বিশীর্ণ বনসাই 

মেশকাতুন নাহার
কবিতা
Bengali
বিশীর্ণ বনসাই 
বিশীর্ণ বনসাই 
এই অঙ্গনা তুমি আরেকটু বড় হও
এখনো তুমি বাচ্চাদের মতো কেন?
সেদিন বলেছিল বাতায়নের ফাঁকে অর্ক এসে আমাকে,
আমি বুঝাতে পারিনি আমার অক্ষমতাকে।
কেমন করে আমি বড় হবো?
আমি যে টবে বেড়ে ওঠা বটবৃক্ষের কন্যা,
নতুন কুড়ি এলেই কেটে দেওয়া হয় যত্নে!
রাখা হয় আধুনিক বাড়িঘরের শোভা বর্ধনে।
হ্যাঁ ঠিক বুঝেছো এবার, আমি তোমাদের চিত্তাকর্ষক বনসাই,
স্বাধীন ভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ নাই,
শাখা-প্রশাখা আষ্টেপৃষ্ঠে সুচালো বেড়িতে করা হয় সেলাই।
হৃদভূমিটা নিষ্পেষণে অনুভূতির কোষগুলো করে দেয় যে মাড়াই।
খুব খুব ইচ্ছে ছিল দুলবো ঐ সবুজের সমারোহে,
নরম সেই কাদামাটিতে পা ভেজাবো অতি উৎসাহে।
কিন্তু হায় আঁধার ঘরে দমিত তনু শিল্প বুদ্ধির দ্রোহে,
ইচ্ছেগুলো রুদ্ধশ্বাসে গৃহীত অদৃশ্য কারাগৃহে।
তাই বুঝি আর পূর্ণবর্ধিত হতে পারিনি,
শিশুসুলভ চিন্তার মাঝেই থেমে আছে জীবন কাহিনী।
প্রভাতের রোদ্দুরে শিশিরের জন্য গাওয়া হয়নি কোনো গান,
প্রকৃতিকে ছেড়ে একাকিত্ব সঙ্গী করে রূপটি হলো বনসাইয়ের ম্লান।

পেশা হিসেবে শিক্ষকতার সাথে জড়িত। কলেজে পড়ান। সমাজকর্ম বিষয়ের প্রভাষক। কর্মসূত্রে থাকেন চাঁদপুর, কচুয়াতে। জন্মস্থান নরসিংদীতে। প্রকাশিত একক কাব্যগ্রন্থ একটি, ‘দীপ্ত আবির্ভাব’। যৌথ প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, অরণ্যের দিনরাত্রি, বেলা অবেলার গল্পগুচ্ছ, কিছু পরিচিত মুখ ইত্যাদি। মূলত কবিতা লিখেন। গল্পের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