ভালবাসার ৭ কাহন

তৌহিদ জামান
গল্প
Bengali
ভালবাসার ৭ কাহন

প্রতিদিন সকালে ও’পাড়া থেকে সে নাইতে (স্নান) আসতো, আমাদের ঘাটে। মাঝেমধ্যে বিকেলে বেড়াতো নদীর ঘাটে। কী মিষ্টি ছিল ওর হাসি। ঝলমল করতো। কথা বলতো, কী সুন্দর শুদ্ধ উচ্চারণে! সে গান গাইতো- স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রথম শুনেছি তার কণ্ঠে গান। সে হারমোনিয়ামটা সামনে এনে গাইছে-

মায়াবন বিহারিনী হরিণী,
গহন স্বপন সঞ্চারিনী
কেন তারে ধরিবারে করি পণ
অকারণ…

মুগ্ধশ্রোতা হই। কিন্তু বন্ধুরা হাত ধরে টানছে- বাইরে চল!

আস্তে আস্তে তার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ি; বন্ধুরা জিগগেস করে- কী হইছে?

ঘনিষ্ট বন্ধুকে বলি, রাণী আমাকে দেখে হাসে… চান করতে এলে হাসে, বিকেলে বেড়াতে বের হলেও হাসে!

: মিষ্টি খাওয়া দোস্ত! সে তোকে ভালবাসেরে-

নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়! হাওয়ায় উড়তে থাকি

একতরফা ভালবাসায় স্বস্তি নেই; সে কি আদৌ ভালবাসে- মনের কোণে প্রশ্ন জাগে। বন্ধুর পরামর্শ প্রত্যাশা করি।

সে জানায়, সরাসরি জিগগেস কর।

আমি বীরপুরুষ টাইপের। স্কুলের অন্যসবাই তা জানে। বন্ধুরাও তারিফ করে সাহসের।

এক সকালে রাণীর চান করতে যাওয়ার সময় পথ আগলে দাঁড়াই। প্রশ্নবোধক দৃষ্টি দিয়ে দেখে সে। অন্তরাত্মা শুকিয়ে কাঠ; মনে হয় কত শত বছর জল খাইনি; একদম শুষ্ক খনখনে। কণ্ঠভেদ করে কোনও শব্দ বের হয় না। মাথানিচু করে ফিরে আসি। সেও ফিক করে হেসে ঘাটের দিকে হাঁটা দেয়।

একদিন বিকেলে নদীর পাড়টায় বসে আছি। সখীসহ রাণীও এসেছে। যথারীতি আমাকে দেখেই ফিক করে হেসে ওঠে।

আজ মনপ্রাণশরীর সবটাকে একসঙ্গে শক্ত করে এগিয়ে যাই। যেভাবেই হোক- জানতে হবে, সে ভালবাসে কি না!

সখীকে একটু সাইডে থাকতে নির্দেশ দিয়ে সরাসরি তাকাই রাণীর দিকে।

চোখ দিয়েই সে প্রশ্ন করে- কী?

আমার হাত-পা অবশ হয়ে যাচ্ছে। কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ, খরখরে গলায় কোনোমতে জিজ্ঞেস করি- আমায় দেখে হাসো কেন?

: আপনার কী মনে হয়- উল্টো প্রশ্ন করে ও। তার কথায় হাইকোর্টের বিচারকদের মতো বিব্রত হই। তবুও বুকের ভেতর সাহস জোগায় কে যেন। অস্ফূটস্বরে বলি- ভালবাসো!

রাণীর সে কী হাসি! ঝরঝর করে মুক্তোদানা লুটিয়ে পড়ছে নদীর কূলে; কোনো ঝিনুক ছাড়াই!

এইবার পুরোপুরি বিব্রত হই। মনে মনে মামলা ছেড়ে দেওয়ার তাগিদ দেয় কোর্ট!

