স্পর্ধার মরণ

ভজন দত্ত
অণুগল্প
Bengali
 স্পর্ধার মরণ

নদীর জল ছুঁয়ে আছে বুড়ো বটের শিকড়।খলবলিয়ে দুপাড় ভেঙে-ভেঙে নাচতে-নাচতে চলেছে সে!কবে থেকে ভেসে যাবো ভেসে যাবো করেও মাটির মায়ায় জড়িয়ে আছে গাছ। শিকড় ছুয়ে চঞ্চল জলের আদরে মাছেরা জ্যৈষ্ঠের শেষ হতে না হতেই পোয়াতি হওয়ার বাসনায় উজানে পাড়ি দেয়। তারা জানে ঐ গাছ, শিকড় ও নদীর তীরে বৃদ্ধ বটের হেলে থাকার মানে।

— এই পর্যন্ত পড়ে সাধ্বী বলে উঠলো,

‘এসব কি আংবাং লিখিস আজকাল! ভালো লাগে না।মানুষ কত অসহায় ভাব একবার। তুই তাদের কথা আবার লেখ অমিত।’

অমিত সিগারেট বের করে সাধ্বীকে দেয়,নিজে নেয়। দুজনে সিগারেট ধরিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ঘোলা জলের ভেতর।

অমিত বলে,’মানুষের কথা লিখতে বলছিস! তুই কি জানিস, মানুষের কথা লিখলেই ওরা বলবে রাজনীতি করছি।না রে, অন্ধ একবারই লাঠি হারায়!আমার জীবনে যা ঘটেছে তারপর আর ওসব লেখা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’

সিগারেটের শেষটা জলে ছুঁড়ে দিয়ে সাধ্বী বলে,

‘জানি অমিত। একদিন তোর কলমে আগুন ছিলো।অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদে জ্বলে উঠত তোর কলম। তারপর কোথা থেকে যে কী হয়ে গেল…!’

‘প্লিজ,বলিস না।সবই তো জানিস!একটা পা হারিয়েছি, প্রতিবন্ধী! বুকের ভেতর দগদগে ক্ষত! বেঁচে আছি।এই তো অনেক!তুই যে এখনো ভুলিসনি, সেটাও তো আমার কম পাওয়া নয়!মেয়েকে স্কুলে ছেড়ে মাঝখানের যে সময়টুকু আমাকে দিলি,এওতো আমার কিছু কম পাওয়া নয়!’ কথাগুলি বলে,অনেক-অনেক দিন পর অমিত সাধ্বীর চোখে চোখ রাখে।

একদিন ওরা কত-কত সময় এভাবেই চুপচাপ বসে থেকেছে। আর আজ!দুজনের মাঝখানে যেন এক বিরাট খাড়া-পাহাড়!সে পাহাড় অতিক্রম করার সাহস বা স্পর্ধা কোনটাই ওদের নেই।

সাধ্বী ব্যাগের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বলে,’নারে অমিত এবার যাই,বুঝলি!আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়ার আগে আমাকে যেটা রাখতে দিয়েছিলি,অনেক কষ্টে যন্ত্রণায় লুকিয়ে রেখেছিলাম সেটা।সবসময় ভয় হতো,এই বুঝি…!নে,ধর। আর দেরি করাস না।’

একটা প্লাস্টিক প্যাকেট অমিতের হাতে ধরিয়ে সাধ্বী বিদায় নিলেও অমিত বসেই থাকে।

অনেকক্ষণ পর, প্যাকেট খুলে অমিত যেটা বের করে, সেটা একটা দেশি পিস্তল।খুলে দেখলো এখনো লোডেড।ট্রিগারে আঙুল রেখে অমিত চোখ বন্ধ করে। পিস্তলের নল ঠেকায় নিজের মাথায়…

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