বাণিজ্যে বসতে বাঙালি: বাঙালি উদ্যোগপতির ইতিহাস

সজল কুমার মাইতি
প্রবন্ধ
Bengali
বাণিজ্যে বসতে বাঙালি: বাঙালি উদ্যোগপতির ইতিহাস

বাঙালি আড্ডাপ্রিয় জাতি। আড্ডা দিতে ভালবাসে। আর কেরানির চাকরি কিংবা পৈতৃক সম্পত্তির দেখভাল করা। এর বাইরে ব্যবসা বাণিজ্য? নৈব নৈব চ। বাঙালি ব্যবসায় বিমুখ। এই অভিযোগ বরাবরের। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে বাঙালির ব্যবসার ইতিহাস খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। ব্যবসার ঝুঁকি বহনের স্বাভাবিক ক্ষমতা বাঙালিদের মধ্যে খুব একটা দেখা যায় না। তবুও ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে বাঙালির ব্যবসায় কিছু কিছু উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের সন্ধান পাওয়া যায়।
স্বদেশী আন্দোলন, বাংলার নবজাগরণ ও শিল্পোদ্যোগ
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ নীতির প্রতিবাদে ১৯০৫ সালে আপামর বাঙালি আন্দোলনে নামেন। বিদেশী শাসকের বিরুদ্ধে বাঙালি গর্জে ওঠে। বিদেশী জিনিস বর্জন ও স্বদেশী জিনিস ব্যবহার ও তৈরিতে উদ্যোগী হতে উৎসাহ দেখা যায় বাঙালির মধ্যে। বাংলায় নবজাগরণ এর ঢেউ এই সময়ে বাঙালির এই মানসিকতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। রামমোহন রায়, ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ও আরও অনেক মনীষী এই কাজে অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছেন। বিকল্প স্বদেশী জিনিস তৈরিতে বিভিন্ন বাঙালি মনীষা এগিয়ে আসেন। দেশীয় জিনিসের শিল্প গড়া ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনার সম্প্রসারনের মাধ্যমে জাতীয়তা বোধে উদ্বুদ্ধ করেন। দেশীয় জিনিস তৈরির জন্য কোম্পানি প্রবর্তন শুরু করেন। বাংলা স্বদেশী উদ্যোগপতির আবির্ভাব দেখতে পায় এই ব্রাহ্মমুহূর্তে। অগ্রনীদের মধ্যে মার্টিন বার্ন কোম্পানির স্যার রাজেন মুখার্জি ও বেঙ্গল কেমিক্যালের আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
উনিশ শতকের বাঙালি উদ্যোগপতি
বিশ শতকের আগে ও বাঙালিকে উদ্যোগপতির ভূমিকায় দেখা গেছে। উনিশ শতকের প্রথমদিকে এক বিখ্যাত বাঙালিকে এই ভূমিকায় দেখা যায়। তিনি প্রিন্স দ্বারকা নাথ ঠাকুর। ব্রিটিশদের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন কারবারে দ্বারকানাথের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। বিশেষত ব্যাংক, বীমা ও জাহাজ ব্যবসায় তিনি ব্রিটিশদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ব্যাংক ডিরেক্টর নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ম্যানেজিং এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন। Carr,Tagore and Company এই ম্যানেজিং এজেন্সি। পাট, কয়লা, চা ও অন্যান্য অনেক শিল্প পরিচালনার দায়িত্বে ছিল এই এজেন্সি। তিনি প্রথম বাংলায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ‘ব্যাংক অফ বেঙ্গল’ নাম ছিল সেই ব্যাংকের। পরে এই ব্যাংক ‘ ইম্পিরিয়াল ব্যাংক’ নামে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৫৫ সালের ১ লা জুলাই এই ব্যাংক বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ ব্যাংক ‘স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া’ নামে পরিবর্তিত হয়। এই Carr, Tagore and Company পরবর্তীকালে জলপরিবহনের ব্যবসায় ও নিযুক্ত হয়। কয়লা, গাঁজা ব্যবসায় ও দেখা এই কোম্পানির অংশগ্রহণ। এই কোম্পানি চীনা চা এর ব্যবসায় ও অংশগ্রহণ করে। চীনে গাঁজা রপ্তানিতে এই কোম্পানির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই ব্যবসার উদ্যোগ হয়তো জাতীয়তা বোধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিল না, তবুও ব্যবসায় বাঙালির উদ্যোগ অস্বীকার করা যায় না।
