শিমুল সালাহ্উদ্দিনের দশটি কবিতা

শিমুল সালাহ্উদ্দিন
কবিতা
শিমুল সালাহ্উদ্দিনের দশটি কবিতা

চড়ুইকথন

খুব ছেলেবেলায় বড়দা আমাকে ঘরের ঘুলঘুলি থেকে একটি চড়ুইছানা পেড়ে দিয়েছিলেন। কী যে খুশি হয়েছিলাম! চড়ুই বরাবরই ভীষণ মন কাড়তো আমার। চড়ুইছানাটা হাতের মুঠোয় পেয়ে বালকের সব পেয়েছির দেশে পৌঁছে যাবার মতো লাফিয়ে উঠেছিলাম। দৌঁড়ে গিয়েছিলাম পাড়ার সবগুলো উঠোনে। চিৎকার করে বলছিলাম, ‘আমার একটা চড়ুই আছে, আমার একটা …’ ।

বারবার দেখি ওকে, খাওয়াই, গা ধুইয়ে দিই। এই এতটুকুন পাখি! অথচ কী প্রাণবন্ত, চলমান, ছটফটে। মুহুর্মুহু চারিদিকে তাকায় ইতিউতি। একদণ্ড চুপ থাকে না। চড়ুইমালিক হবার আনন্দে মায়ের সাথে স্কুলে গেলাম না। চড়ুইপাখিটা বুকের মধ্যে ধরে সারাসকাল দুপুর সন্ধ্যা ঘুরে বেড়ালাম। খাবার দাবাড়ের কথা যেন ভুলেই গেলাম।

স্কুল থেকে ফিরে মা বারবার বললো, ‘ওটাকে ছেড়ে দে, মরে যাবেতো!’ এতো আদর করে ধরে রেখেছি, মরে যাবে কেনো!’ বুঝতে না পেরে মা’র কথা শোনা হলো না।

কখন যে চড়ুইটাকে বুকে চেপে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। ঘুম ভেঙে দেখি আমার বুকের উপর চড়ুইটা মরে পড়ে আছে।

মা বললেন, ‘ভালোবাসার কোনকিছুকে এত গভীরভাবে চেপে ধরতে নেই । ধরলে, মরে যায়।‘


কালস্নান

অস্থিরতা অস্থিকথা কুড়িয়েছি চিতাভষ্ম থেকে সারারাত্রি ঘুরে
নাভি ও অঙ্গারগুলি হাই তোলে ধোঁয়াটে ঢেঁকুড়ে

ঢুকে গেছে আমার ফুসফুসে
যার ডাক শুনে কাঁদি আমাকে সে

শূন্যের মোচড়ে ব্যোম-ভাঁজে-ভাঁজে দিলো ছুড়ে
পুতলো লুব্ধক চাঁদিতে আমার গোল ছিদ্র করে
ঘামরজঃরক্ত শুষে
নীল কালো রাত্রি চুষে চুষে

সাকিনগোত্রহীন রাত্রির চণ্ডাল রাষ্ট্রময় মধ্যস্রোতে দাঁড়িয়েছি
মরা মানুষের নক্ষত্রের দেশে রক্ত মাখা ভাত খেয়ে বেঁচে আছি

এই মরা শহরেও গজায় নতুন পাতা, ফুল ফোটে, প্রজাপতি ওড়ে,
খুব খুব আকাশ উঁচুতে দু-একটা মিষ্টি ফল সোনালিরোদে ওঠে ভরে।


ঢেউ

তুলসী পাকুড় বট— হারিয়ে যেও না
বেতস বৈঁচি বিষকাটালিরা— থাকো, পাশে থাকো
সবচে’ কষ্টে থাকে যেই ফুল কুয়াশা জড়ানো
শিশিরসিক্ত মানবিক লণ্ঠন
এ-তো মণ্ডপ, ও-ই মসজিদ, ষষ্ঠীর বোধন
থাকো, পাশে থাকো।

প্রথম কপোল বেয়ে ঝরে পড়া জল, থাকো।
ফেরানো ময়ূর মুখ, প্রহারের দাগ, সারাদেহ-পিঠ—
থাকো ‘ও অনুগ্রহ’থাকো

