যুয়রিক্যালের তালিকা নেতিবাচক। তবে সমস্ত নেতিবাচকেরই ইতিবাচক হয়ে ওঠার এক অদ্ভুত পন্থা আছে, বিশেষত যাদের পক্ষে এই কৌশলগত বিরুদ্ধতাগুলো বৃহত্তর স্বাধীনতার একটা জায়গা তৈরি করতে পারে, যেমন মিশেল দ্য সার্তু তাঁর Ars de Faire (প্রাত্যহিক জীবনের করণীয় বা অনুশীলনের শিল্প) গ্রন্থে আলোচনা করেছেন। বিরুদ্ধ প্যাটাক্যুয়রিক্যালেরা কলঙ্কিতের চেয়ে বরং সম্মানীয় সেইসবের জন্য যারা উদ্ভাবক, বিদ্রোহী, অসাধারণ, ব্যতিক্রমী, কালাপাহাড়, প্রতিভাধর শব্দগুলোর সারিভুক্ত নয় বা মাপসই নয়; কিংবা মিঃ রজার্স সাধারণত্বের যে আদর্শ তৈরি করেছেন,─ বিশেষ-কে যদি আমরা স্বতন্ত্র বলে মনে করি তবে তা সার্তুয়ান বা ব্লেকিয়ান প্যাঁচের বাইরে নয়।[13] আর এক ধরণের বিরুদ্ধ প্যাটাক্যুয়রিক্যাল আছে, যাঁরা কলঙ্ককে কেবল একটা সম্মানের তকমা হিসাবে গ্রহণ করেন, অহংকারের জন্য যদি নাও হয়, তবে প্রকাশ্য বিরোধীতার জন্য (যখন প্যাটাক্যুয়রিক্যাল সাহিত্য পদবাচ্য হল উদ্ভটের পাশাপাশি)।

    একের কাছে যা হোঁচট খাওয়া বেখাপ্পা তোতলামি, অন্যের কাছে সেটাই ঐশ্বরিক বাগ্মিতা।

    যদিও বারংবার কলঙ্ককরণের প্রতিক্রিয়া তাকে আভ্যন্তরীণ করে তোলে, যাকে স্যান্ডার গিলম্যান তাঁর Jewish Self-Hatred গ্রন্থে বলেছিলেন, আত্মবিদ্বেষ হ’ল নিজেকে বলির পাঁঠা করে তোলা।[14]

    আবার মার্কিন পন্থা হ’ল আত্মিকরণ : যদি আপনার নাক কাউকে ক্ষুব্ধ করে, তবে তা সারাই করুন (“ছেঁটে ফেলুন” বলা এড়িয়ে যাচ্ছি কারণ আমি কোনও অমার্জিত খোজাকরণ ফ্যান্টাসিতে নামতে চাই না)।

  এইসব খোঁজগুলোতে আমি নান্দনিক বৈষম্যের চেয়ে লিঙ্গবৈষম্য বিষয়ে কম আগ্রহী এবং বিশেষত, কবিতার মতো এক নান্দনিক ক্ষেত্রে লিঙ্গগত ও সমাজ-সংস্কৃতির বৈষম্যগুলো যেভাবে প্রতীকী বা রূপকভাবে বর্ণিত হচ্ছে।

L.

অসাধারণ কখনই সাধারণের সম্প্রসারণ ব্যতীত বেশি কিছু নয়।

LVIII. নিবিষ্টতা এক অদ্ভুত জিনিস (Absorption’s a queer thing)

      লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন যিনি প্রচলিত, সাধারণ, স্বাভাবিক ভাষার দার্শনিক, আমার মতন একজন প্যাটাক্যুয়রিক্যাল কবির কাছে কীকরে এতটা মৌলিক হলেন সেটাই মজার বিষয়। ভিটগেনস্টাইন সেই মুহুর্তগুলোর সম্পর্কে তীব্রভাবে সচেতন ছিলেন যে, সাধারণ ভাষা ব্যর্থ হয় বলে মনে হয় যখন সে সাধারণের সঙ্গে সম্পর্ক হারায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যখন একটা শৈল্পিক শব্দ (অর্থাৎ যে শব্দটা ব্যবহার করা হল) বিমূর্তভাবে অধিবিদ্যামূলক হয়ে ওঠে কিংবা যখন আমরা শব্দের সাথে সাথে আমাদের পথ হারাই, বিচ্ছিন্ন বা সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠি। ভিটগেনস্টাইন সেই পথ অনুসরণ করেন যেখানে শব্দ ও অভিব্যক্তি বিশেষত্বহীন থেকে উদ্ভটের দিকে যায়, চেনা হয়ে ওঠে অচেনা।

     আমি ভালোবাসি অর্থের টানাপোড়েন করা রিদ্‌ম যা লাফিয়ে চলা রেকর্ডে্র পিনের মতো─ “এখন/ এখন না/ আর এখন/ এখন।

