ম্যাজিকাল পোশাক, হত্যাদৃশ্য ও অন্যান্য

উজান উপাধ্যায়
কবিতা
Bengali
ম্যাজিকাল পোশাক, হত্যাদৃশ্য ও অন্যান্য

হত্যাদৃশ্য

রতিক্রিয়ার পর মেয়েটি সিগারেটের গরম শিখরে সেঁকে নিচ্ছিল ঠোঁট।
হাপরের মতো ওঠা নামা করছিল দু দুখানা চাঁদ।

আড়ষ্ট বুকের ওপরে অসহ ও বিপন্ন বোধ করছিল রাতের অরণ্য, ফেটে পড়ছিল হ্যালোজেনের
নীলচে হলুদ চুম্বন-

এই বেপরোয়া মারকাটারি উত্তেজক দৃশ্য ঈর্ষান্বিত করে তুলেছিল যুবকটিকে।

তার বাহুলগ্না হয়েও মেয়েটি উপভোগ করছিল
বিষণ্ণতা, ওর সারা শরীরে নিসর্গের আকুল আছড়ে পড়া, ওকে গভীর তীব্র আলিঙ্গনে একটিমাত্র নক্ষত্র মারণাত্মক ভঙ্গিতে বাকি সবাইকে অন্ধ করে ফেলেছিল।

মেয়েটিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হল না।
নিরুপায় যুবকটি বুঝতে পেরেছিল তার প্রেমিকা এতই ভয়ংকর সুন্দর হয়ে পড়ে চরমতম বিন্দুতে পৌঁছনোর ঠিক পরেই , এমনকি নেশাতুর হয়ে যায় মহাপ্রকৃতি।

সমকামী রাত, কামাচ্ছন্ন শিশিরেরা টুপ টুপ করে মেয়েটির অর্ধনগ্ন চোখে প্রলয় ডেকে আনে-

পরপর কয়েকটি বুলেটের চিহ্ন এঁকে এখন
যুবকটি হন্তারক নক্ষত্রটির কাছে দুটি সমাপতিত
চাঁদের জঠরে দশ মাস দশ দিন অপেক্ষার প্রহর গোনা শুরু করে-

প্রেমিক উন্মত্ত হলে চাঁদ সিগারেট অ্যাসাইলাম এবং রাতের দগ্ধ উপত্যকায়

তদন্তের জন্য আসতে পারেনা কৌতূহলী নপুংসক-

রতিক্রিয়ায় বারুদ ভরতে ভরতে চুম্বনেরা আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়েও চরম ভৌতিক-

 

জল

আজ ঘরবন্দী। আজ স্বেচ্ছায় নির্বাসন নিয়েছি এখানে। দুপুরের খাবার আর প্রয়োজনীয় হাওয়াটুকু নিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি নিজের সাথে। যদিও মাঝে মাঝেই চলে গেছি এদিক ওদিক। ঢুকে পড়েছে এলোমেলো গল্পের কিছু বাঁকা দাগ, নির্বাসিত আরও কিছু মেঘ আমার মতোই আটকে আছে শূন্যগামী ঘরে। থরে থরে অলস বেয়াদপি, থরে থরে বেল জুঁই ধুতরা ও আকন্দ ফুল কিভাবে যে দেওয়াল জুড়েছে
নমনীয় বিন্যাসে।

বহুদিন পর একটা গোটাদিন প্রেমিকার সাথে বিবাদ মিটিয়েছি নিজের সাথে কথা বলে বলে। চূড়ান্ত মুহূর্তে বারবার নতুন বিবাদ লিখে গেছি অক্টোপাসের মতো ওর জড়িয়ে আসা জিভে।

নগ্ন শয্যায় অজস্র ছেঁড়া কাগজ, একশো আট পরী, যদিও ওদের মধ্যে প্রতিদিন লটারি করে নির্বাচন করি – কোথায় রাখবো আজ অবসন্ন ঘাস, কার সাথে কফিকাপে তুলবো ফোয়ারা, কার পাশে বসে পড়ে নেবো নতুন লেখাটা।

