প্রস্তরযুগে প্রেমিকারা কেমন ছিলো

চিরঞ্জীব হালদার
কবিতা
Bengali
প্রস্তরযুগে প্রেমিকারা কেমন ছিলো

যদি শেষ মুহুর্তে অর্ন্তবাস মিথ্যাভাষী হয়।
এ প্লাস বি হোল স্কোয়ার এর পর
দ্বিবন্ধনী লাগানো শ্রেয়।
দেখি ত্রিবন্ধনীতে অলৌকিক প্রেমিক এক
নিথর ফাৎনা নিয়ে জলের মাদকতা মাপে।
কেশব নাগ তুমি বলো কি উত্তর দেবো।

ভোঁতা পেন্সিলের নয়ছয় অভিসন্ধি
ব্রনের মত জেগে থাকে সাদা পাতায়।

রাফ খাতায় বিকেলে ঘরে ফেরা পাখিদের মত
অবসন্ন সংখ্যারা।

পাখিদের বাসায় কোন খাদ্য নেই।
পড়ে থাকে রাত্রিকণা।
বাবা পাখি আজ কি ঘরে ফিরবে নাগ মহাশয়।

 

দুই.

যে ছেলেটা বাতিল বেলুন নিয়ে সাইকেলে যাচ্ছিলো
পুনজন্মের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে।

যে মুরগি জবাই হবে আর কিছু পরে
আমি তার সদর্থে পুনজন্ম বাহক।

অঙ্কুরিত ছোলা থেকে যে উদ্ভিদ জন্ম নেবে
সে এখন পাখির ঠোঁটে অশরীর আত্মার সাক্ষাতকার বহন কোরে কোথাও পৌঁছে দেবে।

অঘটন ঘটন পটিয়সী মহিলার সুচারু সময়ের কাছে সব কাজ থমকে আছে।
বাতিল ছেলেটা- মুরগির উত্তর পুরুষ আর অঙুরিত ছোলার হৃদয়নামা দিয়ে বানানো সামিয়ানার নিচে মহিলার অপূর্ব
মালা বদল চলিতেছে এখন।

 

তিন.

লোহিতবর্ণ ফেসবুকের কাছে ঋণ রয়ে গেল।
এটি অক্ষগুটিকা।
কারো বশীভূত নয়।
পরিধানে লাইক এবং কমেন্ট নামক নীল দোপাট্টা,
গজগামিনীর সুশোভিত দন্তের মত প্রতিটি
ভাইরাল স্টেটাস প্রাণকাড়িলেও হলপননামা কোথায় দাখিল করিবে।

তুমি যখন ঘোড়ার আড়াই চাল ঠেকাতে ব্যাস্ত টাইগার হিলে অন্য কোন বান্ধব তোমার প্রেমিকা ফুসলাইবার জন্য মেঘের সাথে বন্ধুতা পাতাইলে দোষ দিও না।

মহাপীরের দরগায় সিন্নি চড়াইব।
দোহাই অক্ষগুটিকা রং বদল করিওনা।

 

চার.

এক হাতে আত্মরতি অন্য গ্রহে যোগ
বাহিরে ভাজ্য রাধা, অন্দরে ভাজক।
প্রজ্ঞা থেকে ঝরে যাক নীল নীল স্পার্ক
কি বিধান ফ্রয়েড দেন, হাসে নেটওয়ার্ক।

 

পাঁচ.

কলমি লতার মতো বান্ধবী বিষণ্ন
প্রতি ধূলিক্ণা জানে তিক্ত কথন!
কে আর দরদী থাকে দগ্ধ সংসার
পাথর বাটিতে ঢাকি সুবর্ন যতন।

 

ছয়.

প্রস্তরযুগে প্রেমিকারা কেমন ছিলো।

আমার নিজস্ব উৎকৃষ্টতা বলে কিছু নেই,
ব্যক্তিত্বপূর্ণ আতিথেয়তার মুখোসে চমৎকার শঠতাগুলো আস্তিনে লুকিয়ে
ইউফ্রেতিসের পাড়ে বৃক্ষ রোপন উৎসবে ভীড়ে আছি।
জায়গাটা সারি সারি আত্মপ্রবঞ্চনাকারী
ধারাভাষ্যকারদের মিলন স্থল।

সেই সব ভাষা ধর্মীয় আচার ভেবে উদাত্ত রমনীরা
পবিত্র ঠিকানা চাইলে ব্রহ্মান্ডের গোপন ভাণ্ডারে ঢুকে জেনে নিই
প্রেমিকরা বট ছায়াকে কেন ভয় পায়।

চিরঞ্জীব হালদার। কবি। মূলত ক্ষুদ্র পত্র -পত্রিকার লেখক। জন্ম- ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬১, গাববেড়িয়া; দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। পড়ালেখা করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা। লেখালেখির শুরু গত শতাব্দীর আশির দশক। শুধু কবিতা আর ভালো কবিতাই তাঁর আরাধ্য। এপর্যন্ত নির্মিত কাব্যগ্রন্থ ষোলটি। প্রকাশিত সাতটি। যৌথ সংকলন একটি। সম্পাদিত কবিতা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..