শিক্ষিত ও জ্ঞানী

শাহীদ লোটাস
প্রবন্ধ
Bengali
শিক্ষিত ও জ্ঞানী

বিদ্বান, বিদ্যাবান বা পণ্ডিত ব্যক্তিকেই শিক্ষিত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করলে কখনই ভুল হবে না, অর্থাৎ শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষেই শিক্ষিত মানুষ। এখন এই শিক্ষা আমরা কোথায় পেয়ে থাকি বা পাই সে বিষয়ে আলোচনা করলে প্রথমেই বলতে হবে প্রতিটি মানুষ পরিবার থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করে তা পরিবর্তন বা সংশোধন করা প্রায় সবার পক্ষে কষ্টকর, তাই পরিবারেই ব্যক্তির এমন এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে সে দৈনন্দিন কাজসহ জীবনের অধিকাংশ কাজ রপ্ত করে থাকে, আর পরিবারের বসবাসরত মা বাবা ভাই বোন বা অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকেই এই শিক্ষা পেয়ে থাকে শিক্ষাধীন মানুষটি। পরিবারের পরে সমাজ প্রকৃতি বা মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনকে ঘিরে শুরু হয় একজন ব্যক্তির ব্যবহারিক শিক্ষার এক সীমাহীন যাত্রা, এই যাত্রার কোন শেষ নেই, একদিকে অর্জন অন্য দিকে তা প্রকাশ, এইঅবস্থার মাধ্যমেই অতিবাহিত হয় ব্যক্তির জীবনকাল। এখানে শিক্ষাগুরু হন প্রতিজন, জীব ও জড়জগত, ভালো আর মন্দ, মনুষ্যজগতের বৈচিত্র্যময় আচার আচরণ, মোট কথায় দৃশ্যত বা অদৃশ্য সকল বিষয়।

মানবসভ্যতার সূচনাকাল থেকেই শিক্ষাকে বিভিন্ন স্তরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষানবিশদের মাঝে ব্যবহারিক ও আক্ষরিক অর্থে শেখানোর এক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, এই শিক্ষাব্যবস্থা উন্নীত হতে হতে আজ তা, ইস্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়রূপে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছু বৃত্তি বা পদ রয়েছে যে পদে অধীন ব্যক্তিদের অধ্যাপক, গুরু, মাস্টার বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, মূলত তারাই শিক্ষানবিশদের নির্ধারিত কিছু বিষয় শিখিয়ে থাকেন। আর তাদের শেখানো বিষয়গুলো মূলত যুগে যুগে বিভিন্ন জ্ঞানী পণ্ডিতদের পরিক্ষিত জ্ঞানের ফসল, যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে পাঠ্যপুস্তকে। আর বর্তমান বিশ্বের পদবীপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ জ্ঞানের আলোকে তাদের শিষ্য বা ছাত্রদের পড়িয়ে থাকেন তাদের শেখানোর কৌশলের মাধ্যমে।

