মিথ্যে প্রলোভন

ইমেল নাঈম
কবিতা
Bengali
মিথ্যে প্রলোভন

মিথ্যে প্রলোভন

অমন পরিণতি আঁকা হয়নি আমাদের
দূরের পাখি ভালোবেসেছে আড়াল।
দিনের মায়াজালে পেরিয়ে যাচ্ছে শুধু—
উষ্কখুষ্ক দিন ছুটছে আপন গন্তব্যে
মায়াজালে ভরে যায় আমাদের দু’পাশ।

নীরবতা আঁকতে আঁকতে ডুবেছে চাঁদ
ভুলের পাহাড় পেরিয়ে যাচ্ছি
সমুদ্র আঁকবার লোভে,
নির্বাক স্রোত বয়ে যায় সুদূরে
নির্বাসন— প্রান্তিক জীবন ক্ষয়ে যায়।

ছিঁড়ে যায় সকল বাঁধন, মৌন মুহূর্ত
আড়াল করতে শিখেছে নির্লিপ্ত চোখ,
বিভ্রমটুকু বুকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছি
পুরনো ঠিকানায় কেউ রাখে চোখ,
মুঠোফোনে নস্টালজিক বার্তা ভাসে।

আলোর ইশকুলে ঝুলে থাকে শব্দঋণ
বিবাদ শেষে কিছুই থাকেনা বাকী,
ভাঙে প্রতিবিম্ব— মিথ্যে ফানুস ওড়ে
নীলাভ মোড়কে বাঁধানো মায়ার শহরে।

দুঃসময়ের আহ্বান

আগুনটুকু পুষে রাখো বুকের ঠিক বাঁপাশে,
অভিমানকে দিয়ে দাও ছুটি, এইসময়ে মৌন নয়,
আবার চিৎকার করেও নয়, অথচ কঠিন
বাস্তবের সামনে গিয়ে দাঁড়াও, পিছোবে না…

আগুনকে পোষ মানাতে হবে, নিজেকে জাগিয়ে
রাখবে অসময়ে, কিছু কথা বিদ্ধ করবে বুকে
ক্রমাগত ক্ষতবিক্ষত করবে হৃৎপিণ্ড,
ধমনী থেকে ফিনকি দিয়ে উঠবে আত্মাভিমান

কাঁধে কাঁধ মেলাও এখন, ভেবোনা আগপাছ,
এখন হাত বেঁধে মানবপ্রাচীর বানানো কঠিন,
বদলে যাচ্ছে আমাদের মানবিক অলংকার।

মিছিলে মানুষ নাকি মানুষের মিছিল—
এমন প্রশ্ন করার আগে ভাবো,
জয়োল্লাসে কবে মেতেছিলে বন্ধু?

সামনে কঠিন পরীক্ষা, তোমার পথটিও বন্ধুর
ভঙ্গুর শরীরে তোমাকে ছুটে যেতে হবে
আরো দূরে, একদিন এখানে ফুটবে কৃষ্ণচূড়া,
সেই আশাতে বুকে বাঁধো স্বপ্ন বন্ধু…

শোষকের চোখে চোখ রেখে কথা বলো,
পথের গায়ে গন্তব্য লেখা বহুদূর…
হাতে হাত বেঁধে গড়ে তোলো পথ…
চোখ মেলে দেখো বসন্ত— সমবেত সংগীতে
কান পেতে শোনো তীক্ষ্ণ সে আহবান।

প্রস্তুতিপর্ব

আমাদের স্বপ্নের চাষাবাদ থেমে যায় অবেলায়
মৌন সময় ছুটছে ক্লান্তিহীন নিঃসীম অন্ধকারে
হাত রাখো এখানটায়— দূরের চিহ্ন মুছে
যায় ক্রমাগত স্বপ্নের বীজ বপনে—
উড়ে যায় যেসকল পাখি, সেখানেও খুঁজি—
মহাকালের ভিড়ে মানুষ কেবল একটা সংখ্যা…

ছুঁড়ে ফেলছি সকল হিসাব। বাজাও ক্যানেস্তারা,
সৈন্যদের মার্চের সময় এসেছে, সাজাও সমরনীতি
ফিরে আসার বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছি আমরা—
পাখিদের নীরবতা ভাঙুক, শহরের দীর্ঘতম দিনে
প্রাণহীন হবার মিছিলে বাড়ুক আরো দুটো নাম।

উষ্ণতা কিনে রাখছি, নেই হাতে দু’দণ্ড সময়
পাখিরা ফিরে যায় তার আপন কক্ষে,
মানুষ পাখি নয়— সে স্বাধীন নয় মোটেও—
কেবল পরাধীনবৃত্তে চিৎকারে জানায় অস্তিত্ব
তাকে আঘাতে বিক্ষত করো— তুলে নাও চামড়া।