কয়েকবার গড়াগড়ি খেয়েছি মেঝেতে, স্পাইডারম্যান হয়ে এদিকে ওদিকে লাফিয়েছি জাল ছুড়ে ছুড়ে।
ক্রমাগত ছোট করে এনেছি ঘরটির দেওয়ালের ছাদের বর্গমাপ।

সতর্ক থেকেছি যেন কিছুতেই নিউজ চ্যানেলের শব্দ, খবরের কাগজের প্রকান্ড কলরব, রাষ্ট্রীয় তৎপরতা আর বিউটি কনটেস্ট এ হেঁটে চলা সুন্দরীদের কোমর আর তলপেট বেয়ে আসা লেজারের আলো
এখানে ঢুকে না পড়ে।

এভাবেই যুদ্ধবন্দী মানুষের কাছে কিভাবে মূর্ত হয় দেশ, কিভাবে গ্যালন গ্যালন ন্যায়নীতি ধর্ম ও জল
পাথরের লিঙ্গ বেয়ে গড়িয়েছে নারীদের ঠোঁটের ভিতরে।

আজ কোনও নারীমুখ দেখবো না বলে খুব ভোরে বন্দী হয়ে মুড়েছি নিজের মুখ নষ্ট ঈশ্বরের কৌপিনের
বেলাল্লা তামাশায়।

এমনকি মা মেয়ে এবং অর্ধাঙ্গিনী কে দূরে থাকতে বলেছি, আরাধ্যার কাছে আলখাল্লা ও বোরখার ইশারায় গোত্র জানিয়ে নিয়ে প্রেমিকার সাথে মুখ ঢেকে বলেছি নবান্নের ইতিকথা।

একটা গোটা দিন জলে জলে ভেঁপু বাজিয়েছে ওরা বট ও অশত্থ গাছের গোড়ায়।

শুধু একটাই ভুল হয়ে গেছে, এ ঘরে অন্তরীণ থাকবো ভেবেও যথেষ্ট মাদক, ছাই, গা ভর্তি সাপ, লেটেস্ট ডিজাইনের বাঘছাল ও ছৌ নাচের মুখোশ জোগাড় করতে ভুলে গেছি।

ঠিক যেভাবে সেট টপ বক্সের সিগন্যাল ভুলে গেছে, মাতাল ঈশ্বর আর উন্মাদ প্রেমিকের মাথায় যত জলই ঢালো- ডিজিটাল ছবির উদ্যাম নটরাজ ছন্দের ভাঙাচোরা মোডে রিমোটের সূচীপত্রের প্রতিটি মলাটে-
যত তরঙ্গ ধেয়ে যাক ঝুঁকিপূর্ণ তল্লাশির প্রতিটি বর্ণাঢ্য
শোভাযাত্রা য়-

নেশাতুর কবিকে শ্মশানে মশানে পড়ে থাকলেও কোনও নারী একটিবার তাকে গিয়ে বলবে না –
স্বামী আরও একটা তান্ডব চাই-একান্নবর্তী পরিবারের ফিরে আসার গল্পে আমার খন্ড খন্ড সত্তায় বিপ্রতীপ আলো ফেলে আমাকে আরও একবার তুমি ভালোবাসা বুঝতে শেখাও।

না হলে পৃথিবীর প্রতিটি কবিতা কারাগারের মতো
আটকে রাখবে পুরুষকে। মানুষের মতো চেহারাটা কিছুতেই ফিরে আসবে না তার।

শুধুমাত্র লিঙ্গ অঙ্গ নারীর বোকামী আর পিপেভর্তি জল।
পড়ে পড়ে মার খাবে গোটা গাজনের ভন্ড গল্পমেলা।

যদি সুর দিলে না

প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় বরাবর এই যন্ত্রণাটা কাজ করে।

আমি তো গান গাইতে পারিনা, এমনকি ছোট্ট একটি ছেলেও যেমন পারে-

আমি বহুবার চেষ্টা করেছি, পিয়ানো বা মাউথ অর্গান- বাড়িতে হাঁড়ি কড়াই বালতি সাজিয়ে, মাটির কলসিতে জল ভরে –

