সুইসাইড নোট

ইসরাত জাহান
কবিতা
Bengali
সুইসাইড নোট

সুইসাইড নোট

প্রথম যেদিন ভালোবাসার দুয়ারের চৌকাঠ মাড়িয়ে ভালোবাসা কড়া নেড়েছিলে, সেদিন যেন জোছনার তীরে অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনের ভাষা খুঁজে পেয়েছিলাম।
স্বপ্ন দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের আনাগোনায় ভালোবাসা এসেছিল নিউরনে সাইরেন বাজিয়ে ছয় তারের বীণার সুরে।
কত পথ যে হেঁটেছি তোমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে মনে নেই ,
আর কখনো ফিরে আসতে মন চাইতো না তোমাকে ছেড়ে।
তবুওতো দিন শেষে তোমাকে ছেড়ে আসতে হয়েছে নিজের ভেতর আঙিনায়।
ভালোবাসার জোয়ারের ঢেউয়ে ভালোইতো ভেসেছিলাম তোমাতে আমি।
হঠাৎ কেন এত অস্পৃশ্য ঘৃণা, একটু জানা যেত যদি?
অবহেলার তরঙ্গের অভিঘাতের জীবন্ত ক্ষয়িষ্ণু বেদনা তুমি বোঝনি। যোগাযোগের মাধ্যম মুখাবয়বের বইয়ের কোন ক্ষেত্রেই তোমাকে রিএক্ট-কমেন্ট করতে পারছি না, এমনকি কোথাও নেই তুমি।
কি ভীষণ কষ্টের নাভিশ্বাস চুমু দিচ্ছে প্রেমরাতের বেলাভূমিতে, তা তুমি বুঝবে না।
আমি জানি, লুকিয়ে চুরিয়ে চুপি চুপি তুমি আমাকে দেখছ, হয়তো কেবল আমিই তোমাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তবে একটি কথা জেনে রাখো এইক্ষণে, আর অল্প কিছু পরেই সাইবার দুনিয়ায়, প্রিন্টিং মিডিয়ায় ছেয়ে যাবে একটি তরুণের রশিতে ঝোলা নির্জীব শরীর।
যে শরীর জিজ্ঞাসাবোধক প্রশ্ন রেখে গেছে!

অনুসন্ধানের ফেরিওয়ালা

আমাকে পিষে ফেলতে দিবো না-
অনঙ্গ-ক্রীড়াতে একসাথেই থাকবো।
যুদ্ধ করতে চাই জাগ্রতভাবে–
এটি কোন লক্ষ্য নয়, নয় ধারণা, এটি অর্জন করব।
এটি একটি মেটামরফোসিস।
শুঁয়ো আর প্রজাপতির গল্প মনে আছে?
অপূর্ব প্রজাপতি যখন ডানা নেয়, শুঁয়োপোকার কিছুই থাকে না।
শুঁয়োপোকাকে অবশ্যই অদৃশ্যতা স্বীকার করতে হয় রূপান্তরে।
রূপান্তরে বিশ্বাসী নহি আমি,
ইচ্ছে হলে নিয়ে নিতে পারো আমার নিমন্ত্রণ—
অতশত না বুঝলেও চলবে, না চাইলেও চলবে, শুধু ঝুমুর চুমুর নিমন্ত্রণে এসো।
বাকি গল্প প্রজাপতির ডানায় বয়ে যাবে।

