যা চেয়েছি যা চাইনি

সৈয়দ মাহমুদ
কবিতা
Bengali
যা চেয়েছি যা চাইনি

অভিমানী প্রান্তর

খোলা আকাশের নীচে আমার একটা প্রান্তর ছিল
যা এখনো আমার চোখের ভিতর লুকিয়ে আছে।
নীল চাঁদোয়ায় ঢাকা আকাশটা সেখানে
মেঘ বাতাসের খেলায় দিনমান কাটিয়ে দেয়,
আর চার পাশের সারি সারি গাছের ছায়া নরম সবুজ ঘাসে
বিছানা পেতে হাতছানি দিয়ে আমায় ডাকে।
কতদিন আমি সেই প্রান্তরে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কেঁপেছি;
বিদ্যুতের চমকানি, ঝড়ো হাওয়া, ভেঙ্গে পড়া গাছের শাখা,
কিছুতেই ছিল না এতটুকু ভীতি।
আমার সেই প্রান্তরটা কোনো গহীন বনের ভিতর ছিল না
নিতান্তই লোকালয়ের মাঝে, তবুও ধু-ধু নীরবতা যেন;
বিকেলের আভা নিভে গেলে ঝিঁঝিঁ পোকারা
সমস্বরে গাইত সান্ধ্য পালা,
জোনাকির আলোয় আমি তাদের খুঁজেছি কতো;
রাতের নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে রূপোলী চাঁদের মাতাল ঝলকানিতে
নক্ষত্রের ডানায় ভর করে দেখেছি
চাঁদের ঠিক কাছ দিয়ে কী অবলীলায় উড়ে যায় নিশাচর!
আমার চোখের ভিতর লুকিয়ে থাকা সেই প্রান্তরে
এখনো বর্ষণ নামে, আকাশটা ঢেকে যায় গাঢ় কালো মেঘে
ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির জল উড়ে উড়ে যায়
নিস্তব্ধ সেই চরাচরে মাঝ রাতে কারো পায়ের চিহ্ন পড়ে না বলে
অভিমানে তা এখন জমাট বরফ – এন্টার্কটিকা হয়ে আছে।

যা চেয়েছি যা চাইনি

আমি একটা বাসযোগ্য ভুখন্ডই চেয়েছি মাত্র
বিশ্ব ব্রক্ষান্ড তো চাইনি!
আমি তো ঈশ্বরের কাছে অমরত্ব চাইনি,
শুধু মানুষের মতো ক’টা মূহুর্ত বাঁচতে চেয়েছি।
আমি তোমাদের কাছে প্রাসাদ তুল্য বাড়ী,
লেফট হ্যান্ড ড্রাইভ গাড়ী কিংবা
একাধিক নারী তো চাইনি,
মাথা গুঁজবার একটা ঠাঁই চেয়েছি মাত্র।
আমি তো নিউট্রন বোমা কিংবা
অত্যাধুনিক কোনো মারণাস্ত্র চাইনি,
শুধু উদর পূর্ণ করে সুখের নিদ্রাটুকু চেয়েছি।
আমি তো আমার মাতৃভূমির অপমান-পিতার অপমান
আর ধর্ষিতা বোনের রক্তে আপন ললাটে
কলঙ্ক তিলক আঁকতে চাইনি!

সৈয়দ মাহমুদ। কবি ও গল্পকার। উত্তর জনপদের এক ছোট শহর গাইবান্ধায় জন্ম মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে। ছোট বেলা থেকেই কিছুটা বোহেমিয়ান সৈয়দ মাহমুদ বেড়ে ওঠেন অনেকটা রক্ষণশীল পরিবারে। শৈশব থেকেই প্রকৃতি তাকে টানতো। বিরাণ প্রান্তরে, সারি সারি বৃক্ষের ছায়ায় হাঁটতে কিংবা...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