    কী দারুণ বেখাপ্পা।

       ভিটগেনস্টাইনের দর্শনের রীতি সংলাপাত্মক; দৈনন্দিন জীবনের ধারাবাহিকতায় অনুভূত সমস্যাগুলোর প্রতিক্রিয়ায় দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপিত করা। দর্শনের শর্তাবলী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের অর্থ পরিগ্রহ করে। ভিটগেনস্টাইন সেই ওস্তাদি বিমূর্ততা বা একক যোজ্যতার কৌশলে নিযুক্ত দর্শন সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। দর্শন যখন পারিভাষিকভাবে শব্দকে যথার্থ হয়ে ওঠার তাগিদ দেয়, তখন অদ্ভুত কিছু ঘটে যায়। শব্দগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইরে পড়ে যায়, বিশিষ্ট হয়ে ওঠে। ভাষা যখন অপরিচিত হয়ে ওঠে তখন কবিতাতে ঠিক এমনি বিপরীত অভিমুখ লক্ষ্য করা যায়। কবিতায় এই অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ (নিবিষ্টতাবিমুখ) হ’ল ছন্দ ও রিদ্‌মের রহস্য এবং প্রকৃতপক্ষে শিল্পের সাংগীতিক ঝংকার (বা একধরণের নান্দনিক ধাক্কা বা নেশাগ্রস্ত ক’রে তোলার পদ্ধতি?)। শব্দের অদ্ভুত তাৎক্ষণিকতাকে অ-সুর থেকে সুরে পৌঁছে দেওয়াই কবিতার যাদু।

     ভিটগেনস্টাইনের সময়ে, queer বলতে হয়তো gay বোঝানো হ’ত, কিন্তু এটা সুনিশ্চিত যে লোকসমাজে প্রচলিত তাঁর সমকামীতার সূত্রনির্দেশ করার কোনো অভিপ্রায় তাঁর ছিল না।[15]  Philosophical Investigations –এর প্রথম ইংরেজি সংস্করণে এলিজাবেথ অ্যান্সকোম্ব Merkwürdig ও seltsam দুটো শব্দরই অনুবাদ করেছিলেন queer কিন্তু ওই জার্মান শব্দ দুটোর কোনটাই সমকামীতা বোঝায় না।

      এটাই অদ্ভুত।

      Philosophical Investigations –এর চতুর্থ সংস্করণে নতুন সম্পাদক তাঁদের অনুবাদে queer শব্দটি বাদ দেন।[16] এটা অদ্ভুত কারণ ভিটগেনস্টাইন তাঁর কেমব্রিজের সহযোগীদের কাছে যে চিঠি লিখছিলেন তাতে প্রায় কুড়িবার queer শব্দটি ব্যবহার করেছেন যা অ্যান্সকোম্বের অনুবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও তাঁর চিঠিতে তাঁর অদ্ভুত অনুভবের কথাও বলেছেন :

আমার মাঝে মাঝে মানসিক অস্থিরতার অদ্ভুত অবস্থা হয় যার সম্পর্কে এটাই বলতে পারি যে তারা দীর্ঘস্থায়ী হলে নষ্ট হয়ে যায়… আমার অদ্ভুত লাগছে, যার একটা কারণ হ’ল আমার রাতগুলো ভা্লো যায় না, কিন্তু সেখানে অন্যান্য কারণও আছে।… এ এক অদ্ভুত চিঠি, তবে এর লেখকের থেকে অদ্ভুততর নয়।[17]

      জার্মান ভাষায় schwul ব্যবহৃত হয় gay বোঝাতে, কিন্তু এটা কখনই বর্তমানে ব্যবহৃত queer শব্দের মতো নয়। ভিটগেনস্টাইনের সময়ে আপনি হয়তো এইধরণের pataque(e)ricals শুনে থাকবেন─ widernatürlich বা unnatürlich (প্রকৃতিবিরুদ্ধ বা অপ্রাকৃতিক), অস্বাভাবিক, krankhaft(অসুস্থ), এমনও মনে হয় যে ungewöhnlich শব্দটি অ-সাধারণ/সংগতিহীন-এর কাছাকাছি।[18]

       ভিটগেনস্টাইন তাঁর Investigations –এ একবারই মাত্র ungewöhnlich শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যেখানে তিনি এমন এক ungewöhnlich আলোকসজ্জার কথা বলেছেন যা চেনাকে অচেনা করে তোলে(§41)। অপ্রাসঙ্গিক শব্দকে চিহ্নিত করতে তিনি একবার unnatürlich ব্যবহার করেন(§595)। (Widernatürlich শব্দটি Investigations –এ নেই)।

     (কিছু লোক যেমন I Ching গ্রন্থ পড়ে আমি সেভাবেই Investigations পড়ি : অমোঘ ভবিষ্যবাণীর মতো)