পাখি, ও পাখি আমার—
মন, ও মন আমার— স্মৃতিকাতরতা
হারিয়ে যেও না।

যাও, যাও, যাও—
যেমতি চলিয়া ঢেউ যায় একা
ঢেউয়ের মতন রেখে যাও ওগো
আমার চিহ্ন শুধু বালুতটে ছিন্নভিন্ন ফুল
রেখে যাও তুমি যাবার আর্তনাদ
বুকের ওপর তীক্ষ্ণ নখরাঘাত
সিক্ত তিক্ত তিতি-বিরক্ত এ উদভ্রান্ত ঝড়-তুড়ন্ত জলপ্রপাত

এসো, এসো, এসো—
ঘোঁচাতে দূরতা যেভাবে তীব্র তীরে আসে ঢেউ
বহুদূর থেকে ছুটে এসো তুমি অমল-ধবল সাধ
শাদা দাঁতে তুমি বিদ্ধ করো এ সোনালি চিবুক—

পদাঘাত করো শিথিল বালির
অতল পাতাল কলিজা-জঠর চরে; এ-সলীল নায়
যেও না! যেও না! কিছু না বলেই ঢেউ
যেমতি চলিয়া যায় ॥


সতীনের মোচড়

মেঘমেদুর। রোদ্দুর রোদ্দুর। অপেক্ষা। অপেক্ষাশেষে। এক গণ্ডুষ জল। কিংবা খরা। রুখু মাঠে হাঁটতে হাঁটতে। মাঠপারে। মেঘের ডম্বরু। লাল রঙে আঁকা দরোজা তোমার।

তোমার দরোজা থেকে। বলবো বলবো করে ফিরে। ফিরে ফিরে আজ। বলে ফেললাম সেই কথা। কথা। চুপ। কথা। কথা চুপকথা। অমনি নামলো বৃষ্টি, বৃষ্টির বিহ্বল ঠাণ্ডা শীৎকার। স্নান। আর সৎবিৎ ফিরে পেয়ে। মনে হলো। সত্যি বলেছি কি! বলতে কি পেরেছি সেই কথা। কথা। চুপ। কথা? সেই কথা। যা আমার। একান্ত। আমারই?

সুভিক্ষ কথার দুর্ভিক্ষে এসেছে হাহাকার। এসে অনিবার্য প্রগল্ভ সৃষ্টিকে বুকের ফাটল থেকে আচমকাই দিয়েছে ছলকে! বলতে না পারার রহস্যরাস্তায় রাখি এই আনাগোনা। এই আনাগোনা। চকিত দ্বিতীয় স্বত্বা। সঙ্গে দ্বিধা। পেরেছি তো! বলতে পেরেছি তো!

দীপ্ত মোম যেভাবে শিউরে ওঠে আনমনে, সেভাবে শাড়ির খসখসে তুললে হাওয়া— সেই হাওয়া মুচড়ে মুচড়ে ঢুকে পড়ছে। ঢুকে পড়ছে। অলিন্দে। অলিন্দে আমার।


ডাইরেক্ট কবিতা
(প্রচলিত সুরে গাইতে হবে)

তোমার জন্যে আমি একখান ডিলডো হইতে চাই
ও সখী, ডিলডো হইতে চাই।
তোমার জন্যে আমি একখান মিশিন হইতে চাই
ও সখী, আরাম যন্ত্র হইতে চাই।
যেইভাবে কও সেইভাবে হায় আরাম দিবার চাই
ও সখী, পেরেম দিবার চাই।
স্বয়ম্ভূ এক তন্ত্র নিয়া জন্ম তোমার তাই
স্বয়ম্ভূ এক মন্ত্র নিয়া চলন তোমার তাই
তোমার মতন ভাষায় তোমার
চাওয়া মতন ভাসায় তোমায়, তোমার শোষক কারো এমুন সাধ্য নাই
পুং দেবতারতো এমন সাধ্য নাই, তাইতো ও সখী
তোমার জন্য আমি একখান ডিলডো হইতে চাই
বুকের ভেতর আর যোনীর ভেতর আর প্রতিটা রোমকূপে
তোমার চাওয়ার অমল ভাইব্রেটার হইতে চাই
সিনথেসাইজার এই আমার বুকের ভেতর বেজে ওঠা তুমিময় ঘুঙুর
ও ডল বারবী আমার
তোমার জন্যে আমি একখান ডিলডো হইতে চাই।


মন্দস্বাভাবিক

I have made a footprint, a sacred one.
I have made a footprint; I live in the light of day.