তারপরও ওই হাসিমুখ দেখার ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে…

হাসিটা থামিয়ে সে যা বললো, তাতে মামলা খারিজের পর উল্টো মানহানির পয়সা গছানো লাগবে বোধ হয়।

ধীরস্থির কিন্তু স্পষ্ট করে সে তার বাক্যসমূহ একদম তীরের ফলার মতো আমার হৃদপিণ্ডে গেঁথে দিচ্ছে। বাক্যগুলো উত্তপ্ত গলিত শীসার মতো ধীরেধীরে কর্ণগহ্বরে ঢুকছে… অবশ হয়ে যাচ্ছে শরীর।

মনে আছে, হাসতে হাসতেই সে বলছিল, আপনার দিলদার মার্কা ভাঙাচোরা দেহের সাথে ঢিলাঢালা পোশাক ঠিক কাকতাড়–য়ার মতো লাগে; দেখলেই হাসি পায়…

বাগেরহাটে বন্ধুর বিয়েতে গেছি সদলবলে। সেখানকার ঐতিহ্য, জামাইবরণ হয় শতাধিক আইটেমের পিঠা দিয়ে। বরযাত্রীরা তো সবসময় উচ্চমানের অতিথি!

গেটে আমাদের আপ্যায়নে গোটা দশ-বারো সুবর্ণকংকনপরাফরসাতরুণীর দারুণ উপস্থিতি। আমরাও বেশ খুশি; বন্ধুর বিয়ে- এরা সবাই কনের বন্ধু-বান্ধবী-স্বজন!

শরবত খাই, পিঠা খাই- আর বরের অভিভাবক গেটে মোটাঅঙ্কের টাকা দিয়ে ছাড়া পায়। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ব্যস্ত হয়ে পড়ি নয়াসম্পর্কের মানুষদের সাহচর্য প্রত্যাশায়!

মিঠুকে দেখি বাড়ির পাশে ছোট্ট একটা বাগানের, গাছের আড়ালে। তাকে অনুসরণ করে হাঁটতে থাকি, ফাঁকায় গিয়ে একটু বিড়ি ফুঁকে আসি।

কাছাকাছি যেতেই শুনতে পাই, গাছের আড়ালে এক নারী কণ্ঠের সঙ্গে মিঠুর আলাপন। আলাপের ধরণ শুনে সাবধান হয়ে যাই। শব্দ যাতে না হয়, সেকারণে পা টিপে টিপে তাদের কাছাকাছি আড়ালে লুকিয়ে থাকি।

মিঠু তার ব্যবসা-বাণিজ্য, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি নিয়ে কথা বলছে। অপরপাশের নারীকণ্ঠও তার বাবা-মায়ের বিষয়, তার লেখাপড়া, নিজের পছন্দ- ইত্যাদি বিষয়ে প্রগলভ কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ করেই সেখানে দৌঁড়ে আসে মিঠুর মেয়ে। বাবার হাতধরে চিৎকার করেই বলে ওঠে, আব্বু- মা সেই কখন থেকে তোমাকে ডাকছে! চলো শিগগির…

সবাই হতচকিত! নাটকের ক্লাইমেক্স মুহূর্ত। আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে সুবর্ণকংকনপরাফরসাদের একজন, বেশ রাগান্তিত স্বরে মিঠুকে জিজ্ঞেস করে- আপনি বিবাহিত?

মিঠুর করুণ সেই চোখমুখ দেখার মতোই হয়েছিল, বিড়বিড় করে বলে ওঠে, বহুদিন আগের কথা তো, ঠিকঠাক মনে নেই…
দুপদাপ পা ফেলে মেয়েটি আমাদের সামনে দিয়ে তীব্রগতিতে হেঁটে যায়

গেলরাতে আব্বাসের মানিব্যাগটা হারিয়ে গেছে! আড্ডায় কীভাবে যেন তা পড়ে যায়। পরদিন সকালে সে ঘোষণা দেয়, মানিব্যাগটা যে ফেরত দেবে, তাকে ভরপুর খাওয়ানো হবে।