জলতরঙ্গ বা পেঁপের ফাঁপা ডালে ফুঃ দিয়ে কখনও পারিনি সুর খুঁজে নিতে

এখানে অলস দুপুরে আমি দেখেছি, ভ্রাম্যমাণ নারী, অপেক্ষারত দেবদারুর পাতা এমনকি ঘামে গরমে পর্যুদস্ত তরুণীরা হেডফোনে অরিজিৎ সিং, বা এ আর রহমান এমনকি রূপঙ্কর শুনতে শুনতে ফুলের পাপড়ির মতো খিলখিলিয়ে উঠছে-

গান গাইতে পারিনি বলে আমার সমস্ত প্রেমের প্রস্তাব খারিজ, আজও প্রায় সব বয়সের মেয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রেমিকা-

ভাবা যায়, পঁচিশে বৈশাখে গোটা বিশ্ব জুড়ে কত লক্ষ লক্ষ মেয়েরা সকাল থেকে সেজে উঠবো
একজন মাত্র প্রেমিকের জন্য

আর অপদার্থ আমি পাড়ায় পাড়ায় নন্দনে
জোড়াসাঁকোয় প্রবাসের অসংখ্য মঞ্চ জুড়ে।ওনাকে সাজিয়ে তুলবে জুঁই বেল হাসনুহানা আর রক্তকরবীতে-

যদি সুর দিলে না প্রাণে তবে প্রেম দিলে বা কেন?

জানো না কী এ যন্ত্রণা বিষেরবাঁশী বাজায় অবিরত-

কেন আমার এমন মরণ, খেলে বেড়ায় অন্তবিহীন প্রাণও।

ইনবক্স এবং চাঁদ

এক: ইনবক্স

ইনবক্স গভীর রাতের স্থির জলের মতো । মানুষ নিজের মনের সব কথা গড়গড় করে বলতে পারে।ধরা পড়ে তার সবটুকু। দুঃখ সুখ হাসি কান্না , গোপন প্রেম। ইনবক্স ও আজ মানুষের ভিতরের ঘর,যেখানে সে অনর্গল নিজের সাথেই কথা বলে , নিজেকে টুকরো টুকরো গুঁড়ো গুঁড়ো করে বিরঞ্জক ছায়ার সাথে নিরন্তর প্রতিক্রিয়ার অচিন সফর। ভেঙে যাওয়া মন , বেদনার সব প্রতিচ্ছবি ,জনাকীর্ণ জীবনের আশ্চর্য ভিড়েও অসহ নির্জনতা …একা এবং আরও একা হতে থাকা প্রতিটি মানুষ আঁকড়ে ধরে জল—আয়নার নবতম অবতার ইনবক্স।

মানুষ মুক্ত হোক।ঝরে যাক সব দুঃখশোক। আভরণহীন হোক।আবরণ-হীন হোক । মোহমুক্ত হোক। অভিমান শূন্যতা হোক পাথেয় সবার। বিষাদের আগুন ফেলে রাখা সব রাস্তায়।

ইনবক্সে লিখে রাখা বর্ণমালা পাখির ডানায় মেখে নিক রামধনু রঙ।

যন্ত্রণাবিদ্ধ মুখের মিছিলে ছেয়ে যাক নির্বিকল্প নীরবতা , অবসন্ন বারান্দায় জলীয় সোপান । বাইরের ঘর সেজে যাক মুখোসে মুখোসে।

তবু সব অভিনয় শেষে আলগা কপট রঙ মুছে নিতে হয় সাজঘরের একান্ত আড়ালে।
মুখোমুখি বসে থাকে নগ্ন মানুষ আর খোলা ইনবক্স।

মানুষের হৃদয়ের অবিরল অক্ষর বৃত্তান্তে ভেসে যায় ডানা ভাঙা পাখির অফুরান বর্ণমালা….ইনবক্সের রোজনামচায়।

দুই: চাঁদ

আমি পৌরানিক চাঁদকে আমল দিইনি কোনও দিনই।আমার যে জ্যোৎস্না আধারি চাঁদ ভালোবাসা বিলিয়ে যেতে চায়…বিরহিণী সে যে আবহমান…. বিজ্ঞান অনুযায়ী তাকে যে আলো আর প্রেম ধার নিতে হয় অবিরাম… তার এত যে প্রেম এতটুকু তার নয়…..