জাতীয়তাবাদ ও বাংলার উদ্যোগপতি
বিশ শতকের শুরুর দিকের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র স্যার রাজেন ও প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।স্যার রাজেন মুখার্জি মিঃ মার্টিনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে মার্টিন কোম্পানি গঠন করেন। পরে এই কোম্পানি মার্টিন বার্ন কোম্পানি নামে অধিক পরিচিতি লাভ করে। এই কোম্পানি বহু কীর্তির স্বাক্ষর রেখে গেছে। ত্রিপুরা, পলতা, আমেদাবাদ ও বেনারসে জলসরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলে ছিল এই কোম্পানি। আজকের কলকাতার বিভিন্ন হেরিটেজ সৌধ মার্টিন কোম্পানি তৈরি করেছিল। এদের মধ্যে টিপু সুলতান মসজিদ, গার্ডেন রিচ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বেলুড় মঠ, এসপ্ল্যানেড ম্যানশন, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, বিধানসভা ভবন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। একসময় কলকাতা মার্টিন সিটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। এছাড়াও আরও অনেক উল্লেখযোগ্য নির্মানের কীর্তি এই কোম্পানির তালিকায় ছিল।
আর আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্রের বেঙ্গল কেমিক্যাল বিভিন্ন ওষুধ ও দ্রব্য নিয়ে তার গুরুত্ব এখনো বাংলায় ও বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে রাখতে পেরেছে। ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন এখনো সারা দেশে ও বিদেশে রপ্তানিতে এই কোম্পানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই কোম্পানি আমাদের দেশের সর্ববৃহৎ কেমিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ছিল এবং ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এদেশে এই কোম্পানি পথিকৃৎ ছিল। এই কোম্পানির ‘অ্যাকোয়াটাইকোটিস, ফিনাইল’এখনও জনপ্রিয় দ্রব্য হিসেবে বাজারে তার সুনাম বজায় রেখেছে।
এছাড়াও ১৯১৬ সালে কে সি দাশ ( ইনি বিখ্যাত মিষ্টির দোকানের প্রতিষ্ঠাতা নন), বি এন মৈত্র ও আর এন সেন তিন বাঙালি উদ্যোগপতি মিলে ‘ক্যালকাটা কেমিক্যাল কোম্পানি’ নামে এক ওষুধ কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বদেশী ওষুধ কোম্পানির চিন্তা ভাবনা থেকে এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠা। এই কোম্পানির দুটি উল্লেখযোগ্য প্রডাক্ট হল নিমজাত মার্গো সাবান ও ল্যাভেন্ডার ডিউ পাউডার আজও জনপ্রিয়। এই কে সি দাশ ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার ভারতীয় জাজ রায় বাহাদুর তারক চন্দ্র দাশ ও মোহিনী দেবীর সন্তান। ইনি পেশায় কলেজ শিক্ষক ছিলেন। ১৯০৪ সালে কে সি দাশ শিক্ষার জন্য জাপান রওনা হন। সেখান থেকে আমেরিকা যাত্রা করেন। তাঁর এই শিক্ষার জন্য জলপানির ব্যবস্থা করেছিল ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্টিফিক ইন্ডাস্ট্রি। তিনি সেখানে বার্কলের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়াতে ভর্তি হন। পরে ১৯০৭ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতির কারনে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিদ্যায় সম্ভবত প্রথম ভারতীয় গ্রাজুয়েট ছিলেন কে সি দাশ ও সুরেন্দ্র মোহন বোস। এই কে সি অসংখ্য বাঙালি যুবককে আর্থিক সাহায্য করেছেন তাদের ব্যবসার স্বপ্ন সফল করার জন্য। তার মধ্যে যেমন হকার, স্ট্রীট ভেন্ডার আছে, তেমন আছে অনেক ছোট্ট ব্যবসায়ী। জাতীয়তা বোধে বাংলার গৌরবময় কীর্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রয়াসে কে সির অবদান অনস্বীকার্য।
