হৈমন্তী দিদিমণি বড় বিপাকে পড়েছেন

রঞ্জন রায়
গল্প
Bengali
হৈমন্তী দিদিমণি বড় বিপাকে পড়েছেন

গুরু কাঙাল জানিয়া পার কর”

হৈমন্তী দিদিমণি বড় বিপাকে পড়েছেন| কতবার করে বলেছেন যে উনি অমন বেয়াড়া ছাত্রকে পড়াবেন না| কিন্তু ভবি ভোলে না যে!
গত শনিবারেই উনি আবদুলকে বলে দিয়েছেন– লেখাপড়ায় মন নেই| আওয়ারাগর্দি করে ঘুরে বেড়াস| কেন বাড়ির লোকজনকে জ্বালাচ্ছিস? যা‚ পোর্টার খোলি কি তিতলি চৌকের কাছে একটা পান ঠেলা খুলে রোজগারপাতি কর|
ছেলেটা কিছু বলে না| দরজার কাছে মাথা নীচু করে দুহাত কোলের কাছে জড়ো করে দাঁড়িয়ে থাকে|
হৈমন্তীর পিত্তি জ্বলে যায়|
— না:‚ তোকে দিয়ে পান দোকানও হবে না| বন্ধুবান্ধবরা ওখানেই আড্ডা দিতে আসবে| ধারে বিড়ি ফুঁকবে‚ দুটো মাস যাবে না‚ দোকান লাটে উঠবে|
আবদুল একবার চোখ তুলে তাকায়| গরুর মত অলস ড্যাবডেবে চাউনি|তারপর মাথা নীচু করে ডান পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে বাঁ-পায়ের নখ ঘষতে থাকে|
–তুই নিজেও কম নোস| এই বয়সেই বিড়িপাত্তি আর গুটকার নেশা ধরেছিস| কালে কালে আরও হবে| বইয়ের পাতা খোলা তো দূরস্থান‚ আদ্দেক বইয়ের তো কোন হদিস নেই| যা‚ দূর হয়ে যা‚ তোর মত ধেড়ে ছেলে আমার অন্য ছাত্রদের খারাপ করে দেবে|
আবদুল এর কোন হেলদোল নেই|
হৈমন্তী এবার থতমত খেয়ে ভাবতে লাগলেন–অত: কিম? মেজেতে মাদুর পেতে ট্যুইশন পড়তে বসা জনাপনের বাচ্চা মুচকি মুচকি হাসছে|
— যাচ্ছিস না কেন?
— দিদি বলেছে আপনার পায়ে ধরে মাপ চাইতে‚ আপনি তাড়িয়ে দিলে আর ঘরে ঢুকতে দেবে না|
হৈমন্তী ফাঁপরে পড়লেন|

বিলাসপুর ছত্তিশগড়ের দ্বিতীয় বড় শহর| একসময় দক্ষিণ পূর্ব রেলের ডিভিশনাল কোয়ার্টার হিসেবে ভারতের ম্যাপে বিশেষ জায়গা দখল করেছিল| ইংরেজ জমানা থেকে এখানে গড়ে উঠেছিল এক ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল| মূলত: রেলের কর্মচারিদের ছেলেপুলেদের জন্যে| এখন মূল শহর থেকে অন্য ছাত্ররাও ভর্তি হয়| রেলওয়ে কলোনির কর্মচারিদের ভেতরে স্পষ্ট শ্রেণীবিভাগ| সেই হিসেবে গড়ে দেওয়া হয়েছে বড়‚ মেজো‚ সেজ ‚ ছোট –নানান মাপের কোয়ার্টার| লাল ইঁটের রং আর তারের জাল দিয়ে ঘেরা বারান্দা| স্কুলের বয়েস একশ ছাড়িয়ে গেছে| প্রতিযোগিতায় নামা নতুন নতুন মিশনারী স্কুল একে পেছনে ফেলে দিয়েছে| তবু এ টিঁকে আছে| টিঁকে আছে দুটো কারণে| প্রথমটি যদি হয় স্কুলের নামী শিক্ষকের ব্যাচ‚ দ্বিতীয়টি এর হকি টিমের ঐতিহ্য|
হকি যে জাতীয় খেলা তা বিলাসপুরের রেল এলাকায় এলে বোঝা যায়| মূল শহরে হকি কবেই উঠে গেছে‚ ওখানে রমরমিয়ে চলে ক্রিকেট‚ স্টেডিয়ামে হয় রণজির ম্যাচ| পৃষ্ঠপোষকতায় মারাঠি সমাজ| এরা বর্গি আক্রমণের সময় ভাস্কর পন্ডিতদের মত বহু দু:সাহসী যোদ্ধাদের রিসালাদারদের বংশাবতংস|
তারবাহার এলাকার রেলওয়ে গেট থেকে শুরু রেলের এলাকা‚ এখানে পুলিস ও আলাদা| এখানকার ছোট স্টেডিয়ামে হয় সুব্রত কাপ ও ইন্টাররেলওয়ে ফুটবল ও হকি| পৃষ্ঠপোষকতায় বাঙালী ও তেলুগু সমাজ| এখান থেকে বেশ কয়েকজন জাতীয় স্তরে হকি খেলেছেন|
শহরের দুই এলাকায় একটি চাপা রেশারেশি রয়েছে| চাটাপাড়ার আর এস এস এর স্বয়ংসেবক তামসকর এর থিসিস ছিল যে মূল শহরে বিজেপি- কংগ্রেস ফিফটি-ফিফটি| কিন্তু রেলে এলাকার বহিরাগত বাঙালীর দল করে বামপন্থী ইউনিয়ন আর ভোট দেয় কংগ্রেসকে | এরাই হয়ে যায় ডিসাইডিং ফ্যাক্টর‚ বুঝলেন না?

