বৃষ্টি বিদ্যালয়

হিমাদ্রী চৌধুরী
কবিতা
Bengali
বৃষ্টি বিদ্যালয়

বৃষ্টি বিদ্যালয়

আমার নিজস্ব কোন কান্নার শব্দ নেই।ধরে নেয়া যায়, কান্নায়, — নিরক্ষর এক নেফথলিন, প্রচণ্ড আঘাতেও ভাঙেনা প্রাগৈতিহাসিক চোখ, কেবল উড়ে উড়ে যায় শরীর হতে অদৃশ্য পাখি।সূর্য তার তপ্ত যৌবন রেখে কখনো কখনো আত্মগোপনে যায়, চাঁদের উজ্জ্বল অন্ধকার থাঁবায় খুলে ফেলে সম্ভ্রম, লোকে বলে, — চাঁদ আজ সূর্য খেলো!

সমুদ্র, ঝঞ্ঝা থামিয়ে একদিন, কাঁদতে কাঁদতে শিশু হয়ে যায়, চরমপন্থী বালুর ভিতর কাঁটাফল ভর্তি জাগিয়ে রাখে জলজ ইতিহাস।পেঁয়াজ কাটতে কাটতে রমনীর চোখ জুড়ে দীঘি থৈথৈ।দেয়াল, তার ক্ষত জুড়ে চাষ করে শ্যাওলার বন

আমি চাষা, হয়তো মজুর, — প্রপাতের মতো ঝরে পাথরে আঁকি ফসিল, হাঁড়ে ভিতর সীসা অথবা কার্বন খেয়াল কর্কট ঋতু মাদুর পেতে বোসে,
আমার তবুও আদর জোটেনা, জোটেনা অন্নের পূর্ণা
হাঁড়ি, এক থালা নিশ্চিত শাদা ভাত, তিন বেলা!

আমার ভিতর মেঘ ডাকে, ময়ূর সাঁতরায়, ক্লান্ত ঘোড়া আরো জোরে ছুটে টগবগ টগবগ, আমি নিরক্ষর নেফথলিন, গলিনা, কেবল, — উড়ে উড়ে যাই।

আয়নার সম্মুখে নিজেই বিস্মিত বিস্ময় আমি নিজের কাছে, কান্নায় জুড়ে আছি বিরুদ্ধ জীবনের খামে, কান্না তবুও অচেনা লোবান।

আমি বৃষ্টি শব্দ শুঁকে শুঁকে জানতে পারি, — আজ আমি কাঁদছি বৃষ্টি রঙে, বৃষ্টি বৃষ্টি খেয়ালে।

 

নরোম শরম

ঘরে থেকে বেরিয়েই হাত ধরে চলি রোদ। সংবিধানে হলুদ মানে সাবধান। আমরা বন্ধু দুজনেই, হয়তো কখনো মাংসের ভাঁজে ভাঁজে জমিয়ে তুলি সমুদ্র ভোজন।

গলে হিম,
জলের আকার।

পাঠ করি হাঁস পালকের নরোম শরম।

 

উধাও হাত

ক্যালেন্ডারের বর্ধিত তারিখে ধানক্ষেত ভেঙে একদল পাখি হেসে ওঠে শীত ব্যবসায়ীর ঠোঁটে। মোটা চাদরের মধ্যে কুয়াশা জমিয়ে, তারা পরিকল্পনা আঁটে জমতে থাকা রক্তে গাছ বুনে, বাড়িয়ে নেবে বিছানার শান, চুম্বনের সওকাত!

ওরা বেশ্যাচারী, লোমশ মগজে ধুতরাফুলের অবরোধ —
চোখের আলে নূহের নৌকা ভিড়িয়ে উধাও হাতে দাঁড় বয়ে চলে রাত-দিন।

ঘোর

সিজোফ্রেনিক আলোয় পুড়ে ফ্লোরে হাঁটা লাল স্যান্ডেল জোড়া শীত ভুলে বাড়িয়ে নিচ্ছে
ছায়াভ্রমণ—

সরে সরে যায় পা দিলেই,স্যান্ডেল,
য্যানো পা আমার যুদ্ধ ঘোড়ার খুর!

বাড়ছে আলো, ছায়ার শরীরে তার জ্বর জ্বর ঘোর।

হিমাদ্রী চৌধুরী। কবি ও শিক্ষার্থী। জন্ম ও বাস বাংলাদেশের ঢাকায়। লেখাপড়া করছেন ইংরেজি সাহিত্যে। তিনি স্বপ্ন দেখেন পৃথিবী হবে ক্ষুধা ও বৈষম্যমুক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, ভুল বোধের প্রাচীর ভেঙে একদিন আলো আসবেই।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