স্নিগ্ধা বাউলের কবিতা

স্নিগ্ধা বাউল
কবিতা
Bengali
স্নিগ্ধা বাউলের কবিতা

প্রেমের কবিতা

ব্যস্ততায় হারিয়ে ভাবো
সেদিন কেমন নির্বাক সন্ধ্যা ছিলো
বাতাসের সাথে ডিসেম্বরের মিলে যাওয়া সকালে
না ভেবেই আমি হাসছিলাম
থেমে যাবার আগে, না দেখা তোমার চোখ
ভাবতে পারো, আমরা চিনতাম না আমাদের –
জানতাম না আমাদের দেখা হয়ে গেলো
অনিবার্য যা না হলেও ঈশ্বরের এমন কি হতো
স্মরণ করো আমায়
বিস্মৃত সেই সময়ে; আমার মতো আশ্রয়ীজন
ছুটে যায় পাটাতনের ছায়ায়
আকালের বর্ষায় ভিজে উর্বরা হতে
নিজস্ব সম্ভাবনায়, বাঁধার পূর্ব প্রান্তে;
মনে হয় আমায়!
রাগ কোরো না, যদিও আমি তুমি বলতে চেয়েছি তোমায়
সমস্ত প্রেমিক আমার এমনই; অবিন্যস্ত আস্থায়!
আমি ভুলি নি তোমায়
পুরুষ এত সুন্দর হয়
হাতের ভাঁজে শ্রমিকের রেখা
শহরের আলোয় ঝকঝক করা পেশি
মায়াবী মায়ার আহবান যুদ্ধের মতো
হারিয়ে না গেলে আমিও জানতাম
কেমন আছে সেই শহর আর তুমি
সেখানে আজও ঘুমায় কারা তোমার
নীল বুকে নিশ্চিন্তে;
মন্ত্রিপাড়ায় কত বৃষ্টি ঝড়ে
অথবা বুলেট
কেমন আছে আমার মতো প্রেম প্রত্যাশী
সেই নারী, রাতে যে শয্যায় সাজে প্রতিটি
মরা নদীর ঢেউ এখনও রয়ে গেলো ওখানে!
এইখানে কি হয় জানো –
চাইলেই মেঘ জমে, অথবা বেগুনি কুয়াশা
ভরা যৌবনে তোমাকে পাই চাইলেই
বুলেটের খোসা ফেটে বেরিয়ে আসে
জমজমাট বাহারি গোলাপের তেজ।
মরে যাবার নেই ভয় ক্লান্ত ঘোড়ার
ইস্পাতের আঘাতে –
ভাবো কি আমায়
শহর ছেড়ে ঢের দূরের সবাই
অযাচিত মেঘ
নির্বাসিত ধুলো আর পচে যাওয়া
লাশের অনুষঙ্গ;
যাদের থাকে না কোনো বিদায়ের গান।

 

২.

আমরা প্রেমে পড়ছিলাম তখন
প্রতিদিন হেঁটে যাবার সময় যখন
ভাবতাম কেউ ভাবুক আমায় নিয়ে
ফুল কিনুক আমার জন্য কেউ
রাস্তা পাড় করতে মুঠোয় ধরুক
পাঁচটি আঙুল;
আরও ভাবতাম আমরা
কেউ সাজুক আমার জন্য
লাল টিপ খয়েরি লিপস্টিক
পাজামা ছেড়ে শাড়ির হুক
বেণী দুলুনি রঙ্গিন নখ;
আমরা প্রেমে পড়লাম
চায়ের দোকান থেকে বসন্ত কেবিন
দুই পা থেকে উঠুনে দেয়ালে
ঘরে চামচে একে অপরের প্রেমে;
আমরা স্বীকার করছি –
আস্ত সূর্য নিয়ে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম
আর জেগে কি হবে!

 

স্নিগ্ধা বাউল। কবি। কবিতা পড়েন ভালোবাসেন।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