(দুই)
বাবলু ওরফে লাল মুহম্মদ বন্ধুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়| লম্বা একহারা পেটানো চেহারা| অখিল ভারতীয় রেলওয়ে স্পোর্ট্স এ জুনিয়র বিভাগে ভালো নাম | মূলত: স্প্রিন্টার‚ তবে হকিতে বিলাসপুরের সেরা গোলকিপার| শর্ট কর্নার আটকাতে দক্ষ; সেবার রাজনন্দগাঁও য়ের দলের নামকরা হিটার গণেশ তির্কির পেনাল্টি আটকে দিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল|
কিন্তু ওর জনপ্রিয়তার আসল কারণ হল ও বন্ধুদের জন্যে সব করতে পারে| পঙ্গা নিতে পারে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের সন্গে| সেবার ক্লাস নাইনের রাজেশ হিরওয়ানি পম্পাকে চিঠি দিয়ে ধরা পড়ে যায়| পম্পা বার খেয়ে ওর সহেলি সুনীতাকে দেখিয়ে ছিল| কসম খাইয়েছিল কাউকে না বলতে| কিন্তু সুনীতার বইয়ের ভাঁজ থেকে চিরকুট ওর দিদি ও মায়ের কাছে পৌঁছে যায়| মাতাশ্রী পড়োশি পরিবারের এবং নিজের মেয়ের সামাজিক ও নৈতিক হিতসাধনে কৃতসংকল্প হয়ে সেটি পৌঁছে দিলেন পম্পার বাবা-মার হাতে|
আর যায় কোথা? তারবাহার চৌকের মিষ্টির দোকানের মালিক পম্পার বাবা হিটুমল ঘিটুমল অগ্নিশর্মা হয়ে রাজেশের বাড়িতে চড়াও হলেন| রাজেশের বাবা হাওড়া-মুম্বাই মেল ট্রেনের ড্রাইভার| ডিউটি থেকে ফিরবেন তিনদিন পরে|

