রূপন্তী

মনিজা রহমান
অণুগল্প
Bengali
রূপন্তী

– আপনার ইনফরমেশন টোটালি রং। সে করোনাতে মারা যায় নাই। মারা যাবার আগের দিন সে রাত ৯টা পর্যন্ত সে কাজ করেছে। সে ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছে। যারা যারা এসব ভুল ইনফরমেশন তাদের বিরুদ্ধে আমি লিগাল একশন নিতে পারি।

সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন টেক্সট দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। টেক্সট করেছে আমার ছেলের সঙ্গে এলিমেন্টারি স্কুলে পড়তো এক মেয়ের মা। মেয়েটার নাম রূপন্তী। খুব সুন্দর দেখতে। আমার ছেলে যে স্কুলে আগে গান শিখতো, রূপন্তী এখনো সেখানে নাচ শেখে।

– আপনি কি বলছেন, বুঝতে পারছি না! আমি রূপন্তীর মায়ের টেক্সটের উত্তর দেই।

উনি তখন একটা স্ত্রিণ শট পাঠায়। মাস খানেক বা তারও আগে নিউইয়র্ক শহরে করোনা মহামারী যখন ‍শুরু হল তখন একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুকে-  ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে ক্যান্ডি স্টোরের মালিক কৃষ্ণ বণিকের মৃত্যু।’

– আপনি আমার ওপর অযথাই রাগ করছেন, আমি তো নিউজটা করিনি। শুধু শেয়ার করেছি।

নিউজ করা আর শেয়ার করা যে এক জিনিষ না সেটা আমি রূপন্তীর মাকে বোঝানোর চেষ্টা করি।

– আমি বলিনি আপনি নিউজটা করেছেন। কিন্তু শেয়ার করার আগে আপনার নিশ্চিত হওয়া উচিত ছিল। আপনার মতো এডুকেটেড মানুষের কাছে এটা আশা করিনি।

আমার টেক্সট এর উত্তরে তিনি জানান। এবার আমার মেজাজ খারাপ হয়।

– নিউজটা ভুল আর আপনার দেওয়া তথ্য যে ঠিক তার প্রমাণ কি?

আমার শেষ কথাটা তার শরীরে যেন আগুন ধরিয়ে দিল। এরপর সে অনেক কিছু লিখে গেল এক নাগাড়ে। তারপর আমাকে সরাসরি ব্লক।

ভদ্রমহিলার কথাগুলি সারাদিন আমার মনের মধ্যে কেমন যেন কাঁটা হয়ে বিধে রইল। রুপন্তীর মাকে ছেলের স্কুলে যতটুকু চিনেছি, এমন ব্যবহার করার কথা তো তার নয়। মনে কেমন খটকা লাগে।

সন্ধ্যায় ফ্রি হয়ে ভদ্রমহিলার ফেসবুকে যাই। তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকি ওনার পারিবারিক ছবি।

তারপর বিভিন্ন অনলাইনে শেয়ার করা কৃষ্ণ বণিকের খবর খুটিয়ে পড়ি। ওনার বাসা জ্যাকসন হাইটসে! এক ছেলে ও এক মেয়ে। অনেক কিছু মিলে যাচ্ছে। ক্যান্ডি স্টোর ছিল উডসাইডে।

ক্যান্ডি স্টোরের নাম – ‘রূপন্তী’।

মনিজা রহমান।  লেখক ও সাংবাদিক। জন্ম ৯ মার্চ, ঢাকার গেন্ডারিয়ায়; বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস। অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।  ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভিতে কাজ করেছেন দীর্ঘ প্রায়...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মানুষ 

মানুষ 

মানুষ  অকৃতদার মাস্টার মশাই পাঁচজন ছাত্রীকে পড়ান নিজের ঘরে । প্রতিবেশীদের সন্দেহ ক্রমশ দানা বাঁধে…..