বার্কলে ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা সুরেন্দ্র মোহন বোস ছিলেন বিখ্যাত সেই ‘ডাকব্যাক কোম্পানি’ র প্রতিষ্ঠাতা। ‘বেঙ্গল ওয়াটার প্রুফ লিমিটেড ‘নামে প্রথমে রেজিটার্ড করা হয়, ‘ব্রান্ড নেম হিসেবে ‘ডাকব্যাক’বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিতি লাভ করে। রবার দ্রব্য, জুতো, রেনকোট, হটব্যাগ আরও অনেক কিছু তৈরি করতো এই কোম্পানি।
এর বাইরে ও ‘বেঙ্গল ইমিউনিটি’ ভারতীয় পরিবেশে উপযোগী অ্যান্টি টক্সিন ওষুধ তৈরি করে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। তৎকালীন ইউরোপীয়দের মধ্যে এই এই ওষুধ বিস্ময়ের ও ঈর্ষার সৃষ্টি করেছিল। এই ‘বেঙ্গল ইমিউনিটি’প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯১৯ সালে। এর মূল প্রবর্তকদের মধ্যে ছিলেন স্বনামধন্য ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়, ডাঃ নীলরতন সরকার, স্যার কৈলাশ চন্দ্র বসু, ডাঃ চারুচন্দ্র বসু ও আরও অনেকে। বাঙালির এই উদ্যোগ সারা দেশের নজর কেড়েছিল। ‘দেজ কেমিক্যাল’ ওষুধ শিল্পে বাঙালি উদ্যোগপতির আর একটি অবদান। আজও ধীরেন দে এই প্রতিষ্ঠান সসম্মানে নিজের কীর্তি ও সুনাম বজায় রেখে দেশে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সাইকেল শিল্পে ‘সেন রালে কোম্পানি’র কীর্তি অক্ষয় হয়ে আছে। বাঙালির মন থেকে বিস্মৃতপ্রায় শিল্পোদ্যোগী সুধীর কুমার সেন সারা দেশে সস্তায় পরিবহনের এই যান উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সময়ের বিখ্যাত রালে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে এই দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ব্যবস্থার জন্য সেন মহাশয় আজও বাঙালির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের লোকের মধ্যে এই যানকে জনপ্রিয় করতে সফল ও হয়েছিলেন।
এছাড়াওদেশলাই শিল্পে ‘বন্দে মাতরম’ প্রডাক্টের ক্ষেত্রেও বাঙালির অবদান অনস্বীকার্য। এই ম্যাচবক্স শিল্প মূলত কুটির শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিল। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে নামে ‘বন্দে মাতরম’এর প্রভাব দেখা যায়। বস্ত্রশিল্পে শ্রীরামপুরের’বঙ্গলক্ষী কটন মিলস’ ও বাঙালি উদ্যোগপতির দেশীয় জিনিসের প্রতি দেশবাসীর আবেগ বৃদ্ধির এক প্রয়াস। বিদেশী ল্যাঙ্গাশায়ারের কাপড়ের পরিবর্তে দেশের কাপড় দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার বাঙালির এক অদম্য প্রচেষ্টা। এছাড়াও ‘মোহিনী মিলস’, ‘বাউড়িয়াকটন মিলস’ (১৮১৮) ও ‘ফোর্ট গ্লস্টার কটন মিলস’ (১৮৩০) বস্ত্রশিল্পে বাঙালি উদ্যোগপতির অবদান। স্বদেশী আন্দোলনে এই সকল শিল্প দেশীয় দ্রব্যের উৎপাদন ও বিক্রি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল।
১৯০৫ সালে কলকাতার ট্যাংরা রোডে ‘ক্যালকাটা পটারি’র পত্তন হয়। পরে ১৯১৯ সালে এটি ‘বেঙ্গল পটারি’ নামে নতুন কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। মূলত খেলনা, ক্রকারি ও বৈদ্যুতিক ইনসুলেটার তৈরিতে নিযুক্ত ছিল এই কোম্পানি। পরবর্তী কালে আর্থিক সংকটের কারণে’বেঙ্গল পটারি’কে অধিগ্রহণ করে দিল্লীর ‘গোয়ালিয়র পটারি’ ১৯৩৪ সালে। এম কে ভগত ছিলেন এই কোম্পানির সর্বময় কর্তা। সেই সময় বেঙ্গল পটারির কর্মী সংখ্যা ছিল ৬০০ এর ওপর। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সরবরাহে এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল। পরে জি কে ভগত, একজন আমেরিকা থেকে সিরামিক ইন্জিনিয়ারিং এ পাশ করা ব্যক্তি, এই কোম্পানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আমাদের দেশে প্রথমে গ্যাসবাতি ছিল। বিশ শতকের প্রায় মধ্যভাগে জমিদার পরিবারের তিন ভাই সুরেন, হেমেন ও কিরন শঙ্কর রায় ‘বেঙ্গল ল্যাম্পস’নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে প্রথম এই দেশে ইলেকট্রিক বাল্ব ব্যবহারের সুযোগ করে দেন। এদের মধ্যে সুরেন ও কিরন জার্মানি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং পাশ করা। এরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান ও করেছেন। আর হেমেন ছিলেন দক্ষ প্রশাসক। বহু বিতর্কের জন্মদাতা এই বেঙ্গল ল্যাম্প আজও বাঙালির কাছে অচেনা নয়।
