ব্ল্যাকমেলিং

শ্বেতা সরকার
গল্প
Bengali
ব্ল্যাকমেলিং

দেবতোষ ছুটছেন। সরু রাস্তাটা খালি বেঁকে বেঁকে যাচ্ছে। রাস্তার দুপাশের উঁচু উঁচু বাড়িগুলো ঘুমে অচেতন। বাঁকের পর বাঁক দেবতোষ ছুটছেন তবুও শেষ দেখতে পাচ্ছেননা। আচমকা আলোগুলো নিভে গেলো। অন্ধকার তাঁকে গিলে খেতে আসছে। ” মনামী ই ই ” পরিত্রাহি চিৎকার করতে চাইছেন দেবতোষ। কিন্তু গলায় শব্দ আটকে যাচ্ছে। গলা চিরে শব্দ বের করতে চাইলেন, ” মনা-মী-ই-ই-ই-ই”। ঘুম ভেঙে গেলো দেবতোষের। আতঙ্কে আলজিভ পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। কোথায় আছেন? নিজের বাড়ী নাকি অন্য কোথাও বুঝতে খানিক সময় লাগলো তাঁর। অন্ধকারে চুপ করে বসে নিজেকে ধাতস্থ করলেন তারপর সুইচবোর্ড কোনদিকে সেটা বুঝে নিয়ে আলো জ্বেলে বাথরুম সেরে চোখে মুখে জল দিয়ে চুপ করে বসলেন। ঘড়িতে রাত আড়াইটে বাজে।অক্টোবরের হাল্কা শীতের রাত অথচ দেবতোষ ঘেমে স্নান করেছেন।এই নিয়ে দিন পাঁচেক হলো এমন উৎকট কিছু দেখে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে তাঁর। দিন পনেরো হলো ভীষণ রকম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মাথা নিচু করে বসে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। আর শুতে ইচ্ছে করলোনা। আলো নিভিয়ে বারান্দায় এসে বসলেন। চারতলার নিচে নিঝুম আলোকিত শহর। শীতের হিমে খানিক ঝাপসা।

মনামীর সাথে উজ্জ্বল দিনগুলিও আজ ঝাপসা। কিছু কি ঘাটতি ছিলো দেবতোষের? বছর চারেক আগে ফিরে গেলেন দেবতোষ। ফেসবুক থেকেই পরিচয় হয়েছিল তাঁদের। মনামী তার মাতাল বরের অশান্তিতে বিধ্বস্ত আর দেবতোষ সেই কবে থেকেই স্ত্রীর সাথে সেপারেশনে আছেন।দুই ছেলে মেয়ে কুট্টুস আর কণাকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন এতোদিন। স্ত্রীর সাথে এক ছাদের তলায় থেকেও সিঙ্গল ফাদারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রান্না করা, ছেলে মেয়েকে তৈরি করে স্কুলে পাঠানো, কলেজের অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করা, দিনের শেষে ঘরে ফিরে ছেলে মেয়ের পড়া তৈরি করানো, এইভাবেই ব্যস্ত জীবন কেটেছে তাঁর। এই সবের মাঝেই স্ত্রীর একের পর এক অশান্তি। কি না করেছে রাই। দেবতোষের গায়ে কেরোসিন তেল পর্যন্ত ঢেলে দিয়েছে দেশলাই জ্বালাবে বলে। কোনক্রমে পাশের রুমে দরজা বন্ধ করে নিজেকে বাঁচিয়েছেন তিনি। কুট্টুস আর কণা বাইরে বেরিয়ে পরিত্রাহি চিৎকার করে আশেপাশের লোকজন ডেকে দেবতোষকে উদ্ধার করেছে। শেষ পর্যন্ত রাই ফোর নাইন্টি এইটের মিথ্যা মামলাও করেছে। অধ্যাপনার চাকরী হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে যেতেন তিনি। কুট্টুস আর কণা থানায় গিয়ে জানিয়েছে বাবার কোন দোষ নেই সব মিথ্যা।

