সিরিজ: অসাধু অতি আবেগী আলাপ

সোনালী চক্রবর্তী
কবিতা
Bengali
সিরিজ: অসাধু অতি আবেগী আলাপ

ত্যাগ

নগরীতে দুন্দুভি বাজে নববর্ষ প্রাতে,
ঘোষনা ভেসে আসে,ঘোষনা…
রাজকবি সাক্ষী মানিতেছেন জনার্দনকে।
পতিত হইয়াছিলাম,
‘নারী নরকস্য দ্বার’ বিস্মরণে,
উপরন্তু সে ছিলো পতিতা।
উদ্ধার কর আমায় হে স্বজাতিবর্গ,
এই নগর হইতে নির্বাসনে।
এরপর পার হইল একশতটি দিন,
মূর্খ কলঙ্কিনী পত্র দিলো পুনরায়,
জীবনের নেশা বিষম অতি,বেহায়া লোলুপ।
হৃদয় বিচলিত হয় মাদ্ধীপানে,
কবিও ঈষৎ বিব্রত পুর্ব স্মৃতি বিজারণে ।
অবসর মিলিল না কবুতর প্রেরণে,
সভাসদ,উৎসব তথা সময়াভাবে।
রাত্রি পর রাত্রি কাটিলো বৃথা পথ সন্দর্শনে,
অপেক্ষায় নিভিলো দীপ,
কে কাহার এই ভুবনে?
সপ্তডিঙি অভিমুখে যাত্রা আজ কবির,
বিদেশ যাইতেছেন সাম্মানিক আমন্ত্রণে।
কে ভাসিয়া যায় তটরেখা ধরে,
যেন পরিচিত অবয়ব অতি।
সনাক্তের উপায় রহিত,
ফুলিয়াছে জলধর্মে,পচন শরীরে, যেমত বিধি।
দৃষ্টি ফেরান কবি,
সাঙ্গ হইলে শ্বাস,
ছিঁড়িলে প্রণয় পাশ,
কে মনে রাখে,
কে ছিলো প্রেমিকা আর কে নগর নটী।

মেঘদূত

শেষ পাপ অস্তমিত হলে দীর্ঘ রাজপথ কিছু ক্ষত চিন্হ পোষে।
কত উৎসব বহিতেছে এ নগরীতে প্রত্যহ,
অথচ, উপড়ানো কাঁটার প্রান্তগুলিকেই অলিন্দ তার স্বস্তয়নে খোঁজে।
এই অযাচিত ন্যাকামি কে বহিবে বলো ?
যার ভূমে রক্ত মাদল থাকে,সময়ে
সেও নেয় ঠাঁই জন সমর্থনে,
কার্টসি: বিপ্লব ও সরকার।
এই পোড়া দেশে,গণতান্ত্রিক মোহে,
এক উন্মাদ অপেক্ষা ধন-ধান্যে বসুন্ধরা সমূহ দরকার।
এই বৎসর সমতলে,
মধ্য আষাঢ়েও প্রসব লক্ষণ নাই,
কোন এক গর্ভিণী কাছিম ধীরে,
অতি ধীরে মেঘ দর্শনকালে,
ফসিল হয়েছে দ্রুত,
লাভাস্রোতকে ভ্রমে নদী কল্পনায়।

বহু কথা হইল অত্র,
অগ্রদাণির সন্ধান মিলিল না।
যক্ষ যে অনন্তর বধ হইয়াছিলো,
কাব্যস্বার্থে গোপন রাখা থাকে,
সে প্রসঙ্গের অবতারণা।

ভবিতব্য

বামনিতে আদৌ আর স্রোত নামিবে কি?
শোনা যায়,অপূর্ণ মিলনের অভিশাপ নদী বিস্মৃত হয় নাই কোন কালে।
গো ক্ষুরের আলোয় নিয়ত সর্প ও বিষ লইয়া তুমুল তর্ক ঝড় ওঠে, উত্তরে তুলসী মঞ্চের অন্ধকার হইতে ভগ্ন শাঁখের বিদ্রুপ ভেসে আসে।
কাকে সাক্ষী মানিবে ময়ূরের পালকগুলি?
অথবা পরবর্তী চন্দ্র দর্শনের প্রতীক্ষায় যে জলাধারটি?
উহারা দ্বেষ-আক্রোশ বিষয়ে অবগত নহে,
উহাদের পাঠ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ নাই।
সফলের জয়ধ্বজা মায়াবৃত্তে অবরুদ্ধ হয় না,
দৈবী অহংও নতজানু হয়না জাগতিক প্রলাপে।
পরাজিত হয় শুধু নক্ষত্ররাজি,
আর এই মৃত্তিকার দীর্ঘশ্বাসগুলি।
মানবের ইতিহাস শুধু ছিন্নমস্তার পাঁচালি পড়ে…

সোনালী চক্রবর্তী। কবি, অনুবাদক ও সম্পাদক। জন্ম ভারতের বারাণসীর পীতাম্বর পুরায় আশির দশকের শেষ ভাগের মাঘী পূর্ণিমায়, সুনীল চন্দ্র চক্রবর্তী ও সবিতা চক্রবর্তীর একমাত্র সন্তান। বেড়ে ওঠা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও কার্শিয়াং মিলিয়ে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ২০১৬ সালের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

তর্জমা

তর্জমা

তর্জমা স্নানে শুচি হবার পর বেকসুর সন্ধ্যাগুলো শুধুমাত্র নিজস্ব অন্ধকারের নিচে দোলনাচেয়ারে ছড়িয়ে বসা কিছুটা…..