মাই

অনসূয়া যূথিকা
গল্প
Bengali
মাই

ছানাকাটা দুধের মতো আলো, আবছায়া ভোর।  নিকোনো উঠোনের ধার ঘেঁষে দোপাটির জঙলা। ভোরের আলোয় কালচে সবুজ পাতার আড়ালে উঁকি দিয়ে  পৃথিবীর রূপ দেখতে মশগুল দোপাটি, বোতাম ফুল, পাথরকুচির ঝাঁক!  উঠোনের একপাশে লাউমাঁচা, তার ধার ঘেঁষে শরমুলের (পাটকাঠি ) রান্নাঘর। বড়ঘরের পাশের জামরুল গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আয়েসে উঠোন পেরিয়ে রান্নাঘরের দাওয়ার দিকে হিলহিলিয়ে উঠে আসে ফুট বিশেকের এক সাপ! কী সাপ কী তার জাত বা বিষধর কী না তা ভাবার অবকাশ নেই। হাল্কা কী যেনো এক ফুলের গন্ধ ভাসে হাওয়ায়, বিভ্রম জাগে৷ বাস্তুসাপের গা থেকে কামিনীভোগের সুবাস ছড়ায় কী!  বড়ঘরের দরজা খুলে তখনই উঠোনে নামে হাজেরা।আবছা আলোর বিভ্রমে সাপটাকে সে যেনো দেখেও দেখে না, বা দেখতে চায় না। ভুল করেও মনে আনতে চায়না, এই দুমুখো সাপের কথা। মণিরাজ সাপের মণির কথাও মনে না আনার চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয় তাকে৷

আজ সাতদিন মাত্র বাচ্চার জন্ম দিয়েছে হাজেরা, এখনো আঁতুর ছাড়েনাই। পাঁচদিনের দিন একবার পরনের কাপড় ক্ষার কাচা করার নিয়ম পালন করেছে বটে সে। গায়ের কাপড়ে ফের এই দুইদিনের ঝরেপড়া দুধের গন্ধ তাই! ফলের ভারে নুয়ে পড়া গাছের মতোই, দুধের ভারে ভারাক্রান্ত স্তন থেকে চুইয়ে নামে দুধ। ব্লাউজের বালাই নাই হাজেরার মতো গ্রামীণ নারীর তাই শাড়ির জমিনে জমে দুধের পরত।

প্রচন্ড ক্ষুধার তড়াসে রান্নাঘরে এসে জাল আলমিরা হাস্তায়, যদি পান্তা মেলে!  তবে দুটো আকালি  আর একটু নুন মেরে খেয়ে নেবে সপসপ করে৷ খিদার জ্বালায় ভাবেনা, তার আঁতুড় কাটে নাই৷ পানিভাত খাওয়া ঠিক তা, গায়ে রস নামবে৷

এমনিতেও দুই পায়ের পাতা টুপটুপা ফুলা তার এখনো কিন্তু ক্ষুধার মুখে কেইবা কবে পান্তা আর তক্তর খেয়াল করে!

হাজেরা মন্ডল বাড়ির বউ, ডিমলার এক প্রত্যন্ত এলাকার হলেও এই বাড়ির প্রতাপ বিস্তর। আশপাশের পলিয়াদের মাঝেও এবাড়ির রোয়াব বড় কম না। হাজেরার শরীরের বাঁধুনি বড় চমৎকার, রক্তের কোচ প্রভাব স্পষ্ট। তাকে একনজর দেখলে কালো মেয়ের পায়ের তলার আলোর নাচন কী বা কেন তা বড় বেশি করে বোঝা যাবে। কোঁকড়ানো চুলের ভার যতো কালো, চোখের তারা যতো কালো, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেল্লাদার কালো বেটিচ্ছেইলার গায়ের রঙ। ছিপছিপে বেত সলতার মতো গড়ন, তার চমক দেখে কালোকেউটেও শরমিন্দা হবে। গর্ভের ভাবে একটু নুয়েছিল বটে ফের সটান টানটান শরীর ফিরছে হাজেরার। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তার মনের শঙ্কাও বাড়ছেই।

