মানিক বৈরাগীর রাজনৈতিক কবিতা

মানিক বৈরাগী
কবিতা
Bengali
মানিক বৈরাগীর রাজনৈতিক কবিতা

গণহত্যা
শোণিতের জলে গা ধুঁইয়ে আমরা সভা করি
রাষ্ট্র সংঘের অধিবেশনে জাতিবিন্যাসের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বিবৃতি দেয়
পুঁজি বিস্তারের বিচার সভায়
তাল গাছ আমার না হলে ভেটো প্রদানের তোড়- জোড়ে
সাত হাজার নারী ইতিমধ্যেই গর্ভবতী করে দেই অহিংস মন্ত্র উচ্চারণে
সব দেশে সব কালে জোর যার মুল্লুক তার
মধুকরেরা হুমড়ি খায় পদ্মাবতির রোসাঙ নগরে।

আমি পথ হারিয়েছিলাম কিতাব খানায়
তোমরা খুঁজেছে স্বর্গ পাতাল মৈর্ত
আমি গুপ্ত হয়েছিলাম ‘মসনবী’তে

তোমরা খুঁজেছো আমায় ধর্মাবলীতে
আমি হারিয়েছিলাম একাত্তরে,
তোমরা খুঁজেছো আমায় সভা মঞ্চে
তোমাদের সভা মঞ্চের অনল বর্ষণে
আমি জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়েছি ঢের
তবুও থামেনি তোমাদের অনল উদগিরণ।

একদা কনফুসিয়াস আমাদের প্রেরণার উৎস
মাও আমাদের প্রাণের স্বজন
আমি ধ্যান করতাম বোধিতলে
মুহম্মদ আমাকে বলেছিল
কনফুসিয়াসের দেশে যেতে
সৌদির বোমা হামলায় মরে ইয়েমেনের নিরহ মা ও শিশু।
তখন মুহম্মদ কাঁদে, অকারণে
বোমা হামলায় আমার মন কেমন কেমন করে।

আশুরার রাতে রক্ত নদীর পাড়ে বসে
ব্যাবিলনকে ডেকে বলি, মঞ্চ সাজাও রুমির
আমি আসব শায়েরি শুনতে।

আমি আর কোথাও যাব না
জাফরের মাজারে আরাকানের পথে পথে
বুদ্ধের হীন যান সংঘের মনুষ্য পোড়ার ছাই মেখে সলিল সমাধি হবো।

চুক্তিতে মুক্তি কত দূর
পাহাড়ের সখা নদী মোর সখি
অপার আকাশে নীলের বেদন
রুদ্র তাপ ঝড় জঞ্জায় মেতেছি
গীরি খাত ঝিরি ঝর্ণার জল বাহিত করেছি
বঙ্গ সমুদ্রে তোমাদের লাগি।

শুধু অচেনা লাগে
ভুমি, রাজনীতি আর চুক্তি।

সঙ্ক সমুদ্রের মায়া ছলনা বুঝি
খরা তাপে ঝর্ণার শীতলতা খুঁজি
খুঁজি না এখন
তোমাদের মরিচিকার মায়া
পরখ করিনি তোমাদের, তোমায়
মুক্তি চুক্তিতে অস্ত্র ছেড়েছি ট্রেনিং ভুলিনি

তোমাগো নেতার ডাকে আমরা যুদ্ধে গেছি
তোমাদের যেমন আছে রাজাকার আল শামস, আমাদেরও নেই বলিনি

এখনো বিশ্বাস রাখি শার্দুল কন্যার প্রতি
‘লং’ কে নৌকা মেনে ভোটটি তোমাদেরি
অভিবাসী বাঙালি সামরিক পীড়ন পিছু ছাড়েনি
জিজ্ঞাসি?
চুক্তিতে এখনো মুক্তি মিলেনি
আবারো কি ফিরে যাব নাকি
আমরা স্বশস্ত্র সংগ্রামি?
পাহাড়ে নিরিহ আদিবাসির উপর
সামরিক উস্কানিতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে লেখা।

গণক্ষুধা
কপালে পাগল জুটেছে বলে
পাগল কেন দায়ী হবে সখী
বাঁধন আলগা হলে বাড়বেই
পাগলামী আগলে রাখ শক্ত আটুনি

ভাদাইম্যা পাগলের সাথে বেধেছ বাঁধন
শাস্ত্রে কয় ‘বিধির বিধান যায় না খন্ডন’
ব্যর্থ রাজনীতির অনলে জ্বলে জীবন
জীর্ণ সমাজ রুগ্ন রাষ্ট্রে অপুষ্ট জনগণ