হিটুমলজী পাড়ার কিছু বয়স্ক লোকজন ও ছেলেছোকরা জড়ো করে রাজেশের মায়ের অনুনয় -মিনতি অগ্রাহ্য করে দোষী ছেলেটিকে মারতে মারতে নিজের কোয়ার্টারে আটকে রাখলেন| ওর চোটপাটের সামনে মেয়ে পম্পা কাঁদতে কাঁদতে বলল– ও কিছুই জানে না| রাজেশ ভাইয়া সেদিন স্কুল যাওয়ার পথে জোর করে চিরকুট গুঁজে দিয়েছিল| না না; শুধু হাত ধরেছিল‚ ঐ কাগজটা দেওয়ার সময়| আর কিছু না|
শেষে হিটুমলজি মেয়েকে দিয়ে একটি বয়ান লিখিয়ে তারবাহার থানায় কম্প্লেইন করে রাজেশকে লক আপে রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করালেন| হেড কনস্টেবলের হাতে একটি পাত্তি ধরিয়ে দিয়ে অনুরোধ করলেন যেন গুন্ডা মাওয়ালী ছোকরাটিকে ‘কুছ লাথ-মুক্কা” সহযোগে মেরামত করা হয়|
কিন্তু‚ বিধি বাম| এসব খবর এলাকায় দ্রুত ছড়ায়|
ঘন্টা দুই পরে লাল মুহম্মদ ওরফে বাবলু‚ আনসারি উকিল ও প্রায় শ’খানেক ছেলেপুলে নিয়ে থানা ঘেরাও করে| উকিল জানতে চান কোন আইনের বলে একটি নাবালক ছেলেকে ওর বাড়িতে ঢুকে ওর বাবার অবর্তমানে তুলে আনা হয়েছে? উনি পাল্টা এফ আই আর দায়ের করাতে চান হিটুমল ঘিটুমল এর বিরুদ্ধে| অভিযোগ– পুরুষ সদস্যের অবর্তমানে জোর করে বাড়িতে ঢোকা‚ মহিলার সংগে দুর্ব্যবহার করা‚ মারপিট এবং বেআইনি ভাবে নাবালককে বলপূর্বক নিজের বাড়িতে বন্দী করে রাখা‚ মিথ্যা অভিযোগ করা –ইত্যাদি|
ঘটনার জল বাঁধা পথেই গড়াল| আর রেলওয়ে এলাকার উঠতি মেয়েদের মধ্যে বাবলুর হাইট আরও উঁচু হল|
সেসব পুরনো কথা| আজকের আড্ডায় স্ট্যানলি একটা চুট্কুলা শোনাচ্ছিল|
–বুঝলি‚ একবার বজরন্গবলী ও আল্লার মধ্যে ফ্রেন্ডলি কম্পিটিশন হল– কে কত বেশি শক্তিধর?
তাতে রেফারি হলেন যিশু| ঠিক হল দু’জন একে অপরকে একটা করে ঘুষি মারার চান্স পাবে| যিশু টস করলেন| জিতলেন আল্লা| প্রথম ঘুষি উনিই মারবেন| সে ঘুষি খেয়ে বজরন্গবলী হাওয়ায় উড়ে গেলেন| উড়ে যেতে যেতে কোথায় গিয়ে পড়লেন কেউ জানে না| শেষে সেখান থেকে ফিরে এলেন প্রায় একবছর পরে| সবাই বলল–দুয়ো! দুয়ো!
এবার বজরন্গবলীর হিট|
উনি ‘জয় শ্রীরাম্’ বলে এমন একটা আপার কাট লাগালেন যে আল্লা কোথায় গিয়ে পড়লেন কেউ জানে না| আজও সকাল সন্ধ্যায় সবাই তাঁর ফিরে আসার জন্যে হাঁটু গেড়ে ডাকতে থাকে|
সবাই হেসে উঠল| এবার বাবলুর পালা|
ও মাথা টাথা চুলকে বলল– এই যে আমার বন্ধু তিওয়ারি‚ ও সেদিন একটা কবিতা‚ সরি সরি তুকবন্দী‚ শোনাচ্ছিল | ব্যাটা আমাকে বলল– শুন বে পাঠান‚
তেরে দিল পে গঠান|
( শোন রে পাঠান ঢিট‚
তোর মনের মধ্যে গিঁট |)
তো আমি পাল্টা দিলাম– শুন বে পন্ডিত‚
তেরে গাঁড় পে খাটিয়া|
( শোন রে ব্যাটা বামুন‚ তোর পোঁদে খাটিয়া|)
তিওয়ারি বলল– এটা তো মিলল না| পন্ডিতের সন্গে খাটিয়া?
–আরে মিলুক না মিলুক‚ আমি তো তোর পেছনে খাটিয়া বিছিয়ে দিলাম|
কয়েকজন সিটি বাজিয়ে দিল|
স্ট্যানলি বলল–মর তোরা দুটো হিন্দু-মুসলমান করে| আরে কাজের কথা বল- বাঙালী বহিনজির কাছে যে টিউশন পড়তে গিয়েছিলি তার কি হল?
— ভাগিয়ে দিয়েছেন‚ আমাকে পড়াবেন না|
— আরে তোকে বলেছিলাম না যে গিয়ে তোর দিদি কামারুন্নিসা আপার নাম কর; পায়ে ধর| তো?
–পারলাম না রে| গতবারের সেই ঘটনাটার পর থেকে আর সাহস হল না|
আড্ডায় নতুন এসেছে পিন্টু| সে জানতে চাইল কী সেই ঘটনা? আবার হাসির কোরাস|

(তিন)
বাবলু কিছু বলে না| লজ্জা লজ্জা মুখ করে মিটিমিটি হাসে|
— কী রে? সবাই গুঙ্গা-বহেরা (বোবা-কালা) হয়ে গেলি যে!
শেষে তিওয়ারি বলে– এটা স্ট্যানলি আর বাবলুর কিসসা | ওরাই বলুক|
— গতবছর ফাইনাল পরীক্ষার সময় বহোত বড়া লফরা | একজন বাংগালী ম্যাম ভিন স্টেট সে ট্রান্সফার হয়ে এসেছেন| সে ভারি তোপ| জমিন পর চলনেওয়ালি নহীঁ‚ আসমাঁ মেঁ উড়নেওয়ালি|
— আচ্ছা? দেখনে পে?
— একদম ফটাকা‚ লাল মির্চি| একবার দেখ লো তো দিল গার্ডেন-গার্ডেন হো জায়ে|
— আসল কথায় আয়‚ তোদের সঙ্গে কোন পঙ্গা?
–দেখ না ইয়ার! এইসা গার্ড দেনে লগে কি‚ ক্যা বাতাউঁ? রোজ চিট পকড়নে কে বহানে মেঁ হমলোগোঁ কো বেইজ্জত করনে লগে| গর্দন ঘুমানে নহীঁ দেতী থী|
ওসব ঠিক ছিল| কিন্তু সেদিন স্ট্যানলির পকেটে হাত ঢুকিয়ে একটা মানিক্চন্দের প্যাকেট আর কিছু চিট বের করল; ওর খাতা কেড়ে নিল| ও যত বলে যে ম্যাম‚ এগুলো হিন্দি পরীক্ষার চিট‚ আজ তো অংক‚ তো উনি শুনবেন না| চিট ইজ চিট! আসলে খড়গপুর থেকে আসা ম্যাম হিন্দি অক্ষর পড়তে পারতেন না| ভেবেছিলেন ওসব হিন্দিতে লেখা অংকের চিট|
সেদিন রাত্তিরে আমাদের ঠেকে সবাই বলল–ইসকী জাত কী বৈলা মারুঁ! সবক শিখাকে ছোড়েন্গে|