যুগে যুগে মানবজাতির অজানা রহস্যের প্রতি আগ্রহ ছিলো অপরিসীম, এখনো তা রয়েছে এবং অনন্তকাল পর্যন্ত এই আগ্রহ বিদ্যমান থাকবে এতে কারো কোন সন্দেহ নেই, আর এই আগ্রহের ফসলস্বরূপ আমরা আরো উন্নত জীবন যাপনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, অজানা অনেক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করছি। যারা অজানা রহস্যের সঠিক সন্ধান দিতে পারেন এবং সমস্যার সমাধান করে যান মূলত তারাই পদবীপ্রাপ্ত অধ্যাপক, গুরু, শিক্ষকদের সীমানা অতিক্রম করে এক মহান্তরে উপনীত হন, এই শ্রেণির মহান ব্যক্তিদেরকেই বলা হয়ে থাকে জ্ঞানী, মনীষী, কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী। মুলকথা শিক্ষিত সমাজের শিক্ষকেই হলেন এঁরা। যারা কখনই সনদপত্রের জন্য তাদের জ্ঞান বিজ্ঞান বা চিন্তাগুলো প্রকাশ করেন না, করেন মানব কল্যাণের জন্য, সভ্য সমাজের অগ্রগতির তাগিদেই। উচ্চতম সুস্পষ্ট চিন্তা এবং চেতনার বিকাশের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, একজন জ্ঞানী এইবিষয়ে বেশ পারদর্শী হন, কারণ তিনি শিক্ষিত। আমরা প্রতিটি মানুষই প্রতিনিয়ত কোন না কোনভাবে শিক্ষাগ্রহণ করছি, এরমাঝে কথা হলো, এই শিক্ষাগ্রহণে কার কতটুকু যোগ্যতা রয়েছে, কে কতটুকু অর্জন করতে পারেন, যার যতো বেশি শিক্ষাগ্রহণের মানসিক শক্তি থাকে, স্পৃহা থাকে, আকাঙ্ক্ষা থাকে, সে ততোবেশি শিক্ষিত হন, জ্ঞান অর্জন করেন। আমাদের নিদিষ্ট কিছু শিক্ষক থাকলেও মূলত আমাদের পাশের বাড়ি বা পরিবারের নির্বোধ মানুষটির কাছেও কখনো কখনো আমাদেরকে অনেক কিছু শেখার থাকে, আমরা মানি আর না মানি; কখনো কখনো তিনিও আমাদের শিক্ষক।

সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞানলাভের প্রক্রিয়াকেই শিক্ষা বলা হয়ে থাকে। তবে শিক্ষা হল সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের অব্যাহত অনুশীলন। সক্রেটিসের ভাষায়,

‘শিক্ষা হল মিথ্যার অপরোদন ও সত্যের বিকাশ।’

এরিস্টটল  বলেছেন,

‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা’।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়,

“শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে। আমার কাছে শিক্ষিত ব্যক্তি সেই ব্যক্তি যিনি মার্জিতরুচি নিয়ে সভ্য সমাজে চলাচল করেন, যাকে সবাই সাধু বলে সম্বোধন করেন এবং প্রকৃতপক্ষেই তিনি নিজের যোগ্যতায় উচ্চ সমাজের অন্তর্গত হন,  যিনি অর্থনীতি রাজনীতি এবং সাহিত্যের অনুরাগী হয়ে সর্বদায় কল্যাণ ও সুস্থতা নিয়ে বেঁচে থাকেন।”

আমি কোন ব্যক্তির নিজস্ব মত প্রকাশের মধ্যেই বিবেচনা করি তিনি কতটুকু শিক্ষিত এবং জ্ঞানী।

আমরা সবাই জানি জ্ঞানহীন বা জ্ঞানশূন্য ব্যক্তিকে বলা হয় অজ্ঞান, অবোধ, মূঢ়, কিংবা মূর্খ। তাহলে আমরা জ্ঞানী ব্যক্তি কাকে বলবো? যার প্রাতিষ্ঠানিক অনেক সনদপত্র আছে তাকে? যিনি ইস্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সব পেড়িয়ে এসেছেন এমন ব্যক্তিকে? নাকি যিনি ইস্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পেড়িয়ে বহু সনদপত্র নিয়ে এসেছেন, তিনি শিক্ষিত আর জ্ঞানী হতে পারেন, অধিকাংশের বেলায় তাইই হয়ে থাকে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে মূলত শিক্ষিতমানব গড়ার প্রয়োজনেই। রাষ্ট্রের শিক্ষিতের পরিসংখ্যান আসে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদপত্রের ওপর নির্ভর করেই। কিন্তু কখনো কখনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদপত্রপ্রাপ্ত ব্যক্তিও জ্ঞানহীন হতে পারেন, হতে পারেন মূর্খ কোন ব্যক্তি থেকেও নির্বোধ। এই জাতীয় ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্র আর পরিবারের কোন কল্যাণ সাধন করতে পারেন না, পারেন শিক্ষার ছদ্মবেশে অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে। এই জাতীয় মানুষ শুধুমাত্র সনদপত্রের অধিকারী হন এবং নামধারী শিক্ষিত, প্রকৃতপক্ষে তখন একজন অশিক্ষিত আর তার মাঝে বাহ্যিক পার্থক্য ছাড়া তেমন কোন পার্থক্য থাকে না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা অধ্যায়নকারী সম্পূর্ণ ব্যক্তি যে স্বাক্ষরতা জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ তা বলা যাবে নির্দ্বিধায়।