হয়তোবা জমাট কান্নারাই চাঁদের হৃদয়ে, স্তনে বানিয়েছে শামুক-খোলক! কে বলতে পারে ভিতরের কান্নারা কখন বাইরে এসে পরবাস খোঁজে…

কোথাও কোনও ঝুঁকি নেয়নি ঈশ্বর।

চাঁদ তাই ঈশ্বরীর ভাড়া করা মায়াবী কোটর।

ম্যাজিকাল পোশাক

কবির পোশাকে লুকিয়ে রেখেছি একটা আদ্যোপান্ত মানুষ , কবির পোশাকে লুকিয়ে রেখেছি স্বরচিত নদী, বেবোধ পাহাড়, ডানাভাঙা অচিন এক পাখি আর দিকভ্রান্ত নৌকা, মহিনের বৃদ্ধতম ঘোড়া আর মাতাল এক প্রেমিকের উন্মত্ত সংলাপ ।

চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে আছে দিশেহারা অক্ষরের স্তূপ , সাজিয়ে রেখেছি গনগনে চুল্লির আঁচ, সেঁকে নিচ্ছি- ঝলসে নিচ্ছি-হৃদয় নামের এক প্রাচীনতম গাছ।

বিভিন্ন ভঙ্গিতে প্রোফাইল পোট্রেটে স্পষ্ট বা আবছা মুখে পলিমাটি খুঁড়ে আনা বিষ, জলের নাভির পাশে
অসেদ্ধ শিসভাঙা ধান, দগ্ধ ও টেরাকোটা ভাঁজে জড়িয়ে রেখেছি মৃতদেহ-

অথচ কলমদানি, উন্মুখ প্যাপিরাসে হামাগুড়ি দিয়ে ওঠা শ্বাস – কবিটাকে মুড়ে গেছি ঝাউপাতা ঘ্রাণে-
অলিভের টানে- মহাকাশে যত সব কুচকুচে মিশকালো
রঙ-গুপ্ত বিবরে তার গড়িয়েছে জয়োদ্ধত ঢঙ।

কবি যা বলেছে মুখে, আবেগ মেঘলা গান, একা একা চিলেকোঠা ছুঁয়ে কবির যে প্রেম, হৃদয় উপড়ে এনে, রক্তেসুনামী টেনে বিষাদক্লিষ্ট ক্ষয়-

কবির পোশাকে ঢাকা পড়ে যেতে যেতে, কান্না গোঙানি আর বসন্ত তিমিরে ডুবে ডুবে যেতে–

কখন যে মানুষটা মুছে গেছে শব্দ- ইরেজারে

কবির পোশাকে পুরষ্কৃত প্রশংসিত হতে হতে, অফুরান ভালোবাসা পেতে পেতে- স্নেহ মায়া আদর তুমুল আহ্লাদে –

এত লোভ জেগে গেছে নষ্ট শরীরে-

মানুষটা আচমকা উধাও হয়ে মহাশূন্যে লীন হয়ে গেল।

এসো খুঁজে দেখো-

তোমাদের উপহার দেওয়া প্রাসাদের সবচেয়ে উঁচু সিংহাসনে এক আশ্চর্য পোশাক পড়ে আছে-

কবি সেই ছদ্মবেশের নাম।

মানুষটাকে খুঁজতে খুঁজতে নাকাল মহাকাল-

সে যে চিরকালের মতো নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।

পোশাক অলীক এক মহৎ গুণের অধিকারী

– না তাকে ভালোবাসতে হয়

— না সে কাউকে ভালোবাসতে পারে-

পুরনো হয়ে গেলে শুধু একটু কাচাকাচি করে আয়রন করে নিতে হয়-

 