হ্যাঁ, এই নয়ী-নবেলী বাঙ্গালী বহেনজিকে শিক্ষা দিতে হবে; এখানকার, মানে রেলওয়ে কলোনির আদবকায়দার সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে।

কিন্তু কী করে? কেউ বলতে পারল না| ম্যামের কোন বয়ফ্রেন্ড নেই যে আওয়াজ দেব| থাকেন বাবা-মার সন্গে| টিউশন করেন না যে কম্প্লেইন করব| তখন আমাদের ক্যাপ্টেন বাবলু ফিল্ডে নামল‚ বলল– অব মেরে উপর ছোড় দে|
— আরে এখনও তিন তিনটে পেপার বাকি| তোর ভরসায় থাকলে তো এবছর ক্লাস টেন এই থাকতে হবে|
–রুক না ইয়ার! পরের পেপারের দিন মজা দেখবি| সির্ফ এক ব্লেড কী কমাল |
— মানে? তোর মতলবটা কী? ওঁর গালে ব্লেড চালাবি? এসবে আমি নেই|
— নহীঁ ইয়ার| ইতনা বেদর্দী নহীঁ হুঁ| এখন কিছু বলব না|

পরের দিন সোশ্যাল সায়েন্স| কোশ্চেন পাস করার মত | আমরা লিখছি কম‚ আড়চোখে বাবলুকে দেখছি| ও খুব মন খারাপ করে বসে আছে‚ পাতা ওল্টাচ্ছে‚ লিখছে না| নতুন ম্যামের সন্দেহ হল| উনি যেই গিয়ে ওর পাশে দাঁড়ান ‚ ও হড়বড়িয়ে লেখা বন্ধ করে দেয়| উনি একটু এগিয়ে গেলে প্যান্টের ডান পকেটে হাত ঢোকায়‚ আর উনি তাকালে হাত বের করে নেয়| এই চুহা-বিল্লি খেল কিছুক্ষণ চলল| তারপর উনি এসে বাবলুর পাশে দাঁড়ালেন| কড়া সুরে বললেন– পকেটে যা আছে বের করে দাও‚ তারপর লিখতে দেব|

হমারা ইয়ার পুরা ডিনাইয়াল মোড মেঁ|

শেষে উনি খপাৎ করে ওর ডান পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে চমকে উঠলেন| মুখের রং পাল্টে গেল| চোখে আগুন ঝরিয়ে নললেন– বদতমিজ‚ ডার্টি‚ ইতর কোথাকার! তারপর বাথরুমে হাত ধুতে গেলেন|
হয়েচে কি‚ বাবলু ব্লেড দিয়ে ওর পকেটের ভেতরের কাপড়টা কেটে রেখেছিল| ব্যস|
বাবলুর প্রিন্সিপালের কেবিনে এত্তেলা হল| ও সাফাই দিল– গরীবের ঘর‚ পুরনো প্যান্টের পকেট ছেঁড়া‚ ও কী করবে? ম্যাম কেন ওর কথা বিশ্বাস করেন নি?
নতুন ম্যাম গার্ড দেওয়ার ডিউটি ছেড়ে দিলেন| আমরা বাবলুকে দোসা ও কফি খাওয়ালাম|
কিন্তু সন্ধ্যে বেলা হৈমন্তীম্যামের বাড়ি পড়তে গেলে উনি ওকে টেনে এক থাপ্পড় কষিয়ে দূর করে দিলেন|

(চার)
সাতসকালে কে এলো আবার! হৈমন্তী একটু বিরক্ত ভাবে দরজার দিকে এগোলেন| দু’বার চা খাওয়া হয়ে গেছে| এখন ওঁর দৈনিক পত্রিকার পাতায় চোখ বোলানোর সময়| আর রেডিও সিলোনে বাজবে ‘সংগীত সরিতা’ বা ক্ল্যাসিক্যাল রাগের পরিচয় নিয়ে একটি ছোট্ট মিষ্টি প্রোগ্রাম| এরপরে আসবে কাজের মাসি সামাখ্যা| ততক্ষণে উনি স্নান করে দশ মিনিটের জন্যে পূজোয় বসবেন| এ’সময় কেউ ওঁর দরজায় কড়া নাড়ে না|
তারপরে আসে এক ব্যাচ ছাত্র-ছাত্রী|