জ্ঞান নিয়ে বলছিলাম, জ্ঞানী তাহলে কাকে বলবো আমরা? বোধ বুদ্ধি অনুভবশক্তি যার মাঝে যত বেশি বিদ্যমান তিনিই ততো বেশি জ্ঞানী হবেন এ সবারই জানা। জন্মের পর থেকে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ নানা অবস্থার ভেতর দিয়ে বড় হতে থাকে, আর তার অতিক্রান্ত পরিস্থিতি বা অবস্থার তিনি যদি সঠিক সংজ্ঞা আবিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন এবং সেই সংজ্ঞার ভিত্তিতে তার নিজের ভেতরে চেতনা জাগ্রতে করতে পারেন তখনই তিনি জ্ঞানী হবেন। তার মাঝে তখন বুঝবার কিংবা বিচার করবার ক্ষমতা আপনাআপনি তৈরি হতে থাকবে। অভিজ্ঞতার কোন শেষ নেই, নতুনকে জানার আগ্রহ যেমন মানব জাতিকে যুগে যুগে ব্যাকুল করেছে, তেমনিভাবে নতুনত্বের সন্ধান মিলেছে অনেক; আর ভবিষ্যতে এই দ্বারা চলতে থাকবে।

আগেই বলেছি, জ্ঞানের বিভিন্ন স্তর রয়েছে, সব মানুষের পাণ্ডিত্যঅর্জন বাধ্যতামূলক নয়, পাণ্ডিত্যের অনেক সাধনা থাকে, কিন্তু প্রতিটি মানুষের শিক্ষাঅর্জন তার মৌলিক চাহিদারই অন্তর্ভূক্ত এবং এ অর্জন অত্যাবশ্যকই। বুদ্ধিবিবেচনা না থাকলে কোন ব্যক্তিকেই আমরা মূল্যায়ন করি না, বুদ্ধিশুদ্ধিহীন মানুষ ভালো কিছু করতে পারেন এ অবিশ্বাস্য, তিনি সকল কাজের ব্যঘাত ঘটান, কিন্তু এমন মানুষ নিজেকে মাঝে মাঝে মহাজ্ঞানী ভাবতেও দ্বিধা করেন না।

পক্ষান্তরে জ্ঞানীরা কখনই নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবেন না, তারা জানেন তিনি কিছু জানেন কিন্তু এমন অনেক বিষয় আছে যা তার জ্ঞানের বাইরে, যে বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত নন তিনি, তাই একজন জ্ঞানী ব্যক্তি সবসময় শিক্ষাগ্রহণে মত্ত থাকেন, তিনি নিজেকে সবসময় একজন শিক্ষানবিশ মানুষ হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেন, প্রকৃতপক্ষে এটাই সত্য, কারণ একজন মানুষের পক্ষে পৃথিবীর সববিষয়ে জানা বা বুঝা বা ভাবা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ কারণেই একেকজন একেকবিষয়ে গৌরব অর্জন করে থাকেন।