     Merkwürdig এর অর্থ হ’ল সেই লক্ষ্যণীয়কে আমাদের নজরে নিয়ে আসা, যা অদ্ভুত, কৌতূহলোদ্দীপক, বেখাপ্পা, বিদঘুটে বা অসম্ভব। Seltsam হ’ল সাধারণত Merkwürdig-এর সমার্থক শব্দ, যা বিরল, অবর্ণনীয় বা অবোধ্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; এতটাই বেমানান, কিম্ভূত, মজাদার, পরিবর্তিত, অপ্রত্যাশিত, বিস্ময়কর যে তাকে তৎক্ষণাৎ নির্ণয় করা যায় না।

৯৪. “প্রস্তাবনা একটি অদ্ভুত ব্যাপার!” [Der Satz, ein merkwürdiges Ding!] আমাদের মূলেই আছে যুক্তির পুরো ব্যাপারটিকে মহান করে তোলা, প্রস্তাবিত লক্ষণ আর তথ্যগুলোর মধ্যে এক শুদ্ধ মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ধারণা করার প্রবণতা, এমনকি তাদের লক্ষণগুলো শুদ্ধ ও সূক্ষ্ম করে তোলার চেষ্টা করা। অভিব্যক্তি গঠনের জন্য আমাদের সবরকমের বাধা দেয় এটা দেখতে, যে অসার কল্পনায় প্ররোচিত করার মধ্যে অসাধারণ কিছু জড়িত নেই।(§94, অ্যান্সকোম্বের অনুবাদ)

       বাক্য এক অদ্ভুত জিনিস![19] আমরা যখন ভাষাকে “আসল শব্দগুচ্ছ”[20] হিসাবে দেখি, তখন উইলিয়ামসকে অনুসরণ করে বলা যায় যে এ এক অদ্ভুত জিনিস─ বাক্য যেখানে স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, অর্থাৎ তা আমাদের বোধের দরবারে ধরা দিয়েছে (নিবিষ্ট করছে) তখন তাকে বর্জন করাটা অদ্ভুত। ভাষা আমাদের বোধকে প্রভাবিত করা সত্ত্বেও এই জাতীয় নিবিষ্টতা বা তাৎক্ষণিকতা ঘটে: আমাদের চশমার লেন্সগুলো আমরা লক্ষ্য করি না যতক্ষণ না তা ঘষে যায় বা তার ওপর ungewöhnlich(অ-সাধারণ) আলোকপাত ঘটে। কবিতায় এই অবোধ্যতা (সংযোগের ব্যর্থতা) ছন্দবদ্ধভাবে তীব্রতার মুহূর্তগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে, যা শেষপর্যন্ত পুনরায় বোধ্য হয়ে ওঠে।[21] অন্যভাবে বলতে গেলে নিবিষ্টতার আকাঙ্ক্ষা হ’ল অতিক্রম করা বা প্রতিরোধ করার আকাঙ্ক্ষা, যাকে বলা যায় অ্যানিম্যালাডি(বিচ্ছিন্নতাবোধ বা উদাসীনতা, প্রতিকারহীনতা)।

      ভিটগেনস্টাইন অ্যান্সকোম্বের অনুবাদকৃত দুটো শব্দের একটাকে ব্যবহার করেছেন সেইসব পরিস্থিতিতে যেখানে কোনও জিনিসের ওপর শব্দের স্থির চিত্রাঙ্কণ করার প্রস্তাব/নামকরণের প্রতিরোধ থাকে, সেই নামকরণ আর যার নামকরণ করা হ’ল তাদের ভেতর টানাপোড়েনের মুহূর্তগুলোতে। আমাদের ভাষাকে আমাদের আদর্শ বলে তার প্রকৃতিকে যখন “মহান” করে তুলি, তখন আমরা মনে করি, এই যে পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে আমাদের বাসস্থান তার বিশেষ্যগুলো পর্যাপ্ত প্রতীক। যখন এই বিশ্ব ও তার সংজ্ঞার মধ্যে থাকা বিস্ফোরণগুলো মহান বা আদর্শায়িত করতে যাই তখন নামকরণ হয়ে ওঠে একরকমের দাগ। যখন তাদের উদ্ভটের মাত্রায় দেখা যায়, তখন ভিটগেনস্টাইনের মন্তব্য নামকরণের আক্রমণ ও কলঙ্কের সঙ্গে তার সংযোগ সম্পর্কে এক রহস্যময় দিকনির্দেশনা দেয়।[22] এই ব্যক্তি, যিনি আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আপনি স্বয়ং─ কখনও এক জিনিস নয়। কিন্তু কিছু লোক এবং কখনোসখনো আমরা সকলেই একটা ফ্রেমে আটকে পড়ি এবং “this”-কেই একমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে করি─ সৃষ্টি হয় যাকে ভিটগেনস্টাইন দৃষ্টিভঙ্গির অন্ধতা(Aspektblinde) বলেছিলেন। যখন একটা দৃষ্টিভঙ্গি কলঙ্কচিহ্নিত হয়ে পড়ে তখন তাকে দাগমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভিটগেনস্টাইন কল্পনা করতেন তাকে বর্ণান্ধতার সঙ্গে তুলনা করা যায় কিনা, যা কখনোসখনো নান্দনিক অন্ধত্ব বলে প্রদর্শিত হয়, যেখানে রচনাকে কলঙ্কচিহ্নিত করা হয় কারণ তার পাঠক, দর্শক বা সমালোচক সেখানেই লটকে থাকেন।[23]

