বিষয় আমাজন

শ্বেতা সরকার
কবিতা
Bengali
বিষয় আমাজন

বিষয় আমাজন

মানুষ নাকি শ্রেষ্ঠতম
জীবজগতের মধ্যমণি,
কালিদাসে মতোই কাটে
আশ্রয় দেওয়া ডাল খানি।
প্রাণ সৃষ্টির আদিকালে
প্রকৃতি মাতা পালন করে,
সবুজ নিংড়ে নগরায়ন
সুসভ্যতার ধ্বজা ধরে।
প্রাণবায়ুতে মিশছে বিষ
ফুসফুসে আজ জ্বলছে আগুন,
শেষের ক্ষণ আসবে যেদিন
কোটিপতিও পাবে শমন।
পুঁজিবাদী লোভের থাবায়
মৃত্যুমুখে বন্য প্রাণী,
শ্রেষ্ঠতম জন্তু হয়ে
খুঁড়ছি নিজের কবরখানি।

 

অগোছালো তোমাকে

অগোছালো তোমাকে চুরি করতে বেশ লাগে।
তোমার কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে,
আমার একঘেয়ে গৃহস্থালির মাঝে,
জমাটি আড্ডার মাঝে,
কিছু ক্ষণ তোমাকে চুরি করতে বেশ লাগে।

অগোছালো তোমাকে আদরে ভরাতে বেশ লাগে।
বেশতো থাকো ভালো ছেলেটির মতো,
মাঝে মাঝে দুষ্টুমি করো ঠিকই,
তবুও বেশ ভেলভেলেটি আমার।
তোমাকে চুরি করে আদরে ভরাতে বেশ লাগে।

অগোছালো তোমার আদুরে জড়ানো বেশ লাগে।
সূর্যাস্তের লাল রঙ মেখে,
ঝুপ করে নেমে পড়া সন্ধ্যার হাত ধরে,
নতুন কেনা প্রিয় সুগন্ধীর
প্রথম সুবাস নেওয়ার মতো,
আদর জড়ানো অগোছালো তোমাকে চুরি করতে বেশ লাগে।

অভিমানী নীরবতা

আমি শুধুই সহ্য করি,
একঘেয়ে দিন, একঘেয়ে রাত।
হরেক কাজের ভীড়ের মাঝে,
হারিয়ে যাওয়া আমার আকাশ।
তুমিও না হয় সহ্য করলে,
ক্ষণকালের নীরবতা।

নীরবে শুধুই সহ্য করি,
অফিস ফেরত মাথা গরম।
চায়ের জল কম ফুটেছে,
খাবার কেনো এত গরম।
তুমিও না হয় সহ্য করলে
কয়েক প্রহর নীরবতা।

সহ্য করি প্রতিদিনই,
অবুঝ ছেলের দুষ্টুমি।
ক্লান্তিকর মাতৃত্ব আর
সারাদিনের হয়রানি।
তুমিও না হয় সহ্য করলে
কয়েক দিনের নীরবতা।

সহ্য করি আমিই শুধু,
অসমাপ্ত পুড়ি যখন।
ক্লান্ত তুমি ঘুমিয়ে পাশে,
আমি শুধুই সয়েছি তখন।
তুমিও না হয় সহ্য করলে,
কয়েক রাতের নীরবতা।

সবই আমি সহ্য করি,
পান থেকে চুন খসলে পরে,
বিদ্রূপ আর বাঁকা কথা,
সহ্য করি প্রেমের ক্ষত,
স্বত্ত্বা জ্বলে কাঁটার ঘায়ে,
বিশ্বাসে টাল অবিরত।

তুমিও না হয় সহ্য করলে,
শুধুই আমার নীরবতা।

ধরা দিই যদি

উদাসী বিকেল আমার,
কখনো যদি তোর পিঠ ছুঁয়ে নামি
আহ্লাদি বৃষ্টি হয়ে,
ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়া অমোঘ গভীরতায়,
সোহাগী আঁজলায় ধরিস তবে।
অথবা যদি হই ভোরের দখিনা,
এলোমেলো করি তোর অভিমানী নিরবতা,
জড়িয়ে নিস তবে বুকের আগলে।
কোনো এক নির্জন দুুপুরে,
কবিতার খোলা খাতা হই যদি,
খেয়ালি লেখা লিখিস তবে তুই
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
আর যদি হই দুরন্ত নীল নদী,
এঁকে দিস তবে, কিছু মুহূর্ত দামী,
রাত প্রহরের মায়াবী জ্যোস্নায়।

শ্বেতা সরকার। জন্ম ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি। স্থান, বাবার কর্মস্থল টিকিয়াপাড়া রেল কোয়াটার, হাওড়া,বাংলা, ভারত। পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে হাওড়া নরসিংহ কলেজ থেকে বায়ো-সায়েন্সে স্নাতক। ছোট বেলা থেকেই নাচ,গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফিতে ছিল শখ। বিবাহসূত্রে খড়্গপুরের বাসিন্দা। আঞ্চলিক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..