আবার পৃথিবীতে বসবাসরত মানুষের মাঝে অনেকেই আছেন যাদের জ্ঞান পিপাসা অপরিসীম, জ্ঞানার্জন ও সাধনে যাদের ক্লান্তি নেই, কখনো কখনো তাদের এই  জ্ঞানপিপাসার কারণেই তারা সন্ন্যাসী ও তত্ত্বজ্ঞানী হয়ে যান। তিনি পরমার্থ চিন্তায় মগ্ন থাকেন এ কারণেই তাদের সৃষ্টি হয় অন্তর্দৃষ্টি, অনেক বিষয়বস্তু সম্পর্কে তত্ত্বজ্ঞান তারা আবিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন। মূলত সাধারণ অনেকের থেকে কোনবিষয় বোঝার অপরিসীম ক্ষমতা থাকার কারণেই তারা জ্ঞানের এমন উচ্চশিখরে পৌঁছাতে পারেন, এমন জ্ঞানী হওয়া প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, আর প্রয়োজনও নেই।

প্রতিটি মানুষেরেই উচিত দর্শন, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সামাজিক সৌজন্যমূলক প্রভৃতি বিষয়ে স্বাভাবিক শিক্ষাঅর্জন করা, ঈশ্বর ও আত্ম-উপলব্ধি করার মতো ক্ষমতা রাখা, এরূপ জ্ঞানে যারা জ্ঞানী হন তারা তাদের জীবন-যাপনে নিজের ও অন্যের কল্যাণ করেন বলে আমি মনে করি। যে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিটি মানুষের জ্ঞানের উদয় হতে পারে, ব্যক্তি যদি সেই জ্ঞানকে ইন্দ্রিয় দ্বারা তখন সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন তখনই তার মাঝে জ্ঞানের সূচনা ঘটবে। জ্ঞানের প্রাথমিক বিকাশের পরেই মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করতে থাকে, ধীরে ধীরে তার মাঝে তখন তৈরি হতে থাকে ভালো-মন্দ বিচারের প্রবল ক্ষমতা, প্রতিটি বস্তুর প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করার দক্ষতা, এই ধারাবাহিকতা যখন ব্যক্তিচর্চার মাধ্যমে জিইয়ে রাখেন তখন তার শিক্ষার ক্ষেত্রগুলো জীবনে প্রয়োজনমাফিক ব্যবহার করতে অসুবিধে হয় না।

শিক্ষা এবং জ্ঞান একে অপরের সম্পূরক। কিন্তু একজন ব্যক্তির জ্ঞানী হওয়ার পূর্বশর্ত হলো শিক্ষিত হওয়া, শিক্ষা অর্জন করা, একজন শিক্ষিত ব্যক্তি তার অর্জিত শিক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত হওয়া মেধার যথাযোগ্য ভাবনার গুণে জ্ঞানী হতে পারেন। আবার যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন সুযোগ পান না, তাদের পক্ষেও জ্ঞানী হওয়া সম্ভব, শিক্ষিত হওয়া সম্ভব যদি তার মাঝে জ্ঞানীর সান্নিধ্য থাকে ব্যবহারিক শিক্ষাগ্রহণের স্পৃহাটুকু জাগ্রত হয়।

বসবাসরত প্রতিটি মানুষেরেই সাধারণ ক্রিয়া-কর্ম-আচার-বিশ্বাস-সংস্কার প্রায় সবকিছুতেই কিছু না কিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। একেকজন একেকভাবে বিশ্বাস রাখেন অলৌকিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপারে, এর মুল কারণ হলো তাদের নিজেদের মাঝে শিক্ষার তারতম্য, অর্জিত এবং প্রকাশিত জ্ঞানের ভিন্ন পার্থক্য থাকা।

এককথায় যে ব্যক্তির জ্ঞানেন্দ্রিয় যেইদিকে বেশি সচল থাকবে তিনি সেই ব্যাপারেই বেশি বুদ্ধিমান বা জ্ঞানী হবেন। তার জীবনব্যবস্থা তাতেই পরিচালিত হবে এবং তার সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য জীবন তার রুচি ও অর্জিত বুদ্ধিমত্তাতেই খুঁজে পাবেন, তার সকল-কাজ তার অর্জিত জ্ঞানের দ্বারাই পরিচালিত হবে, এই কারণেই সংসারে একেকজনের অবস্থান একেক রকম। সংসারে উন্নতি অবনতি এই অর্জিত জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ।

