সাব ইয়াদ রাখহা জায়েগা, সবকিছু মনে রাখা হবে

একেএম ওয়াহিদুজ্জামান
অনুবাদ, কবিতা
Bengali
সাব ইয়াদ রাখহা জায়েগা, সবকিছু মনে রাখা হবে

তোমরা ‘রাত’ লিখলে আমরা ‘চাঁদ’ লিখবো
তোমরা জেলে ভরলে আমরা পাঁচিল ভেঙে এসে গান লিখবো
তোমরা এফ আই আর লিখলে আমরাও ‘তৈরী আছি’ লিখবো
যদি তোমরা আমাদের খুন করো,
আমরা ভুত হয়ে ফিরে এসে লিখবো,
তোমাদের সকল খুনের প্রমাণ দিয়ে লিখবো।

তোমরা আদালতে বসে চুটকি লেখো
আমরা রাস্তায়, দেয়ালে ইনসাফ লিখবো।

বধির যেন শুনতে পায়, এতো জোরে বলবো,
অন্ধও যেন পড়তে পারে, এতো পরিষ্কার লিখবো।

আর, তোমরা ‘কালো পদ্মফুল’ লেখো, আমরা ‘লাল গোলাপ’ লিখবো।
তোমরা যদি জমিতে জুলুম লেখো, আসমানে ইনকিলাব লেখা হবে-
সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে।

এই কবিতা কাশ্মীরের, এই কবিতা আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের, এই কবিতা জামিয়ার, এই কবিতা উত্তর প্রদেশের, এই কবিতা জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের, এই কবিতা দিল্লির এবং এই কবিতা সেইসব জায়গার, যেখানে রাতের আঁধারে কাপুরুষ হায়নারা হিংস্র থাবা মেলে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

কবিতার নাম: সাব ইয়াদ রাখহা জায়েগা
কবি: আমির আজিজ
বাংলা ভাষান্তর: একেএম ওয়াহিদুজ্জামান
আবৃত্তি: রেজওয়ান তানিম

অডিও আবৃত্তি শুনুন এখানে:

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-

আমাদের যে বন্ধুদের তোমরা লাঠি-গুলি মেরে খুন করেছো-
তাদের মনে রাখা হবে,
আমাদের বুকে খোদাই করে তাদের নাম লিখে রাখা হবে,
সবকিছু মনে রাখা হবে।

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-
তোমরা ক্ষমতার ভাষায় মিথ্যা লিখবে, আমরা জানি
তাই, আমরা রক্ত দিয়ে হলেও সত্য লিখে যাবো
আমাদের রক্ত দিয়ে হলেও সত্য লেখা হবে,
সবকিছু মনে রাখা হবে।

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-
দিনদুপুরে মোবাইল, টেলিফোন, ইন্টারনেট বন্ধ করে-
দেওয়া, রাতের আঁধারে পুরো শহরকে জেলখানা বানিয়ে
হাতুড়ি নিয়ে আমাদের ঘরে ঢুকে যাওয়া,
আমাদের ছোটখাট জীবনকে ভেঙে চুরে দেয়া,
আমাদের কলিজার টুকরাকে খোলা রাস্তায় খুন করে-
মুখহীন ভীড়ে মিশে গিয়ে তোমার মুচকি হাসি
সব মনে রাখা হবে।

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-
সবকিছু ঠিক আছে এমন ভালো মানুষির ছলে-
দিনেরবেলা সবার সামনে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে-
রাত নামলেই হকের লড়াইয়ে থাকা মজলুমের ওপর
লাঠি আর গুলি নিয়ে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়া,
আমাদের ওপর হামলা করে, আমাদেরই হামলাবাজ বলা
সব মনে রাখা হবে।

সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-
আমরা, আমাদের অস্থিমজ্জায় লিখে যাবো তোমাদের এই দুঃসাহস-
তোমরা আমাদের কাছে চেয়েছো, অস্তিত্ব প্রমাণের মূল্যহীন কাগজ!
আমাদের অস্তিত্বের প্রমাণ অবশ্যই দেয়া হবে-
তোমাদের ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত, এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে
কিন্তু, সব মনে রাখা হবে।

আরো মনে রাখা হবে-
যখন, তোমরা দেশকে ভাগ করছিলে-
আমরা জোড়ার চেষ্টা করছিলাম।

আরো মনে রাখবো, আরো মনে রাখা হবে-
যখনই কেউ মনে করবে বেঈমানীর কথা
তোমাদের কুকীর্তি সেখানেও মনে রাখা হবে।

আর যখনই কেউ মনে করবে জীবনের কথা
তারা মনে রাখবে আমাদের নাম।
তারা মনে রাখবে আমাদের নাম, কারণ-
এমনও কিছু লোক ছিলো, যাদের স্বপ্ন ভাঙা যায় নি হাতুড়ি-পেটায়;
এমনও কিছু লোক ছিলো, যারা বিক্রি হয়নি দুই টাকায়
যেমনটা তোমরা বিকিয়েছিলে নিজেদের বিবেক।

এমনও কিছু লোক ছিলো, যারা দাঁড়িয়ে ছিলো
নুহু নবীর মহাপ্লাবনের পরেও, মাথা উঁচু করে।
এমনও কিছু লোক ছিলো, যারা বেঁচে ছিলো
নিজেদের মৃত্যুর খবর আসার ও পরে।
পৃথিবী যদি ভুলেও যায় ঘুরতে,
চোখ যদি ভু্লেও যায় বুঁজতে-
আমাদের কাটাপায়ের মিছিল, আর
ফাটাগালের শ্লোগান মনে রাখা হবে।

তোমরা ‘রাত’ লিখলে আমরা ‘চাঁদ’ লিখবো
তোমরা জেলে ভরলে আমরা পাঁচিল ভেঙে এসে গান লিখবো
তোমরা এফ আই আর লিখলে আমরাও ‘তৈরী আছি’ লিখবো
যদি তোমরা আমাদের খুন করো,
আমরা ভুত হয়ে ফিরে এসে লিখবো,
তোমাদের সকল খুনের প্রমাণ দিয়ে লিখবো।

তোমরা আদালতে বসে চুটকি লেখো
আমরা রাস্তায়, দেয়ালে ইনসাফ লিখবো।

বধির যেন শুনতে পায়, এতো জোরে বলবো,
অন্ধও যেন পড়তে পারে, এতো পরিষ্কার লিখবো।

আর, তোমরা ‘কালো পদ্মফুল’ লেখো, আমরা ‘লাল গোলাপ’ লিখবো।
তোমরা যদি জমিতে জুলুম লেখো, আসমানে ইনকিলাব লেখা হবে-
সব মনে রাখা হবে, সবকিছু মনে রাখা হবে-
যাতে, কেয়ামত পর্যন্ত তোমাদের কাছে অভিশাপ পাঠানো যায়;
যাতে, তোমাদের মূর্তিতে কালিমা লেপা যায়
তোমাদের নাম, তোমাদের মূর্তিকে ঘৃণার জন্য জিন্দা রাখা হবে,
সবকিছু মনে রাখা হবে।

একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। শিক্ষক ও মানবাধিকারকর্মী।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

তিনটি আমেরিকান কবিতায় কোভিড-১৯ এর অনুভব

ভূমিকাঃ কোভিড-১৯ বিশ্ববাসীকে নানান অভিজ্ঞতায় প্লাবিত করেছে। কেউ নিজে আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশীহারিয়েছেন।…..