শেষ বিকেলে

অক্ষর অনীক
কবিতা
Bengali
শেষ বিকেলে

শেষ বিকেলে

গতকাল বিকেলে তোমার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো
চিবুকে কালো কাপড় জড়িয়ে শুকনো ফুলের মালা হাতে
স্মৃতি ও ভবিষ্যতের ভাবনা তুলে
বাতাসে ভেঙে যাওয়া কাচেঁর ফ্রেম হাতে
তোমার সাথে দেখা হয়েছিলো গতকাল শেষ বিকেলে

হৃদয়মন্দিরে তাই চিৎকার করে ঘণ্টা বাজে
শতাব্দীরা সব ফাঁসিতে ঝুলছে দেখো
বাঁ’হাতে ধূয়া উড়িয়ে আলোর শাদা রশ্মি চোখে
একসূত্রে বাধা বরফভেজা একবুক জল সাথে
তুমি এসেছিলে পৃথিবীর শূন্যগর্ভ হতে গতকাল বিকেলে

ব্যস্ত নরকের চারিদিকে কোলাহল আর হৃদয়পোড়া যত কথা
উদাসীন তরল সমুদ্রতীরে ত্রিশূলবিদ্ধ করেছিলে ঈশ্বরের বুকে
নরকের পথেপথে দীর্ঘাকার বৃষ্টির হেঁটে চলা
আনাড়ি পরীদের সব তোমায় ফিরেফিরে চেয়ে দেখা
জলকণার বুকে দাঁড়িয়ে তোমার পায়ে নূপুর পরিয়ে

গতকাল বিকেলে-

আমি মরে গিয়েছি
তুমি হারিয়েছ
আমি অন্ধ হয়েছি
তুমি আলো হাতে
আমি ভীতসন্ত্রস্ত
তুমি সাহস লুটিয়ে
আমার চোখে লাল অশ্রুজল
তুমি কেঁদেছিলে
আমি ছুঁয়েছি
তুমি স্পর্শিনী
আমি অন্ধ কবি
মৃতপ্রায়
মরে যাই
উড়ে যাই
পড়ে থাকি
শরীরে ভালবাসা
চোখে বিষাদ এঁকে
ব্যর্থ মস্তিষ্ক
ভুলবো না আমি
জয় অধিকার চাই
চিৎকার করি
তোমার বুকে
আবলুশ ঘুম
দেবী তুমি
ঈশ্বরের গল্প
রূপালী কাঠ ঘুণেধরা
মর্মদহ আর্তনাদ
আমার কী সাধ্য বলো
শূন্যতায় আমি একা
রক্তমাখা মৃত্যুর পথে
তুমি হাত ধরে চলো
মহাশূন্যের মাঝে
গতকাল বিকেলে

তুমি হাত ধরে
নিয়ে চলো দূর মৃত্যুর পথে
অলিখিত দলিলে দস্তখত করে
তুমি আমি একসাথে মৃত্যুর পথে
ভয়ংকর এই নরক পৃথিবী ছেড়ে
সভ্যতার পোশাক আর টুপি ফেলে
নগ্নপায়ে অন্ধকার পথে
বন্য রোদ্রের উত্তাপে শরীর পুড়িয়ে
দু’মুঠো ভালবাসা হাতে
একচোখ বিষাদ উপহার দিয়ে
শেষবিকেলে তুমি এসেছিলে আমার হৃদয়মন্দিরে।

নেশা

সারারাত বসে মগজ থেকে শব্দ এনে শাদা কাগজে আত্নহারা প্রেমিকার নাম লিখে দিই। তার শিয়রে রাখা মোমবাতি আর খোলা সোনালি চুলের দিকে তাকিয়ে দু’মুঠো বৃষ্টির প্রার্থনা করি। আমার বিচ্ছেদ নিয়ে সে যখন ঘুমোয় পৃথিবীর বুক জড়িয়ে, আমি তখন নিথর নীরবে ভাঙাকলমে অক্ষরের দস্তখত করি।

অগ্যতা ঠাস করে এঁকে দিয়েছিলাম তার গোলাপি ঠোঁটে আমার বিষাক্ত চুমু। ক্লান্ত মাথার ব্যামো নিয়ে আমার কাঁধে এসে পড়েছিলো সেদিন। নীলচে শাদামেঘেরা সব দু’চোখ খুলে দেখেছিল তোমায় তখন।

মরে যাবার পরে স্বর্গ কিংবা নরকের লোভ ত্যাগ করে আমি তোমায় খুঁজতে গিয়ে অন্ধ হয়ে হেঁটেছিলাম তোমার উঠোনে। হঠাৎ পা আটকে পড়ি কোন এক অদেখা বন্ধনে। ছুঁয়ে দেখি সেতো তোমার পুরনো সেই ভেজাচুলের স্পর্শী নেশা।

 

শূন্যতা

তুমি কি কালো অশুভপাখির মতো কিচিরমিচির করো
কখনো সিগারেটের ধোঁয়ার মতো ফিনিক্সের ডানায় উড়ে যাও
তুমি কি কম্পাসের মতো কেন্দ্র করে বৃত্ত হতে পারো
আমি ঘুরবো সেই বৃত্তে – দ্যাখো কী দুর্বল অসহায় আমি

তুমি কি মাতালের সঙ্গে অসংবদ্ধ পদক্ষেপে হাঁটতে পারবে
তোমার কানের দুলে ঝুমঝুম শব্দ করে সুন্দর বিভ্রান্ত ভাষায় বলবে আমায়
রোদ্র তাম্র ডান হাতে আমার বাহু জড়িয়ে হিমনিঃশব্দে
আমার সাথে রাত্রিবেলায় লেবুর গন্ধমাখা অরণ্যে হারিয়ে যাবে

বলো প্রিয়তমা
তুমি কি যাবে আমার সাথে
তোমার আকাশীরঙের সেই শাড়ি পরে
অবুঝ বালকের মতো আমার ইচ্ছে ফুরিয়ে
খুব সকালবেলা ফিরে যাবো তোমার সেই শাদাবাগানে

আমাদের কোন তাড়াহুড়ো নেই
তোমার ঘুম ভাঙিয়ে
আমি চাইনা সোনারচেয়ে দামি কোন নূপুর পরিয়ে দিতে
বুলেট যেমন ভ্রমণ করে বাতাসের অদৃশ্যে
তুমি ঠিক তেমনি করে নদী হয়ে যাও আমার হৃদয়ে
আমি মাঝি হয়ে অপেক্ষা করি তোমার স্রোতের তরে
তুমি বয়ে যাবে প্রিয়তমা
তুমি খিলখিল শব্দে হেসে যাবে
তোমার ঘুম ভাঙলেই দেখবে তুমি নিষিদ্ধ এই শহরে
আমার বিরহবৃষ্টি তোমার বরফমেশা চোখে
কী নিবিড় আর্তনাদে বয়ে যায়।

অক্ষর অনীক। কবি। শূন্য থেকে অসীম শূন্যতায় হেঁটে যায় মুসাফির। পরিচয় পরিচিতি; অজানা পথে ছায়া ছেপে কায়ান্তরে...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