১৯১৯ সালে বাঙালি তথা সারা দেশবাসীকে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাস খাওয়ার সুযোগ করে দেন বাঙালি উদ্যোগপতি ক্ষীরোদ বিহারী চক্রবর্তী। এই উদ্যোগে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহের মহারাজা রাজেন্দ্র কিশোর ও পাইকপাড়ার কুমার অরুণ সিং। এই ‘ক্যালকাটা ফ্যানস কোম্পানি ‘ডি সি ফ্যানের জনপ্রিয়তা এখনো শোনা যায়। বহু বছর ধরে এই ফ্যান বাঙালির ঘরে ঘরে শোভা পেত।
বিখ্যাত ‘সুলেখা কালি কোম্পানি’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ননীগোপাল ও শঙ্করাচার্য মৈত্র ভাতৃদ্বয়। এই সুলেখা বহু বছর ধরে বাংলা তথা সারা দেশে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে গেছে। ছাপা বিশেষ করে আধুনিক ছাপা অর্থাৎ অফসেট প্রিন্টিং এর ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হলেন সুবোধ মজুমদার। তিনি ‘সরস্বতী প্রেস ‘প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির গর্বের ক্ষেত্র বাড়িয়েছেন। গ্রামীন এলাকায় ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ‘ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ‘প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বাঙালির অস্মিতা বৃদ্ধি করেছেন।
এছাড়াও হোসিয়ারি শিল্পে ‘গোপাল হোসিয়ারি ‘তার গুনমানের জন্য আজও জনপ্রিয়। ব্যাটারি শিল্পে ‘ভারত ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারিং’ একসময় অতি পরিচিত নাম ছিল। পর্যটনে শ্রীপতি চরন কুন্ডুর ‘কুন্ডু স্পেশাল ‘সুনাম বজায় রেখে এখনো বর্ধমান। বেকারি শিল্পে ‘আর্য বেকারি এন্ড কনফেকশনারি’একসময়ের পরিচিত নাম। শুরু ও শেষে মিষ্টি মুখ এখন আর বাঙালির একচেটিয়া নয়। প্রত্যেক ভারতীয়র এখন পরম্পরা। সেই মিষ্টি শিল্পে ও বাঙালির আসন তখনকার মতো এখনো বজায় আছে। কে শি দাসের রসগোল্লা ও নকুড়ের সন্দেশ এখনো তার গুনমান বজায় রেখে বাঙালির ব্যবসা বজায় রেখেছে।
এই সকল বাঙালি উদ্যোগপতি শুধু জাতীয়তাবাদী ছিলেন না, সারা দেশে যুবকদের কাছে এখন ও রোল মডেল। যে কঠিন পরিস্থিতিতে এদের অনেকেই বিদেশি ডিগ্রির অধিকারী হয়ে ও চাকরি সুখের নিদ্রায় মগ্ন না থেকে ব্যবসার ঝুঁকি ও টেনশন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ও নিজের নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে গেছেন। এখনকার অনেককিছু পাওয়া বাঙালি যুবক তাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হলে আখেরে লাভবান হবে বাংলা ও বাঙালি।

তথ্য ঋণ:
রাধেশ্যাম রাংতা, ‘দি রাইজ অফ করপোরেশনস ইন ইন্ডিয়া ‘
এন কে সেনগুপ্ত, ‘ গভর্নমেন্ট এন্ড বিজনেস’
কৌস্তভ ভট্টাচার্য এর বাঙালি উদ্যোগপতি এর ওপর আর্টিকেল
সৌম্য দাশগুপ্ত এর বাঙালি উদ্যোগপতির ওপর আর্টিকেল

সজল কুমার মাইতি, পিএইচডি। লেখক ও অধ্যাপক। জন্ম ও বাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের কলকাতায়। তিনি মূলত গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে থাকেন। লেখালিখি শখের হলেও পেশাগত জীবনে তিনি ভারতের সরকারি কলেজ 'হুগলী মহসীন কলেজ'--এর বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। এর...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