দিনের শুন্যতা

মিষ্টি একাকীত্বের সাথে একটি সুন্দর লাল গোলাপকে চুমু দিই,
সাথে একটি কালো গোলাপও আছে আমার কফিনের জন্য,
একদিন কফিনের ঢাকনা বন্ধ হয়ে যাবে,
ক্ষনিকের জন্য চোখের সামনে ভেসে বেড়ায় শুন্যতা,
শুনি সত্যের রক্তাক্ত শব্দ জীবনকে বিদায় বলছে।
সবকিছুই একটি মুহূর্ত যা সময়কে কেড়ে নেয়-
জীবন যেমন আমাকে দিনের শুন্যতায় শ্বাস নিতে চ্যালেঞ্জ করে।
তেমনি একটি স্বপ্নের জন্য আমার চোখ ঝকঝকে,
কিন্তু একটি দুঃস্বপ্ন শীঘ্রই দেখা দেয় আমার প্রতিচ্ছবির এবং মরীচিকা কপাল আমাকে করে দেয় চিরকালের জন্য সিলগালা,
কারণ ভালবাসা আমার কাছে কখনোই বাস্তব ছিল না,
কারণ অস্পষ্ট ছবির জন্য আমি চুমু দিয়েছি,
ঠিক যেন নীল রঙের দুই পয়সা যা কষ্টের বিরামচিহ্ন।
এখন একটি সাদা গোলাপকে ধরেছি-
যার বিশুদ্ধতা কলুষিত নয় এবং দাগমুক্ত।

আত্মহত্যার নোটারিজ

ভালোবাসার চাহিদার জন্য যথেষ্ট ভালো নই আমি,
যোদ্ধা হওয়া কঠিন ভালোবাসার মাঠে,
তবু তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম কোন এক শুভক্ষণে-
নাকি ওটা ছিল দুর্বোধ্য সময়?
সে যা বলেছিল তা তার মিথ্যা কথা।
প্রতিটি সম্পর্কে একটি করে বড় ডিমান্ড থাকে,
সাথে আরো থাকে দুজনের ব্যক্তিত্ব এবং একটি ভীষণ রকমের স্ট্রাটিজিক্যাল ইমেজ।
সময়ের টানাপোড়েনে বিভিন্ন রকমের শুদ্ধতা প্রমাণ করতে যেয়ে একসময় ছিটকে পড়েছি দুদিকে দুজন।
আর সে কারনেই সত্যিই একটু ভেঙ্গে পড়েছি,
ভালোবাসা ভেঙ্গে যায়-
ভেঙ্গে যাওয়া ভালবাসা দেখে খুবই ক্লান্ত,
ক্লান্ত হতে হতে খুবই ক্লান্ত,
অনেক হয়েছে এখন-অনেক হয়েছে,
ব্যাথার জন্য খুবই ক্লান্ত,
চরিত্র শেষ করেছি বিশ্বাস করে।
যেটার মধ্য দিয়ে নিজেকে রেখেছি লাল দুঃখের রক্ত, কালো এবং নীল দাগের সাথে জীবন প্রেম এবং অনন্তকালের শুরু।
আমার পায়ের কাছে দুঃখের ভারে আমি খুব ক্লান্ত।
ভালো হতে অনেক চেষ্টা করি, তবে বিশেষজ্ঞ নই আমি,
নুতন করে আমার ছায়াকে একমত হওয়ার জন্য মাতাল করেছি,
আগামীকালকে কালো গোলাপগুলো বিছিয়ে দেব চাবিওয়ালা আমার ছায়ার পাশে,
যেখানে গানে কবিতায় ডুবে পুরাতন ভালোবাসাকে আত্মহত্যা করাবো বারংবার।
বুঝতে ভুল করেছিলাম সমস্ত সম্পর্কের কিছু ডিমান্ড থাকে,
তাইতো ভালোবাসাকে আত্মহত্যা করানোর পর, একটি পাকাপোক্ত নোটারি করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।

ইসরাত জাহান। কবি। জন্ম বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী। বর্তমান নিবাস ঢাকায়। তেরোবছর বয়স থেকে লেখালিখি শুরু। লেখা শুরু করেছিলেন দৈনিক বাংলার বাণীর মাধ্যমে। তারপর দৈনিক আজকের কাগজে নিয়মিত লেখালিখিতে ছিলেন। এরপর হঠাৎ করে বারোবছর লেখালিখি থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন। প্রকাশিত বই: 'তোমার...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