বেকার মানুষদের ভরপুর খাওয়ানো মানে, বিকেলের চা নাশতা আর কী! উপস্থিতিগণ উঁহু আহা করে আর মনে মনে খুঁজতে থাকে মানিব্যাগ।

সভ্যগণের ধারণা, তার মানিব্যাগে হয়তো বেশ টাকা-পয়সা ছিল। কিন্তু সে জানালো, তেমন টাকা ছিল না। কিন্তু মহামূল্যবান কিছু চিঠি রয়েছে তার ভেতরে।

পরদিন মানিব্যাগটি পাওয়া যায়। আরেক সদস্য পেয়ে রাতুলের হাতে দেয় সেটি।

আব্বাসের সঙ্গে তখন পাড়ার এক নম্বর সুন্দরীর দহরম-মহরম; অন্তত সভ্যদের সেটিই জানানো হয়। তারাও বিশ্বাস করে, দুজনের মধ্যে গভীর ভালবাসা!

মানিব্যাগটা হাতে পেয়ে  দ্বিধাছাড়াই খুলে পড়া শুরু করে রাতুল।

চিঠি তো নয়, আসলে কয়েকটি চিরকুট দেখতে পায় সে। একটা একটা করে খোলে, আর পড়ে বিস্মিত হয়।

প্রতিটি চিরকুট ইংরেজিতে লেখা। লেখাগুলোর সাইজও খুব ছোট, স্কুলে বাঙলার সারাংশ লেখার কথা মনে পড়ে। স্যার বলতেন, গোটা কাহিনি অল্পকথায় লেখার মানেই হলো সারাংশ!!

সম্বোধন কিংবা ইতি ছাড়াই প্রত্যেক চিরকুটের বাঙলা অর্থ দাঁড়ায়, এতো তারিখ এই সময়ে এক হাজার কিংবা আঠারশ’ কিংবা পনেরশ’ টাকা পাঠাও!

রফিক ভাই আমাকে বললেন, এই কাগজটা তোমার আপুর কাছে দিতে পারবে? সানন্দে রাজি হই। কেননা তিনি আমাকে প্রতি বিকেলে তিন-চারটে করে চকলেট দেন।

রফিক ভাইয়ের টেইলরিংয়ের দোকান। প্রায় বিকেলে সেখানে যাই। নানারঙের কাপড়ের টুকরো সাজিয়ে ছবি বানাই।

তার শরীরটা পেটানো; সকালে ক্লাবে ব্যায়াম করেন। আমার শুকনো দেহকে তিনি ব্রুসলির মতো বানিয়ে দেবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন! আমি তার বিশাল ফ্যান!

পাড়ার বড় আপুটাও আমাকে বেশ আদর করেন। তাদের গাছের এটা সেটা দেন; টুকটাক জিনিসও কিনতে পাঠান দোকানে। আমি অনেস্টলি সবকিছু করে দেই, তিনিও আমাকে খুব ভালবাসেন!

কাগজের টুকরোটাতে কী লেখা জানিনে। সেটি হাতে নিয়ে সোজা চলে যাই আপুদের বাসায়। তিনি তখন পড়ার টেবিলে। আমাকে দেখেই পাশে খাটের পরে বসতে বলেন। হাতের কাজটা সেরে জিজ্ঞেস করেন, কিছু বলবি?

না, রফিক ভাই আপনাকে এই কাগজটা দিয়েছে।

তার হাতে গুঁজে দেই। তিনি খুলে দেখেন, তারপর কী যেন হয়- সপাং করে একটা চড় মেরে বসেন আমার গালে!

কী লেখা ছিল জানিনে, কিন্তু রফিক ভাইয়ের উপরে বেশ রাগ হয়। তিনি কেন যে চিঠিতে চড় মারতে লিখে দিয়েছেন, বুঝতে পারিনি!