উনি পয়সা নিতেন না| পরে দেখলেন পকেট থেকে কিছু না খসালে টিচার‚ ডাক্তার বা ভগবানের উপর মানুষজনের ঠিক বিশ্বাস হয় না | বাপ-মার কোন হেলদোল দেখা যায় না| তাই ইদানীং উনি মাসে একশ টাকা করে চার্জ করেন| এরপর আছে রেলওয়ে স্কুলে যাওয়া| সেখানে উনি ডে-সেকশনের ইংরেজির সিনিয়র টিচার; রাশভারি| কলেজে পড়ার সময় একটি রেল দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছিলেন| তারপর মা ও ছোট দুই ভাইবোনের দায়িত্ব সামলাতে রেলের স্কুলে জয়েন করলেন| চাকরি করতে করতেই ইংরেজিতে এম এ ও পরে বি এড | উঁচু ক্লাসে ইংরেজির দায়িত্ব পেলেন| জুটলো একটু ভাল টু-বেডরুম কোয়ার্টার|

ভাইবোনেরাও দিদির পরিশ্রম এবং ভালোবাসার মর্যাদা দিয়ে ভালো ভাবে পাশ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেল| দুজনেই সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে অন্য জেলায় বদলি হয়ে গেল|
এইসবের মধ্যে যখন মা ও দূর সম্পর্কের মামা-মাসিরা ওঁকে বিয়ের জন্যে পেড়াপিড়ি করতে লাগলেন‚ তখন হৈমন্তী এড়িয়ে গেলেন| মা জানতে চাইলেন মেয়ের আলাদা করে পছন্দের কেউ আছে কী না! কোন সহকর্মী বা অন্য কোন চেনাজানা কেউ? হৈমন্তী নিরুত্তর|
আসলে উনি পরিচিত অভ্যস্ত জীবনযাত্রায় কোন বদল আনতে উৎসাহ বোধ করছিলেন না| ভেতরে ভেতরে এই সঞ্চিত অনীহার মুখোমুখি হয়ে নিজেই বেশ অবাক হলেন| তারপর উনি সব ওজর আপত্তি খারিজ করে ভাইবোনের বিয়ে দিলেন| মা তার আগেই গত হয়েছেন| সময়ের নিয়মে ভাইবোনদের প্রত্যন্ত জেলার শহর থেকে নিজেদের ঘর সামলে দিদিকে দেখতে আসা কমতে কমতে ভাইফোঁটা আর দোলপঞ্চমীতে থমকে গেল|
এখন হৈমন্তীর সিঁথিতে ও কানের পাশে ক’গাছি পাকা চুল আর ব্যাংকের পাসবুকে কিছু টাকা| তবে বছরেব দু-একবার রেলের পাসে দু’ একজন সহকর্মীর সম্গে পুরী বা মহাবালেশ্বর বেড়াতে যান|
শক্তপোক্ত কড়া ধাতের মহিলা| কাউকে বেচাল দেখলে মুখের উপর দু’কথা শুনিয়ে দিতে কোন দ্বিধা নেই| প্রিন্সিপাল থেকে রেলের ডি আর এম অফিসে সবাই তাঁকে সমঝে চলে|
মাঝে মাঝে উত্তুরে হাওয়ায় একটু শীত শীত করে| পাশের বাড়ি থেকে ছোট বাচ্চার কান্না বা একটু বড় ছেলেমেয়েদের হৈ চৈ কানে আসে| হটাৎ টের পান– ওঁর প্রত্যেকটি দিন ঠিক আগের দিনের মতন| বা আগামী কাল নতুন কিছু ঘটবে না; কোন ম্যাজিক হবে না|
এই সময় তো কারও আসার কথা নয়! তবে কে বারবার কড়া নাড়ছে? বিরক্ত মুখে দরজা খুলে উনি অবাক| নার্সের পোশাকে এক অপরিচিত বছর পঁয়তিরিশের মহিলা|
ওঁর কোঁচকানো ভ্রূ দেখে মেয়েটি থতমত হয়ে বলল– এমন সময় না এসে উপায় ছিল না| আমি রায়গড়ের রেলওয়ে হাসপাতালে ডিউটি করি‚ এখানে থাকি না| কাল রাত্তিরে মাকে মাসের খরচার টাকা দিতে এসেছিলাম| এখন পনের মিনিটের মধ্যে আমাকে ট্রেন ধরতে হবে|
–আপনি কে? আর আমার সন্গে কী দরকার?
— আমি আপনার ছাত্র লাল মুহম্মদ ‚ মানে বাবলুর দিদি|ওকে তাড়িয়ে দেবেন না প্লীজ!

