শোক ফেরীর গল্প

হিমাদ্রী চৌধুরী
কবিতা
Bengali
শোক ফেরীর গল্প

রেশনাল মিউজিক

অগুনতি প্রহর পঠিত হয় রেশনাল মিউজিক ক্লাসে। লিরিক ছেড়ে অপরিচিত গন্ধ চুরি করে ব্যস্তসময় পার কোরে দ্যায় কিছু অপরিণামদর্শী দেশলাইকাঠি। যে হাসি এখনো আগুন নেভাতে পারে – ভুল আয়োডিনে তার দিগন্তে জোকার লণ্ঠন জ্বলে অবলীলায়। ওই যে পুরাণ পাণ্ডুলিপি, উঠে আসবে আবার সিসিফাস – নৌকা থামাতে শেখো মাঝি যেখানে পদ্মফুল আরতি দ্যায় শুশুকের জলকেলির বিছানায়।

শীত

শীত এলে ভীষণ শোকে উড়ে যায় পাখিদের রোদঘুম। বিচ্ছিরি বেহালার ছেঁড়া পত্রে আকাশ গ্রহণে ঢাকে বাঁকা চাঁদ। কোনো এক অবুর্দ উষ্ণতার খোঁজে শত ঝঞ্ঝা বুকে কোরে নিয়ে স্বপ্নে উড়ায় সংসার – য্যানো কোন অচেনা মাছ জমাট জলে সাঁতার কাটে ছটফট ছটফট…

শোক ফেরীর গল্প

নির্ধারিত আসন সংখ্যা পেড়িয়ে প্রত্যেক সূর্যোদয়ে উপভোগের পৃষ্ঠা জুড়ে বৃষ্টি আঁকেন চ্যাপলিনের হাসি – নিয়মবদ্ধ এই যুদ্ধ ভাগাড়ে কল্পনা হলো কল্পদ্রুম। অনিশ্চিত ভগ্নাংশে আত্মার প্রভাতকালীন অমরত্ব আঙুলের বেহালায় সুর কোরে গায় অর্বাচীন সঙ্গীত। দ্রুত উড়ে যায় প্রজাপতি, ভুলে যায় বিগত শুয়ো জীবন।

ঘোরে ঘুরে পরিব্রাজক পা। জন্ম নেয় অযাচিত বহু বহু জারজ আয়না – ফুটে থাকে নিজস্বী, কখনও বিগত পুরুষ, পূত্র/কন্যা কিংবা অনাগত ভাষ্কর্য।

রাত আসে। আয়না হতে ক্রমশ খুলতে থাকে পোশাক। একসময় উজান নদীর ম্যাপ ধরে নামে ভাটির ছাড়পত্র। এই অশ্বত্থের মৃগয়াতে আয়ুষ্মান চোখগুলো হতে বাড়তে থাকে মিছিল – শোক ফেরীর গল্প।

নাবা

তোমার ঘুমের শব্দে আমার বুকে মৃত্যুর ত্রাস নেমে আসে। আমি শ্মশানচারী ফুলের হাসিতে ছড়িয়ে পড়ে নৈঃশব্দের আয়াতে উচ্চারণ করি আমার মৃত্যুনামার নথি।

তুমি ঘুমিয়েও জেগে থাকো আমার চোখের বালিশে নালিশবিহীন আয়ুষ্মান জলজ পঙক্তিমালায়।

নাবা – ঝরো ঝরো এই নিলাজ ফোয়ারায় তুমি আমার বিশুদ্ধ বেঁচে থাকা।

ফুঁ

তুমি ছুঁয়ে থেকেও না ছুঁয়ে উড়াও ফুঁ- আমার বৃষ্টিপাতের জীবন।

কাজল

ত্রস্ত-বিষাদমাখা নীলিমায় আমার জীবাশ্মে জ্বেলে নিও চোখের কাজল।

হিমাদ্রী চৌধুরী। কবি ও শিক্ষার্থী। জন্ম ও বাস বাংলাদেশের ঢাকায়। লেখাপড়া করছেন ইংরেজি সাহিত্যে। তিনি স্বপ্ন দেখেন পৃথিবী হবে ক্ষুধা ও বৈষম্যমুক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, ভুল বোধের প্রাচীর ভেঙে একদিন আলো আসবেই।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

কবুতর

কবুতর

অগ্নিকাণ্ড আমার চৌহদ্দিতে ধ্বংসস্তুপের ভীড় পুনর্বার নুয়ে পড়া অতীতের তীর জীবনের মাঝপথে রেখে যায় সম্পর্কের…..