আমরা জানি সারাবিশ্বে কয়েকহাজার ভাষা প্রচলিত, এখানে আমার বলার বিষয়, কেউ কেউ মাতৃভাষা বাইরে অন্য কোন ভাষা জানেন না বা শেখেন না, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন প্রয়োজনে নিজ ভাষার বাইরেও অন্য ভাষা আয়ত্ত করে থাকেন। এখন যিনি নিজ ভাষার বাইরে অন্য ভাষা আয়ত্ত করলেন, তিনি কিন্তু সেই ভাষায় পারদর্শী হলেন, একটি ভাষা শিখলেন, তাই বলে তাকে জ্ঞানী বলা যাবে না; বলা যাবে সেই ভাষায় তিনি বলবার ও লিখবার দক্ষতা অর্জন করলেন। তখনই তাকে জ্ঞানী বলা যাবে, যখন তিনি তার কথায়-লেখায় বা কর্মে সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাবেন। তিনি যা বলছেন তা দেশ, সমাজ ও সভ্যতার মৌলিক কিছুর সন্ধান লাভ করবে, তা যে কোনো ভাষাতেই হোক। হোক তা তার মাতৃভাষা, হোক বা ভিনদেশী ভাষা, মুল বিবেচ্য বিষয় তিনি তার কথায় কি প্রকাশ করছেন? মূলত মানুষের কথায়, লেখায় আর চিন্তায় শিক্ষা এবং  জ্ঞানের প্রকাশ ঘটে, তা দেখেই আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে থাকি তিনি কতটুকু শিক্ষিত বা তিনি কতটুকু জ্ঞানী।

যে ব্যক্তি নিজ ভাষা শুদ্ধভাবে বলতে লিখতে ও পড়তে পারেন সেই ব্যক্তিই শিক্ষিত, আর যিনি নিজ ভাষার বাইরে পৃথিবীর অন্যান্য ভাষাও রপ্ত করতে পারলেন তিনি আন্তর্জাতিক জ্ঞানগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। শিক্ষার উদ্দেশ্য ও প্রয়োগকে আমরা দু‘ভাগে ভাগ করতে পারি,

১. নৈতিক ও সামাজিক ব্যবহারের প্রয়োজনে

২. অর্থোপার্জন বা অর্থোপার্জনে সহায়ক হয় তার প্রয়োজনে।

বর্তমান সমাজে প্রথমটি থেকে দ্বিতীয়টির গুরুত্ব প্রাধান্য পেয়েছে। অর্থোপার্জনের তাগিদেই আজকাল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রাপ্তির আশায় মানুষ পড়াশুনা করে থাকেন। আর এই অর্থোপার্জনের মনোবাসনা থাকায় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এই কারণেই একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরও তার আচার-আচরণ মূর্খ বর্বর কোন ব্যক্তি থেকে উন্নত হয় না। অর্থোপার্জন বিভিন্নভাবে হতে পারে, হতে পারে ব্যবসা, চাকরি বা পৈতৃক সম্পদপ্রাপ্তির মাধ্যমে। কিন্তু আমার বলা নৈতিক ও সামাজিক ব্যবহারের প্রয়োজনে যা শেখা হয় তা বিভিন্নভাবে গ্রহণ ও প্রয়োগ হওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তির আন্তরিক আগ্রহ ও সাধু মানসিকতা। একজন ব্যক্তি যখন নৈতিকভাবে আদর্শবান হলেই তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যাবে। একজন ব্যক্তি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা সরকারি পেশায় না গিয়েও তিনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন, কিন্তু একজন মানুষ যদি নৈতিক চরিত্রহীন হয় তিনি কখনো ভালো মানুষ হতে পারেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