পলিমাটি

তোমার বুকের দেড় ইঞ্চি গভীরে নামলেই আমি ঘুমিয়ে যাই , অসাড় মৃত মাছের মত লবণাক্ত ঢেউ দুহাতে সরিয়ে।

তোমার কান্নায় আমার দেহদান।

ঝুরঝুর করে স্মৃতিভষ্ম ছড়িয়ে যায়
অন্ধকারে মিশে থাকা ছোবলের আর্তনাদ-চিহ্নের
শিকারি উষ্ণতায় ।

তুমি কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছোনা
আমার হরিণছুট , আমার নিঃশ্বাসে একশো আট গাছের রিক্তস্বর, ভিজে চুলে প্রতারক হরিণীর গা ঘিনঘিনে ঋতুস্রাব।

তুমি মরণপণ ফিরিয়ে আনতে চাইছো তোমার দশ আঙুলে , আমার অসহায় তীক্ষ্ণচূড়া জলাধারের আনত উত্থান। তোমার দলাপাকানো বর্ষবলয়ের প্রতিটি আবর্তে পাক খেয়ে উঠছে জলস্তম্ভের আসঞ্জিত মৃত্যু বিন্যাস।

একটার পর একটা চামড়া খসিয়ে নেমে আসছি অরক্ষিত আস্তাবলের অশান্ত শিবিরে।

প্রতিটি চুম্বনেই অন্য কোনও ঠোঁট বুঝছো , ভাবছো প্রতিটি ঘামবিন্দু ভুলের ছদ্মবেশে এখনো
হন্তারক , বিষমদে তলিয়ে যাওয়া পাহাড়ের আতঙ্কিত চন্দনস্নান , ধূপগন্ধে মৃত জোছনার নিথর উল্লাস।

তুমি ক্রমাগত ভেঙেচুরে মন্থন শেষেও নদীপাড়ে পৌঁছোতে পারছো না।

কিছুতেই বোঝাতে পারছিনা , তোমার শরীরের প্রতিটি কার্নিশে , প্রতিটি খাদে ও খাড়িতে গুছিয়ে রাখা পরাজিত লাশে তোমার অক্ষরমালার প্রতিটি বীজ রোপণ করছি নিরুপায় প্রেমিকের গত্যন্তরহীন
অবশিষ্ট যুদ্ধের মতো।

এইবার বলে দিই, শোনো-

ভালোবাসায় বিশ্বাস ফিরতে তোমার যতটুকু সময় লাগবে , ততদিন ভাগচাষীর মতো তোমার নাভির চারপাশে আবহমানের সমস্ত পলিমাটি স্তরে স্তরে জমিয়ে যাবো।

কথা দাও শুধু এইটুকু –

প্রবল বৃষ্টি এলে নিঃস্ব আমাকে জলসেচে পৌঁছে দেবে তোমার শৈশবের প্রতিটি প্রত্যাখ্যাত উপত্যকার নিরস্ত্র অরণ্যের শিশির-শিকড়ে।

ভালোবাসা বারবার মরে , তবুও যে ভালোবাসা অজেয় অমর , প্রেমিকার নিহত কোমরে।

উজান উপাধ্যায়। কবি। কবিতাপুরুষ। জন্মের আগেই প্রথম দোয়াত শূন্যে কুড়িয়ে নেওয়া। যাপনের প্রতিটি কার্নিশে, ভ্রমণের প্রতিটি আক্ষেপে কবিতার মেয়ে কবি উজানের অক্ষরবৃষ্টিকে ছুঁয়ে থাকে প্রেমে-অপ্রেমে। শুষ্ক নগরীতে ভালোবাসা লিখতে এলাম - এই উচ্চারণে একাকীত্বের গর্ভে লালিত তার নির্জন, ম্যাজিকাল, অভিকেন্দ্রীয় রূপান্তর।...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..