LIX.

      এই যুক্তিটি কেবলমাত্র সিম্যুলেশন প্রদর্শনের জন্য। আসল যুক্তিগুলো ভিন্ন হতে পারে। এই সিম্যুলেশনে আপনি সওয়ারি হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

LXI. বাতিলকরণ বাতিল (Debunking debunking)

       ভিটগেনস্টাইন কথিত সেই “আপাতসত্যের সংজ্ঞা”, যার বিমুখে অবস্থান করে প্যাটাক্যুয়রিক্যালেরা : নাম ও বস্তু এবং তাদের অর্থ ও লক্ষ্যগুলোর মধ্যে স্পষ্ট ও স্থির সংযোগরেখা টেনে কোনও বিষয়ের দিকনির্দেশ করে বলি “this”[24](শুধু এই আর কিছু নয়)। এ এক অদ্ভুত জিনিস যখন কোনও এক চিত্রকে একটা প্রসঙ্গে একভাবে দেখা এবং অন্য প্রসঙ্গে অন্যভাবে দেখা।

     “duck/rabbit” হ’ল প্যাটাক্যুয়রিক্যালের এক নিদর্শণমূলক চিত্র কারণ এটা আমাদের চোখে দেখার চেয়ে অধিকতর : আমাদের “দৃষ্টিকোণের অন্ধত্ব” একটা সূত্র দিতে পারে একে অন্যভাবে দেখতে। এটা কী, তা আমরা কখনই দেখতে পাই না কোনও একক মুহূর্তে। বরং আমরা উপলব্ধি করতে পারি অকস্মাৎ, যদি ক্রমান্বয়ে দেখি (দ্বান্দ্বিক দোদুল্যমানতায়)।

     ভিটগেনস্টাইন “নিখুঁত মাত্রা”[25] না থাকার সঙ্গে তুলনা করেন প্রাসঙ্গিক সূত্র ছাড়াই কোনও জিনিস দেখার অক্ষমতাকে। আমরা কোনও বস্তুকে তার নিজস্বতায় দেখি না, বরং রূপকাশ্রিত ফ্রেমে যেমন প্রতিভাত হয় তেমন দেখি। এ হ’ল আমাদের ফ্রেম-লকজনিত ব্যাধি বা অ্যানিম্যালাডি। দৃষ্টিকোণের অন্ধত্ব হ’ল কোনও একটি চিত্র (বা কবিতার) একটি পাঠ বা ব্যাখ্যার সঙ্গে লটকে থাকা, অর্থ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রসঙ্গের(এবং সম্ভাব্য অমেয় অর্থ প্রতিষ্ঠা জন্য ভিন্ন ফ্রেমের)প্রয়োজনীয়তাকে দাবিয়ে রাখা। এই দৃষ্টিভঙ্গি কখনও কখনও আপেক্ষিকতাবাদ বা কবিতার নিরিখে চরম নেতিবাদ বা অর্থ ও আবেগ বিমুখ অপবাদে চিহ্নিত হয়েছে। ভিটগেনস্টাইন ইঙ্গিত দেন যে এটা অর্থের প্রাসঙ্গিক নির্ভরতার সমস্যা নয়, বরং ভাষার এক সাধারণ বৈশিষ্ট্যকে দাগানো ( লটকে থাকা )।

কোনও শব্দের ব্যবহার বুঝতে আমাদের ব্যর্থতায় তাকে এক অদ্ভুত [seltsamen] পদ্ধতির অভিব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করি। (যেমন আমরা সময়কে অদ্ভুতের মাধ্যম হিসাবে আর মনকে এক অদ্ভুত সত্তা বলে মনে করি), (১৯৯6, অ্যান্সকোম্ব অনুবাদ)।