মানুষকে ভালোমানুষ হতে হবে, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বার বার এই তাগিদই দেয়া হয়েছে। আর এ কারণেই আদর্শ ও প্রকৃত নৈতিকগুণসম্পন্ন মানুষ পরিবারে সুখ বিলায়, সমাজে সভ্যতার সাক্ষর রাখেন। কিন্তু নৈতিক চরিত্রহীন একজন উচ্চ-কর্মকর্তা বা ধনাঢ্য ব্যক্তি পরিবার ও সমাজে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেন না। এই ব্যাপারটি জীবনে কোননা কোনো সময় প্রতিভাত হয়। তাই শিক্ষার মূল্য উদ্দেশ্য থাকা উচিত নিজেকে সুগঠিত করা, নৈতিকভাবে নিজেকে আদর্শবান করা।

এমন ব্যক্তি আছেন যারা প্রকৃতিগতভাবেই জ্ঞানে গুণানিত্ব হয়ে থাকেন। যারা দৃশ্যত কোনকিছুর সীমাবদ্ধতা পেড়িয়ে অন্যের দেখানো রূপ বা অন্যের বলা চিন্তায় প্রভাবিত না হয়ে নিজের মতো করে নতুনরূপে দেখা শুরু করেন প্রতিটি বিষয়। তখন তিনি শিক্ষিত শব্দটি পেড়িয়ে ‘জ্ঞানী‘ উপাধিপ্রাপ্ত হোন। এ জাতীয় ব্যক্তিরা শিক্ষিত সমাজ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ করতে থাকেন আপনা আপনি। এদেরকে বলা হয় সাহিত্যিক, দার্শনিক ও বিজ্ঞানী। এদের চিন্তালব্ধ সঠিক বিষয়গুলো নিয়েই শিক্ষা এবং শিক্ষিত হওয়ার পন্থাগুলো বের করা হয়েছে। আর তাদের চিন্তার ফসলই মানুষকে শিক্ষিত হতে সাহায্য করে, এই মহান ব্যক্তিদের বাণী যিনি শিক্ষানবিশদের মাঝে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেন তিনি শিক্ষক, আর যিনি গ্রহণ করেন তিনি শিক্ষানবিশ।

এই শিক্ষানবিশদের মাঝে যিনি যতটুকু শিক্ষিত বা সুশিক্ষিত হতে পারেন তিনি তার জীবনে ততটুকু সাফল্যের সাক্ষর রাখতে পারেন। একজন শিক্ষানবিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদপত্র অর্জন করে তিনি চাকরি বা ভালো বিয়ে করতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু সুশিক্ষিত হতে না পারলে তিনি পরিবার বা সমাজে ভালো কিছু উপহার দেবেন এমন আশা করা হবে মহাবোকামী। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে কাদেরকে আমরা শিক্ষিত বলব? কীভাবে বুঝবো একজন ব্যক্তি শিক্ষিত হতে পারলো?

প্রথমত, যারা জীবনে একেরপরএক যেসকল অবস্থার সম্মুখীন হন, সেসকল অবস্থা সম্যকভাবে মোকাবিলা করতে পারেন এবং যারা সমস্যাপূর্ণ মুহূর্তগুলিকে যথার্থরূপে বিচার করে সঠিক কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারেন। তারপর, যারা বিভিন্নস্তরের মানুষের সঙ্গে সহজভাবে ব্যবহার করেন, যারা সহকর্মীদের সঙ্গে সবসময় সাধ্যমত ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার করেন। তাছাড়াও যারা নিজেদের আনন্দ-উল্লাসকে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং কখনও কখনও দূর্ভাগ্যের শিকার হলেও অশোভনভাবে বিচলিত না হয়ে সেই দূর্ভাগ্যকে মানুষের স্বভাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গ্রহণ করেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যারা সাফল্যের আনন্দে পথভ্রষ্ট হয়ে মানুষের সত্তাকে বিনষ্ট করেননা, বরং বিজ্ঞ ও স্থিতধী ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকেন, যারা সহজাত বুদ্ধি ও স্বভাব নিয়ে যেমন উচ্ছ্বসিত হন না, যাদের চরিত্র উল্লিখিত গুণাবলীর যে কোনও একটির সঙ্গে নয়, সবগুলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তাদেরই শিক্ষিত বলা যায়। অর্থাৎ তিনি শিক্ষিত হয়েছেন বলে ধরে নেয়া যাবে। এই কথাগুলো আমার নয়, সক্রেটিসের। সক্রেটিস একবারও উল্লেখ করেননি একজন শিক্ষিত ব্যক্তিকে অবশ্যই কোন না কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদপত্র অর্জন করতে হবে, এবং তার সনদপত্রের ভিত্তিতেই তিনি কোন ক্যাটাগরির শিক্ষিত তা নির্ধারণ করা হবে।