এইভাবেই যৌবনটা হারিয়ে গেছে দেবতোষের। বর্তমানে কুট্টুস আর কণা দুজনেই প্রতিষ্ঠিত। কণা নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করেছে। কুট্টুস তার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে। দেবতোষের ব্যস্ত দিনগুলোর ইতি হয়েছে। কলেজের কাছে একটা ফ্ল্যাটে একা থাকেন বছর পঞ্চাশের দেবতোষ। স্মার্টফোনের দৌলতে কণা আর কুট্টুস প্রতিদিনই বাবার সাথে ভিডিও কলে যোগাযোগ রাখে।ওরা দুজনেই বাবার প্রতি ভীষণ দায়িত্বশীল।ওদের মানুষ করতে গিয়ে ওদের বাবা যে তাঁর জীবনের মূল্যবান সময় টা হারিয়ে ফেলেছেন তা ওরা খুব ভালো বোঝে। কণা মাঝে মাঝেই বাবার কাছে এসে কিছুদিন থাকে। তখন বাবার পরিচর্যার শেষ থাকেনা। বাবাকে ফেসিয়াল করা, চুল কালার করা, গা হাত পা ঘষে স্নান করানো, মোটকথা তার পাঁচফুট সাত হ্যানসাম বাবাকে ইয়াং দেখানোর চেষ্টার কমতি থাকেনা। দেবতোষ তখন মেয়ের শাসনে আদরে ছোটবেলায় ফিরে যান। কুট্টুস কণা আর দেবতোষ তিনজনে পরম বন্ধু। প্রাণখুলে সবকথা বলতে পারে তিনজনেই। তবুও আজকাল ভীষণ একা লাগে দেবতোষের।

মাঝেমাঝেই হাঁফ ধরে যায়। নিজের মতো করে কাউকে পাশে পেতে খুব ইচ্ছে করে। সেই একাকীত্ব থেকেই মনামীর সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রপাত। কোন্নগরের কাছে একটা ফ্ল্যাটে দুজনে প্রায়ই থাকতেন। বছর চারেক এইভাবে চলার পর মনামী স্কুলের চাকরী পায়। তারপর থেকেই মনামীর ব্যস্ততার অজুহাত বাড়তে থাকে। প্রথম প্রথম দেবতোষ ভাবতেন সত্যই মনামীর ব্যস্ত থাকারই কথা। সারাদিন স্কুলের খাটনির পর আবার এসে সংসারের কাজ করলে ক্লান্তি আসাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিন পনেরো আগে মনামীর অন্যত্র সম্পর্কের ব্যাপারে পরিষ্কার প্রমাণ পেয়ে হতবুদ্ধি হয়ে পড়েন। জীবনে দ্বিতীয়বার ঠকে গিয়ে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েন তিনি। কণাকে সব কথা বলে হাল্কা হতে চেষ্টা করেন। কণাও তার মতো করে সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু মানসিক অস্থিরতা বিষাদ কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছিলেনা তিনি। একা ঘরে অবসাদ ঘিরে ধরে তাঁকে।বারবার নিজের ঠকে যাওয়ার কারণ খুঁজে চলেছেন। এইসব ভাবতে ভাবতে চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন দেবতোষ। শিরশিরে হিমেল ঠাণ্ডায় ঘুমটা ভেঙে গেলো। ভোর পাঁচটা। এই সময় উঠে স্কিপিং এবং ব্যায়াম তার বহুদিনের অভ্যাস। শরীরে মেদ জমতে দেওয়াকে ঘৃণা করেন তিনি। আজ ক্লান্ত লাগলো। চেয়ার ছেড়ে বিছানায় এসে চাদর চাপা দিয়ে শুয়ে পড়লেন তিনি।

ঘুম ভাঙলো রান্নার মাসির কলিং বেলের শব্দে। তাড়াহুড়ো করে রেডি হয়ে কোন রকমে খেয়ে কলেজ গেলেন দেবতোষ। পড়ানো আর কলিগদের সাথে আড্ডায় কলেজের সময়টা কেটে যায়। বাড়ি ফিরে আবার সেই বিষন্নতা গ্রাস করে। কণা আর কুট্টুসের সাথে কিছুক্ষন ভিডিও কলে সময় কাটে। তারপর আবার একা। গান গল্পের বই কিছুতেই মন বসছেনা। আনমনে ফেসবুক দেখে যাচ্ছেন। মেসেন্জারে হাই বলে কেউ পিং করে। অন্য সময় হলে ইগনোর করেন। আজ কিছুক্ষন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে সাড়া দিলেন। তানিয়া, কিছুদিন আগে যার রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেছিলেন। মেয়েটির সাথে সাধারণ কিছু কথাবার্তা বলে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়লেন দেবতোষ।ঘুমিয়েও পড়লেন।