–খামোকা সময় নষ্ট করছ; অমন অসভ্য ছেলেকে আমি পড়াই না| যাও‚ গিয়ে রায়গড়ের ট্রেন ধর|
— দিদি‚ একটু শুনুন| আমি জানি ও বখে গেছে| কিন্তু এটাও ঠিক যে ও আমার বাবার মত– খেলা পাগল| হকিতে রেলওয়ের জুনিয়র টিমের হয়ে ন্যাশনালে খেলেছে| আপনার স্কুলের হয়েও তো কত ট্রফি এনেছে|
— তো? তাই বলে ওকে মাথায় তুলে নাচতে হবে? যা খুশি তাই করে পার পেয়ে যাবে? ও খেলুড়ে না হয়ে একটু সভ্য ভব্য হত তাহলে ভাল ছিল|
— দিদি‚ ও কথা বলবেন না| আমার বাবা রেলের হয়ে ফুটবল খেলতে বিহারের জামালপুরে গেছলেন| মাঠেই অজ্ঞান হয়ে যান| রেলের ডাক্তার ধরতে পারে নি| এপেন্ডিসাইট ফেটে গেছল| আমি কলেজের পড়া ছেড়ে নার্সের চাকরি নিলাম| মা আর ছোট ভাই বাবলু| এখন আমার বিয়ে হয়ে গেছে |একবছর হল| আগামী বছরে বিলাসপুরের কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে হবে|
— বুঝলাম না|
— রায়গড়ে আপনার দামাদের কোয়ার্টারে আছি| তাই এটা খালি করে দিতে হবে| এখন একমাত্র ভরসা ভাই বাবলু|
— কিসের ভরসা? ওর পড়ায় মন নেই| টেনে টুনে টেন ক্লাস হয়েছে| টুয়েলভ বোর্ড পেরোতে গেলে ওকে দু’চারবার অরপা নদীতে ডুব দিয়ে আসতে হবে| খালি খেলে বেড়ালে হবে?
— জানি দিদি| এবার যদি ক্লাস টেনের বেড়া পার করতে পারে তো স্পোর্টস কোটায় রেলের চাকরিতে ঢুকে যাবে| ওপরে কথা হয়েছে|
— রেলের চাকরি? একটা লাইন শুদ্ধ ইংরেজি লিখতে পারে না ও গার্ড সাহেব হবে? সিগন্যালার? নাকি টিকিট চেকার? ওসব ছাড়‚ ও টিকিট কাউন্টারের ক্লার্ক ও হতে পারবে না| খালি স্বপ্ন দেখাই সার| কপালে আছে কুলিগিরি|
মেয়েটি দম নেয়| আচমকা হৈমন্তীর হাত জড়িয়ে ধরে|
— ঠিক বলেছেন‚ দিদি| ও তাই হবে| রেলের গ্যাংম্যান ও খালাসির জন্যে ৫০ জন নেবে| ও ঢুকে গেলে আমি নিশ্চিন্ত হই| কাঁধের জোয়াল নামে|
— এর জন্যে ক্লাস টেন? কবে থেকে?
— দিদি‚ ঐ পঞ্চাশটা পদের জন্যে কুড়িহাজার লোক ফর্ম ভরেছে| আমাকে ওপর থেকে বলা হয়েছে যে টেন পাস করলে ম্যাট্রিকের সমান ধরা হবে‚ বোর্ড নেই| আপনি একটু দেখলে আমাদের পরিবার বেঁচে যায়| আর স্পোর্ট্স কোটা তো আছেই| আমি আর কতদিন মা-ভাইয়ের সংসার টানবো? আমার আদমি আজকাল খিঁচ খিঁচ করছে|

হৈমন্তী অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন|
একটা অদ্ভূত সমাপতন| তিরিশটা বছর|
একটি তরুণ রেলওয়ে ইনস্টিট্যুট এর স্টেজে কোন ফাংশানে আবৃত্তি করেছিল| একটা অন্য রকম পংক্তি‚ অজানা শব্দ| মানে বোঝেন নি| তাই মনে আছে একটু একটু–” জানি জানি এই অলাতচক্রে চংক্রমণ‚
সোৎ্প্রাশ প্রাশে বলি নাকো তাই কোন কথা‚
——————————-
জিজীবিষু প্রজাপতির বিভ্রমণ|”

কোলকাতা থেকে চাকরি করতে আসা সেই ছেলেটিকে একান্তে এর মানে জিজ্ঞেস করেছিলেন| দুষ্টু হেসে বলেছিল– তুমিই হচ্ছ সেই ‘জিজীবিষু প্রজাপতি”|

