প্রাক্তন

মুনতাসির নাহিয়ান
কবিতা
Bengali
প্রাক্তন

ডায়েরির পাতা

কত স্মৃতি কত গল্প,জমে আছে যে মনে
পাবো কি তার কূল কিনারা?
হয়তো তা হবেনা কখনোই কারো কাছে প্রকাশ!
হোক না প্রকৃতি হোক তা বাস্তবতা নয়তো বা কোনো স্বপ্ন,অজানাই রয়ে যাবে সবার।
মনের খেয়ালে হয়তো বেখেয়ালে অসংখ্য অতীত গ্রাস করবে আমায়,
দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় তাদের বন্দী করাই বিরাট প্রশ্ন!
হাজারো অথবা তারও অধিক ছেঁড়া স্বপ্নের আনাগোনা হবে আনমনে।
কারো ভাবনায় আসবে হয়তো স্বপ্ন কিংবা স্মৃতি ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করার,
তা আসলেক বোকামিরই সমতুল্য।
প্রতিনিয়তই মনের কোণে সুস্থ কি অসুস্থ মস্তিষ্কে
মৃদু অথবা জোরালো ভাবেই স্বপ্ন ও স্মৃতি এসে ধরা দেয়,
পেরেছি আমি তাদের জমিয়ে রাখতে নতুন কিংবা পুরান মলাটের ডায়েরিতে।
আমার অতীত বর্তমানের সব নাহলেও বিশেষ কিছু মুহূর্ত সাজিয়ে রেখেছি তাতে।
নিত্যদিন আরো অনেক ভাবনা ও স্বপ্ন জমছে ওই মলাটের অভ্যন্তরে।
প্রতিদিনই একটিবারের জন্য হলেও প্রথম থেকেই স্মৃতিচারণ করে নেই,
পাগলের পাগলামী নয়তো কি?
তবুও এতে এক অন্য ধরনের অনুভুতি অনুভুত হয়।
তাতে আছে আমার ছেলেবেলার বেড়ে ওঠার গল্প,আছে কিছু স্বপ্ন যা পূরণের অপেক্ষায়।
কিছু বিরহ বেদনা,আর কিছু সুখকর আনন্দও তাতে পেয়েছে ঠাঁই
জমিয়ে রেখে লাভ কি এসব পূর্ণ অপূর্ণ ইচ্ছে গুলো কে?
কোনো ক্লান্ত দুপুরে নয়তোবা মাঝরাতে
সবার অগোচরে ডায়েরির পাতা গুলো দেখে নিজের অতীত থেকে ঘুরে আসাই হয়তো মূল উদ্দেশ্য!
সময়ের সাথে আমার এবং ওই ঘন মলাটের কাগজগুলোর বয়স বাড়বে,
আমার সাথে সাথে মলাটেও মরচে ধরবে,,
সাদা পৃষ্ঠে গুলো ধূসর বর্ণ ধারন করবে।
বৃদ্ধাবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুনতে গিয়ে ওই ধূসর পৃষ্ঠের শুকনো মলাটের পানে চেয়ে থাকবো,
মনের অগোচরেই নয়নকোণে জমবে নোনাজল।
চাইবো ফিরে পেতে সেই রঙিন দিনগুলো,
তা কি হবে সম্ভব!
হুট করেই মলাট জড়িত কাগজগুলিকে বুকে জড়িয়ে অঝোর ধারায় কেঁদে উঠবো,
ঈশ্বরের কাছে একটিই প্রার্থনা করবো,,
একটিবারের জন্য ফিরিয়ে দাও সেই রঙিন স্মৃতি,
আমার যে হাজারো স্বপ্ন পূরণ বাকি,,
অসংখ্য ভুল যে শুধরোতে হবে,
চেয়ে দেখো না সাক্ষী তো আছেই ডায়েরির পাতা।

 

প্রেম

প্রেম কি অবিনাশী সুর
নাকি লাজুকতা জড়িয়ে অবুঝ হাসি,
যে হাসি পবিত্র যে হাসি নিষ্পাপ।

প্রেম কি কোনো জটিল হিসাব নাকি কোনো কালবৈশাখী,
নাকি লন্ডভন্ড করা ঝড়ের পর দুটি হাতের বাধন সেই কয়েক বছর আগের মতই।

প্রেম কি বিজলী বাতি চমকিয়েই নিরুদ্দেশ নাকি
শতবর্ষী এক লণ্ঠন,
যা যুগের পর যুগ বার্ধক্যতেও প্রলয়ভাবে জ্বলে।

তাহলে কিসব কানামাছি খেলে,
অন্ধ বানিয়ে তালমাতাল করে,
হো হো হাসিতে যৌবনজনিত যঞ্জ শুরু করে।

তাহলে কিসব নাটাই ঘুড়ি খেলে,
ছেড়ে দিয়ে নিশান আলগা নাটাই ধরে,
কারো ঘুরি কাটায়
কারো বা কাটে।।

 

প্রাক্তন

কত শত দিন কত শত রাত করেছি আমি পাড়
একটিবারও নিলে না খবর তুমি আমার!
এতটাই রেগে আছো তুমি,
এতটাই কি করো ঘৃণা আমায়!