     সবচেয়ে অদ্ভুত হ’ল “আমাদের ভাষার যুক্তি”-কে (§৩৮) তার দৈনন্দিন প্রসঙ্গ-নির্ভর ব্যবহার থেকে আমরা বাঁধাধরা ভাববিনিময়ের স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতিতে পরিবর্তিত করি, যাতে জীবন্ত না হয়ে অসার কল্পনা (দ্বিমাত্রিক স্টিক ফিগার) তৈরি করার প্রভাব থাকে। অসার কল্পনা যা আমাদের বিমুগ্ধ করে রাখে সেখানে উপলব্ধির জন্য কোনো মধ্যস্থতার প্রয়োজন হয় না: জীবন্ত প্রমাণ ভেবে আমরা যখন তাকে স্পর্শ করতে যাই, অস্পষ্ট কুয়াশা রেখে সে আমাদের হাতে বিলীন হয়ে যায়।

     ভিটগেনস্টাইনের বিবরণে আপাতসত্যের সংজ্ঞা পৃথিবীর বুকে বিশেষ্যদের এমন মানচিত্র এঁকে রাখে যেন পৃথিবীর সমস্ত বস্তুর অস্তিত্ব ভাষাকে দ্ব্যর্থহীনতার দিকে ঠেলে দেয়: ভাষার অপরিহার্যতাকে নগ্ন করার চেষ্টায় এক বাধ্যকর(অ-স্বস্তিকর)অবস্থা, যেন তারা পূর্ববিদ্যমান পৃথিবীর জন্য একসেট লেবেল।

উদাহরণস্বরূপ, ‘ভাষার-খেলা’য় “এই” শব্দটি তবে কী বলে?… বা আপাতসত্য সংজ্ঞাতে “ওই” বলতে কী বলা হচ্ছে?… – আপনি যদি বিভ্রান্তি তৈরি করতে না চান তবে এই শব্দগুলিকে কোনো আখ্যা না দেওয়াই ভালো।— তবুও, [অদ্ভুত/ merkwürdigerweise] বলতে গেলে, “এই” শব্দটিকেই বলতে হয় একমাত্র অকৃত্রিম আখ্যা; যাতে আমরা অন্য যে কোনও নামেই ডাকি না কেন তা কখনও নিখুঁত মানে দেয় না, কাছাকাছি অর্থের দিকনির্দেশ করে। …নামকরণ কোনও বস্তুর সাথে শব্দের এক অদ্ভুত সংযোগ হয়ে ওঠে। এবং আপনি এক অদ্ভুত [seltsame] অনুষঙ্গ লাভ করেন যখন দার্শনিক তাঁর সামনে থাকা বস্তুর দিকে চেয়ে এবং সেই নাম বা “এই” শব্দটি পুনরাবৃত্তি ক’রে সেই বস্তু ও তার নামের ভেতর সম্পর্কবিধান করার চেষ্টা করেন। দার্শনিক সমস্যাগুলো তৈরি হয় যখন ভাষাকে ছুটি দেওয়া হয়। এবং এখানে আমরা প্রকৃতপক্ষে মনের লক্ষণীয় কিছু কাজের অভিনব নামকরণ করতে পারি, কারণ এ হ’ল কোনও বস্তুর ব্যাপটিজ্‌ম্‌ করা। এবং আমরা সেই বস্তুকে “এই” বলতে পারি কারণ সে ওই বস্তুটিকেই “এই” দিয়ে সম্বোধন করে।– শব্দের এ এক অদ্ভুত [seltsamer] ব্যবহার, যা নিঃসন্দেহে দর্শনের ক্ষেত্রেই ঘটে। (§৩৮, অ্যান্সকোম্ব অনুবাদ)

      শুধু এই! বোধ সদাই সংশোধিত হতে থাকে : প্রতিকার নির্যাসের পূর্ববর্তী।

      অথবা Christmas in July-তে প্রিস্টন স্টার্জেস যেমন বলেছেন: “আপনি যদি রাতে ঘুমোতে না পারেন তবে তা কফির জন্য নয়, তা এই অর্থহীনতা।”

    বাতিলকরণকেই প্রথমে বাতিল করতে হবে।

LXVII

    স্বাভাবিকীকরণ হ’ল স্বাভাবিকের বিকৃতি। সাধারণ প্রচলে আবদ্ধ কিন্তু প্রচল দিয়ে আবদ্ধ নয়। সাধারণ দায়বদ্ধ নয়।

LXIX. অপ্রত্যাশিত চিহ্ন (Stray marks)

   “These Flames and Generosities of the Heart: Emily Dickinson and the Illogic of Sumptuary Values”(১৯৯৩) গদ্যে সুসান হোয়ে একটি জোরালো যুক্তি দিয়েছেন যে ডিকিন্‌সনের কবিতার মৌলিক দিকগুলো তাঁর রচনার সরকারী সংস্করণগুলোতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছে কারণ সম্পাদকরা সে সম্পর্কে অন্ধ হয়ে আছেন।[26]