এই নিয়ে বেশকিছুুকাল চিন্তিত ছিলাম বৈ কি!

শরিফের কাছ থেকে বই কেনা কিংবা অন্যসব প্রয়োজনে প্রায়ই টাকা-পয়সা নিতেন রুবি। সকাল-বিকেল আসতেন তার বাসায়। হাসিঠাট্টা করতেন দুজনে। রুবি দুইবার মেট্রিক ফেল। ছোটবোনের সঙ্গে আবার পরীক্ষা দেবেন। তার ছোটবোন আমাদেরই সহপাঠী, এবার পরীক্ষা দেবো।

রুবির এই আসা-যাওয়া, হাসি-ঠাট্টা, বই-পত্তরের লেনদেন- সবকিছু মিলিয়ে শরিফের মনে ভালবাসার জন্ম নেয়।

সেদিন গেছি শরিফের কাছে, একটা নোট নিতে। সদাহাসিখুশি শরিফের মন বেজার! নোট চাওয়া ভুলে জিজ্ঞেস করি, কারণ কী?

: জানিস তো, রুবির সাথে আমার সম্পর্ক। মাথা নাড়াই, হুমম।

আজ তাকে বলেছি, তোমাকে ভালবাসি!

তো- আমি প্রশ্ন করি।

সে আমাকে বলেছে, তোমাকে ছোটভাইয়ের মতই দেখি!!

পারুলের সাথে ফেসবুকেই পরিচয়। মেয়েটি সুন্দর ছবি আঁকে। পেন্সিল-পেন, প্যাস্টেল, কিংবা জলরঙে-সব মাধ্যমেই আঁকে। ছবিতে সবসময় বিরহের করুণ আবহ; নীলরঙটাই বেশি ব্যবহার করে সে। পোট্রেট এঁকে দেয় মানুষের, বিনিময়ে যা পায়- তা দিয়েই পঙ্গু বাবার সংসার চালায়।

রাশেদ বিমোহিত। তার একটা পোট্রেটও এঁকে দিয়েছে সে।

মাস ছয় হলো তাদের পরিচয়। এই সময়ে দুজনই দু’জনার নাড়ি-নক্ষত্র জেনে নিয়েছে।

মাঝেমধ্যে খুব বিপদে পড়লে রাশেদকে নক করে।

সংসারের অভাব-অনটনের বিষয়টি লাঘবে সরকারি কিছু ব্যবস্থার কথা চিন্তায় ছিল। সেকারণে এক বন্ধুর মাধ্যমে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসেও যোগাযোগ করেছে।

বন্ধু গেছিল পারুলের দেওয়া ঠিকানায়। সমাজসেবা অফিস বেশ পজিটিভ মেয়েটির জন্যে। তারাও একটা কাজের ব্যবস্থা এবং সরকারি সুবিধা প্রদানে সম্মত হয়। কিন্তু পারুলের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে কিছুই মেলেনি। ওই নামে কেউই থাকে না সেখানে।

ঘটনা জানতে পেরে বিস্মিত রাশেদ সেদিন বিকেলে ফোন দেয়। পারুলকে গোটা ঘটনা বুঝিয়ে বলে সে। এতে হঠাৎ করেই ক্ষিপ্ত হয় পারুল। কেন তাকে না জানিয়ে তার বাড়ির ঠিকানায় লোক পাঠানো হলো- উল্টো কৈফিয়ত তলব তার।

ওই ঠিকানায় কাউকে পাওয়া যায়নি বললে সে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।

চিৎকার করে বলে- কত টাকা দিয়েছো আমায়? সব আমি চুকিয়ে দেবো! আর কখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করো না…

এরপর আরও কয়েকদফা ফোন দিলেও সে রিসিভ করেনি; নাম্বারটা ব্লক করে দিয়েছে, ফেসবুকেও তাই।

ফরিদা পারভীন এই অফিসের অলরাউন্ডার। যেকোনও বিষয়ে তিনি সবসময় পজিটিভ, সাপোর্টিভ। ডোনার ডিল, আউটডোর প্রোগ্রাম, ইনডোর অ্যারেঞ্জমেন্ট, রিপোর্ট রাইটিং, হাসি-ঠাট্টা, পোশাক-পরিচ্ছদ সবকিছুই তার গোছানো। যেকোনও মানুষকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অ্যাডভোকেসি তার কাছে দুধভাত!