গণক্ষুধা মিটাব বলে কৈশোর যৌবনে
পথে ব্যয় করেছি সময় মিছিল শ্লোগানে
‘কেউ কথা রাখে না’ মঞ্চ কাঁপানো নেতারা
আখেরাত ভুলে আখের গুছাতে ব্যস্ত তারা

জটরে জ্বলে ক্ষুধার অনল
তুমিও করেছ পন বাঁধন অতল

(২)
মসজিদ মন্দিরে যাইনি আত্মপ্রয়োজনে
কিছুই চাইনি মানুষের তরে এই ফরিয়াদ
প্রজনন বাড়–ক মাৎস্যের সুস্থ থাকুক মানুষ
মানুষের মেধাকে ঘিরে আসুক সহমর্মিতা

বেহেশত দোযখ তোমার ইচ্ছার ক্ষেত্র
আমার পরমাত্মা তোমার বিচারাধীন
বাণীতে সুধায়েছো তোমার ইচ্ছার স্বেচ্ছারিতা
এখানেই অসহায় আমার দেহাত্মা

আজানের সুর বাহনিয়া হাফসি কবি বেলাল
ইচ্ছে হলে সাথে দিও
বিপ্লবী আবু জর গিফারির কলবে সীল মারিও
‘মে কুছ বি নিহি, নেহি ঈমান্দারি।’

পথিক
মিলিলে মিলাব না মিলিলে চুপ থাকবে না কেউ
রথি-মহারথির আশ
রস পেয়ে তস পেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা আগাছারা
রুদ্ধ হবে, পথ হারাবে পালাবার, আমাদের
মানবিক বৃক্ষি মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস
নিবে তখোন।

আবারো জড়ো হবে আনন্দ-প্রাণ, উড়াবেই
লাল সবুজের পতাকা, এসো মৌলিক স্বজন
নান্দনিক কলরবে মুজিবের চেতনায়।

দেহখানা
কত সইতে পারে কতইবা জায়গা-জমি
দহনেরও একটি মাত্রা থাকে কেন সইবে
এ পোড়া মাটির অঙ্গার হবার সুযোগই পেল না
জন্মেই পোড়ে ছাই ৭১, ৭৫, ২১ আগষ্ট আরো কত কি?
দেহখানাও ওরকম,
৭১ এ ভুমিষ্ট হতেই ৭৫’র তারপর দেখে দেখেই জ্বলন
তবুও বিশ্বাস ভাঙেনি, তবে
কোথাও যেন আটকে আছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল
তবুও আমি পথিক, হাটবো যতটুকু পারা যায়।

দেহখানা বড় লোভী শুধু শুধু জীবন খুঁজেফিরে
অচিন পাখিটি নাছোড় নচ্ছার লটকে থাকে বেলাজ
কোথাও কোন জীবন দেখিনা, শুধু মায়া-মরিচিকা
অতঃপর স্বপ্ন- বেদনার আশাই কি?
আশায়ই কি বেঁচে-বর্তে থাকাই দুনিয়া-যাপন।
প্রতিক্ষা করেনা পথিক
আগাবেই আগোয়ান চোরাগুপ্তা পথ, রুখবেই
তৃণমুল নাবিক ঐক্যবদ্ধ আজ।

রক্ত থেকে পাওয়া
তুমি কেমন পুরুষ দেখিনি বঙ্গ জনক
তুমি কেমন নারী জানিনি বঙ্গ মাতা
কেমন দুষ্ট জানা হলো না ছোট্ট রাসেল
সে নাকি সাইকেল চালাত বেশ, বুদ্ধি দ্বিপ্ত চোখ, রেগে মেগে গোমরা হওয়া মুখ
বাবা তার আদরের নাতীর নাম রাখলেন রাসেল
বাবা নাতির নাম রাখলেন আরজু মণি
এভাবেই প্রায় নাতী নাতনীর নাম করণ করলেন
এই ছিল আমার বাবার মুজিব স্মরণ