      ডিকিন্‌সনের হলোগ্রাফিক পৃষ্ঠাগুলিতে শব্দ ও পঙ্‌ক্তির স্থানিক বিন্যাসের তাৎপর্য সম্পর্কে হোয়ে তর্ক তুলেছেন (অন্যান্য প্রায় সমস্ত লেখকের মতো ডিকিন্‌সনের কবিতা প্রকাশের কোনো ইতিহাস নেই যা এই প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারে)। হোয়ে ডিকিন্‌সনের হলোগ্রাফগুলোকে চিত্রাঙ্কন হিসেবে দেখেছেন, পৃষ্ঠার ওপরে চিহ্নের মতো; তাঁর এই দেখাকে কবিতা পড়ার ক্ষেত্রে ভাষাগত রচনা হিসেবে প্রয়োগ করেছেন। ভিটগেনস্টাইনের মতো বলা যায় যে এই শব্দার্থগত বা প্রকাশনী ব্যবস্থার নিয়মগুলোর ব্যায়নিয়ন্ত্রক মূল্যবোধের যুক্তিকে মহার্ঘতা দান করা হ’ল ডিকিনসনের অনিশ্চিত নীতিশাস্ত্রবিরোধী বাঁকগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হওয়া, যা তাদের প্যাটাক্যুয়রিক্যালিটির পরিচয় দেয়। আমরা যখন তাঁর কবিতার কোনো একক, সত্য বা চূড়ান্ত সংস্করণে পৌছোতে পারছি না তখন কবিতাগুলো পড়তে হবে তাদের সম্ভাব্য অমেয় ফ্রেমগুলোর ধারাবাহিক প্রকাশমানতায়। যেমন ডিকিনসন লিখেছেন, “বিশ্ব কোনো উপসংহার নয়/ এক অনুবৃত্তি- অতিক্রমের”, যা একটা কবিতার কোনও একক সংস্করণ বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

       ওয়াল্টার বেন মাইকেলস ডিকিনসনের “অপ্রত্যাশিত চিহ্নগুলোর” (হোয়ে যাকে প্যাটাক্যুয়রিক্যাল শব্দ বলছেন) তাৎপর্য খুঁজে পেতে হোয়ের দাবিটিকে বাতিল করেছেন, কারণ তাঁর দৃষ্টিতে এই অপ্রত্যাশিত থেকে যাবে অপ্রত্যাশিত হিসেবেই এবং একে নিরাপদে উপেক্ষা করা যায়।[27] হোয়ের “উপাদানগত দৃষ্টিভঙ্গি”তে তিনি এক ধরণের আদিমতা, অমানবিকতার (“বন্য মানুষ”-এর) বোধের দিকে প্রত্যাগমন হিসেবে দেখেছেন যা “ইন্দ্রিয়গত উপস্থিতি”-র ওপর ভিত্তি করা এবং এর ব্যবহার বা উদ্দেশ্য থেকে বিচ্ছিন্ন (মাইকেলস এখানে তার মূল শব্দটি পেয়েছেন ক্যঁৎ ও পল ডিমানের কাছ থেকে): “কবিতার পঙ্‌ক্তিসজ্জায় সম্পাদকীয় কার্যক্রম এবং ‘অপ্রত্যাশিত চিহ্ন’ উপেক্ষা করার মতো সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তগলোকে হোয়ে মনে করেন কবিতার ‘শারীরিক অব্যবহিত প্রত্যক্ষতাকে দাবিয়ে রাখা’ [হোয়ের পদ] যাতে করে ডিকিনসনের অর্থগুলোকে সীমাবদ্ধ করা হয়।”

       কোনও “আকস্মিকতা”কেও কীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে পড়া যায় (ক্রেগ দ্বোয়ারকিনের প্রচলিতের বিরুদ্ধ পঠনের মতো) তা হোয়ে আমাদের দেখিয়েছেন এবং মাইকেলসের জন্য “অর্থহীন” ও “প্রলাপ” নামক দুটো প্যাটাক্যুয়রিক্যাল শব্দের মূল্যায়ন করে গেছেন।

     “ডিকিনসনের “অর্থ” তাঁর রচনার পরিবর্তে লাবণ্য”─ অনুগ্রহের সাথে জড়িত– মাইকেলসের একথা আমার কাছে সঠিক বলে মনে হয়নি। তবে এর আগেও আমরা এই পাঠ্যগত বুনো জন্তুদের তৈরি করা সমস্যার সম্মুখিন হয়েছি। মাইকেলস এমন কিছুই নয় যদি না  নীতিশাস্ত্র বিরোধিতায় তাঁর অবিশ্বাস এমন দৃঢ় হ’ত, মার্কিন সাঙ্কো পাঞ্জার মতো অসার কল্পনায় অভিযুক্ত করা। এটাই নান্দনিক হওয়ার জন্য মূল্য দেওয়া— “আমাকে দেখান, আমি মিসৌরি থেকে এসেছি”-এমনই মতবাদের প্রবক্তা।

    “The Poetic Principle”-এ পো লিখছেন : “তাঁকে অবশ্যই মুক্তি পাওয়ার অযোগ্য তত্ত্ব-পাগল হতে হবে, যাঁরা এইসব তফাৎ সত্ত্বেও কবিতা ও সত্যের সঙ্গে তেলজলের নাছোড় সম্পর্কের মধ্যে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন”।

   তত্ত্বের বিপরীতে থাকার জন্য মুক্তি পাওয়ার অযোগ্য তত্ত্বপাগল হতে হবে।[28]

LXX.