শুরু শুরুতে তেমন বোঝে নাই হাজেরা, গর্ভের মাস পাঁচেক পর থেকেই মাই টাটানো, ভার ভার হয়ে থাকা বুঝতে সময় লেগেছে। মন্ডল বাড়ির সবচেয়ে আইলসা মরদটাই হাজেরার ভাতার বটে কিন্তু ব্যাটাছোল ফির বউ পাগলও বটে। দিনেরাতের যেকোন সময় তার বউ বউ ডাক উঠে। আড়া কি ডগর কখন কোথায় যে তার ডাক উঠে বলা দুস্কর৷ রান্নাবাড়ির কাজে ব্যস্ত হাজেরাকে তখন শ্বাশুড়িও চোখের ইশারায় হাজিরা দিতে ছুটিয়ে মারেন। হাজেরাও বড় কম রঙ্গিনী না, মরদ সাপের বিষ কিকরে দোয়াতে হয় তা হাজেরাও বড় কম জানেনা৷ মাগ মিনসের এইসব কাণ্ড পাড়ায় রটতে সময় নেয় না বড় একটা। পড়শিরা হাজেরাকেও তাদের বুলিতে ছিনাল পায়৷

আর তার মরদটিও হাজেরার ডবকা শরীরে ডুবে থাকাটাই মোক্ষম কাজ বলে জানে। বিয়ের পর থেকে হাজেরার ডাঁসা গয়ামের মতো মাই দুটো তাল চটকানোর মতোই চটকাতে চটকাতে হাতের চাপ বোঝাতো তারে তার ভাতার মরদ আর সুখের সাগরে ভাসতো হাজেরা৷ কিন্তু গর্ভের ভারের সঙ্গে সঙ্গে এই স্বভাব বিরক্তিকর ঠেকতে লাগলো বড়।

হঠাৎই হাজিরা টের পেলো, তার মাই দুটো ফুলে ফেঁপে উঠছে। যখন তখন টনটনানি, মাইয়ের বোঁটা উঁচু হতে থাকা আর সিনানের সময়েও হাত ছোঁয়াতে না পারা অসহ্য ঠেকে তার৷ মরদের আশনাইও অসহ্য, একেকসময় নিজের মাইও নিজের কাছে যেনো বড় বিব্রতকর। সময় গড়াতে থাকে, গর্ভের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নানান রকম সমস্যা টানে। এক ভোরের ম্লান আলোয় হাজেরার ঘুম ভাঙে প্রবল আলস্য নিয়ে। বিছানা ছাড়তে হবে ভেবেও আলসি লাগে, তবু ত্রস্তে পরনের কাপড় সামলাতে যায়। ব্লাউজের চল নাই বাড়িতে, আলুথালু করে পরা শাড়ির খসে পড়া আঁচল দিয়ে বুক ঢাকতে গিয়ে আবিষ্কার করে নতুন ভাবে নিজেকে!

ফুলে উঠা স্তনের বোঁটা থেকে ঝরছে দুধ, অথচ মাস হিসাবে বাচ্চা হতে ঢের দেরী এখনো৷ হাজেরা কর গুনে বহুত হিসাব করে জানে, মাস ছয়েক চলে!

ফির মাই টাটায় ক্যানে!

দুই চারদিন যেতেই হাজেরার স্তনের আরো পরিবর্তন আসে, এবার স্তনের বোঁটায় যেনো ফাঁটা ফাঁটা ভাব দেখে! রোজ রোজ ভোরে রাজ্যের আলসি নিয়ে বিছানা ছাড়তে হয় হাজেরাকে আর রোজই তার স্তনের ফাঁটাভাব বাড়তে থাকে। সঙ্গে বাড়ে কষ্ট, বাড়ে অসহায়তা আর লজ্জাও। মরদের সঙ্গে শরীরের খেলা নাই, মাই ছুঁতেও দেয়না বহুদিন তবু নিজের অসহায়তার জের ধরে সেই মরদকেই জানাতে বুকের আঁচল সরিয়ে বের করে আনে ক্ষতবিক্ষত মাইজোড়া৷ কথা একান ওকান হতে হতে গড়ায় অনেকেরই কানে, বিস্তর শলা পরামর্শ  চলে কিন্তু সুরাহা হয়না কিছুই৷ এ ও ঠারেঠোরে দেখে হাজেরাকে, গর্ভের বাচ্চা নিয়ে কথা চলে নানান। এই কান্ড চলতে থাকে।