ঘন্টা তিনেক পর ঘুম ভেঙে গেলো। ঘড়িতে বারোটা এগারো। এপাশ ওপাশ করতে করতে বুঝলেন আর ঘুম আসবেনা। কি আর করেন। অগত্যা ফোন অন করে ঘাঁটাঘাটি শুরু করলেন।

“হাই হ্যান্ডসাম।”

সেই নতুন মেয়েটা। সাধারণ কিছু কথা বলেছেন যার সাথে তার সম্বোধনের ছিরি দেখে বিরক্ত হলেন। ইউটিউবে রবীন্দ্র সঙ্গীত চালিয়ে পাশ ফিরে চোখ বুজলেন।পরের দিন রাতেও একই ঘটনা ঘটলো। রাতে ঘুম ভেঙে ফোন অন করতেই তানিয়ার মেসেজ ঢুকলো।

” হাই কিছু তো বলো, তুমি আমায় পাগল করেছো। “

মেয়েটির সাথে আর কোন কথা তাঁর হয়নি। তবুও এমন মেসেজ করছে। দেবতোষ একবার ভাবলেন এখুনি ব্লক করবেন। তারপর ভাবলেন একটু বকুনি দেওয়া দরকার। মেসেন্জারে যেতেই ভিডিও কল ভেসে উঠলো স্ক্রীনে। আচ্ছা বদমায়েশি তো! দেখি কতদূর যেতে পারে ভাবলেন দেবতোষ।এক বেয়াড়া মেজাজে ভিডিও কল অন করলেন। ভিডিওতে ফুটে উঠলো হিল্লোলিত নারী শরীর। দেবতোষ বিহ্বল হলেন। যৌবনের যাবতীয় চাহিদা গলা টিপে মেরে ফেলে সন্তান পালনের দায়িত্ব সেরেছেন তিনি। কলেজে কত সুন্দরী ছাত্রী পড়তে এসেছে। সুপুরুষ অধ্যাপকের প্রতি অনেকেই আকর্ষিত হয়েছে। তাঁরও তো কখনো কখনো সাড়া দিতে সাধ হয়েছে। কিন্তু কুট্টুস আর কণার মুখের দিকে তাকিয়ে মেরে ফেলেছেন যাবতীয় শরীরের চাহিদা। মরেই ছিলেন তিনি। মনামী এসে তাকে আবার জাগিয়ে দিয়ে গেছে। মনের জ্বালার সাথে সাথে শরীরের জ্বালাও জ্বালাচ্ছে তাঁকে।

” হ্যালো ডিয়ার দেখো দেখো। “

প্রথম শীতের শিরশিরে আমেজে নিজেকে হারালেন দেবতোষ। নেশাগ্রস্তের মতো নিজের শরীর উন্মুক্ত করলেন। সেক্স চ্যাটের গনগনে আগুনে দেবতোষ ভুলে গেলেন সেক্স চ্যাটের অলিখিত নিয়ম…শুধু শরীরের ছবি, মুখ নয়।

(২)

দুহাত দিয়ে কপালের দুপাশ টিপে ধরে চোখ বন্ধ করে ঘাসের ওপর বসে ছিলো কুট্টুস। বনির মোবাইলে ম্যাসেজ আর ভিডিও গুলো দেখে লজ্জায় মাথা কাজ করছিলোনা তার। আজ সকালে কুট্টুস যখন অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলো তখন বনির ফোন আসে। খুব জরুরী দরকার বলে বিকেলে দেখা করতে বলে বনি। আজ এমনিতেই হাফ ডে। কুট্টুস অফিসের কাছাকাছি একটা মেস ভাড়া করে থাকে। বিকেলে বনির সাথে পার্কে দেখা করলো কুট্টুস। তারপর কুট্টুসের একের পর এক বিষম খাওয়ার পালা। বনি জানায় তিন চার দিন আগে তানিয়া নামে একটি মেয়ে তাকে রিকোয়েস্ট পাঠায়। রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করার সাথে সাথে মেয়েটি মেসেন্জারে তাকে জিজ্ঞাসা করে দেবতোষ চৌধুরী নামে কাউকে বনি চেনে কিনা। খুব স্বাভাবিক ভাবেই বনি জানায় সে আঙ্কলকে চেনে। আর তার পরেই মেয়েটি আঙ্কলের এই সব খারাপ ছবি ভিডিও পাঠিয়ে বলে ,এগুলো নাকি আঙ্কল তাকে পাঠাতে বলেছে। যাতে এই সব দেখে বনির লজ্জা ভেঙে যায় আর বনি আঙ্কলের সাথে সেক্স করে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বনি বুঝতে পারে কোথাও কিছু গোলমাল হচ্ছে, তাই সে কুট্টুসকে সব জানায়। কুট্টুসের মাথা ঝাঁঝাঁ করছে। বাবার সেক্সুয়াল রিলেশনের জন্য নয় রাগ হচ্ছে বাবা একটু সাবধানী হতে পারলোনা? তাহলে এই ভাবে বনির সামনে লজ্জায় পড়তে হতোনা। এইসব ভেবে কপাল টিপে ধরে চুপ করে বসে ছিলো কুট্টুস।

