মানুষ 

সুদীপ ঘোষাল
অণুগল্প
Bengali
মানুষ 

মানুষ 

অকৃতদার মাস্টার মশাই পাঁচজন ছাত্রীকে পড়ান নিজের ঘরে । প্রতিবেশীদের সন্দেহ ক্রমশ দানা বাঁধে । মাইকের শব্দ,যানবাহনের শব্দ আটকাবার জন্য ছাত্রীরা ঘরের জানালা ঠেসিয়ে রাখত।মানুষ  একটি যন্ত্র প্রথম আবিষ্কার করে।সেটি হলো ষড়যন্ত্র। প্রতিবেশীদের কয়েকজন দল বেঁধে  লুকিয়ে ঠেসানো জানলা খুলে দেখে শিক্ষার আলোয় ভরে গেছে ঘর।

 আলোর স্পর্শে তারাও  মানুষ হলো ।

সুদীপ ঘোষাল নন্দন পাড়া খাজুরডিহি পূর্ব বর্ধমান ৭১৩১৫০মো৮৩৯১৮৩৫৯০০

ভালোবাসা

বাজারে গেলেই দুই সব্জী ব্যবসায়ী মাসির সঙ্গে দেখা হয়।একজন শাক,কাঁচালঙ্কা আর আদা নিয়ে বসেন।আর তার পাশেই বসেন আর এক মাসি।তার কাছেও কচুশাক,কলমি,কাঁচালঙ্কা থাকে। এক মাসির কাছে গিয়ে একশ গ্রাম লঙ্কা দিতে বললাম। অপর মাসি বললেন,বাবা ওর কাছে লঙ্কা নিও না।ওর লঙ্কা বাসি,পচা। অপর মাসি বললেন,ওর কথা শুনবি নি বাবু, ওর লঙ্কা পচা,শাকগুনো বাসি।

হতভম্ব হয়ে একজনের কাছে শাক আর একজনের কাছে লঙ্কা নিলাম।
বেশ কয়েকদিন পর আবার গিয়ে দেখলাম, একজন মাসি আসেন নি।অপর মাসিকে জিজ্ঞেস করলাম,আর একজন মাসি বসেন নি কেন?
মাসি কেঁদে বললেন,ওর খুব শরীর খারাপ গো। হাসপাতালে আছে।সব্জী বিক্রি হলেই ফলমূল নিয়ে একবার দেখতে যাব।গতরাতে আমি ওর পাশেই ছিলাম।ওর কেউ নাই গো…।
স্মৃতি
সকালে উঠে মায়ের মমতামাখা মুড়ি আর  লিকার চা খেতাম। তারপর দাদু বলতেন,চলো বিরিঞ্চির দোকানে যাব নটকনের মাল আনতে। আমি বলতাম,নটকনের মাল কি দাদু?
দাদু বলতেন,এই চাল,ডাল, মশলাপাতিকে গ্রামের লোক নটকনের মাল বলে।
ছোটবলায়  বন্ধুরা সকলে একত্রে ঈশানী নদীর পাড়ে বনভোজন করতাম এই দোকান থেকে চাল ডাল তেল ,ডিম,মশলাপাতি ক্রয় করে ।
লজেন্স, চানাচুর আর শোনপাপড়ির মিশ্রিত গন্ধজুড়ে মেতে উঠত ছেলেবেলার সোহাগি বিকেল।
তারপর দাদু পরলোকে চলে গেলেন আামাদের ছেড়ে।
আমার মা বলতেন,তোর বয়স বেড়েছে । কিন্তু আদৌ বড় হয়েছিস কি না কে জানে?
বাবার সঙ্গে একবার দুর্গাপুজোর প্রসাদ খেতে গিয়ে বিরিঞ্চির মাটির দোকানঘরের  বাঁশের কাবারির কঙ্কাল দেখে বুকে শেলবিদ্ধ হল আমার। মর্মাহত হয়ে বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম,বাবা বিরিঞ্চির দোকানের এই হাল কেন? বাবা বললেন, সেই বিরিঞ্চিদাও নেই আর দোকানও নেই।তার ছেলেরা এই বাড়ি ছেড়ে  শহরে গেছে উন্নতির আশায়।
আমি তখনও, দাদুর সঙ্গে বিরিঞ্চির দোকানে চলেছি ছোটবেলার স্মৃতিপথ ধরে।

সুদীপ ঘোষাল। গল্পকার। জন্ম ভারতের পশ্চিমব্ঙ্গরাজ্যের কেতুগ্রামের পুরুলিয়া গ্রামে। প্রকাশিত বই: 'মিলনের পথে' (উপন্যাস)। এছাড়াও কয়েকটি গল্প ও কবিতার বই আছে।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