কষ্টকর গর্ভকালীন সময় কাটিয়ে একসময় বাচ্চা প্রসব করে হাজেরা।

বহু রকমের চেষ্টা করেও ছ্যাওয়ার মুখে মাই দিতে পারে না হাজেরা। শাল দুধের ভারে প্রসবের তিন দিন জ্বরে আচ্ছন্ন হয়ে কাটায় হাজেরা। বাড়ির বাকী নারীরা দুধ চেপে ফেলে দিয়ে কোনক্রমে নিস্তার দেয় হাজেরাকে।  কিন্তু কোনভাবেই বাচ্চার মুখে মাই ঠুসতে পারেনা হাজেরা। চেষ্টা করে নাই সে এমন না কিন্তু বারবার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর জন্য মুখে স্তন দেয়াই সার, বাচ্চা টানতে পারেনা। স্তনের আকার আকৃতি যথেষ্ট বটে হাজেরার কিন্তু স্তন বোঁটা একদম চাপা, বাচ্চা তা মুখে নিয়ে দুধ টেনে খাবার মতো না। জন্ম থেকে তোলা দুধেই বেঁচে আছে বাচ্চাটা।

বাচ্চাকে স্তন দিতে পারছেনা দেখে ক্রমশ মুরুব্বীরা চিন্তা আরো বাড়ে।  দুচারদিনের মাঝে গ্রামের প্রায় সবার মুখে মুখে ফিরছে তার কাহিনী।লোকে ভীড় করে দেখতে আসে হাজেরাকে, তার র স্তন পান করে যায় দুধরাজ সাপ!!সারা গ্রামে চাউর হয়ে যায় এই কথা!  সঙ্গে এও রটে

হাজেরার গর্ভে বাচ্চা থাকার সময় থেকেই  চলছে এই কান্ড!  বাচ্চার জন্মের পর থেকে হাজেরার জীবনের যন্ত্রণা আরো বাড়ে। স্তনবৃন্তের পুরোটা অংশ জুড়ে ঘা ছড়ায়। স্তনের উপরিভাগেও সেই ঘা ছড়ায়, পুঁজ জমে স্তনবৃন্তে।

ময় মুরুব্বী আর এলাকার সব নারীরা যে যা জানে সেই মত ঔষধ বাতলাতে থাকে, তবু সারেনা হাজেরার স্তনবৃন্তের ঘা।ঘা, পুঁজের যন্ত্রণায় অস্হির হাজেরা, খেয়াল করেনা কখন তার সন্তান তার মুখে চেয়ে থাকে স্রেফ কয়েক ফোঁটা দুধের আশায়!!

আকুল হাজেরা যে যা বলে সব মানে, করে সব রকম টোটকাও। কিন্তু লোকে তারে দোষ দেয় না বটে সে নিজেই তারে দোষী ঠাউরে চলে৷ নিজের গর্ভের সন্তানের মুখে খাবার দিতে পারে না, সেই দুধ খেয়ে যায় রোজই কোন এক দুধরাজ সাপ সেই ভেবে নিজের নিয়তিরে দোষায় হাজেরা৷

এলাকায় আরো বহু রকমের রটনা রটে যায়, লোকে ইচ্ছে মতোন কথা রটায়। তবে কথা উড়তে উড়তে হাজেরার কানেও আসে কিছু৷ হাজেরার শশুরকে একবার নাকি এক জলজ গোখরো কামড়েছিল। দিন তিনেক মরার মতো বেহুঁশ ছিলেন মফিজ মন্ডল। গায়ের রঙ কুচকুচে কালো হয়ে গিয়েছিল তার।  মফিজ মন্ডল সম্পন্ন গৃহস্থ ছিলেন, সেই আমলের ডাকসাইটে জোতদারও বলা চলে। বিষ নামাতে এধার ওধার থেকে ওঝা তান্ত্রিকের মতো রংপুর থেকে এক ডাক্তারও আনা হয়েছিলো। ডাক্তার কী এক ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন মন্ডলকে, যখন বাড়ির লোকেরা এবং তান্ত্রিকদের মধ্যে তার বেঁচে থাকার আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল। মফিজ মন্ডল বেঁচে উঠলেন কিন্তু ওঝারা সব কেরামতি নিজেদের বলেই দাবি করলো। তারা ঘোষণা করে ছিল তাদের মন্ত্রের জোরেই সাপ তার বিষ তুলে নিয়ে গেছে।