মেয়েটি ঘড়ি দেখে| বলে–আমি যাই দিদি| তাহলে ওকে পাঠিয়ে দিই?
— ঠিক আছে|

(পাঁচ)
নিতান্ত অনিচ্ছায় কেমন অন্যমনস্ক ভাবে বাবলুর দিদিকে বলেছিলেন ভাইকে পাঠিয়ে দিতে| কিন্তু কোন ফল হল না| ও আসে সময়মত‚ বসে থাকে‚ কেমন নিস্পৃহ চোখে তাকিয়ে শুনতে থাকে প্রিপোজিশনের প্রয়োগ‚ মোডাল‚ আর্টিকল‚ জিরান্ড ও ইনফিনিটিভ| যখন যত্ন করে সবাইকে প্যাসিভ ভয়েস বোঝান‚ টের পান যে স্টুডেন্টদের মধ্যে শুধু বাবলুই প্যাসিভ|
টাস্কগুলো করে নিতান্ত অনিচ্ছায়|
একদিন রবীন্দ্রনাথের ‘হোম কামিং ‘ গল্পটি পড়ে আসতে বলেছিলেন| কোশ্চেন আন্সারের সময় বাবলু মুখ খুলল– ম্যাম‚ ফটিক লড়কে কা তো কৈ মামু থে;কলকাত্তা লে গয়ে থে| মেরা ও ভী নহীঁ|
সবাই হেসে উঠল| তারপর পিনড্রপ সাইলেন্স| এবার নিশ্চয়ই ম্যাম বাবলু ভাইয়াকে হেবভি ঝাড় দেবেন|
কিন্তু তেমন কিছুই হল না|
হৈমন্তী ক্লান্ত গলায় বললেন– পরীক্ষার মাত্র দুটো হপ্তা বাকি| এবার সবাই ঘরে বসে তৈরি কর| কোথাও আটকে গেলে এসে জিজ্ঞেস করে নিও‚ ব্যস|
সবাই চলে গেলে উনি দরজা বন্ধ করতে গিয়ে দেখেন বাইরে বাবলু দাঁড়িয়ে আছে; আবার এক পায়ে ভর দিয়ে অন্য পা দিয়ে বুড়ো আঙুলের নখ খুঁটছে|
উনি প্রশ্নের চোখে তাকাতেই ও বলল– আমি কী করব ম্যাম? আমাকে যে এবার ইংরেজিতে পাস মার্কস পেতেই হবে‚ নইলে সিওর শট চাকরিটা ফসকে যাবে!
না; ওঁর ভাইবোনেরা কখনও এমন বেয়াড়া ছিল না; ওদের জন্যে দিদিকে অপদস্থ হতে হয় নি| আর পরীক্ষার আগে ওদের গোটা বই দশবার রিভিশন হয়ে যেত| এমন অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকত না|
–সন্ধ্যেবেলা তোর টেক্স্ট আর গ্রামার বইটা দিয় যাস| আমি পঞ্চাশটা কোশ্চেন দিয়ে দেব| কাল সকালে এসে নিয়ে যাবি| এই ক’দিন ঠেকে যাওয়া ছেড়ে যদি ঘরে বসে মুখস্থ করে ফেলতে পারিস তো মোটামুটি পাস মার্কস পেয়ে যাবি|

রাত্তির ন’টা| হৈমন্তীর খাওয়ার পাট শেষ| এবার জি টিভিতে বাচ্চাদের সারেগামা দেখতে দেখতে আলগাভাবে বাবলুর বই দুটোর পাতা উল্টোতে লাগলেন| চোখ টিভির দিকে| আধঘন্টা কাটল| প্রোগ্রাম শেষ| টিভি বন্ধ করে কিছু ফুলস্ক্যাপ কাগজ আর কলম টেনে নিলেন|
চোখে পড়ল একটা চারভাঁজ করা কাগজ‚– কারও পুরনো হলদেটে চিঠি‚ হয়ত পেজ মার্ক করা ছিল|
মোটে বই খোলে না‚ তার আবার পেজ মার্ক! হৈমন্তী নিজের মনে হাসলেন|
চিঠিটা গুঁজে রাখতে গিয়ে দেখতে পেলেন পেন্সিলে লেখা মেয়েলি হাতের‚ কোন মার্জিন বা প্যারাগ্রাফ নেই| কৌতুহল বেড়ে গেল| নির্ঘাৎ কোন স্কুলের মেয়ের দেওয়া উঠতি হিরোকে|
কখনও অন্যের চিঠি খুলে পড়েন নি| এখন নিজের অজান্তেই কখন পড়তে শুরু করে দিয়েছেন|

