সূরায়ে নুসরাত

অক্ষর অনীক
কবিতা
Bengali
সূরায়ে নুসরাত

সূরায়ে নুসরাত

নুসরাত
আমাকে সাহায্য করো
এই বর্ষায় যেনো পার্থক্য খুঁজে নিতে পারি
মানুষ ও শয়তানের মাঝে

নুসরাত
আমাকে সাহায্য করো
হাত ধরে তোমার শরীরে আগুন লাগাতে

তুমি সূর্যের চেয়েও অধিক উজ্জ্বল
এতো আলো তুমি
আমি জ্বলে যাচ্ছি আপন যৌন তাড়নায়

তোমাকে বলাৎকার করলে
যদি ধর্মমতে সাক্ষী দেখাতে না পারো
তাহলে ঘোষণা করো
‘ ধর্ম ‘! তুমি নামক বিষ ছুটে যাচ্ছে মানুষের শিরা-উপশিরায়

নুসরাত, দ্যাখো !
আমি আপন মায়ের শরীরে ঢুকে যাচ্ছি
ওটা কী মসজিদ ছিলো
নাকি মাদ্রাসা
ওখানে কী আল্লাহ ছিলো, নাকি পবিত্র কুর-আন

ইবলিশ কী সেজদা দিয়েছিলো আমায়
নাকি আমি শয়তানের পুত্র হয়ে খোদা’কে ডেকে যাচ্ছি
আমি কী নূরের তৈরি নাকি নষ্ট মৃত্তিকার

নুসরাত
আমাকে ক্ষমা করো
তোমার শরীরে এতো আলো আমার সহ্য হয় না
তোমার শরীরে এতো আগুন আমার সহ্য হয় না
তোমার শরীরে এতো নেশা আমার সহ্য হয় না
তোমার শরীরে অবিকল মানুষের মতো শয়তানের স্পর্শ
আমার সহ্য হয় না

মাবুদ !
তুমি কী কাবাঘরে আটকে আছো
তুমি কী সাত আসমান উপর লটকে আছো
ইয়াহ রাহীম, ইয়াহ কারীম, ইয়াহ হাকিম
ইয়াহ মাবুদ !
তুমি তো অন্ধ কালা ও বধির
আমি তোমায় প্রার্থনায় ডাকি না
আমার প্রার্থনায় সূরায়ে নুসরাত তোমাকে দিচ্ছে অভিশাপ
ওখানে ধর্ম নয়, ওখানে পবিত্র কুর-আন সামনে রেখে মানুষ হত্যা হয়……..

জন্ম

কুমারী যোনী, অমর হও তুমি
আমার দুর্ভাগা মায়ের মতো অকালে মরে যেওনা
ফ্যাকাশে তোমার মুখ, থলথলে ঊরুজঙ্ঘা
আমি সইতে পারিনা সূর্যের উজ্জ্বলতা

আমার দীর্ঘ নিঃশ্বাস, রাতভর পরিপক্ব কালশিটে দেওয়ালে লেপ্টে আছে
আমার মায়ের সাথে দেখা হয়না বহুদিন
মানুষের শোকের আন্দোলন খামারবন্দী গরু ছাগলের মতো
হাটে-বাজারে উচ্চ দাম পেলে বিক্রি হয়ে যায়

আমার মানুষের সাধে বিরোধ করতে ইচ্ছে করেনা
আমার মানুষের প্রেমে বিভোর হতে ভয় করেনা
আমার ব্যর্থ জন্ম, ছেঁড়া পোশাকের উপর গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে
আমি হামাগুড়ি দিয়ে চলে যাই আফ্রোদিতির কুমারী যোনীতে

চুরি করে ভাত খেলে খুধা মিটে যায়
আমি মা’য়ের স্তন খেয়ে বেঁচে ফিরেছি
অমর হও কুমারী যোনী
আমার দুর্ভাগা মা’য়ের মতো তুমি মরে যেওনা…..

 

জান্নাত

জান্নাত নামের একটি মেয়ে আমি চুরি করে এনেছি হুতামাহ থেকে
তার ঠোঁটে লেগে আছে জকুম নামক ফল
স্তনবৃন্তের মাঝে লুকিয়েছে জলজ সন্ত্রাস
আমি সেই জকুম কেড়ে নিবো জলজ সন্ত্রাস হয়ে

এসো জান্নাত, দেখো পৃথিবী
আমার শরীরে বহমান রক্ত
যেনো ডোরাকাটা শিকারী বাঘের মতো

এসো জান্নাত, দেখো অন্ধকার
তোমার ঊরুজঙ্ঘার গহীনে
বন্দর ছেড়ে ছুটে যাচ্ছে নেকড়ে জাহাজ

