বসন্তের ডাক

জয়ন্তী কর্মকার
কবিতা
Bengali
বসন্তের ডাক

পদ্যের ছায়াছবি

গদ্য লিখিনি বহুদিন যবে থেকে রাঙা ব‌উ
চলে গেছে
এলোমেলো বাক্যরা আজ পাগল শব্দ ওদের ঠকিয়েছে।
তুই কি জানিস কথার ওপর কথা বসে দমবন্ধ হয়েছিল যেই পদ্যটার,
গত পরশু পুরস্কার পেয়েছে সে অমিত বাবুর
নতুন ব‌ইয়ে স্থান পেয়ে নাম বদল হয়েছে
ওই প্রবন্ধটার।
তিস্তা পিসির উপন্যাসে মাঝ প্যারাতেই ছন্দ কাটে
দাদুর যেইদিন মৃত্যু হল
ওই ঘটনাই ঘোরে গল্পের তল্লাটে।
বিশু কাকু পদ্য লেখে জোয়ার-ভাটায়
জীবন ডোবার
মিনিও এখন জেনে গেছে কোন পতাকা
কোন নেতার।
কবিতাগুলো বড্ড কাঁদে ছেঁড়াপাতা কাঁদায় আজকাল
গল্প খুড়ো ভুলেই গেছে শেষ পূর্ণিমায়
কি গল্প ছিল তার।
গত রাতে ছায়া পড়েনি জানালায়
একটা কবিতাও দুটো পক্ষে শেষ হয়নি
তখন‌ও আকাশে পূর্ণিমার চিহ্ন জ্বলজ্বল
রাঙা ব‌উ আর ফিরে আসেনি।।

 

অতিক্রম

কতকাল হল দেখা হয়নি আমাদের,
এক‌ই আছো না বদলে গেছো,
এখন আর আমায় জানায় না তোমাদের পাড়ার রফিক।
যেই বছর, গুলিতে তোমার মায়ের মৃত্যু হল,
তুমি বললে ,আমার দাদাই নাকি দায়ী।
গুন্ডা দিয়ে বদলা নিতে চেয়েছিল আমাদের দুঃসাহসিক প্রেমের।
আমি বিশ্বাস করিনি দাদার সাহসকে,
বিশ্বাস করেছিলাম তার দুঃসাহসকে,
যা সমান ও বিপরীতমূখী প্রতিক্রিয়ার সামনে এসে দাঁড়িয়ে চুরচুর করে দিয়েছিল
আমাদের বারো বছরের অটুট সম্পর্ককে।

তুমি কি এক‌ই আছো, না বদলে গেছো
জিজ্ঞেস করেও আজ উত্তর পাইনা রমা মাসির কাছ থেকে,
আমি আজ যা পারিনি তা দশ বছর আগে করে দেখিয়েছিল রমা মাসি।
রেহমান কাকার কাঁধ ছিলো চ‌ওড়া
আগলে নিয়েছিল রমা মাসিকে
নিজের ছেলের মৃত্যুকে বাজি রেখে।
তুমি আমাকে চিঠিতে প্রশ্ন করেছিলে,
তোমার মায়ের রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরের থেকেও কি
আমার দাদার উঁচু করা ঘাড়ে ঠেকানো বন্দুক
বেশী দাম পেল আমার বিবেকের দাঁড়ি পাল্লায়?
আমি উত্তরে,
রেহমান কাকার ছেলের সাথে
তোমার মায়ের মায়ের তুলনা টেনেছিলাম।

তবে কার দাম বেশি ছিল সেইদিন
তা আজ‌ও বুঝে উঠতে পারিনি,
তোমাদের ভোরের আজান , নাকি
আমাদের মন্দিরের ঘন্টার।

বসন্তের ডাক

আমার শহরে বসন্ত আসে
এদিক ওদিক নিশ্চিহ্ন হয় বৃক্ষাদি
ওলিতে গলিতে রঙ ছড়িয়ে পড়ে
কচিকাঁচাদের কপালে আমরা এখন ভবিষ্যতের টিকা দিই।

কত নতুন যৌবন উঠে আসে
একঝাঁক রঙীন হ‌ওয়ার তাড়ায়
খুঁড়িয়ে খুড়িয়ে চলা সমাজের কাছে
একদিন সে হাত পেতে দাঁড়ায়।

ভিক্ষের ঝুলি পূর্ণ হয় না
মিথ্যে আশ্বাসের বাণীতে
কত গ্রীষ্ম থেকে বসন্ত পেরিয়ে যায়
স্বপ্ন পূরন হ‌ওয়ার কানাকানিতে।

জীবনের গতি বয়ে চলে
ভয় হয় নতুন নতুন কুঁড়ি ফোটার
এখনো তো মা জানেনা
ছেলে না মেয়ে কোল জুড়ে নিয়ে আসবে কোন নতুন খোঁটার।

আমার গলিতে বসন্ত আসে
পার করে যায় নিঃশব্দে
ভালোলাগা গুলো সব বেরঙ্গীন হয়ে ওঠে
চিরহরিৎ আর পর্ণমোচির খেলা জব্দে।

লেখাদের জন্ম

এক একদিন খুব লেখা পাই।
আজ যেমন রাত্রি তিনটে,
মুখব‌ইয়ের কিছু লিখুন বাক্সখানি, ভরেই চলেছে পরপর মিনিটে।
হাতের আঙ্গুল বিশ্রাম নিতে চায় না, ঘন্টা মিনিট হিসেব ক’রে।
কতো লেখা বেরিয়ে আসে মাথার শিরা-উপশিরা ভেদ করে,
যাদের হাত-পা-অঙ্গ পরিপূর্ণতা পেয়ে শরীরের আকার নেয় আর নেমে আসে
খাতায় -ডায়রিতে।
যাদের অঙ্গ গঠন হয়নি এখনো
তারা অঙ্গহীন ভাবে জন্ম নেয় মুখব‌ইয়ের সাদা বাক্সতে।
পরে তাদের শরীরের নক্সা করে হাত-পা জোড়া লাগিয়ে রূপ দিই,
কখনো কখনো দিতে পারিনা,
অসম্পূর্ণ রয়ে যায় সেইসব লেখারা।
রূপ পায়না আর কোনোদিন‌ই অথবা পেতে চায় না,
ভালোবাসে ওইভাবেই থাকতে চায় অসম্পূর্ণ হয়ে।
মাথার মধ্যে মনের মধ্যে কত লেখা কিলবিল করে,
যা নিজে থেকে এসে আপনা-আপনিই উবে যায় রাগে-অভিমানে তাদের সময় না দিলে,
কত অনুভূতি শুধু ভেতরে আটকা থাকে অভিব্যক্তির অভাবে।

জয়ন্তী কর্মকার। কবি ও অভিনয় শিল্পী। জন্মস্থান বাঁকুড়া। বেড়ে ওঠা বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর মিলিয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা বাঁকুড়াতে পরে পশ্চিম মেদিনীপুরে। বর্তমানে স্থায়ী বসবাস কলকাতায়। কর্পোরেট সংস্থায় চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার অ্যাঙ্কারিং এবং অভিনয় করে থাকেন। আবৃত্তি করতে ভালোবাসেন। নিয়মিত কবিতা,...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

ঝরা পাতা

ঝরা পাতা

  চারিদিকে কোলাহল শূণ্যতা করেছে গ্রাস, বেদনা বিধুর অতৃপ্ত বাসনায় হাহাকার, অজান্তে নীরবতা তোমার স্পর্শে…..