সূর্যস্বপন ঘোষের তিনটি কবিতা

সূর্যস্বপন ঘোষ
কবিতা
Bengali
সূর্যস্বপন ঘোষের তিনটি কবিতা

আমার ভাষা

আমায় সবাই বাঙালি বলেই ডাকে,
বাঙালি শব্দে মনটা আমার
আনন্দে ভরে থাকে।

বাংলা গাঁয়ের বকুল ছায়ায়,
ভেজা রোদের ভাঁজে ভাঁজে,
ইচ্ছে আমার লাফিয়ে বেড়ায়,
নুপুর বাজে হৃদয় মাঝে।

পাখ পাখালির শব্দ- সকাল,
সোনালি সূর্য সোহাগ করে,
শান্ত নদীর স্নিগ্ধ পাড়ে,
গাঁয়ের বাউল গলা সাধে।

বাঙালি মেয়ের দেহের পরশ
বাংলা মাটির ঘ্রাণে,
শিহরণ জাগে স্নায়ুতে রক্তে
হৃদয়ে মনে প্রাণে।

দেব মন্দিরে সন্ধ্যারতি
সঙ্খ বাজে ঘরে ঘরে,
সন্ধ্যামনি মায়ের আঁচল
পেতে রাখেন সবার তরে।

এই বাংলার গাঁয়ে গাঁয়ে,
পথের পাশেই আমার বাসা,
এই বাংলার বাঙালি কণ্ঠে,
আমার খুশির বাংলা ভাষা।

আমি

অমরত্মের অহংকার
আমাকে আলিঙ্গন করে,
আমি অসীম খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হই।

নিয়ম তান্ত্রিক জীবন থেকে…
একক তন্ত্রের আস্ফালন,
ইচ্ছা আর মস্তিষ্কের লড়াই,
অহরহ অব্যাহত।

গতির তরঙ্গে অনাবিল সন্তরণ,
আমাকে ব্যাস্ত করে।

অন্তিমে শুন্য ফল,
ঈশ্বরের দরজায় টোকা দি,
ঈর্ষা -আস্ফালন -অহংকার
দুনিয়ার সব লেন দেন শেষ।

নিদ্রা তন্দ্রা ক্লান্তি অবসন্নতা
আমি হই আমাতে বিলীন।

 

তুমি

পাহাড়ী নদী গাইছে প্রেমের গান,
পাথরে মাটিতে জাগছে নতুন প্রাণ।
দুকূল বেয়ে শ্বেত ফেনায়িত সুখ,
যেদিকে তাকাই তোমারই হাসি মুখ।

চঞ্চল মন গেয়ে ওঠে তালে তালে,
প্রভাত সূর্য হাসছে সোনা সকলে।
বনস্পতির পাতায় পাতায় হাসি,
তোমায় পেলেই অন্তরে আসে খুশি।

সূর্যস্বপন ঘোষ। কবি।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