যদি সাতটি দোজখ ভেসে যায় তোমার ঋতুবন্যার স্রোতে
আমি আত্মহত্যা করতে ভুল কোরে সমুদ্রে চলে যাবো
সূর্যকে কাঁধে নিয়ে
দক্ষ জুয়ারির মতো খেলবো একাই অতলান্তে


সো
জা
ন্না

দাঁড়াও মুখোমুখি
দোজখের অহং নিয়ে ঢুকে যাও
প্রেমিকের বুকে, বেহেশতি বিশ্বগ্রাসে…

 

সাইনবোর্ড

কাহাঁ তোমার পূজোর শাড়িতে দ্যাখো
কতো মোকদ্দমার মুলতবি ঘোষণা করেছি
জানো কী –
গতকাল ভোরে
চোরাচালান প্রেমের মাঝে
ফেঁসে গিয়েছি আমি

বাঁকাবাঁকা সাইনবোর্ডে দ্যাখি
ভালোবাসা চাই নামে প্রতারণা লেখা
কাকে দিবো? কাকে পাবো? কে হবে প্রতারক প্রেমিকা?
পঞ্চপ্রদীপ হাতে আমার অন্ধকারে এসো তুমি
এসো তুমি ছন্দের টানে রূপোলী নূপুর পায়ে
একগুচ্ছ বিষণ্ণ প্রেম আঁচলে মেখে
জানো তো –
ভালোবাসা চাই নামে প্রতারণা লেখা
ভরে আছে শহুরে সাইনবোর্ডের গা’য়ে।

 

উত্তরাধিকার

আমার মৃত্যুর আসন্ন দিন ঘনিয়ে আসছে
আমাকে চলে যেতে হবে সভ্য সমাজের পথ মাড়িয়ে
পুলিশ ভ্যান যখনি আমার বাসার নিচে এসে দাঁড়াবে
আমার ছেলেকে কেউ একজন লুকিয়ে রেখো
বাংলাদেশের সকল অপরাধ সেদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে
আমার ছেলের পুলিশ কাকে বলে জানতে হবে না
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে চিকিৎসক’এর দস্তখত যেনো তার চোখে না পড়ে
সেখানে আত্মহত্যা লেখা থাকবে
আমি তাকে বলিনি আত্মনাশের সংজ্ঞা কখনো
জানাজায় আসা সকল বন্ধুদের থেকে বাঁচিয়ে রেখো তাকে
আমার কোনো বন্ধু ছিলোনা
আমার জানাজায় যারা আসবে তারা পুরনো কোনো বিনোদনের খোঁজে
আমি আমার ছেলেকে বলিনি – আমি এ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ জোকার
প্রাক্তন প্রেমিকারা ফুল হাতে আসবে আমার কবরের পাশে
আমার ছেলের প্রার্থনারত চোখ যেনো তারা দেখতে না পায়
তারা যেনো দেখতে না পায় আমার ছেলে মায়াময় ব্যাধি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে

আমার ছেলে কখনো সমুদ্র দ্যাখেনি
আমার ছেলে কখনো তার মা’কে দ্যাখেনি
আমার ছেলে কখনো হলুদ পায়রা দ্যাখেনি
আমার ছেলে কখনো তার বাবা’কে দ্যাখেনি
আমার ছেলে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে অন্ধকার রাত্রি ও বাতাসের ভালোবাসা পায়নি
কখনো আমি তাকে বলিনি স্বর্গ কিম্বা নরকের অসুখের কথা
প্রচণ্ড শীতের রাতে উত্তপ্ত আগুনের মুখোমুখি হতে বলিনি তাকে
আমার ছেলেকে কখনো কাঁদতে বলিনি
আমার ছেলে কখনো বিষাদের গান গায়নি
আমার ছেলের বুক পকেটে অ্যালেন্স গিন্সবার্গের কবিতা ফাদার ডেথ ব্লুস রাখিনি
কিংবা আমি তার কানেকানে বলিনি জেমস জয়েসের বি নট স্যাড
আমার ছেলেকে কাফনের রঙের কথা আজ অব্ধি বলিনি
শুধু তোমাদের বলছি –
আমার মৃত্যুর পর আমার ছেলেকে তোমরা কেউ লুকিয়ে রেখো
পলাশীর মোড়ে ফেলে দেয়া আমার একটি অসমাপ্ত কবিতার কথা
আমার ছেলেকে তোমরা কখনো কেউ বলোনা।

অক্ষর অনীক। কবি। শূন্য থেকে অসীম শূন্যতায় হেঁটে যায় মুসাফির। পরিচয় পরিচিতি; অজানা পথে ছায়া ছেপে কায়ান্তরে...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

অহমিকা

অহমিকা

অহমিকা আত্মগরিমায় আজ অন্ধ হয়ে আছো, বিবেকের দংশনে মননে নেই বিশ্বাস। কর্মে ব্যস্ততা সময়ের আবর্তে…..