আনন্দময় মুহুর্ত গুলো বিষিয়ে তুলে,
বিষাদময় রজনীগুলো-
হাস্নাহেনার সৌরভে মাতিয়ে তোলার প্রয়াস।
কেন আনন্দ কি তোমার এতই অপছন্দ?
কেন বিষাদকে করো তুমি আপন?

বন্ধনের শুরুতেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমরা,
ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে না কভু।
বন্ধনের শেষে এসে তুমি ভুলে গিয়ে সব,
প্রতিজ্ঞা ভেঙে দিয়ে করলে আমায় পর!
দোষ ছিল না আমার জানি,
তবুও মন রাখতে মেনে নিলাম তোমারি।

সর্বোপরি ছলনার স্বীকার হলাম আমি,
সমাজে চেঁচিয়ে বললে নির্দোষ যে তুমি।
আমি তবে ভালোবেসে অবনত মস্তকে,
প্রতিদান নিলাম আমার নিষ্ঠার।
তবু আজো, একটিবারও বলেনি আমি,
সব দোষ ছলনা যে ছিল তোমার।

কত গ্রীষ্ম বসন্ত বর্ষায় মনে তোমায় পড়েছে,
ছেড়া চিরকুটের শব্দে অভিমান কি তোমার ভেঙেছে!
বিদায় হতে এ লগ্ন অব্দি ডায়েরির কত পৃষ্ঠা আমি লিখেছি,
স্বপ্নের রঙতুলি দিয়ে তোমায় আমি এঁকেছি।

আজো করি;হয় আফসোস,
ভুল নাহয় আমার তবুও
কেন ফিরিয়ে নিলাম না তোমায়!
একটিবার যদি সুযোগ হত আমার,
দায়িত্ব নেব মন ভালো করার তোমার।

আজো আমি করি প্রার্থনা তোমায় চেয়ে,
জীবন স্রষ্টার কাছে আবেদন;
তিনি যেন আমায় না দেয় ফিরিয়ে!
সমাজ হোক কি সাহিত্য
বাধনে আবদ্ধহীনকে নাম দেয় প্রাক্তন,
কিন্তু আমার কাছে আজো তুমি-
আমার ভালোবাসার মূল্যবান রতন!

 

গাইবো মোরা সাম্যের গান

লোকমুখে শুনে সাম্যের নীতি
মনুষ্যকে করি আমি আপন,
দিগ্বিদিক হতে ছুটে আসে লোক
ক্ষুদার তাড়ণার সমাপ্তি হোক।

সর্বদা শুনে নর-নারীর সমতা
সমাজসেবায় নিজেকে করি বলিয়ান,
যতই বুলি আওড়ানো হোক নিষ্ঠার
মৌলিক চাহিদার বড়ই অভাব।

উচ্চবিত্তের নেইকো অভাব
নিম্নবিত্ত করে হাহুতাশ,
ত্রাণের বস্তু হয় লোপাট
মধ্যবিত্তের আশায় যায় দিন-রাত।

তবুও সচেতন আমরা কেউই নই
মাদক করে আমাদের গ্রাস,
দিন দিন নির্যাতনের বাড়ছে প্রকোপ
ধর্ষণ হয় শতের সমান।

পত্র পত্রিকা বা গল্প-কবিতায়
শোষনকারীরা পায় স্থান,
প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর প্রতিদিন হয় অপমান।

বেগম রোকেয়া-কাজী নজরুল,
আরো নাম অজানার প্রতিবাদ,
স্বৈরাচারীর পদপিষ্টে হয় ধূলিসাৎ।
সব দেশের সব খানেতে তারা সবাই এক,
টেলিভিশন খুলে বলে দেখ বাঙালিদের দেখ!

এমন যদি চলতেই থাকে
কারো দাম পাবো না আর,
ধুর এসব বলে শান্তি চেয়ে
লাভ কী আমার!

শত শত বার বলেছি আমরা
নির্যাতনের হোক অন্ত
শত শত বার বলেছি আমরা;
শান্তিতে বাঁচার দাও অবকাশ,
প্রথম প্রথম এসব কথার দাম দেই বৈ কি
পরক্ষণেই ভুলে গিয়ে বিবেককে করি নষ্ট
আমরা বাঙালি করিনা পরোয়া
অত্যাচারই আমাদের মূলমন্ত্র।

এক শ্রেণীর বাঙালি যারা থাকবে আমাদের পাশে
আরেক শ্রেণীর আসবে তারা পক্ষপাতি করতে,
করবে তারা বিরোধিতা বুক ফাটবে মায়ের
আমরা শুধু তা চেয়ে করবো প্রতিবাদ
একই সাথে গাইবো মোরা সাম্যের গান।

মুনতাসির নাহিয়ান। কবি ও শিক্ষার্থী। জন্ম বাংলাদেশে। লেখাপড়া করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