   আমরা সকলেই ঘরহীন।

————

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show

অনুসৃজন প্রকল্প :

    এটি একটি ধারাবাহিক অনুসৃজন প্রকল্প। চার্লস বার্ন্সটাইনের “The Pataquerical Imagination: Midrashic Antinomianism and Promise of Bent Studies” প্রবন্ধটির অনুসৃজন। এই তৃতীয় পর্বে পাঁচটি পরিচ্ছেদ অনুসৃজন করা হল। ইংরেজি সংস্করণ অংশুমালীর ইংরেজি সেকশানে। এই প্রবন্ধটি ২০১৬ সালে শিকাগো ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বার্ন্সটাইনের কাব্যতত্ত্বের বই Pitch of Poetry গ্রন্থটিতে সংকলিত হয়। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

১ম পর্ব পড়ুন এখানে >>>

২য় পর্ব পড়ুন এখানে >>>

৩য় পর্ব পড়ুন এখানে >>>

পরবর্তী পর্ব পড়ুন এখানে>>>>


[1] The L=A=N=G=U=A=G=E Book. Ed. Bruce Andrews and Charles Bernstein. Carbondale: Southern Illinois UP, 1984

[2] Pitch of Poetry by Charles Bernstein, Chicago: University of Chicago Press, 2016.

[3] Through The Looking-Glass and What Alice Found There by Lewis Carroll, (Macmillan, 1934; 1871).

[4]Logical Philosophical Treatise or Treatise on Logic and Philosophy (Latin: Tractatus Logico-Philosophicus) by Ludwig Wittgenstein, tr. Frank P. Ramsey and Charles Kay Ogden, Harcourt, Brace and Company, Newyork, 1922.

[5] Wittgenstein, Ludwig. 1958. Philosophical investigations. ed. G.  E. M. Anscombe, R. Rhees, G. H. Von Wright. Translated by G. E. M. Anscombe.  Oxford: Basil Blackwell Ltd.

[6] The Grand Design by Stephen Hawking and Leonard Mlodinow, 2010, London: Bantan Books/Transworld Publisher.

[7] Midrashic- OED: Origin: A borrowing from Hebrew. Etymon: Hebrew miḏrāš. Etymology: < post-biblical Hebrew miḏrāš homiletic commentary on Scripture (in biblical Hebrew ‘study, exposition’) < Hebrew dāraš to seek, study, expound.

[8] Antinomianism- Etymology < Greek ἀντί against + νόμος law, an ism to believe that they are not bound by moral law, instead they require to break a moral (or religious or Biblical)law.

[9] Cited by Charles Bernstein in his prose “Larry Eigner’s Endless Song” in his Pitch of Poetry, p-140

[10] আনমিতলজি – আনমিত+লজি – Bent Studies

[11] Antinomianism- Etymology < Greek ἀντί against + νόμος law, an ism to believe that they are not bound by moral law, instead they require to break a moral (or religious or Biblical)law.

[12] Christina Hesketh pointed this out to me: the Portuguese means bizarre, the Spanish is close to the English equivalent.

[13] “You are special / You are my friend / You’re special to me. / You are the only one like you.” Fred Rogers, “You Are Special” (1967), pbskids.org/rogers/songLyricsYouAreSpecial.html. This inevitably also brings up the euphemism “special needs.” We’re all special and all have special needs. Pataque(e)rical euphemisms substitute positive attributes for stigmatized negative attributes: challenged for deficient.

[14] I discuss Sander Gilman’s Jewish Self-Hatred (Baltimore: Johns Hopkins University Press, 1990) in My Way: Speeches and Poems, 37, 188, 216. See also Erving Goffman, Stigma: Notes on the Management of Spoiled Identity (New York: Simon and Schuster, 1963).

[15] In Ludwig Wittgenstein: The Duty of Genius (New York: Penguin Books, 1990), Ray Monk reports that a friend of Wittgenstein asked “whether he thought his work as a philosopher, even his being a philosopher, had anything to do with his homosexuality. What was implied was that Wittgenstein’s work as a philosopher may in some way have been a device to hide from his homosexuality. Wittgenstein dismissed the question with anger in his voice: ‘Certainly not!’” (567).

