সুবর্ণ আদিত্যর পাঁচটি কবিতা

সুবর্ণ আদিত্য
কবিতা
Bengali
সুবর্ণ আদিত্যর পাঁচটি কবিতা

শূন্য

সেই জাগরিত সত্তার ঊর্ধ্বে এবং সকল মানুষ সেই জাগরিত আচার এমনকি রিপু
যেখানে তার
ইচ্ছে
প্রকৃত
মৃত্যুর উপত্যকায় ঢলে পড়েছে

মূলত
চাষ নিই আয়তকার ভ্রুনের
পশুজাত শ্রেণির কাছ থেকে বাছাই শেষ করে
এবং মগজে স্থান পেলেই তিনি সন্তুষ্ট

এমন এক দালিলিক অন্ধকারে অন্ধত্ব বিস্তার নিলে তার এবং তাদের মনেও প্রশ্নের সঞ্চালন চক্র স্থিতিশীল
সেই প্রলম্বিত আকাশ
যার সীমা পেরিয়ে এসে
সমস্ত এবাদত আমার কাছে লুটায়
আর
আমি ধ্যান ও জ্ঞানে দ্রুততার সাথেই মানুষকে মানুষ বলতে পারি

পারিনা, ভালোবাসার অধিক
তিয়ামাতের শরীর
আরো নানাবিধ শোক-শ্রাদ্ধ হলেই কেবল নিজের কাছে সব শূন্য হয়ে ওঠে

 

ঢেউ তুলে দাও

ঢলে পড়তে গিয়েও আচমকা বিঁধে যাই—
নৌকা, কিসের লোভে বান মারো?

অথচ, যে হাওড় তোমার পায়ে লুটায় ঋতুস্রাব নিয়ে
যেন পায়ের আলতার ঈর্ষায় ঘাঁই তুলছে বর্ষার পুঁটি মাছ
ছলকে যাচ্ছে পুনর্বাসনে যাওয়া পূর্নিমার রাত

কথিত মশহুর, পবিত্র তুর্কির কাছে এসেও দূরত্ব হাসে
আরো শীতলক্ষ্যা কিংবা টেমস কাঁদো কাঁদো হয়
তোমার আলোভর্তি নাভির কাছে

কেমন বান মারো তুমি—!

পুনর্বার নিয়ে যাও সফেদা ফুলের বোটায়
আর খুব ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ক্ষুরধ্বনির মতো খামচে নাও শব্দের গতি ও উৎসমূল

এক তাতার—পাতার ফাঁকে সুকৌশলে যুদ্ধাপরাধী হ’য়ে আছে
ছায়া নেমে এলে
মাথা থেকে নামিয়ে দিতে পারে মাথা
যাদের মগজ আছে—তাদের টলানো যায় না কোনো পাড়ে

নৌকা, বান মারো, আরো ঢেউ তুলে দাও সমুদ্রে

 

সাঁতারকুল

ঝড় এসে মিলিয়ে নিচ্ছে শ্বাস
সাঁতারের কাছে নির্বিকার হয়ে গেছে নদী
মাছের জীবন তো নেই আমাদের!
তবুও যুদ্ধের শেষদিকে যখন কথা বলছিলাম পরস্পর—
বৈমাত্রেয় ভাই বললেন- একটু সময় লাগবে
আমাকেও ভুলে গেছি আর ফিরেছি রাত জেগে বাংলাদেশের বুকে

ঢুকে গেছে সেই বড় মাথা
মগজেরচাষ নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমরা জাতীয় ইকোনমি ক্লাসে
হাজির হতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে যাচ্ছে তৃণভূমে
কী আর বলার থাকে এবং আমিও আর যুদ্ধবাজ নই বহুকাল

গোটা দিন তন্নিবন্ধন রেখে ছলকে যাচ্ছে মণিসিংহ
চোখের মজ্জা আর ইত্যকার নান রুটিতে মেখে নিচ্ছে মগজ
ক্লান্ত লাগে ইদানীং- বিভ্রান্ত করার অভ্যেস থাকলেই
প্যাপিলোমা ভাইরাসে মানুষ হতে দূরে বাস করে ডলফিন ঢেউ

মানুষের সত্য উচ্চারণ নিজের কাছেও বিভ্রম
পৃথিবীর কাছে মানুষও তিমি মাছের বমি

 

প্রলাপ

আমারই নিজস্ব ভাষায় হেলে যাচ্ছে সূর্য
আঙুলের ইশারায় আবার জেগে উঠবে, কাল
বস্তুত আমাকেই প্রদক্ষিণরত আছে শত শত পৃথিবী

ওহে মানুষ!
পাগল বলে আমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য কোরো না- তোমরা যাকে ঈশ্বর জানো
সে আমারই সন্তান।
বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি বলে নির্বাসনে পাঠিয়েছে তোমাদের পৃথিবীতে

 

পরম্পরা

হাওয়ায় চেপে আসো, নিরবে
নিশ্বাসের মতোন ধরফর করে উড়ে যাও বনপাখি, পথে এখন সজনেগাছের চারা
ইত্যকার বরশি নিয়ে ফিরিংগি হবে জল
কলকল স্বরে, নানকিন ঋতুতে ভেসে যাচ্ছে রোদ
ছায়াফুলের পাশে পাসপোর্ট নিয়ে চেয়ে আছে বৃষ্টি বিঘ্নিত নদী, নদীটা সুন্দরের কাছে জয়ী হয়
আর বিপুলরাত্রিপালঙ্ক মায়ায় কাছে টেনে নিচ্ছে বিবাহসদ্য জীবন পরস্পর, পরম্পরা
বাড়ির কাছে, বহুদূর, বাতাসের শ্বাসে-শাশ্বত ভাসে, গাছেদের ফাঁকেফাঁকে জোনাকের ছোপছোপ অন্ধকারালো
না দেখে দেখে বৃহৎ একজীবন গড়িয়ে গড়িয়ে কবরের কাছে
গাছ হয়ে গেল

 

সুবর্ণ আদিত্য। কবি ও সাংবাদিক। জন্ম ১৫ মার্চ ১৯৮৫, বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা শহরে। পেশাগতসূত্রে বর্তমান নিবাস ঢাকায়। শৈশব থেকেই যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। পড়ালেখা ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ছিলেন ঢাকার পেশাদার নাটকের...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

ফেরা

ফেরা

ফেরা অনেক দিন আসিনি তোমার চোখের কোণে, বুকের পাশে, নিঃশ্বাসের চারপাশে। ভেবো না আমি পথ…..