এর পরে পরে মন্ডল বাড়ির আশেপাশের আগরে এক লম্বা কালো সাপের চলাফেরার কথা চাউর হয়ে যায়। অনেকেই দাবী করতে থাকে যে রাতে পথ চলতে তারা এই সাপ দেখেছে। এবং সাপটা এই মন্ডল বাড়ির কোন একটা কোণেই বাস করে। এখন যখন হাজেরার স্তন থেকে রোজ সাপ দুধ খেয়ে যায় বলে জানা গেলো, লোকে নিশ্চিত স্বিদ্ধান্ত নিলো যে এ সেই সাপেরই কাণ্ড।  নারীর স্তন্যপান করে সাপ তার শরীরে থাকা বিষের জ্বালা জুড়োচ্ছে।

এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা রোজ হাজেরার স্তন ধুইয়ে দিতে লাগলো নিজেদের আনা জলে। বাড়ির মেয়েরা হাজেরার স্তন চিপে দুধ বের করে তা পুকুরে ফেলতে লাগলো জলে মিশিয়ে। কিন্তু কিছুতেই তার স্তনের বোঁটা থেকে ঘা সরে না।

এখন যখন হাজেরা তার নিজের জীবনের এইসব গল্পের কথা ভাবে তার অবাক লাগে। ঐ একবারই তার গর্ভে সন্তান এসেছিল, একটাই সন্তান সে জন্ম দিয়েছিল। এই মধ্যবয়সী শরীরে আর কখনো কোন সন্তান গর্ভে এলোইনা। সারাজীবন কাকবন্ধ্যার গঞ্জনা সয়ে বেঁচে রইলো হাজেরা।তবে এইসব কথা সত্যি সে কখনো ভেবেছিল কীনা তা বলা দুস্কর। মনেও আসতে কীনা তার সেই সব কথা সে নিজেও জানেনা। মনে এলো কারণ তার ব্যাটার বউয়ের সঙ্গেও নাকি সেই একই ঘটনা ঘটছে।

হাজেরার এই একটিই তো ছেলে। মন্ডল বাড়ির ছেলে হলেও সে নিজে গ্রামের পাট চুকিয়ে শহরে বাস করে। এবং সে বিয়ে করেছে এক সুন্দরী শিক্ষিতা নারীকে। ব্যাটার বউয়ের সাথে হাজেরার সখ্য আছে, বউ তারে ভক্তি শ্রদ্ধা করেও। ছেলের ফোনে বউয়ের সাথে কথা বলে হাজেরা জানতে পারে তার ব্যাটার বউয়ের ছাওয়াল হবে। বউয়ের মা নাই, মারা গেছেন মেলাদিন। বাচ্চা হওয়ার সময়ে মেয়েদের কতো রকমের কতো সমস্যা হয়। তাই বউকে নিজের কাছে এনে রেখেছিল হাজেরা। নিজের মেয়ে নাই, একটা মেয়ের বড় সখ ছিল হাজেরার। বউ বটে তার ছেলের কিন্তু সীমা নামের এই মেয়েটারে হাজেরা বড় আদর করে। সীমার গর্ভে তার বংশের প্রথম বাচ্চা তাই ডাক্তার দেখানো সহ আর সব পরামর্শ মেনেই চলেছিল।

গ্রাম তো আর আগের সেই গ্রাম নাই এখন।

সীমার বাচ্চা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মালো। স্বাভাবিক প্রসবের পরে মা বাচ্চা উভয়ই ভালো আছে জেনে বাড়ি নিয়ে আসা হলো। প্রথম কয়েকদিন সব মায়েরই বাচ্চাকে স্তনপান করাতে সমস্যা হয়। আর বাচ্চাও তখন ঘুমাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে, মায়েরও শরীরে প্রসবের একটা ধকল থাকে। দিন সাতেক পরে বাচ্চার কান্না বাড়তে থাকে। সারাটা দিনই সে থেমে থেমে কাঁদে। না ঘুমায়, না খায় না তার মায়ের সঙ্গে তার কোন মায়ার বন্ধন হলো। সীমারও মনমেজাজ বিক্ষিপ্ত থাকে, বাচ্চাকে স্তন দিতেই তার যেনো ঘোর অনীহা।

ধীরে আস্তে হাজেরাও জানতে পারে পুরো ঘটনা।

হাজেরা তার নিজের জীবনের গল্প বা ইতিহাসের ফের পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখে অবাক হয়। নিজে যতো যা টোটকা জানতো সবই করে। সীমাকে ডাক্তারের কাছে নিতেও কসুর করেনা। কিন্তু সীমার স্তন দখল করে বসে রক্তপুঁজ ভরা দগদগে ঘা। একসময় সীমাকে বারন করে হাজেরা বাচ্চাকে দুধ না দিতে। নিজের ছেলের মতো নাতিকেও তোলা দুধে অভ্যস্ত করতে চায় হাজেরা৷