মৃতদের পৃথিবীতে সুসজ্জিত ফুলের বাগান নেই,
যুগলের হাসি মিলিয়ে গেছে ছুটে চলার উৎসবে,
শীতার্ত দেহের আর্দ্রতা মাপতে মাপতে লিখছি
কালো মলাটবদ্ধ মহাকালের সকল ভুল
আমৃত্যু পথ চলাতেই রটে যায় জীবনের গল্প।

কবিতার খসড়া

কবিতা লিখতে বসে প্রথমে একটা সিগারেট ধরাই।
এরপর কল্পনাশক্তি! উপমা! শব্দের কারুকাজ!
ধূধূ বালুচর, চোরাবালির মাঝে অলৌকিক বুদ্বুদ—
সব মিলিয়ে লিখতে হয় জীবনের পাঠপ্রতিক্রিয়ায়…

#
কবিতা লিখতে সাধারণত কোনও কারণ লাগে না
এমন কী কলম, কাগজও নয়, ডিজিটাল ডিভাইসে
লিখে রাখা যায় সকল আবেগ বাস্তবতার নিরিখে
আর নিরীক্ষায় ঝুলছে প্রেমিক চোখের অপ্রাপ্তি।

#
বৃত্তান্ত জুড়ে থাকে গল্পের মহড়া, গল্প কবিতার
মাঝে সূক্ষ্ম মিল আছে। প্রেমিকের সাথেও আছে মিল
একটা রেশমি পোকা, সুগন্ধি পারফিউম অথবা
উড্ডীন ঘুড়ির হঠাৎ ভোকাট্টা হয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
কবিতা লিখতে বিন্দুমাত্র প্রেমে পড়তে হয় না।

#
নেই মানচিত্র। কবিতারা উড়ে যায় অন্য ভ‚গোলে
তাদের এড়িয়ে যাওয়া যায় সবকিছু ভুলে গিয়ে…
নীরবতা ভাষা হয়, কথারা হেসে ওঠে প্রান্তিক
সময়ের ব্যর্থ আলাপনের শেষে নির্যাসটুকু নিয়ে

#
কবিতা লিখলে শুধু কল্পনাশক্তির জয়গান হয়।
 

মেরি ক্রিসমাস

পাহাড় ঘেরা বাড়িটিতে কোনও সাড়াশব্দ নেই।
মলিন সন্ধ্যা শীত যাপনে ব্যস্ততার নামতা গুনছে,
আজ নিজের জন্য নেই সময়—
ব্যস্ততার পাঠ শেষে ফিরছি—
প্রিয় মানুষের কাছে, চোখের পিপাসা মেটাতে।

যাদুবাস্তবতার ফাঁকগলে শব্দগুলো মিলিয়ে যায়
মুখরিত জীবন দৌড়ে যায় ট্রেন ধরে—
ছড়ানো ছিটানো টুকরো স্মৃতি—
অপেক্ষায় প্রিয়মুখ— আগুন্তুকের বেশে ছুটছে
রেশ থেকে যায়, তৃষ্ণার্ত মন শুধু অপেক্ষায়।

সন্ধ্যা নামতে সুনশান নীরবতা, নগরী নিস্তব্ধ…
ঘরকুনো হবার সময় আজ—
শীতলতা ভাঙুক মনের দরজায়—
পরাবাস্তবতা শেষে সামনাসামনি হোক মুখ
কথা হোক, দেখা হোক, বহু বিরতির শেষে।

উৎসব শ্রান্ত হয়। অপেক্ষার জন্ম লিপিবদ্ধ করে
আবার ঠেলে দেয় পৃথিবীর ব্যস্ততার মাঝে
পঞ্জিকার পাতায় গোপনীয়তা—
বিরতিহীন অপেক্ষা—সান্টা আসবে—
আমিও ছুটবো আবার প্রিয়মুখের সান্নিধ্যের লোভে।

ইমেল নাঈম। কবি। জন্ম ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬। বসবাস চট্টগ্রাম শহরের হালিশহরে। পড়াশোনা: বিবিএ, এমবিএ শেষ করে বর্তমানে সিএ পড়ছেন। তার পাশাপাশি কর্পোরেট জবও করছেন। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিনটি। প্রকাশিত বইঃ দেয়ালের ও'প্রান্ত পেরিয়ে (২০১৫, চৈতন্য প্রকাশনী), দূরবীন চোখ (২০১৮, চৈতন্য প্রকাশনী), সুদূরে শূন্যস্থান (২০১৯, স্বরচিহ্ন প্রকাশনী)।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..