প্রতি শ্রাবণের জোৎস্না বিহিন কালো রাতে কেমন যেন আউলা হতেন, আমার বাবা
বাবার গোমরা মুখ, বিষন্ন, উ™£ান্ত মনে
উম্মাদের মতো বিড় বিড় করতেন শুধু
মাঝে মাঝে কোরান তেলাওয়াতে চিৎকার করতেন, গভির রাতে কাতরাতে কাতরাতে জিকির করতেন।
অভিসম্পাত দিতেন চিৎকার করতে করতে
আগস্টের প্রভাতে ফাতেহা দরুদ পড়তেন মা
ধবধবে ফর্সা মা, পড়তেন কালো শাড়ি
হালোয়া রুটি শিরনি সমেত মোনাজাত করতেন বাবা
ফাতেহা শরিফে কোন মোল্লা হুজুর দাওয়াত দেয়া হতো না
কেমন জানি ভয় করতেন বাবা

হরিণের চামড়ায় জায়নাম বিছাতেন
এরপর কি করুণ কান্নায় সুরেলা কন্ঠে
বাবা মোনাজাত করতেন

দেখা দেখি দু হাত জড়ো করে
মোনাজাতে অশ্রু ঝরাতাম আমরা

বাবা বলতেন,
আত্মঘাতী বাঙ্গাল শেখ সাহেব কে বুঝল না, এমন ঘাতকের দেশে স্বাভাবিক হই কি করে।
পিতা মুজিবের জীবিত কালে
কোন দিন আওয়ামীলীগ করেনি বাবা
পীরের সন্তান, অনুরাগী ছিলেন ভাসানির

৭৫’র জ্বালিয়ে দিলো রাগ অনুরাগ বেহাগ
গুরুর গুরোচন্ডালি প্রতারণায় বাবা হতবাক
হুজুরের নাম শুনলেই হতেন অগ্নি শর্মা।

উর্দি পড়া কালো চশমার শাসক জিয়া
অন্য অনেক জলে ভাসা ভাসানুসারি লোভ লাভের আশায় প্লট নিলো পাহাড়ের
তারা পাহাড়ের প্লটের টোপ গেলাতে চাইলো, গ্রাম সরকার আরো কতো কি।

লোভের বর্শি কাটা গেলানো গেলো না তাঁকে
সিদ্ধান্তে অটল পাহাড় সালেহ আহমদ
সেই তো আমার পিতা, মুজিবের অনুরক্ত
মুক্তিযুদ্ধের রক্ত, মুজিবের ভক্ত

চশমা পরা মেজরের বর্শিগাথা নেতারা
উল্লাসে ছুটছে দমানোর নিমিত্তে
দমাতে হবে সালেহ আহমদ কে
হয়রানি মামলা হলো অগ্রজদের নামে
আমিও কি বাদ পড়েছি? ধারাবাহিক সেই নোংরা খেলার পুরাণা প্রতিশোধে?
মুজিবের চেতনা মাথা নত জানে না।

পিতা মুজিব, তোমাকে দেখেছি হৃদয়ে
তোমাকে জেনেছি বাবার মুখ থেকে
সেই থেকে আমাদের উজানে পথচলা
সেই থেকে তোমার কথা বলা
সেই থেকেই মুজিববাদের পাঠ নেয়া
সেই থেকেই হাসু বুবুর কর্মী হওয়া
আমি আমরা
পরিবার থেকেই পেয়েছি মুজিবের চেতনা
পরিবার থেকে পেয়েছি সুবিধার বিপরিতে চলা
পরিবার থেকেই নিয়েছি মুজিবের চেতনা
হাসিনা রেহেনার প্রেরণায় আমাদের পথচলা।
দিয়েছি তো রক্ত, আমরা মুজিবের ভক্ত
শেখ মুজিবের চেতনা, শেখ হাসিনা প্রেরণা
মুজিবের বাংলায়, রাজাকারের ঠাই নাই
মুজিবের চেতনা, কোন বাঁধা মানে না।

শেখ মুজিবের গীত গাই
অটুট আছে স্বভাব
উড়ে আসে অভাব।

বদলাতে পারিনা খাসলত
যুই করো নসিহত।
অবদমনে ভুল করি
অপমান ভয়ে পুড়ি।
বিশ্বায়নের লম্পট পুজি
সমাজতন্ত্র তোমায় খুঁজি।
ক্ষয়িষ্ণু সামন্তিয় চরিত্র
উদার নৈতিকায় পবিত্র।
কবিতার বই হয়নি বেচা
ছাড়তে পারিনি মদ্য নেশা।