(From an anoûmous African poetry)

অলিগলি মুছে-চলা পুছে-চলা এ-শহরে হাতে হাত ছোঁয়া হলো দায়
তাই আজকাল বেশি আর হাঁটাহাঁটি করি না রাস্তায়

কে জানে কোথায় কিসে, পরি-হীন কল্পনা-ইঁট খসে খসে,
পণ্ড হয় গণ্ডগাঁর মেধাবী পোলার নিপাট সুষমা

হায়! বেচারা বেভুলে যদি, সারহীন ট্রাফিক জ্যাম-ঠাঁসে
রস ক্ষরে নষ্ট করে জায়মান, আলোকবিলোলা গান, ভয়-নাগপাশে, বশ্যতা আশে!

সতত সতর্ক তাই থাকি ইদানিং। কেননা এখন,
নামলেই রাজপথে, বড্ড উসকায় লোকে, নাশিলা ছোবল হানে কানে
কানের পর্দায় ঝিল্লিতে সেই ফিসফিসে উড়ো মন্ত্র, সেই কানাকানি—

‘সুযোগসন্ধানী হও বাবা সুযোগসন্ধানী–
সুযোগসন্ধানী হও সোনা, সুযোগসন্ধানী
সুযোগসন্ধানী হও ওগো সুযোগসন্ধানী’

এইসব ত্রিমাত্রা ডায়ালগ শুনে, ভাবি শেষমেষ, ঠিক
চরাচরে ক’টা আর অকপট নষ্ট ছেলে, ক’জনই-বা মন্দ-স্বাভাবিক।


ভাইফোঁটা

উড়ন্ত পাখির বুকে। ছুটন্ত গুলির দাগ। যতখানি লাল।
পুরো হাসিটাতে। সেইটুকু ক্লেদ নিয়ে
হায়গো হরিণী শঙ্কায় তুমি শোনোনি ছিলার টঙ্কার

কি করে বোঝাবো আমি। যা বলেছি, যা শুনেছি। ভুল।
আমার দু’কানে দেখেছো কি দুল!

শব্দ যে নিজেই শোভা। কেউ তা ভাবেনি।
ঠোঁটেজিহ্বায়, মুখগহ্বরে ধাক্কা লেগে।
যে ঢেউ ওঠে তা মিথ্যে।
কথার সমুদ্র আছে আলাদা কোথাও…

এভাবে ও কথা! তুলট আমাকে। খাঁদের কিনারে নিয়ে যাও।
তারাদের দেখতে দেখতে যদি পা-পিছ্লে পড়ে যাই—
দেখো ঠিক, ঠিক দেখো, ভেঙেচুড়ে দিগন্তরেখার মতো দূরত্বে-উঁচুতে উপচে উঠবো।
চিনবো তোমাকে আবার রক্ত-মাংসে হাড়ে হাড়ে ঠিক।

একটিমাত্র নীলে, তুমি। দিগন্তরেখা। তুমিই সম্পূর্ণ হও।
কোনো রঙ অথবা কালিমা, গায়ে লেগে থাকে না জেনেও
মানুষ দেখো, কত না সহজে ধর্মান্তরিত হয়, শান্তি পায়—
ভাইফোঁটা দিয়ে, বন্ধুতা দিয়ে, আকাশের নিচে
দুপুর-শহরে একা একা কাঁদে…
কোলাহলের নির্জনতায়।


পদ্ম যাই, পদ্ম যাই দলে

হাস্যমুখে তাকিয়ে থেকো যখন আমি উধাও হবো।
কান্নাতে নয় বিদীর্ণতায় জীর্ণ হয়ো পুরনো রাতের কুসুম আমার,
আকাশকুসুম না ভেবে হায় বাস্তবতা জিনে নিও।