আমাদের দ্বারা কৃতকর্মাবলীই প্রকাশ করে দেয় আমরা কতটুকু জ্ঞানী আর নির্বোধ। মূলত ভেতরে থাকা শিক্ষার প্রকাশই এটা, আমি কতটুকু শিক্ষিত তা প্রকাশ করবে আমার বুদ্ধিমত্তা আর আমি কতটা অশিক্ষিত তা প্রকাশ করবে আমার বুদ্ধিশূন্য কাজকর্ম। এই কথাগুলোই বলার চেষ্টা করেছি ওপরের আলোচনায়।

আমাদের মৌলিক চাহিদার ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করে আমাদের শিক্ষিত হওয়ার ফলাফল। একজন শিক্ষিত ব্যক্তি আর একজন অশিক্ষিত ব্যক্তির মৌলিক চাহিদাপূরণ আর প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। একজন শিক্ষিত মানুষের খাদ্য আহরণ, উপার্জন আর ব্যবহার একজন অশিক্ষিত মানুষের থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্নতর হয়ে থাকে। তেমনি পোশাক-আশাকের ব্যবহার, রুচির তারতম্যও স্পষ্ট লক্ষ করা যায়। একটি শিক্ষিত বা জ্ঞানী প্রজন্ম তৈরি করার ক্ষেত্রে শিক্ষিত বা জ্ঞানী অভিভাবকের ভূমিকা অপরিহার্য। একটু খেয়াল করলেই আপনি বুঝতে পারবেন, আমরা যে সমাজে বসবাস করি সে সমাজে বেশ কয়েকটি স্তর রয়েছে, সে স্তরগুলো সৃষ্টি হয় আপনা-আপনি। মূলত চিন্তা চেতনার ভিত্তিতেই সেই বিভিন্ন সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে যায়। এখানে অর্থনৈতিক ব্যাপারটি একদম মামুলি হয়ে উপস্থাপিত হয় স্বাভাবিকভাবেই। সমাজের যে স্তরের কথা বলছি, সে স্তর শুধু জ্ঞান আর রুচির ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, এবং এখানে বিত্তের কোন প্রভাব নেই বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে।

একজন ব্যক্তি যখন শিক্ষিত হন, তখন শুধু শিক্ষিত ব্যক্তিই উপকৃত হন না, এই শিক্ষিত ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত থাকা পরিবার, জাতি, রাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে সকলেই এই শিক্ষার ফলভোগ করে থাকেন। তাই জাতীয় স্বার্থে, রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের উচিত রাষ্ট্রে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিককে সুশিক্ষিত করা, তেমনিভাবে পরিবারের স্বার্থেও পরিবারের উচিত পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রতিটি সদস্যকে সুশিক্ষিত করা।

বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের কোন বিকল্প নেই, আক্ষরিক ও ব্যবহারিক সকলশিক্ষা গ্রহণ করা উচিত প্রতিটি মানুষকে। রাষ্ট্র তার নাগরিককে যত বেশি জ্ঞানী হতে সাহায্য করবে, সেই রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত হবে; বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করবে। যে পরিবার যত বেশি শিক্ষিত সদস্য তৈরি করবে, সেই পরিবার তত বেশি সমৃদ্ধশালী হবে। একজন ব্যক্তি যখন জীবনযাপন করেন তখন তিনি কারো না কারো সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে থাকেন, বাঁচার তাগিদেই কোন না কোন স্তরে চলাচল করতে হয় তাকে, ব্যক্তির কথা বলার ধরন, চালচলন, বাচনভঙ্গি, চিন্তা, চেতনা এবং তার প্রকাশ জ্ঞানের ধারাই সে তার মত লোকসমাজের সঙ্গে উঠা বসা শুরু করেন।