ফরিদা কিন্তু বেশ সহজসরল। মানুষকে খুব সহজে আপন করে নেওয়ার এই গুণটা বোধ হয় তার মজ্জাগত। কিন্তু প্রায়ই তাকে ঠকতে হয়! মানুষটাকে কোনোরকমে একটু খুশি রাখতে পারলেই তার দিয়ে জটিল-কুটিল কাজগুলো করিয়ে নেওয়া সম্ভব। আর সেকারণেই বোধ হয় ফাঁকিবাজ কলিগরা তার আশপাশে একটু আলগা খাতির করে থাকে।

অফিসের পুরনো এক কলিগ আছেন, আশরাফ আলী। প্রচ- ফাঁকিবাজ এবং চতুর। ইনিয়ে বিনিয়ে কলিগদের প্রশংসা করে তার কাজগুলো করিয়ে নিতে সিদ্ধহস্ত। তবে, বিল-ভাউচার করতে তার কোনও আলস্য নেই। দু’টাকার বিল দুইশ’ তার কাছে মামুলি ব্যাপার বটে। আশরাফ সাহেবও ইদিানিং কারণে-অকারণে ফরিদা ম্যাডামের শরণাপন্ন হন; তার গুণগান করেন। ফরিদা ভাও বুঝতে পেরে হাসিমুখেই বলেন- আশরাফ ভাই, কী করতে হবে বলেন!

কী যে বলেন আপা! আমি কি আপনার কাছে কোনও ধান্দায় আসি। এই আপনার ভাবি আজ একটু রুটি- মাংস রেঁধে দিয়েছে, দুপুরে যদি খান!

সহকর্মীর এমন আব্দারে ফরিদা অভ্যস্ত। তিনি নিজেও প্রচুর খরচ করেন অন্যদের পেছনে। বিকেলে স্নাক্স হোক কিংবা সকালে চা নাশতা। আর প্রোগ্রাম থাকলে তো কথায় নেই!

যাহোক, ইদানিং আশরাফ সাহেব একটু বেশিই গা ঘেঁষছেন। এটা-ওটার ছলে একটু বেশি আদিখ্যেতা দেখাচ্ছেন। সেদিন তো ফরিদার ড্রেস নিয়েও বেশ প্রশংসা করলেন। সিম্পলি ব্যাপার- ভেবে কিছুই বলেননি ফরিদা। থ্যাংকস জানিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। আশরাফ সাহেব আজ ফোন করেছেন ফরিদাকে। কুশল বিনিময়শেষে তিনি বিকেলে মার্কেটে আসার প্রস্তাব দেন। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আপনাকে খুব ভাল লাগে, একটা ড্রেস কিনে দিতে চাই!

মানে কী! কেন আপনি আমাকে ড্রেস কিনে দেবেন- রাগতকণ্ঠে ফোঁস ফোঁস করে ওঠেন ফরিদা। আপনার তিন সন্তানকে কিনে দেন- স্ত্রীকে দেন! আর কখনোই এমন প্রস্তাব নিয়ে আসবেন না… ফাজিলের ফাজিল কোথাকার!

তৌহিদ জামান। লেখক ও সাংবাদিক। জন্ম, বাংলাদেশের যশোর জেলায় ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল। পড়াশুনো সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন প্রায় ২০ বছর। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় প্রকল্পভিত্তিক কাজ করেছেন। ছাত্রাবস্থায় প্রগতিশীল বাম ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..