বাক্যহারা

সুদীপ্ত বিশ্বাস
কবিতা
Bengali
বাক্যহারা

শূন্যতা

দিনকে ফাঁকি দিতে পারলেও
রাতের কাছে হেরে যাই রোজ!
স্বপ্নেরা সব মুখ থুবড়ে পড়ে
চোখের জলে বালিস ভিজতে থাকে।
তারপর খুব ক্লান্ত হলে,
গভীর ঘুমে পাই মৃত্যুর স্বাদ।
সারারাত জ্বলতে-জ্বলতে
রাতের তারার সলতে ফুরিয়ে যায়।
আবার একটা দিন…
আবার ছোটা শুরু…

বাক্যহারা

অবলা কথারা আটকে রয়েছে চোখে
অবুঝ মনের বোবা কান্নার মত
আজকে এখন পাথর চোখেতে শুধু
হারানো আবেগ পুরানো দিনের ক্ষত।
বুঝলে না কিছু বুঝতে চাওনি বলে
সুরের ইশারা সুরকার শুধু জানে
দূরের বাতাস দূরে চলে যায় আরও
মন শুধু বোঝে হারানো গানের মানে।
এসেছিল যেটা একদিন নিঃশব্দে
বাতাসেও ছিল চুপিচুপি আসা যাওয়া
রূপকথা দেশে হারানো বিকেলগুলো
সবটাই যেন মিথ্যে অলীক মায়া।
জীবনের খাতা ভাসানোর পর পর
দুচোখ ভেজায় অঝোর অশ্রুধারা
অল্প দুঃখে সশব্দে কেঁদে ওঠে
গভীর দুঃখে ঠোঁটেরা বাক্যহারা!

বৃষ্টি এলে

বৃষ্টি এলে বুকের ভিতর গোলাপ কুঁড়ি ফোটে
বৃষ্টি এলে মনটা বড় উদাস হয়ে ওঠে।
বৃষ্টি এলে শিউলিতলায়, ছাতিম গাছের ডালে
মনটা বড় কেমন করে বৃষ্টি-ঝরা কালে।
এখন তুমি অনেক দূরে না জানি কোনখানে,
ভিজছো কিংবা গুনগুনিয়ে সুর তুলেছো গানে।
তোমার গানের সেই সুরটাই বৃষ্টি হয়ে এসে
টাপুরটুপুর পড়ছে ঝরে মেঘকে ভালবেসে।
মেঘ বিরহী,কান্নাটা তার বৃষ্টি হয়ে ঝরে
তোমার বুঝি মেঘ দেখলেই আমায় মনে পড়ে?

 

ডাক

যেই না তুমি ডাকলে আমায়,
পাগল হলাম এক লহমায়।
টুটুর-টুটুর তোমার সুরে,
বাজল বীণা শরীর জুড়ে।
ধড়মড়িয়ে চমকে উঠি-
হচ্ছেটা কি! ধুত্তুরি ছাই;
মনটা কেন গুনগুনিয়ে,
উঠছে গেয়ে এই অবেলায়?
এই ডাকটাই শোনার জন্য
হন্যে হয়ে সারাজীবন,
খুব ঘুরেছি নদী-পাহাড়
কিংবা গভীর অরণ্য-বন…
এই ডাক তো শুনেছিলাম
কবে কোথায়? মনে তো নেই!
হয়ত রাতে, হয়ত দিনে!
এই জন্মেই, এই জন্মেই…
পুকুরপাড়ে-ঝরনাতলায়
তাল-সুপুরি বনের কাছে,
মনভোলানো পাগল করা,
ওমনি করে ডাকতে আছে?

প্রেম

প্রেম মানে তো অন্ধ, জেনেও থমকে থাকি প্রেমে!
এসব কথা কজন বলো বোঝে?
অনেক পুড়ে অনেক জ্বলে অনেক ক্ষয়ে ক্ষয়ে
প্রেমিক তবু বিষাদ নদী খোঁজে!
আকাশ থেকে নামলে ঘোড়া কিংবা তারাখসা
হাতছানি দেয় মৃত্যুপুরীর নদী
শীতল বিষে মৃত্যু নামে, প্রেমিক তবু ভাবে,
‘আমার পাশে থাকতে তুমি যদি!’
দুঃখ, হ্যাঁগো দুঃখ পেয়েও তুঁষের আঁচে পুড়ে
সমস্ত রাত অভিমানে ভিজে,
বিষাদরঙা নদীর পাড়ে একলা বসে থাকে
যায় না ফেরত নিজের কাছে নিজে!

সুদীপ্ত বিশ্বাস। কবি। জন্ম ১৯৭৮, ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের নদিয়া জেলার রানাঘাট। পেশাগতজীবনে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। কবিতা লিখছেন ১৯৯২ সাল থেকে। প্রকাশিত বই: ঝিনুক জীবন, মেঘের মেয়ে, ছড়ার দেশে, পানকৌড়ির ডুব, হৃদি ছুঁয়ে যায়, Oyster Life ইত্যাদি। লেখালিখি ও সরকারি চাকরির...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..