যুগল কবিতা

শেখর বালা
কবিতা
Bengali
যুগল কবিতা

অপেক্ষা

চিঠির সুদিন ফুরাইছে
তারপরও কেন জানি চিঠির প্রত্যাশায় থাকি
ভালোবাসার রঙিন প্যাডে লেখা একটি চিঠি
সে চিঠির পাতা জুড়ে শুধু গোলাপের পাপড়ি আর ইতি লিখছো ঘাস লতা পাতায়।
ইদানিং ডাকপিয়ন আমাকে দেখে অন্য পথে হাঁটে
তার মানে চিঠি আসে নাই!
আহা একটি চিঠি কত সহজেই আমার মরচে পড়া দুপুর আর বিবর্ন বিকেলটাকে রাঙিয়ে দিতে পারতো!!

এখন প্রতিদিন ফোনের অপেক্ষায় থাকি
ভাবি এতদিন গেছে তো কী হয়েছে
আজ নিশ্চয় ফোন করবে
সাত সাগরের ওপার থেকে চিকন মিহি স্বরে বলবে,
ভাল অাছো তো? কেমন চলছে দিনকাল?
কাল ঠিক ৪ টায় চলে এসো লাইব্রেরী চত্বর
আহা কত্তদিন খাইনা সাধের হালিম!
কিংবা অন্য কোন কথা নেই-
হুঁট করে শুনতে চাইবে জয় গোস্বামীর কবিতা
তারপর এক এক করে পূর্ণেন্দু পত্রী, নির্মলেন্দু গুণ- মহাদেব সাহা, শঙ্খ -শক্তি- সুনীলের কবিতা শোনার আবদার করবে তুমি
সবশেষে শুনতে চাইবে আমার কবিতা
আমি লজ্জার মাথা খেয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হরিণীর মত মুখ কালো করে বলব-
সব তো মুখস্ত নেই…।
একথা শুনে তুমি রেগে আগুন হবে
তেলেবেগুনে জ্বলে বলতে থাকবে-
“সারাদিন তো বই আর বই
আমার জন্য একশ কবিতা মুখস্ত রাখবে তুমি
না না একশ নয় পাঁচশ হ্যাঁ হ্যাঁ পাঁচশ কবিতা
নাহ্ এত কম নয় এক হাজার কবিতা মুখস্ত রাখবে তুমি
যখনই শুনতে চাইবো
পটপট করে বলতে হবে তোমাকে…”

কিন্তু ফোন আসে না!!

 

চিঠি দিও

কতদিন… পাইনি তোমার চিঠি
রোজ দুপুরে ডাকপিয়নকে খুঁজি
প্রথম দেখা প্রথম প্রপোজ ডে
একে একে যাচ্ছে চলে যে!

আমি কিন্তু লিখছি চিঠি রোজ
এটাই আমার ভাল থাকার ডোজ
আকাশডাকে পাঠাই কিছু কিছু
প্রাপ্তি স্বীকার করো নাই তো কভু!

মনে পড়ে কী সে কাতরতা…..
কখন আসবে কুরিয়ারের ফোন
একটি চিঠি কত্ত কথার খই
চড়তে থাকি কল্পনারই মই।

জানি; একটি চিঠি মেঘে ঢাকা সকাল
একটি চিঠি চোখ রাঙানো দুপুর
একটি চিঠি বিবর্ণ বিকেল
দূর করবে সব হতাশা শেষমেশ।

একটি চিঠি আসবে আশায় আছি
আসলে চিঠি একটু প্রাণে বাঁচি
অপেক্ষা নয় প্রতীক্ষাতেই থাকি
মাথার দিব্যি. চিঠি দিও আজি….

শেখর বালা। কবি। জন্ম, ১৫ জানুয়ারি ১৯৮৫, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ; বাংলাদেশ।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