চোখ লাল পা টলো মলো
বাসায় এলে ঝাড়ি দেয় বধু।

মনের ভেতর অসিম জ্বালা
রাজনীতি করেছে মোরে উতালা।
কারে করি বিশ্বাস রাখি আস্থা
পদ পেলে বনে মুস্তাক সাচ্ছা
কি চেয়েছিল পিতা মাতা, কেন প্রাণ হরন
চারিদিকে চোরের খনি বলেছেন বঙ্গ পিতা
নিরাপত্তায় ঢুকে গেছে শিবির, বুবুর জন্যে দোয়া
রাখে আল্লাহ মারে কে পুরানা বচন।

এত মোনাফেক, মীর জাফর, খন্দকারের দেশে
কিভাবে ঠিক থাকি, মাতাল না হয়ে।

মাতাল আমি, আকাশ পাতাল ভাবি
মদের টাকা ভুতে যোগায়, বধুর ক্ষুধা খালি।

আমি ত মুক্তির পোলা শহীদের ভাই
বড় বুবু হাসিনা, রাসেল আমার ভাই
চলো সবাই শেখ মুজিবের গীত গাই

মাথিনেরা কান্না, ঘুমাতে দেয় না
হাজার বছর ধরে ক্রমে রক্তপাতে এখানে আসিয়াছে তাহারা শান্তি ও শাসনের নামে
তাহারা পাড়ি দিয়েছে সমুদ্র নদী পর্বত গীরি বিপদ সংকুল পথ কত সাধনায় বাসনায়
সেই থেকে ভাগ বিভাগ ভেদ বিভেদে খুন রাঙ্গা ভয় জাগা বিভৎস আমরা
আমরা ভাঙ্গিয়াছি গড়িয়াছি
আমাদের নির্মাণ বিনির্মাণে

কতো যুদ্ধ কতো খুন কতো বাহিনী
তবুও
প্রতœ মানুষেরা স্বস্তিতে ছিলো কোন দিন?
রেহায় পেয়েছে কি মানুষ স্বপ্নের দেশে?
এখানে
খুন হয় নেতা, খুন হয় নেতার পুজারি
সময়ের ভেদে বিভেদে মনুষ্য দুর্যোগে
এভাবেই

প্রতিটি জনপদে জন্ম নেয় মাথিনেরা

আর্তনাদ, ভয়ার্থ কন্ঠ, হ্যালো হ্যালো
‘আমার হাজব্যান্ড কিচ্ছু করে নাই যে’।

সেই অধির প্রতিক্ষায় ভয়ার্থতায় নিশি পার
আরাধ্য পুরুষ হরণের যন্ত্রনা গুঙানিতে
মাথিনের কান্না
আমাকে ঘুমোতে দেয়না, ব্যর্থ হয় স্লিপিং পিল

রাষ্ট্র দানবেরা হরণ করে ঘুম সুখ
মাহিনের মতো নিরাপরাধ নির্বোধ মাথিন
তাহাদের বেদনা, ক্ষরণে সংক্রমিত হয়ে
আমিও ক্রস চাই, স্থায়ি ঘুম চাই
হে রাষ্ট্র আমাকে একটি স্থায়ি ঘুম দাও

অভিশাপ দিচ্ছি তোদের ঘুমহীন যন্ত্রনার
তন্দ্রাচ্ছন্ন হতেই কর্ণে বাজে ভয়ার্থ অডিও ক্লিপ
অভিশাপ দিচ্ছি আমি অভিশাপ দিচ্ছি
মাথিনের পক্ষ হতে কন্যার পক্ষ হতে
অভিশাপ দিচ্ছি বধির বেদনার

কালো বোরকা পরা দানবেরা, সাইরেন চিৎকারে ছুটে দানব গতিতে
কেপে উঠে মাটি, ঠোঁটে যায় ঘুম ভয়ে

ও নাফ তুই জাগবি কবে
কেমনে বয়ে চলিস খুনরাঙা জল
নাফ তুই কি পারিস না অভিশাপ দিতে
‘আব্বু তুমি কই যাচ্ছ যে
আব্বু তুমি বাড়ি আসবে না
আব্বু তুমি কান্না করছ যে’

কন্যার আহাজারিতে কাঁদে
দক্ষিনের পাহাড় সমুদ্র সমুল
কাঁদেনা শুধু খুন কারিগর আর বৈধ খুনি
এই মৃত্যু জনপদে মনুষ্য রুপে ছুটে শকুনের দল
সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দল ভিতিতে বাঁচি কি করে? একটি স্থায়ি ঘুম চাই ঘুম।
মাথিনের নিরাপত্তা চাই।