[16]Ludwig Wittgenstein, Philosophical Investigations, trans. G. E. M. Anscombe, P. M. S. Hacker, and Joachim Schulte, rev. 4th edition ed. P. M. S. Hacker and Joachim Schulte (Walden, MA: Blackwell, 2009). The new editors note: “[Elizabeth] Anscombe translated seltsam and merkwürdig by ‘queer.’ We have translated seltsam by ‘odd,’ ‘strange,’ or ‘curious,’ and merkwürdig by ‘remarkable,’ ‘strange,’ ‘curious’ or ‘extraordinary.’” (xiii). See also the third edition of Anscombe’s translation (New York: Macmillan, 1958).

[17]Wittgenstein in Cambridge: Letters and Documents 1911–1951, ed. Brian McGuinness (Boston: Wiley-Blackwell, 2008): the first excerpt is from a letter to Norman Malcolm on May 2, 1948, letter no. 380, p. 422; the second is from a letter to Rush Rhees, August 20, 1948, letter no. 433, p. 392.

[18] Information on German usage thanks to Norbert Lange, who responded to my questions in two e-mails on February 15, 2014.

[19]Lange notes that with the removal of the comma, the comic element of the sentence is diminished.

[20]The Correspondence of Williams Carlos Williams and Louis Zukofsky, ed. Barry Ahearn (Middletown, CT: Wesleyan University Press, 2003), 544 (1928).

[21]This line of thinking is pursued in “Artifice of Absorption” in A Poetics: sublimed is absorbed; queered is antiabsorptive; pataquerical is syncretic hyperabsorption (oscillating absorption and impenetrability).

[22] See “Characterization” in Content’s Dream: Essays 1975–1984 (Los Angeles: Sun & Moon, 1985).

[23] Wittgenstein discusses “aspect blindness” in The Philosophy of Psychology: A Fragment (formally called part 2 of Investigations) and included in the 4th ed.: §§257, 258, 260.

[24] Philosophical Investigations, §§6, 9, 28–38.

[25] §257, The Philosophy of Psychology: A Fragment, in Philosophical Investigations, 4th ed.

[26] Susan Howe’s “These Flames . . .” was collected in The Birth-Mark: Unsettling the Wilderness in American Literary History (Middletown, CT: Wesleyan University Press, 1993). EPC digital edition, , writing.upenn.edu/library/Howe/. Her views have recently gained greater purchase due to the 2012 publication of reproductions and transcriptions of Dickinson’s writings on envelopes in The Gorgeous Nothings and the related show at New York’s Drawing Center. See Jen Bervin and Marta Werner, The Gorgeous Nothings: Emily Dickinson’s Envelope-Poems (New York: Granary Books, 2012), reprinted by New Directions (2013) with a preface by Susan Howe. The Drawing Center (New York) hosted a book party for Gorgeous Nothings at which Howe, Bervin, and Werner spoke (November 23, 2104) as part of an unusual show, in a visual art context of Dickinson’s holographic “envelope” manuscripts from the Amherst College collection (the Dickinson material Dickinson’s holographic “envelope” manuscripts from the Amherst College collection (the Dickinson material was shown along with holographs of Robert Walser at Dickinson/Walser: Pencil Sketches, November 15, 2013—Jan. 12, 2014). The adjacent, main show at the Drawing Center, Drawing Time, Reading Time, curated by Claire Gilman, focused on “exploring the relationship between drawing and writing as distinct yet interrelated gestures” and so implicitly underscored Howe’s view of Dickinson’s holographs as akin to (but not the same as) drawing. As part of the show I introduced a presentation by Robert Grenier of his hand-drawn poems (January 6, 2014). Note Holland Cotter’s sympathetic response to the Dickinson show in the New York Times, “A Poet Who Pushed (and Recycled) the Envelope: ‘The Gorgeous Nothings’ Shows Dickinson’s ‘Envelope Poems,’” December 6, 2013, C32. Werner has done the most significant research on this topic, following her work with Howe at SUNY-Buffalo: Howe directed Werner’s 1993 thesis, “Quires of Light: Emily Dickinson—Scenes of Reading, Surfaces of Writing” (I served on the committee and learned from both). See Werner’s Open Folios: Scenes of Reading, Surfaces of Writing (Ann Arbor: University of Michigan, 1996).

[27] Walter Benn Michaels, The Shape of the Signifier: 1967 to the End of History (Princeton, NJ: Princeton University Press, 2004),  2, 5. In The Secret History of the Dividing Line (Guilford: Telephone Books, 1978), Howe situates herself between two Marks, her father and son.

[28] Steven Knapp and Walter Benn Michaels, “Against Theory,” in Against Theory: Literary Studies and the New Pragmatism, ed. W. J. T. Mitchell (Chicago: University of Chicago Press, 1985).

ইংরেজি ভার্সান এখানে >>> Welcome to the Pataquerical Night Show

পূর্ববর্তী পর্ব পড়ুন এখানে >>>

পরবর্তী পর্ব পড়ুন এখানে>>>>

রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়। কবি, লেখক ও অনুবাদক।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