গ্রহণ করো অপার যত নতুনতরো ভালোবাসা।
আমার নীলে দিগন্তরে পাখির বাসা বুনন করে
জড়াতে তো না-ই বলেছি। সবটা সময়।
কপালজুড়ে অতন্দ্রসব চুমুর যত দাগ সকলি
নিশুতরাতে অন্যকারো হেমের জলে
ঘামের স্বেদে মুছে ফেলো। ক্ষমার চোখে
তাকিয়ে থেকো যখন আমি উধাও হবো—
দূরে যাবো।

চোখের কোণে বহ্নিলতায় জল রেখো না,
নতুন করে অন্য কারো ফুটতে থাকা কুসুম রেখো।

ভুলতে পারার দ্বিধা ভুলে পারা না পারার জরা মাড়িয়ে
তুলসি দলে আমার তুমি ক্ষমা করো। ক্ষমার মেঘে
ঢেকে দিয়ে ভুলে যেও। চাঁদের আলোয় হোঁচট পথে
আমার সেই উদোম নাচের প্রস্থানেতে বাঁশের ঝাড়ের
ডগায় দেখো আমার চোখ তোমার দিকে তোমার দিকেই
তাকিয়ে রবে। চাঁদের কণা, ভুল করেও মনে করোনা
স্মৃতির মতোন। ভুল বুঝো না, গোল করো না।
নইলে কিন্তু এই আমিও তারার ভেতর
জলের ধারা বইয়ে দিয়ে উঠব কেঁদে।

জীবন দেখো, জীবন শেখো, উপভোগের,
বিদীর্ণতার, অপরাধের, বিমল বোধের সুখে থাকার।
প্রগলভতা ভুলে থাকার, আইভিলতা যেমন ভুলে
থাকে বিষাদ— শ্রাবণীজল…


অভিধান

আমার খুব বানান ভুল হয়। হ্রস্ব ই-কার আর দীর্ঘ ই-কারে আমি সবসময় গুলিয়ে ফেলি। যেমন গুলিয়ে ফেলি দন্ত-ন আর মূর্ধণ্য ণ তে। সদ্যেজাত সব কবিতার প্রথম পাঠক তোকে দেখানোমাত্রই ভুল বানানগুলো কেটেকুটে ছেড়াবেড়া বানিয়ে দিতি আর আমার বিব্রতমুখ দেখতে দেখতে ঝাড়তি ‘অভিধান দেখতে পারিস না!”

বানানগুলো নিয়ে অযৌক্তিক তর্ক জুড়ে দিতাম তোর সাথে। বলতাম, তুই-ই তো আমার অভিধান। সবচেয়ে বেশি ভুল করতাম ‘ভীষণ’ বানানটাই মনে হয়। আর ছিল-কে ‘ছিলো’লেখা কিংবা হল-কে ‘হলো’ লেখা আমার সবসময়ের মুদ্রাদোষ। এই তর্কে আমি আমার পাশে তোর প্রিয় কবি আবুল হাসানকে দাঁড় করিয়ে দিতাম। তুই আবুল হাসানকেও ধুয়ে দিতে ছাড়তি না। আহা! আবুল হাসান। আবুল হাসানকে ব্যঙ্গ করে আহা বললেই রেগেমেগে একাকার হতি তুই।

বহুদিন, তিনলাইনের বেশি লিখতে পারিনা। তোর কথা মনে পড়ে যায়। আর তুই আমার লেখার খাতা দখল করে বসে থাকিস। লিখতে চাই  ‘‘জলে-ঝড়ে ঘর ভাঙে, পুড়ে ছাই হয় যাবতীয় স্মৃতি, সৌধ।  শুধু, দগ্ধ অনুষঙ্গে থরথর করে রাত, ভারী, পোড়া গন্ধ’’ – অথচ লেখা হয় তাই বলে, বেলা শেষে, নাকালই বা হবে কেন, রিক্তহাত বিষণ্ন বালক? কেন এই খুঁজে ফেরা, ভ্রষ্টলগ্নে নীলকণ্ঠ পক্ষিপালক!