গরুর দুধে জল মিশিয়ে পাতলা করে জ্বাল দিয়ে নাতির জন্য তৈরী করে হাজেরা৷ ঝিনুক চামচে করে খাওয়ায় তারে কিন্তু সারাটাদিন ধরে বাচ্চাটার ট্যা ট্যা কান্না আর থামেনা।

ভোরে উঠতে অভ্যস্ত হাজেরা, রোজই ভোরে উঠে সংসারের কাজে হাত দেয় সে। আজ ভোর ভোর বাড়ির পিছনের আগরে নামে সে ব্যাঙের খোঁজে। বহু বহু বছর আগে হাজেরার নানী শ্বাশুড়ি বলেছিলেন তাকে, সোনা ব্যাঙের কলিজা বেঁটে মাইয়ে লেপ দিতে। মিহি করে বাটা ব্যাঙের কলিজার প্রলেপ দিলে, স্তন থেকে আর সাপে দুধ খেতে পারবেনা। সারা দিন ধরে স্তন থেকে চুইয়ে আর নামবেনা দুধ।

বহু খোঁজ করে হাজেরা একটা বড় সোনা ব্যাঙের, যার কলিজা তার দরকার। গ্রাম তো আর গ্রাম নাই সেই আগের মতোন, ব্যাঙেরাও আর যখন তখন ঘ্যাঙরঘ্যাঙ গান ধরেনা।

হাজেরা তবুও খুঁজতে থাকে, রোজই বাগানে খুঁজে খুঁজে হাল্লাক হয় সোনা ব্যাঙ!

সীমা জানে হাজেরার এই ব্যাঙ খোঁজার কথা কিন্তু সে কিছু বলে না। শ্বাশুড়ির এই রকম অস্হিরতা দেখে তারও অসহায় লাগে কিন্তু বাঁধা দিতে পারে না। গ্রামে থেকেই সে শহরের বড় ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে।  প্রসূতির শরীরের আরো বহু রকমের সমস্যার মতো স্তনবৃন্ত ফেটে যাওয়ার ঘটনাও একটা সাধারণ ঘটনা মাত্র। শহর থেকে ওসুদ কিনে এনে স্তনে লাগায় সীমা, স্তনে দুধ জমে অঘটন ঘটার সুযোগ দেয় না সে। পাম্প দিয়ে টেনে বের করে ফেলে দেয় সমস্তটা দুধ। ধীরে আস্তে ঘা কমতে থাকলে, ফের পাম্প দিয়ে বের করা দুধই জ্বাল দিয়ে খাওয়ায় বাচ্চাকে।

হাজেরাকে আর জানাতে পারে না কিছু সীমা। সে খোঁজ করতেই থাকে সোনা ব্যাঙের। আর রোজ রোজ সীমাকে নিয়ে ভয় পেতে থাকে। রোজ সে সীমাকে বলে এক সাপের কথা। যে সাপ তার শশুরকে একবার ছোঁবল মেরে ছিল, ফের নিজের বিষ টেনেও নিয়েছিল। এই ঋণ শোধ নিতে যে সাপের বংশধর হিসেবে সীমার দুধ খেতে আসে সাপ!

সীমা ভেবে পায়না দুধরাজ সাপ কেন তার স্তনপানের জন্য উন্মুখ হয়ে গেলো! সেতো আর তার সঙ্গীনী নয়।

দুধরাজ সাপ,সদ্য প্রসূতা নিজের সঙ্গিনীর পাশে শুয়ে স্তন্য পান করে, সাপের বাচ্চাদের মতোই। গাইগোরুর ওলান থেকেও দুধ টেনে নেয় সে।  গৃহস্হ বাড়ির গোয়ালে থাকা দুগ্ধবতী গাভীর বাটে সাপের দাঁতের দাগ দেখা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু তাইবলে নারীর স্তন থেকে দুধ পান করতে আসবে সাপ!

গাই গরুর মতো গর্ভিণী নারীকেও কি সে কামধেণু ভাবে!

অনসূয়া যূথিকা। লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী। জন্ম ও নিবাস বাংলাদেশের ঢাকায়।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

মায়াবাড়ি

মায়াবাড়ি

‘বের হয়ে যাও আমার বাসা থেকে…’ স্পষ্ট, চাবুকের হিসহিস শব্দের মতো কণ্ঠ! বাবুই চমকে তাকাল।…..