মাহিনের কন্যারা
ঢেউ জড়ানো পাতাদের সুরভী ছড়ানো
ঝাউয়ের গান শুনি
তীরে বসে উচ্ছল ঢেউয়ে বৃষ্টির খেলায় মুগ্ধ থাকি
মরুর ক্যাকটাস ফলের সাথে কাটাল রসের
যৌগ রসায়নে উত্তপ্ত ভুদভুদ বাজনা শুনি
জল জোসনায় ধীরলয়ে আসে জলপরি
আমি অপার হয়ে ছলচ্ছল হাসি শুনি
তুমি দেখতে পাও সখি অদৃশ্যের দৃশ্য
তুমি কি শুনতে পাও জলদেবের মেঘরাগ
কখোনি কি পান করেছ অমৃতের ফলজ শরাব
নৃত্য করিনা একা গাইনা গান একা
আমরা যে সমবেত সুফিয়ানা ইসকে দেওয়ানা
আমাদের দেহ থাকে কলব লুটে উর্ধ্বালোক
আরাফ আরসে ‘মাহিনের ঘোড়া’ ছুটে আসে মর্ত লোকে
সেই ‘ভেজা মেঘের দুপুরে’ মাহিনের কন্যারা
আর্তনাদের আদর্শ খেয়ে বাঁচে।

দু:স্বপ্নের সড়ক থেকে দেখা
সবাই কি পারেনা আঁচ করিতে?
বিপদ ঘটিয়া গেলে করে হুতাস
সতর্ক হওরে বুবুর মন
হুশিয়ার করো সাথে থাকা স্বজন
অধম মানিক কহে
বেড়া কাটছে ধুর্ত ইদুর, পোষা পেয়াদা
কৌশলে না কহিলে, কহকের যাইবে প্রাণ
দিনে দিনে গুছায়েছে গাট্টি বোছকা মুদ্রা

অন্দর মহলে থাক তুমি একা
বেড়েছে আয়ু, ক্লান্ত খাঁচার, মগজ তন্তুর হচ্ছে ক্ষয়,
তাই
অধমের মনে বাজে ভয়ের শঙ্কা
প্রাকৃত জনেরা ভালোবাসে যাবে
নিজেরে উজাড় করিয়া
পিতাকে শ্রদ্ধায় তুমি পাও দোয়া

মানুষের দোয়াকে করিও স্মরণ
গোমরাহি স্বজনের কারনে হইবে?
নিদান কালে যারা ছিল, তারাই আপন

আমি অধম নাখান্দা নালায়েক মুজিবপ্রেমি
রক্ত দিয়া প্রমান করেছি পাশে ছিলা আছি।
খোদারে অ খোদা রাখিও কাঙ্গালের দোয়া
আমারে মারিয়া বাঁচাইয়া রাখো
বুবু মোর হাসিনা।

এই অশ্রু রোধের সাধ্যকার
(সৈয়দ আশরাফ)
বেদনার নীল লোহিত যার ধমণির শিরায় শিরায় প্রবাহিত যার নাম

অশ্রু বেদনার অনন্য সহ যাত্রী বন্ধু স্ত্রী
হাসপাতালের প্রতিক্ষায় দিন গুজরান করে
কখন ফিরবেন প্রাণের অধিক আশরাফ

প্রাণ বায়ু ঘুরে ঘুরে কথা কয়, দুয়ারে কড়া নাড়ে তেমন দু:সাহস কই আজরাইল

নির্লোভ, নিরহংকার, অজাত শত্রু বাঙলার
মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার

নীল লোহিত নেত্রী শেখ হাসিনা
ভাই করে ছুটির প্রার্থনা
বুবু শুনিলেন
আদরের আস্থার প্রতিভুর কথা
বুবু কহিলেন তুমি
কেমন ভাই আমার,
আমিও কেমন বোন তোমার?

বউ মার চিকিৎসার খরচ, রাষ্ট্রের ও আমার
ভাই কহিলেন
বনানির জমিটি বিক্রি করলাম এবার
কথা শুনে বুবু ত অবাক, টুপ টুপ অশ্রুতে
কিছু সময় হলো পার।
এই অশ্রু বেদনা রোধের সাধ্য কার
সৈয়দ আশরাফ সাচ্ছা ইমানদার।

মানিক বৈরাগী মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান হিসাবে খেলাঘর আসর,উদীচীর হাত দিয়ে লেখালেখি শুরু।মাঝপথে নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলন,শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আহবানে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির হয়ে মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র কমান্ডের দায়িত্ব গ্রহন ও স্বাধীনতা বিরোধী দের বিচারের দাবিতে...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