মিথুনরত পাখি

মাসুদ শাওন
কবিতা
Bengali
মিথুনরত পাখি

জলজ

তোমার মতন কেউ নেই
ভেবে যদি গাছেদের কাছে যাও

হৃদয়ে: হলুদ রোদ, দুপুর অ্যালবেডো
আর ঘন ছায়া পড়ে মাটিময় ভাটিয়ালি গানে…

যেন, গাছ– মোহময় ক্ষতি
নিজের নেশায় পৃথিবীকে ভুলে যায়
তারপর চুপচাপ কাঁদে নিজেরই ছায়ায়।

যতদূর শেষ নেই– সীমানা বিস্তৃত
সে পথের চলমান কঠিন আলোয়
তুমিও লিখিত আবিল জলের কথা–

কাঁচের বয়ামে প্রকৃত স্বচ্ছতা নেই
জেনে আকার হারিয়ে ফেলো।

গতিবিদ্যা জ্ঞানে তাপযোজী মায়া
আর কেলাসের কঠিন সত্যের নীচে
জানি হবেনা তোমার চিহ্নিতকরণ।

অথচ চিহ্নের দারুন বিদ্রুপে ঢাকা পড়ো;–
পিছন ও পিছলের টানে ভুলে
স্বাভাবিক তোমার নদীকে,
বৃষ্টি ও ভাঙনে ক্ষয়ে যাওয়া মাটির আবহে।

 

মিথুনরত পাখি

তিনখানা বিছানা ছেঁড়েখোঁড়ে রাত। অভয়ারণ্যের পাখি ছটফট ছটফট করে আর একটা ট্রেন ছোটে অনন্ত স্টেশনে। ময়মনসিংহ গীতিকার গালিচা বিছিয়ে আমি একটু জিরিয়ে নেবো কি?

ভোররাতে বোররাক মিরাজের পানে, অর্ধনারীশ্বর শিব অন্নপূর্ণার শরীরে, তখন কে এক জাতিস্মর জাতকের মধ্যে ডুবে যেতে পারে ভেবে নিজেকে সচল করলাম গোপনে।

উপনিষদের গাছে ফল খাওয়া দুটি পাখি যে আসলে পঞ্চতন্ত্রের দুমুখো- এইমাত্র বুঝে…
ত্রিকোণ প্রেমের প্রস্তাবে জড়িত আমাকে মিথুনরত দেখলাম ঘুমের সাথে।

 

মানবসীমানা

লাল-হলুদ আলপনা এঁকেছো দেখেই
নিজেকে ক্ষুধার্থ করি।
এমন সোহাগ সহানুভূতি পেতেছো টোপে
আমি পিছুটান ভাবি
আমি পরিচয় ভেবে ফেলি…

ভুলে যাব তোমাকে একদিন
রয়ে যাবে আলপনা উৎসব কবিতার হাড়ে

ছাত্র রাজনীতি মেনে যদি দূর থেকে দেখি
এভাবে তাকানো, জানাও, জায়েজ কিনা।

ভুরভুরে কস্তুরী মেঘ
চিবুকের ঘামে:
দ্বিধায় টলমলে আঙুলের হস্তক্ষেপ।

সেখানে রেখেছো গতি পরিণতিহীন

শব্দের, সুরের গহ্বর খুঁড়ে
পাখিরা– মত্ততাকামী, দানা খোঁটে
গান গায়…

অনন্ত বিরাগী নদী ছলছল প্রবাহে মুখরিত হয়

আমাদের মাঝে-
তেমনই খচখচ করে ওঠে একটি মানবসীমানা।

 

প্রেম বিষয়ক উপপাদ্য

তোমাকেই ভালোবেসেছি
জানিনি স্তন ও যোনির রং গন্ধ।

অ্যানাটমি ক্লাসে যতটুকু দেখানো হয়েছে
তাতে বয়ঃসন্ধির থেকেও সংস্কার বেশিই।
এ কথা বাহুল্য– সংস্কারে বসতে ভীতি
তাড়াছাও মনোযোগে ছিলনা মনের যোজ্যতা।

ফলে যেহেতু এখন ভালোবেসেছি,
আন্দাজ করি- সোনাগাছি প্রেমিকার মতোই তা…
সুবিধায় শিব হয়ে নারীর ধারণা নেবো
একই মাংসের পোষাকে।

প্রেম মদ বোঝেনা, প্রেমের মাংস নেই।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..