প্রথম লাইনেই হোঁচট!
বাবলুভাই!
ঠিক আছে‚ মুসলমান সমাজে অমন সবাইকেই ভাই প্রেফিক্স দিয়ে সম্বোধন করা হয়| বাঙালীদের যেমন ‘অমুকদা-তমুকদা’| তাতে কি প্রেম হওয়া আটকায়!
হৈমন্তী পড়তে লাগলেন|
‘বাবলুভাই‚
তোমাকে বাধ্য হইয়া এই পত্র লিখিতেছি| রাগ করিও না| সকল কথা সামনাসামনি বলা সম্ভব হইয়া উঠে না| তুমি এখন আর ছোটটি নও‚ আর ‘দাউ’ বা ‘নানহে’ ( ছত্তিশগড়িতে ‘খোকা’ বা ‘পুঁচকু’) বলিয়া ডাকিতে পারি না| কিন্তু তুমি আমার কাছে সেই ছোট্ট আদরের নান্হীই আছ‚ নিশ্চিত জানিবে|
বাবলুভাই‚ আমরা গরীব‚ আমাদের কোন নিজস্ব বাড়ি নাই‚ কোন দোকান নাই| আমাদের চাকুরিই সম্বল| সাহেবদের অনুকম্পা সত্ত্বেও থোড়া লিখো গে ‚ পড়ো গে- তব তো কুছ বাত বনেগী|
আমি তোমার খেলকুদ লইয়া কিছু বলি নাই| আব্বার চাকুরিও খেলার জন্যই হইয়াছিল| তোমারও হইবে|
তুমি তো শুনিয়াছ যে আব্বার মৌত কে বাদ আমাদের তাউজি দিলবার হোসেন সাহাব আমাদের আম্মি সহ সবাইকে ঘর হইতে একপ্রকার খেদাইয়া দিয়াছিলেন| ওয়ালিদসাহেবের পিএফ গ্র্যচুইটির টাকাও নানান অছিলায় আম্মিকে কিছু কাগজে দস্তখত করাইয়া হড়প করিয়াছেন| বেওয়ার পেনশন ও দুই বৎ্সর পর আমার নার্সের চাকুরি এই মাত্র সম্বল করিয়া এই সংসার দরিয়া পার করিতেছিলাম|
তোমার খেলায় চশকা ও লিখাপড়ায় দিল না লাগা দেখিয়া তাউজির ছেলেমেয়েরা আল্লাতালাহ উহাদের খেরিয়তে রাখুন‚ ঠেঙ্গা ( বুড়ো আঙুল) দেখাইয়া ছড়া কাটিত:
লিখো গে‚ পড়ো গে বনো গে নবাব‚
খেলো গে‚ কুদো গে‚ বনো গে খরাব|
তুমি কান্দিয়া ঘরে আসিলে আমি তোমার মাথায় হাত বুলাইয়া বলিয়াছিলাম–রোনা নহীঁ‚ রোনা নহীঁ| দুশমন হসেঙ্গে|
তাহার পর তোমার মাথায় হাত রাখিয়া বলিয়াছিলাম–আমাকে ‚ তোমার বড়ী আপাকে ছুঁইয়া কসম খাও যে একদিন তুমি লিখাপড়া শিখিয়া ইহার জবাব দিবে| মনে পড়ে?
আজ উহারা কেহ কলেজে দাখিলা লইয়াছে‚ কেহ কালো কোট পরিয়া টিকিট বাবু হইয়াছে| আমাদের রাস্তাঘাটে দেখিলেও চিনে না| বাবলুভাই‚ তুমি কি চাও যে দুশমন আমাদের উপর জিন্দগীভর হাসিবে?
তোমার এমন মতি কেন হইল বাবলুভাই?
আমার মনে হয় তোমার উপর কেহ কালা জাদু করিয়ছে বা ইবলিশের নজর পড়িয়াছে| আগামী সপ্তাহে আমি তোমাকে তারবাহারের মৌলবীর নিকট লইয়া যাইব| তিনি দোয়া-দুরুস্ত পড়িলে ও তোমার মাথায় পাক পানি ছিটাইয়া দিলে কুনজর কাটিয়া যাইবে|
আর একটি কথা| আম্মিকে বলিও ন| আমার শৌহর তোমার জীজাজি ইদানীং গুসসা করিতেছেন| বলিতেছেন বাবলু কবে মরদ হইবে?

চিঠির বাকি অংশটি ছেঁড়া|

সকালবেলায় বাবলু এল| উনি ওকে বই ফেরত দিয়ে কোথায় কোথায় দাগ দিয়েছেন দেখিয়ে দিলেন আর বললেন মন দিয়ে মুখস্থ কর| পাশ করে যাবি|
বাবলু চলে গেল| ও পাশ তো করবেই| যে পঞ্চাশটি সাজেশন দিয়েছেন তার মধ্যে অন্তত: তিরিশটা তো আসবেই|
এবার ক্লাস টেনে তো বোর্ড নেই| হোম এগজাম| আর কোশ্চেন পেপার হৈমন্তীই সেট করেছেন‚ ছাত্ররা কেউ না জানুক|
মনটা অস্থির অস্থির লাগছে|
হৈমন্তী স্নান করে ঠাকুরের আসনের সামনে বসলেন|
(শেষ)

 

রঞ্জন রায় কথাসহিত্যিক, মানবাধিকার কর্মী। প্রকাশিত বই : 'বাঙাল জীবনের চালচিত্র', 'রমনীয় দ্রোহকাল', 'দেকার্ত- জীবন ও দর্শন ' প্রকাশিতব‍্য বই: 'ছত্রিশগড় - গ্রামজীবন, সমাজ ও সংস্কৃতির আখ্যান '

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

উত্তরাধিকার

উত্তরাধিকার

কাঁটায় কাঁটায় বিকেল চারটা পঞ্চান্নতে ডাইনিং রুমের উত্তরের দেয়ালে কাঠের ফ্রেমে বাঁধাই করা ফুলদানিতে বর্ণিল…..