” আঙ্কল কোন বিপদে পড়ে নি তো? “

নীরবতা ভাঙে বনি। চমকে ওঠে কুট্টুস। ঠিকই তো মেয়েটা বাবাকে ব্ল্যাকমেল করছেনাতো? মেয়েটা যদি বনিকে পাঠানো এই সব স্ক্রীনশট আবার বাবাকে পাঠায়। আর বাবা যদি লজ্জায় কোন কিছু ঘটিয়ে বসে। কি সর্বনাশ। লাফিয়ে উঠে দাঁড়ায় কুট্টুস। এখুনি বাড়ি যেতে হবে। বাইকে ঘন্টা দুয়েকের পথ। বনিকে বাড়ি ফিরতে বলে কুট্টুস বাইকে বসলো। কি মনে করে দিদিকে ফোন করে বললো বাবার সাথে কিছুক্ষন কথা বলতে। মনে মনে ভাবলো ভাগ্যিস দিদি আর জামাইবাবুর ফেসবুক নেই।

ওদিকে দেবতোষ ফোন হাতে চুপ করে বসেছিলেন। কিছুক্ষন আগেই বাল্যবন্ধু ধীরেন মহাপাত্র ফোন করেছিলো। তারপর ফোনে কতগুলো স্ক্রীনশট পাঠিয়েছে। দুদিন আগে ফেসবুকের নতুন বন্ধু তানিয়া দেবতোষের যাবতীয় ছবি ও ভিডিও ধীরেনকে পাঠিয়েছে। ধীরেন ফোন করে বলছিলো,

” বুঝি বুঝি তোর জ্বালাটা, কিন্তু তুই বোধহয় ফেঁসেছিস, মেয়েটাকে ব্লক কর, সাবধানে থাকরে, আমি আছি তোর পাশে, চিন্তা করিসনা।”

এর কিছু পরে তাঁর অত্যন্ত স্নেহের ছাত্রী সৌমি তাঁকে মেসেজে একই ধরেনের স্ক্রীনশটের কিছু অংশ পাঠিয়ে বলে,

” স্যার আপনাকে বহুদিন ধরে চিনি, অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি, মনে হলো আপনি বিপদে পড়েছেন তাই জানালাম। “

স্ক্রীনশটের না পাঠানো অংশে যে কি আছে তা বুঝতে দেবতোষের বিন্দুমাত্র অসুবিধা হলোনা।বিপদের গন্ধ দুদিন আগেই পেয়েছিলেন তিনি। সেদিন রাতে তানিয়ার সাথে ভিডিও কলের পরদিন সকাল থেকে তানিয়া ক্রমাগত মেসেজ করতে থাকে,

” এই জো হ্যানসাম কুট্টুস বনি এদের চেনো? ধীরেন চৌধুরী, সৌমি পাল চেনো এদের? “

” হ্যাঁ চিনি, কিন্তু কেন, এসব জানতে চাইছো কেন? “

” তোমার ছবি ভিডিও এদের কাছে পৌঁছে যাবে বুঝলে। “

মুহূর্তে দেবতোষের স্নায়ুরজ্জু বেয়ে শীতল স্রোত নেমে আসে। বুঝতে পারেন কি ঘটতে চলেছে। জীবনে কোনদিন তিনি অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়াননি। কুট্টুস আর কণাকেও সত্য সহজে মেনে নিতে শিখিয়েছেন। জীবনের স্বাভাবিক চাহিদা গুলোকে সম্মান দিতে শিখিয়েছেন। তারা বোঝে দেবতোষেরও কিছু স্বাভাবিক চাহিদা আছে। বাকি রইলো বাইরের লোক। দেবতোষ ভাবলেন তিনি কোনদিন কাউকে ঠকাননি, অসম্মান করেননি, অভদ্রতা করেননি, কোন এক অজানা মেয়ে তাঁর সম্পর্কে কি জানালো সেই কারণে কেউ যদি তাঁর সম্পর্কে ভুল কিছু ধারণা করে সেটা তাদেরই ভাবনার ভুল।