যাবতীয় আর ভারী দুটো শব্দ লাইব্রেরির সামনের ঝগড়া মনে করিয়ে দেয়। লেখার কথা ভুলে গিয়ে আমি নয়বার তোর নাম টাইপ করি। তোর নামের টাইপোর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে একটা লাইন ভেজে চলি, ধমনীতে জাগে তবু, শিরার গভীরে প্রভূ, রুধিরের রোল। প্রভু লিখতে গিয়ে তোর আশ্রয়ের অভাব অনুভব করি। যোগাযোগসেতু অনড় থাকলে এখনি ফোন করে জেনে নেয়া যেতো। কিন্তু নরকে নিক্ষিপ্ত পাপীর দৌড় কেবল ফেরেশতা পর্যন্ত। প্রভু কিংবা প্রভূর কাছে সে পৌঁছবে এমন সাধ্য কই!

নেই কেউ পোড়া ভিতে। পরিত্যক্ত কোঠা শুধু জলে ভেজে, রোদে পোড়ে; শুয়ে থাকে দিন রাত রাতের জঠরে। আলেয়া যদিও এসে বেবাক নিশীথে কড়ি খেলে, বকে-ঝকে, সিঁড়ি বেয়ে ওঠে নামে, বোনে সুক্ষ্ম তন্তুজাল, ছেঁড়ে,(অনু, ছেড়ে তে কি চন্দ্রবিন্দু আছে রে!) তবু ভুতুড়ে (ভুতুড়ে বানানটাই ভুতুড়ে, দুটোই হ্রস্ব উ-কার!) আঁধারে শুধু গমগম করে নৈঃশব্দ্য (নৈঃশব্দ্য তে কি জ-ফলা আছে!) দারুণ। কারা তবু মুখ খোজে অনড়(র!) পাথরে।

ভগবান পাঠক, আমার অভিধান হারিয়ে গেছে।


অন্ধকলা

একদিন
ঘুমের ভেতরে আমি
পৌঁছে যাবো তোমার শোবার ঘরে

লুব্ধ দৃষ্টি মেলে শিয়রে দাঁড়িয়ে
দেখে নেবো ঘুমন্ত তোমার মুখ

দেখে নেবো
হিম অপেক্ষার উতলা নহরপেরিয়ে
সব ভুলে কেমন ঘুমাচ্ছো তুমি;
একা

আর সেদিনের স্বপ্নে তুমি
অবচেতনের দোল খেতে খেতে
বীরু-বীরু-বীরু বলে বিরবির করে
অস্ফুট ডেকে উঠবে ঘুম ভেঙে
জল খেতে ওঠা স্বামীকে তোমার

একদিন ঘুমের গহীন ভেতরে
পৌঁছে যাবো তোমার নিজের ঘরে

আড়াই মাসের গর্ভে নীল সন্তান পাত করা
তোমার ক্লিণ্ন মুখে জমা হবে
শাদাকালো বিকেলের স্মৃতি আর
একদা ভোরবেলার হাঁটা

কাটা কাটা
নীল ঘুমের স্পর্শ থেকে অন্ধ করাঙ্গুলে জেনে নেবো
তোমার মুখশ্রী
আমি ছাড়া পৃথিবীর সকলেরি অজ্ঞাত শিল্পচেতনা

তোমার পৃথিবীর অপর প্রান্তে থেকেও
চট করে দেখে আসবো—

ওই নেভি-ব্লু বাড়ি
তোমার মতোন নারী

ওই জুবুথুবু ঘুম
(উফফ! ঘুমিয়ে পড়লে, মেয়েটার মনে যদি থাকে কিছু)
ওডোনিল গন্ধ ভরা বাথরুম
ধবধবে শাদা চাদরের বেডরুম

পুরাতনি ঘূর্ণি হাতলের টেলিফোন
আইবুড়ো পাখিদের ছিনতাই হওয়া বাসা
তোমার স্বপ্নের অচেনা রাডারে চড়ে আসা
অ্যামবাসাডার হাওয়া

বিভ্রমের পাশে কিছুটা সত্য একাকী বসিয়ে রেখে
ঘুমের ভেতরে ঘুরে যাবো তোমার শোবার ঘর

শিমুল সালাহ্উদ্দিন। কবি, কথাসাহিত্যিক ও কলামিস্ট। জন্ম ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৭, তুরাগ, ঢাকা। পেশায় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট। দীর্ঘদিন পালন করেছেন ‘শিল্প, সংস্কৃতি ও বিনোদন’ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..