বস্তুত, শিক্ষাগ্রহণ ও প্রয়োগ নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে; এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বহুপ্রকার শিক্ষাব্যবস্থা রয়েছে, ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয়, বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাগুলো প্রতিনিধিত্ব করে। সব শিক্ষাই প্রতিটি মানুষের গ্রহণের প্রয়োজন নেই, কখনো-কখনো অপ্রয়োজনীয় কিছু শিখতে গেলেও সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারেন। আমাদের সুস্থভাবে জীবনধারনের জন্য যতটুকু শিক্ষার প্রয়োজন ততটুকুই আমাদের শিক্ষিত ও জ্ঞানার্জন করতে হবে। পৃথিবী নশ্বর, জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু কর্ম চিরন্তন।

অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষ সচরাচর শিক্ষিত মানুষ নয়, জ্ঞানীও হন না, শিক্ষিত হতে হলে প্রথমেই একজন ব্যক্তিকে হতে হবে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ, আমি অক্ষরজ্ঞানের কথা এ কারণেই বলছি, কারণ পুস্তক হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক, পৃথিবীর সিংহভাগ জ্ঞান পুস্তকেই লিপিবদ্ধ আছে, আর সেই জ্ঞান গ্রহণের একমাত্র পথ পাঠকরা। পুস্তক হলো অন্ধকার জীবনে জ্ঞানের আলো। এ কারণেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পুস্তকের ওপর নির্ভরশীল, প্রকৃতি থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করে মুন্সিরা পুস্তকে লিপিবদ্ধ করেছেন, আর যুগে যুগে মানবজাতি সেই লিপিবদ্ধ জ্ঞান পাঠ করে শিক্ষিতের কাতারে নিজেদের নাম লিখিয়েছেন।

আমাদের সমাজে শিক্ষিত বা জ্ঞানী লোকের কেন এত মর্যাদা, আর অশিক্ষিত লোক কেন এত তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হয়ে থাকেন সে বিষয় আলোচনা করতে গেলে অনেক আলোচনাই করতে হবে। শেষকথা হলো, একজন অশিক্ষিত ব্যক্তি শুধু নিজেরই ক্ষতি করে না, ক্ষতি করে সকলের। অশিক্ষিত ব্যক্তি কারো উপকার করতে গেলেও কখনো কখনো তা উপকারের বদলে সর্বনাশ হয়ে যায়।

শাহীদ লোটাস। বাংলা ভাষার লেখক, বাংলাদেশ-এর নেত্রকোনা জেলায় মোহনগঞ্জ থানায় ৩০ মে ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতে শাহীদ লোটাস-এর বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখতে উৎসাহবোধ করেন।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাংলার নবজাগরণের দু একটি কথা

গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাংলার নবজাগরণের দু একটি কথা

একটি পরাধীন দেশ আর তার বাসিন্দাদের মনে স্বাধীনতার আকুতি আমরা দেখেছিলাম ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে। এর…..

কবি চন্ডীদাস ও চন্ডীভিটে

কবি চন্ডীদাস ও চন্ডীভিটে

  কেতুগ্রামে যেখানে চন্ডীদাস বাস করতেন সেইস্থানটি চন্ডীভিটে নামে লোকমুখে প্রচারিত। চোদ্দপুরুষের ভিটে বাঙালির মনে…..

নারীর আপন ভাগ্য জয় করিবার: নারীজাগৃতি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা।

নারীর আপন ভাগ্য জয় করিবার: নারীজাগৃতি ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা।

নবজাগরণের সঙ্গে নারীর জাগরণ, নারীর মর্যাদা ও সুরক্ষা, এবং নারীমুক্তি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতে এই নবজাগরণের…..