এই সব ভেবে মুহূর্তে শিহরিত স্নায়ু রজ্জুকে সজাগ করেন দেবতোষ। বুঝতে পারেন কোন রকম দুর্বলতা প্রকাশ করলে বিপদ তাঁকে পেয়ে বসবে। স্পষ্ট ভাষায় তানিয়াকে মেসেজ করেন,

” হুমকি দেওয়া বন্ধ করো, আমাকে হুমকি দিয়ে কোন লাভ হবেনা।”

এরপর দেবতোষ তানিয়াকে ব্লক করেন। কিন্তু কিছুক্ষন আগে বন্ধু ধীরেন আর ছাত্রী সৌমির মেসেজ দেখে বোঝেন বিপদ দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। কুট্টুস আর বনির নামও তানিয়া বলেছিলো। চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন দেবতোষ।তিনি যেমন কোন অন্যায় মানেননি তেমনি কোন অন্যায় করে ফেললে মাথা নিচু করে স্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তাই মাথা নিচু করেই কুট্টুস আর বনির মুখোমুখি হবেন বলে নিজেকে প্রস্তুত করলেন। কিছুক্ষন পরেই প্রতিদিনের মতোই কণার ফোন এলো। তবে আজ কণা একটু আগেই ফোন করেছে। আধঘন্টা খানেক কথা হলো কণার সাথে। ফোন রাখার ঘন্টাখানেক পর কুট্টুস এসে পৌঁছালো। দেবতোষ দরজা খুলে অবাক হলেন।

” কি রে তুই, আজ আসবি বলিসনিতো, মাসি তো রুটি করে দিয়ে চলে গেলো।”

” চিন্তা নেই, আমি চিকেন আর রুটি কিনে নিয়ে এসেছি। “

“বেশ করেছিস, যা ফ্রেশ হয়ে নে। “

বাইরের জামা প্যান্ট বদলে হাতমুখ ধুয়ে কুট্টুস দেখে বাবা চেয়ারে চুপ করে বসে আছে। কুট্টুস এগিয়ে এসে বাবার কাঁধে হাত রাখে,

” তুমি আমার ওখানে চলো বাবা, তুমি আর আমি আলাদা রুম নিয়ে নেবো মেসে, ওখানে খাওয়ার কোনো অসুবিধা নেই, খুব ভালো রান্না, এভাবে একা একা থাকলে তুমি যতো ভুলভাল কাজকর্ম করবে। “

দেবতোষ মাথা নিচু করেই কুট্টুসের হাতটা চেপে ধরেন তারপর মাথা নিচু করেই বলেন,

” সরি, ভুল করে ফেলেছি, ক্ষমা করে দে। “

” ইটস্ ওকে বাবা, আমি বুঝি সব। “

নিস্তব্ধ শীতের রাত, একটি ভরসার হাত ও একটি বিশ্বস্ত কাঁধ নীরবে বলে ওঠে “পাশে আছি “। শীতের শিশির নীরবে ঝরে পড়ে আঁধারের কোলে।

শ্বেতা সরকার। জন্ম ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি। স্থান, বাবার কর্মস্থল টিকিয়াপাড়া রেল কোয়াটার, হাওড়া,বাংলা, ভারত। পাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে হাওড়া নরসিংহ কলেজ থেকে বায়ো-সায়েন্সে স্নাতক। ছোট বেলা থেকেই নাচ,গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফিতে ছিল শখ। বিবাহসূত্রে খড়্গপুরের বাসিন্দা। আঞ্চলিক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মায়াবাড়ি

মায়াবাড়ি

‘বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে…’ স্পষ্ট, চাবুকের হিসহিস শব্দের মতো কণ্ঠ! বাবুই চমকে তাকাল।…..